Monday, January 11, 2016

"হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি গরীব কিংবা অভাবী ছিলেন না, তিনি ধনী ও সম্পদশালী ছিলেন।"


কুরআন শরীফ উনার ‘ সূরা দ্বূহা শরীফ’  ৮নং  আয়াত শরীফ  মধ্যে ইরশাদ  হয়েছে, ‘আল্লাহ পাক তিনি উনার রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উনার মুখাপেক্ষী পেলেন অতঃপর উনাকে ধনী বা সম্পদশালী করলেন।’
আল্লাহ পাক উনার পরে সবচেয়ে ধনী হলেন- হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।
আর উনার যিনি প্রথম আহলিয়া উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিও পৈত্রিক সূত্রে আরবের সর্বাধিক সম্পদশালিণী ছিলেন।
আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সমস্ত সৃষ্টির জন্য নবী ও রসূল হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং যমীনে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ পাক তিনি যেমন কোন সৃষ্টির মুখাপেক্ষী নন তেমনি  আল্লাহ পাক উনার যিনি রসূল,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও কোন সৃষ্টির মুখাপেক্ষী নন বরং তিনি কেবলমাত্র আল্লাহ পাক উনার মুখাপেক্ষী।


মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সবচেয়ে প্রিয়তম রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ধন-সম্পদসহ সমস্ত নিয়ামত হাদিয়া করেছেন। শুধু তাই নয়, সৃষ্টিরাজি যত নিয়ামত লাভ করবে তা উনার মুবারক বণ্টনের মাধ্যমে লাভ করবে। যেমন এ প্রসঙ্গে বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ মধ্যে বর্ণিত  হাদীছ শরীফ এর মধ্যে ইরশাদ  হয়েছে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ  করেন, "নিশ্চয়ই আমি বণ্টনকারী আর  আল্লাহ পাক তিনি হলেন দাতা। " অর্থাৎ  আল্লাহ পাক তিনি উনার সমস্ত নিয়ামত ইলম-হিকমত, ধন-সম্পদ, জীবন-যৌবন, সক্ষমতা-সুস্থতা, ইজ্জত- সম্মান ইত্যাদি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হাদিয়া করেছেন আর তিনি উনার উম্মতের মাঝে তা বণ্টন করে দিয়ে থাকেন। এ বিষয়টি আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মু’জিযার অন্তর্ভুক্ত।

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন  আল্লাহ পাক উনার পরে সবচেয়ে বড় ধনী ও দানশীল তেমনি উনার যিনি লখতে জিগার আদরের দুলালী সন্তান  হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিও সবচেয়ে বড় ধনী ও দানশীলা। কেননা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, "হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন আমারই দেহ এর অংশ মুবারক। উনাকে যে মুহব্বত করলো সে আমাকে মুহব্বত করলো আর উনাকে যে কষ্ট দিল সে আমাকেই কষ্ট দিল"।
এটা কি করে সম্ভব হতে পারে যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা খাবেন, পরবেন আর হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত আহলে বাইত শরীফ ও হযরত আওলাদ শরীফ আলাইহিমুস সালাম-আলাইহিন্নাস সালাম উনারা না খেয়ে, না পরে থাকবেন! 
অথচ  কুরআন শরীফ মধ্যে ইরশাদ  হয়েছে, "হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মু’মিন মুসলমান উনাদের জীবনের চেয়ে প্রিয়। "
আর হাদীছ শরীফ মধ্যে ইরশাদ  হয়েছে,  "হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তান, বন্ধু-বান্ধব, জ্ঞাতি-গোষ্ঠী, ধন-সম্পদ এমনকি নিজের জীবনের চেয়ে বেশি মুহব্বত না করা পর্যন্ত কেউই মু’মিন মুসলমান হতে পারবে না।"

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মতোই  হযরত আহলে বাইত শরীফ ও হযরত আওলাদ শরীফ আলাইহিমুস সালাম-আলাইহিন্নাস সালাম উনারা উম্মতের জন্য অকাতরে দান করে দিতেন। কিছুই জমা করে রাখতেন না। কাজেই দান করে দেয়াটা অভাবী হওয়ার আলামত ও ছিফত নয় বরং ধনী হওয়ার ছিফত বা বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত।

No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...