Saturday, January 30, 2016

সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম


সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম চতুর্থ হিজরীর শা’বান মাসের ৫ তারিখ মদীনা শরীফ-এ বিলাদত শরীফ লাভ করেন। বিলাদত শরীফ-এর পর সরকারে মদীনা,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কানে আযান দিয়ে দুআ করেছিলেন। সাতদিন পর আকীকা করে উনার নাম মুবারক ‘হুসাইন’ রাখা হয়েছিল।
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে-
الحسن والحسين اسمان من اهل الجنة
অর্থ: ‘হাসান ও হুসাইন জান্নাতী নামসমূহের দু’টি নাম।‘ এর আগে আরবের জাহিলিয়াত যুগে এ দু’ নামের প্রচলন ছিল না।

হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুবই প্রিয় ছিলেন। আপন সন্তান থেকেও উনাদেরকে অধিক ভালবাসতেন।
হযরত আল্লামা জামী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, একদিন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালামকে ডানে ও স্বীয় ছাহেবজাদা হযরত ইব্রাহীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে বামে বসিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় হযরত জিবরীল আলাইহিস্ সালাম উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আল্লাহ তায়ালা এ দু’জনকে আপনার কাছে এক সঙ্গে রাখতে দেবেন না। উনাদের মধ্যে একজনকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। অতএব আপনি এ দু’জনের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পছন্দ করুন। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যদি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম বিদায় হয়ে যান, তাহলে উনার বিরহে হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ও হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খুবই কষ্ট হবে এবং আমার মনটাও ক্ষুণ্ণ হবে। আর যদি হযরত ইব্রাহীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বিছাল শরীফ লাভ করেন, তাহলে সবচে দুঃখ একমাত্র আমিই পাবো। এজন্য নিজে দুঃখ পাওয়াটাই আমি পছন্দ করি। এ ঘটনার তিন দিন পর হযরত ইব্রাহীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বিছাল শরীফ লাভ করেন।

Thursday, January 21, 2016

উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বিবাহ করা কোনো মুসলমানের জন্য জায়িয নেই


 যেহেতু উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া তথা উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম।

মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম পাকে তিনি ইরশাদ করেন-
ولا ان تنكحوا ازواجه من بعده ابدا ان ذلكم كان عند الله عظيما.
অর্থ: “উনার অর্থাৎ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ-এর পর উনার আহলিয়া অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য জায়িয নেই। আল্লাহ পাক উনার কাছে এটা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৫৩)

আল্লাহ পাক স্বয়ং উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে আহলে বাইত হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং পূত-পবিত্রা করেছেন।



আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি বলেন-
انما يريد الله ليذهب عنكم الرجس اهل البيت ويطهركم تطهيرا
অর্থ: “হে আহলে বাইতগণ! আল্লাহ পাক চান আপনাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং আপনাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৩৩)

এ আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ৩৩৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
قال عكرمة ومقاتل اراد باهل البيت نساء النبى صلى الله عليه وسلم
অর্থ: “হযরত ইকরামা রহমতুল্লাহি আলাইহি ও মুক্বাতিল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, আয়াত শরীফ-এ ‘আহলে বাইত’ দ্বারা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।”

উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত ও পবিত্রতা


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবতের মধ্যেই রয়েছে সর্বাধিক মর্যাদা-মর্তবা। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবতের মহান সৌভাগ্যশালী হওয়ার কারণেই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা দুনিয়ায় থাকতেই যিনি খালিক্ব-মালিক আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দীর সুসংবাদ অর্জন করেন।

যেমন, মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম পাকে ইরশাদ করেন-
رضى الله عنهم ورضوا عنه
অর্থ: “আল্লাহ পাক উনাদের (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের) উপর সন্তুষ্ট; উনারাও যিনি খালিক্ব-মালিক আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট।” (সূরা মায়িদা-১১৯, সূরা মুজাদালাহ-২২, সূরা বাইয়্যিনাহ-৮)

হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা একদিকে যেমন ছাহাবীয়াগণের অন্তর্ভুক্ত, অন্যদিকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইহকাল ও পরকালীন জীবনসঙ্গিনী হওয়ারও সুমহান সৌভাগ্য অর্জন করেন। যার কারণে অন্যান্য পরহিযগার-মুত্তাক্বী মহিলাগণের থেকে উনাদেরকে অসংখ্য-অগণিত নিয়ামত, মর্যাদা, মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত প্রদান করা হয়েছে। যা স্বয়ং আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদান করেছেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া হওয়ার কারণেই অন্যান্য নারীদের উপরে উনাদের মর্যাদা।

  • মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাকে ইরশাদ করেন-

يا نساء النبى لستن كاحد من النساء
অর্থ: “হে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার যারা আহলিয়া অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম; আপনারা অন্য নারীদের মতো নন।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৩২)

এ আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বিশ্ববিখ্যাত ও সর্বজনমান্য তাফসীরের কিতাব “তাফসীরে মাযহারী”-এর ৭ম খণ্ডের ৩৩৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
اى ليست كل واحدة منكن او المعنى لم توجد جماعة واحدة من جماعات النساء مثلكن فى الفضل قال ابن عباس اى ليس قدركن عندى مثل قدر غيركن من النساء الصالحات انتن اكرم على وثوابكن اعظم لدى. هذه الاية تدل على فضلهن على سائر النساء.
অর্থ: “হে উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম! আপনারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার সহধর্মিণী হওয়ার কারণেই মর্যাদা, মর্তবা, ফযীলতের দিক থেকে কোনো মহিলাই আপনাদের সমকক্ষ নয়। .... হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায়) বলেছেন, আপনাদের মর্যাদা, মর্তবা, ফাযায়িল, ফযীলত অন্যান্য সতী-সাধ্বী মহিলাগণের মতো নয়। বরং আপনাদের সম্মান-মর্যাদা, ফাযায়িল-ফযীলত, অধিক পুণ্য ও প্রতিদান আমার নিকটে অধিক মর্যাদা সম্পন্ন, অনেক ঊর্ধ্বে। এ আয়াত শরীফ-এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সমস্ত মহিলাগণের উপরে আপনাদের অধিক মর্যাদা, মর্তবা, ফাযায়িল, ফযীলত রয়েছে।” (অনুরূপভাবে তাফসীরে খাযিন ৫ম খণ্ডের ২৫৭ পৃষ্ঠা, তাফসীরে বাগবী ৫ম খন্ডের ২৫৭ পৃষ্ঠা, তাফসীরে মাদারিকুত তানযীল ৩য় খণ্ডের ৪৬৫ পৃষ্ঠা এবং অন্যান্য সকল নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থে আলোচনা রয়েছে।)

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল শান-মান ও মর্যাদা-মর্তবার অধিকারী।

হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা একদিকে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবী। আরেকদিকে উনারা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহাল তথা আহলে বাইত, উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সর্বোপরি উনারা হচ্ছেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র আহলিয়া বা আযওয়াজে মুত্বাহহারাত। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মু’মিনদের নিকট তাঁদের জানের চেয়ে প্রিয়। আর উনার পবিত্র আযওয়াজ বা আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হলেন তাঁদের (মু’মিনগণের) মাতা।”

যার কারণে অন্যান্য পরহেযগার-মুত্তাক্বী মহিলাগণের চেয়ে উনাদেরকে অসংখ্য-অগণিত নিয়ামত, মর্যাদা, মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত প্রদান করা হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাক-এ ইরশাদ করেন, “হে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যারা আহলিয়া অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম! আপনারা অন্য নারীদের মতো নন।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৩২)

হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম তিনি সৃষ্টির আদি থেকেই সবচেয়ে উত্তম মা ও বেমিছাল ইলমে গাইব-এর অধিকারিণী


تقلبك فى السجدين
অর্থ: “হে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার মুবারক স্থানান্তর তথা মুবারক আগমনের সূত্রধারা ছিলো উত্তম সিজদাকারী উনাদের মাঝে।” (সূরা শুয়ারা : আয়াত শরীফ ২১৯)

আর এ প্রসঙ্গে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “আমি যাঁদের মাধ্যমে কুদরতীভাবে স্থানান্তরিত হয়েছি উনারা সবাই সর্বকালেই সর্বযুগেই উত্তম হতে উত্তমতম এবং পবিত্র থেকে পবিত্রতম ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ!(মাওয়াহিবুল লাদুন নিয়্যাহ)

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ করেন, “আমি সবসময় পবিত্রতম পৃষ্ঠ মুবারক হতে অতিপবিত্রা রেহেম শরীফ-এ কুদরতীভাবে স্থানান্তরিত হয়েছি। আমার পূর্ববর্তী যতো মহান পুরুষ এবং মহান মহিলা এমনকি হযরত আদম আলাইহিস সালাম হতে ও হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম পর্যন্ত অতীত হয়েছেন উনাদের মধ্যে কেউই সামান্যতম দোষে দোষী কিংবা না-শোকর গোযারী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। বরং মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল ও সর্বকালের সর্বযুগের খাছ বান্দা-বান্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (শারহুয যারক্বানী, মাওয়াহিবুল লাদুন নিয়্যাহ, তাফসীরে মাযহারী, মাদারিক)

হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার রচিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ না’ত শরীফ-এর অনুবাদ ও শাব্দিক অর্থ


وَاِنَّكَ لَعَلٰى خُلُقٍ عَظِيْمٍ
অর্থ: “নিশ্চয়ই আপনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।” (সূরা ক্বলম-৪)

হামদ শরীফ, না’ত শরীফ, ক্বাছীদা শরীফ লেখা, পাঠ করা, পাঠ করতে সাহায্য করা, শ্রবণ করা ইত্যাদি সবকিছুই খাছ সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। বাংলায় যাকে গযল ও কবিতা বলা হয়। তবে এসবক্ষেত্রে গান ও সংগীত শব্দগুলি ব্যবহার করা হারাম নাজায়িয। কারণ, দ্বীন ইসলামে গান ও সংগীত বলতে কিছু নেই। গান, গীতি ও সংগীত শয়তানী ইবলীসী কার্যকলাপ। যা শরীয়তে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয।

Saturday, January 16, 2016

আহলে বাইতের ফযিলত

“আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, তিনি চান আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে।” অর্থাৎ এ কথার অর্থ হলো মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধারা সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম ও উনার আওলাদদ্বয় হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালামদের মাধ্যমে বিশ্বময় জারি রয়েছে। (‘তাফসীরে ইবনে হাতেম, ইবনে কাছির, মাযহারী)

আহলে বাইত ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামদের পরিচয়


আল্লাহ পাক এর হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বমোট সন্তান ছিলেন আটজন। চার ছেলে এবং চার মেয়ে। ছেলে সন্তানগণের প্রত্যেকেই অল্প বয়সেই বিছাল শরীফ লাভ করেন। উনারা হলেন-
১. হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম।
২. হযরত ত্বইয়্যিব আলাইহিস সালাম।
৩. হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম।
৪. হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম।

আহলে বাইত উনাদের প্রতি মুহব্বতের অনন্য দৃষ্টান্ত" গোলামের ছেলে গোলাম" হযরত ওমর ফারুক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু

বর্ণিত রয়েছে, হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার প্রস্তাবিত বিষয়ে প্রায় ২২ খানা আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে। সেই হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ছাওয়ানেহ উমরীতে বর্ণিত রয়েছে, যখন আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় নেন তখন হযরত হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বয়স মুবারক ছিল সাড়ে সাত বছর আর হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিল সাড়ে ছয় বছর। দু’জনের মধ্যে হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন জালালী তবিয়ত। আর হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ারা আনহু ছিলেন জামালী তবিয়ত।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যিনি ছিলেন বিশিষ্ট ছাহাবী। কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, যাঁরা সুন্নতের ইত্তিবা করতেন, সুন্নতের ইত্তিবার মধ্যে যাঁরা মশহুর রয়েছেন, বেমেছাল রয়েছেন তাঁদের মধ্যে একজন হচ্ছেন হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। যার জন্য হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার শাহাদত বরণ করার সময় অনেক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম প্রস্তাব দিয়েছিলেন, হে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন! আপনি আপনার পরবর্তী খলীফা হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তয়ালা আনহুকে মনোনীত করুন, তাঁর যে যোগ্যতা রয়েছে, আমল-আখলাক্ব রয়েছে তা বেমেছাল।

হযরত আহলে বাইত শরিফদের প্রতি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামদের খিদমত


হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত রয়েছে, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একবার হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম বসা ছিলেন এমতাবস্থায় হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে আসলেন।

হযরত দাহইয়াতুল কলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ঈমান আনার পর হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম সাধারণত তাঁর ছূরত মুবারকে আসতেন। আর হযরত দাহইয়াতুল কলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আদত (অভ্যাস) ছিল তিনি যখন আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে আসতেন তখন হযরত হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জন্য কিছু হাদিয়া নিয়ে আসতেন। উনাদেরকে কোলে নিতেন। যার কারণে তাঁর সাথে উনাদের আলাদা একটা মুহব্বত পয়দা হয়েছিল। উনারা দু’জন উনাকে দেখলেই তাঁর কাছে চলে যেতেন। হযরত দাহইয়াতুল কলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে খাছভাবে মুহব্বত করতেন যে কারণে উনারাও উনাকে মুহব্বত করতেন।

পাক পাঞ্জাতন আহলে বাইতের মর্যাদা ও ফযিলত


আহলে বাইতের ফযীলত সম্পর্কে বহু হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। তন্মধ্যে কতিপয় হাদীছ শরীফ বর্ণনা করা হলো:
عن عائشة رضى الله تعالى عنها قالت خرج النبى صلى الله عليه وسلم غداة وعليه مرط مرحل من شعر اسود فجاء الحسن بن على فادخله ثم جاء الحسين فدخل معه ثم جاءت فاطمة فادخلها ثم جاء على فادخله ثم قال انما يريد الله ليذهب عنكم الرجس اهل البيت ويطهركم تطهيرا.
অর্থ" "হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, একদা ভোরবেলা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একখানা কাল বর্ণের পশমী নকশী কম্বল শরীর মুবারকে জড়িয়ে বের হলেন। এমন সময় হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সেখানে আসলেন, তিনি তাঁকে কম্বলের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম আসলেন, তাঁকেও ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সহিত প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা আসলেন তাঁকেও তাতে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আসলেন, তাঁকেও তার ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন শরীফ-এর এই আয়াত শরীফখানা পড়লেন, ‘হে আমার আহলে বাইত! আল্লাহ তা’য়ালা আপনাদেরকে সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রেখে পবিত্র করার মত পবিত্র করবেন।" (মুসলিম শরীফ)

কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর বর্ণনায় আহলে বাইত ও আওলাদে রসূলগণের ফযীলত


قل لا اسئلكم عليه اجرا الا المودة فى القربى
অর্থ: "হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট নুবুওওয়াতের দায়িত্ব পালনের কোন প্রতিদান চাইনা। তবে আমার নিকটজন তথা আহলে বাইতগণের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।" (সূরা শূরা-২৩)

এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত তাফসীর "তাফসীরে মাযহারী" ৮ম জিঃ ৩২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে-
لا اسئلكم اجرا الا ان تودوا اقربائى واهل بيتى وعترتى وذلك لانه صلى الله عليه وسلم كان خاتم النبين لا نبى بعده.
অর্থ: "আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাইনা তবে তোমরা আমার নিকটাত্মীয়, আহলে বাইত ও বংশধরগণের (যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক) হক্ব আদায় করবে। কেননা, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন শেষ নবী। উনার পরে কোন নবী নেই।"

Thursday, January 14, 2016

এক নজরে বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বইয়্যাহ আলাইহাস সালাম এর পরিচিতি


উম্মু আবীহা, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বইয়্যাহ আলাইহাস সালাম এর সবচেয়ে বড় পরিচয়  হচ্ছে, তিনি হচ্ছেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরলখতে জিগার,  বানাত (মেয়ে)। সুবহানাল্লাহ! হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর  হযরত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালামদের মধ্যে তিনি হচ্ছেন ‘আছ ছানিয়াহ তথা দ্বিতীয়া।’ সুবহানাল্লাহ!  নিম্নে এক নজরে উনার পরিচিতি  তুলে ধরা হলো,
নাম : সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বইয়্যাহ আলাইহাস সালাম। 

Monday, January 11, 2016

"হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি গরীব কিংবা অভাবী ছিলেন না, তিনি ধনী ও সম্পদশালী ছিলেন।"


কুরআন শরীফ উনার ‘ সূরা দ্বূহা শরীফ’  ৮নং  আয়াত শরীফ  মধ্যে ইরশাদ  হয়েছে, ‘আল্লাহ পাক তিনি উনার রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উনার মুখাপেক্ষী পেলেন অতঃপর উনাকে ধনী বা সম্পদশালী করলেন।’
আল্লাহ পাক উনার পরে সবচেয়ে ধনী হলেন- হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।
আর উনার যিনি প্রথম আহলিয়া উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিও পৈত্রিক সূত্রে আরবের সর্বাধিক সম্পদশালিণী ছিলেন।
আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সমস্ত সৃষ্টির জন্য নবী ও রসূল হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং যমীনে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ পাক তিনি যেমন কোন সৃষ্টির মুখাপেক্ষী নন তেমনি  আল্লাহ পাক উনার যিনি রসূল,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও কোন সৃষ্টির মুখাপেক্ষী নন বরং তিনি কেবলমাত্র আল্লাহ পাক উনার মুখাপেক্ষী।

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...