কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالَ بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ فِي الْحِجْرِ إِذْ رَأَيْتُ رُؤْيَا هَالَتْنِي فَفَزِعْتُ مِنْهَا فَزَعًا شَدِيدًا، فَأَتَيْتُ كَاهِنَةَ قُرَيْشٍ وَعَلَيَّ مُطْرَفُ خَزٍّ وَجُمَّتِي تَضْرِبُ مَنْكِبَيَّ فَلَمَّا نَظَرَتْ إِلَيَّ عَرَفَتْ فِي وَجْهِي التغيير وَأَنَا يَوْمَئِذٍ سَيِّدُ قَوْمِي فَقَالَتْ: مَا بَالُ سَيِّدَنَا قَدْ أَتَانَا مُتَغَيِّرَ اللَّوْنِ، هَلْ رَأَيْتَ مِن حِدْثَانِ الدَّهْرِ شَيْئًا؟ فَقُلْتُ لَهَا بَلَى! وَكَانَ لَا يُكَلِّمُهَا أَحَدٌ مِنَ النَّاس حَتَّى يُقَبِّلَ يَدَهَا الْيُمْنَى، ثمَّ يَضَعُ يَدَهُ عَلَى أُمِّ رَأْسِهَا ثُمَّ يَذْكُرُ حاجته ولم أفعل لاني كنت كَبِيرُ قَوْمِي. فَجَلَسْتُ فَقُلْتُ إِنِّي رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ وأنا نائم في الحجر كأن شجرة تنبت قَدْ نَالَ رَأْسُهَا السَّمَاءَ وَضَرَبَتْ بِأَغْصَانِهَا الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، وَمَا رَأَيْتُ نُورًا أَزْهَرَ مِنْهَا أَعْظَمَ مِنْ نُورِ الشَّمْسِ سَبْعِينَ ضِعْفًا.
وَرَأَيْتُ الْعَرَبَ وَالْعَجَمَ سَاجِدِينَ لَهَا وَهِيَ تَزْدَادُ كُلَّ سَاعَةٍ عِظَمًا وَنُورًا وَارْتِفَاعًا سَاعَةً تَخْفَى وَسَاعَةً تَزْهَرُ، وَرَأَيْتُ رَهْطًا منْ قُرَيْشٍ قَدْ تَعَلَّقُوا بِأَغْصَانِهَا، وَرَأَيْتُ قَوْمًا مِنْ قُرَيْشٍ يُرِيدُونَ قَطْعَهَا.
فَإِذَا دَنَوْا مِنْهَا أَخَّرَهُمْ شَابٌّ لَمْ أَرَ قَطُّ أَحْسَنَ مِنْهُ وَجْهًا وَلَا أَطْيَبَ مِنْهُ رِيحًا فيكسر أظهرهم، ويقلع أعينهم.
فرفعت يدي لا تناول مِنْهَا نَصِيبًا، فَمَنَعَنِي الشَّابُّ فَقُلْتُ لِمَنِ النَّصِيبُ؟ فَقَالَ النَّصِيبُ لِهَؤُلَاءِ الَّذِينَ تَعَلَّقُوا بِهَا وَسَبَقُوكَ إِلَيْهَا.
فَانْتَبَهْتُ مَذْعُورًا فَزِعًا فَرَأَيْتُ وَجْهَ الْكَاهِنَةِ قَدْ تَغَيَّرَ، ثُمَّ قَالَتْ لَئِنْ صَدَقَتْ رُؤْيَاكَ لَيَخْرُجَنَّ مِنْ صُلْبِكَ رَجُلٌ يَمْلِكُ الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ وَيَدِينُ لَهُ النَّاس
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, একদা আমি সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার হাতিম-এ ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন আমি এক বরকতময় স্বপ্ন মুবারক দেখি, যা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলো। আমি তা দেখে খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে আমি সম্মানিত কুরাইশ বংশীয় একজন মহিলা তা’বীরবিদের নিকট গেলাম। আমার গায়ে ছিলো নকশাওয়ালা রেশমী চাদর মুবারক এবং আমার লম্বা চুল মুবারক ঘাড় মুবারক-এ ঝুলছিলো। আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করে তিনি আমার চেহারায় পরিবর্তন টের পেয়ে যান। আমি তখন আমার সম্মানিত ক্বওম তথা সম্প্রদায়ের সাইয়্যিদ। তিনি বললেন, আমাদের সরদার উনার কী হলো যে, তিনি এমন বিবর্ণ চেহারা মুবারক নিয়ে আমার নিকট সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রেখেছেন? আপনি কী ব্যতিক্রম কোনো স্বপ্ন মুবারক দেখেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তার নিয়ম ছিলো, কেউ তার নিকট আসলে প্রথমে আগন্তুককে তার ডান হাত চুম্বন করতে হতো এবং তার মাথার তালুতে হাত রাখতে হতো। এরপর তার সাথে কথা বলার ও সমস্যার কথা জানানোর সুযোগ পাওয়া যেত। আমি এসব করলাম না।
অতঃপর আমি বসে বললাম, গত রাতে আমি সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার হাতিমে ঘুমিয়ে ছিলাম। অতঃপর আমি (স্বপ্ন মুবারক) দেখি, একটি সম্মানিত গাছ মুবারক মাটি থেকে অঙ্কুরিত হলো। দেখতে দেখতে উক্ত মুবারক বৃক্ষ উনার শাখা-প্রশাখা আকাশচুম্বী হয়ে গেলো এবং পূর্ব-পশ্চিম তথা সারা কায়িনাতে ছড়িয়ে পড়লো। আর এই সম্মানিত বৃক্ষ থেকে একটি নূর মুবারক নির্গত হলো। যার আলো সূর্য থেকে সত্তরগুণ তথা কোটি কোটি গুণ বেশি ছিলো। আরব-অনারব সকলেই সেই সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক উনার সামনে সিজদাবনত ছিলো। প্রতিমুহূর্তে উক্ত সম্মানিত গাছ মুবারক উনার পরিধি, নূর মুবারক ও উচ্চতা মুবারক বেড়েই চলছিলো। সেই সম্মানিত গাছ মুবারক উনার নূর মুবারক কখনো ব্যাপকভাবে প্রকাশ পেতো এবং কখনো গোপন হয়ে যেতো। আমি আরো দেখলাম, একদল কুরাইশ এই সম্মানিত বৃক্ষ উনার ডাল মুবারক ধরে ঝুলে আছেন। কুরাইশদের অপর একটি দল গাছটি কেটে ফেলার চেষ্টা করছে। তারা কাটার উদ্দেশ্যে সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক উনার নিকটবর্তী হলে একজন সুদর্শন যুবক তাদেরকে হটিয়ে দিতেন।
সেই সম্মানিত যুবক উনার মতো এতো অধিক সুন্দর ও সৌরভময় যুবক আমি আর কখনো দেখিনি। এই সম্মানিত যুবক তিনি পিটিয়ে তাদের হাড়-গোড় ভেঙ্গে দিচ্ছিলেন এবং তাদের চোখ উপড়ে ফেলছিলেন। আমি দু’হাত মুবারক বাড়িয়ে উক্ত সম্মানিত গাছ মুবারক থেকে কিছু নিতে চাইলাম। কিন্তু সম্মানিত যুবক তিনি আমাকে বারণ করলেন। আমি বললাম, তাহলে এ সম্মানিত গাছ কাদের জন্য? তিনি বলেন, যাঁরা গাছ মুবারক ধরে ঝুলে আছেন এবং যাঁরা আপনার সামনে আসবেন অর্থাৎ পরবর্তীতে যারা আসবেন। অর্থাৎ ভবিষ্যত বংশধরগণ উনাদের জন্য এই সম্মানিত গাছ। এই স্বপ্ন মুবারক দেখে আমি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় জেগে উঠলাম।
আমি দেখতে পেলাম এই স্বপ্ন মুবারক শুনে ওই মহিলা তা’বীরবিদদের মুখমন্ডল বিবর্ণ হয়ে গেলো। সে বললো, আপনার স্বপ্ন মুবারক যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে
لَيَخْرُجَنَّ مِنْ صُلْبِكَ رَجُلٌ يَّـمْلِكُ الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ وَيَدِيْنُ لَهُ النَّاس
“অবশ্যই আপনার সম্মানিত বংশ মুবারক থেকে তথা আপনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে এমন একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি আগমন করবেন, যিনি পূর্ব-পশ্চিম তথা সারা কায়িনাতের মালিক হবেন তথা নবী-রসূল হবেন এবং সমস্ত মানুষ উনার সম্মানিত দ্বীন গ্রহণ করবেন। সুবহানাল্লাহ! (আবূ নাঈম, বিদায়া-নিহায়াহ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)
এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে,
لَيَخْرُجَنَّ مِنْ صُلْبِكَ رَجُلٌ يَمْلِكُ الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ وَيَدِينُ لَهُ النَّاس
অর্থ: ‘অবশ্যই আপনার সম্মানিত বংশ মুবারক থেকে তথা আপনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে এমন একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি আগমন করবেন, যিনি পূর্ব-পশ্চিম তথা সারা কায়িনাতের মালিক হবেন তথা নবী-রসূল হবেন এবং সমস্ত মানুষ উনার সম্মানিত দ্বীন গ্রহণ করবেন। অর্থাৎ আপনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করবেন। সুবহানাল্লাহ!’
এই সম্মানিত বিশেষ স্বপ্ন মুবারক উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
No comments:
Post a Comment