Monday, February 29, 2016

সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক-৪



সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ‘শায়বাহ’ ইসম বা নাম মুবারক সম্পর্কে কিছু আলোচনা:
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক কেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম’ রাখা হয়েছে, এই বিষয়ে সীরাতবিশারদগণ উনারা বিভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। অধিকাংশ সীরাতবিশারদগণ উনাদের, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন উনার সম্মানিত মাথা মুবারক-এ কিছু শুভ্র বা সাদা চুল মুবারক ছিলো। তাই উনার সম্মানিত নাম মুবারক রাখা হয়েছে সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম। কেননা শায়বাহ উনার একখানা অর্থ মুবারক হচ্ছেন ‘শুভ্র, সাদা চুল, শুভ্র কেশ’।
কেউ কেউ বলেছেন, উনার সম্মানিত মাথা মুবারক উনার মাঝখানে কিছু সাদা চুল মুবারক ছিলো। আবার কেউ কেউ বলেছেন, উনার সম্মুখের কেশগুচ্ছ সাদা ছিলো। যা স্পষ্টভাবে দেখা যেতো।

Sunday, February 28, 2016

সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক-৪



সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ‘শায়বাহ’ ইসম বা নাম মুবারক সম্পর্কে কিছু আলোচনা:
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক কেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম’ রাখা হয়েছে, এই বিষয়ে সীরাতবিশারদগণ উনারা বিভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। অধিকাংশ সীরাতবিশারদগণ উনাদের, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন উনার সম্মানিত মাথা মুবারক-এ কিছু শুভ্র বা সাদা চুল মুবারক ছিলো। তাই উনার সম্মানিত নাম মুবারক রাখা হয়েছে সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম। কেননা শায়বাহ উনার একখানা অর্থ মুবারক হচ্ছেন ‘শুভ্র, সাদা চুল, শুভ্র কেশ’।

ম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক (৪)



প্রথম শাদী মুবারক:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার প্রথম শাদী মুবারক নিয়ে ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ, মশহূর, দলীল ভিত্তিক, নির্ভরযোগ্য এবং সর্বোচ্চ প্রণিধানপ্রাপ্ত মতে, তামীম গোত্রের আবু হালাহ হিন্দ নাব্বাশ ইবনে জুরারা উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার প্রথম শাদী মুবারক সম্পন্ন হয়। শাদী মুবারকের পর আবু হালাহ হিন্দ বেশি দিন যমীনে অবস্থান করেননি। উনার ঔরসে ৩ জন সন্তান বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। একজন মেয়ে সন্তান বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন, উনার নাম রাখা হয় যাইনাব, তিনি অল্প বয়সেই বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। দুইজন ছেলে সন্তান বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। উনারা হলেন- হযরত হিন্দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত হালাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।

সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক-৩


আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনার মাঝে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাশরীফ মুবারক নেয়া:
আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সাথে আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আযীমুশ শান শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয় সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম তিনি বেশ কিছু দিন সম্মানিত মদীনা শরীফ অবস্থান মুবারক করেন। তখনই উনার সম্মানিত কপাল মুবারক থেকে ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উানর সম্মানিত নূর মুবারক’ তিনি আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ কুদরতীভাবে মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন। সুবহানাল্লাহ! সেই রাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে অফুরন্ত রহমত-বরকত সাকীনাহ মুবারক নাযিল করেন এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনাকে অপরূপ সাজে সুসজ্জিত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক - ৩


পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ সম্পর্কে সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়,
ولدت خديجة بنت خويلد عليها السلام في مكة قبل ولادة الرسول صلى الله عليه و سلم بخمسة عشر عامًا، 
অর্থ: (সর্বাধিক মশহুর মতে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ১৫ বছর পূর্বে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মাঝে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। (তবাকাত)

‘পবিত্র জুমাদাল ঊলা শরীফ’ মাস উনার মহাসম্মানিত বিশেষ দিনসমূহ কি আপনার জানা আছে?


১) পবিত্র ২২ জুমাদাল ঊলা শরীফ হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্র আযীমুশশান নিক্বাহিল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার সুমহান দিন। সুবহানাল্লাহ!
২) আফদ্বলুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ই জুমাদাল ঊলা শরীফ মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

Saturday, February 27, 2016

হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকাহ মুবারকের খুতবা

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের নিকাহ মুবারক-এর মজলিসে আবূ ত্বালিব তিনি খুতবা মুবারক পাঠ করেন। নিম্নে পাঠকদের সামনে তার বাংলা অনুবাদ পেশ করা হলো- 
“সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার, যিনি আমাদেরকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বংশ মুবারক-এ পাঠিয়েছেন। এবং আমাদেরকে উনার ঘর বাইতুল্লাহ শরীফ-এর খাদিম ও ইমাম করে পাঠিয়েছেন। উনার ঘর কাবা শরীফ-এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সম্মানিত ও মর্যাদাবান করেছেন। চতুর্দিক থেকে জ্বিন ইনসান এই কাবা শরীফকে যিয়ারত করতে ছুটে আসে। যে ব্যক্তি এই বাইতুল্লাহ শরীফ-এ তাওয়াফ করতে আসে তার নিরাপত্তা দানের দায়িত্ব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের উপর অর্পণ করেছেন। আমাদেরকে তিনি সমস্ত মানুষের খলীফা হিসেবে মনোনীত করেছেন। অতঃপর আমার বলার বিষয় এই যে, নিশ্চয়ই হযরত সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এমন এক অনন্য সুমহান যুবক, উনার তুলনা, মেছালেরও মেছাল বা সমকক্ষ নেই। আর তিনি মাখলুকাতের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রণী। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধু আল্লাহ পাক নন, এতটুকু। এছাড়া যত মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত ও মাক্বামাত রয়েছে সবকিছুই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকাহ মুবারকের প্রস্তাব

وكلمت اخاها، فكلم اباه ....... فذكر له رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومكانه، وساله ان يزوجه فزوجه حضرت خديجة الكبرى عليها السلام و صنعوا من البقرة طعاما فاكلنا منه، ونام ابوها ثم استيقظ صاحيا- فقال ما هذه الحلة اهذه الصفرة، وهذا الطعام؟ فقالت له ابنته التى كانت قد كلمت عمارا هذه حلة كساها سيد المرسلين حبيب الله محمد صلى الله عليه وسلم بن عبد الله صلى الله عليه وسلم ختنك، وبقرة اهداها لك، فذبحناها حين زوجته حضرت خديجة الكبرى عليها السلام، فانكر ان يكون زوجه، وخرج يصيح حتى جاء الحجر،

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা বিনতে খুওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম উনার বাড়িতে গমন

হাদীছ শরীফ-এ আরো এসেছে, 
عن حضرت البيهقى رحمة الله عليه ان حضرت عمار ابن ياسر رضى الله تعالى عنه كان اذا سمع ما يتحدث به الناس عن تزويج رسول الله صلى الله عليه وسلم حضرت خديجة الكبرى عليها السلام وما يكثرون فيه يقول انا اعلم الناس بتزويجه اياها، انى كنت له تربا وكنت له الفا وخدنا- وانى خرجت مع رسول الله صى الله عليه وسلم ذات يوم حتى اذا كنا بالحزورة اجزنا على اخت حضرت خديجة الكبرى عليها السلام وهى جالسة على حضرت ادم عليه السلام تبيعها، فنادتنى فانصرفت اليها ووقف لى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت اما بصاحبك هذا من حاجة فى تزويج حضرت خديجة الكبرى عليها السلام ؟ قال حضرت عمار رضى الله تعالى عنه فرجعت اليه فاخبرته- فقال "بلى لعمرى" فذكرت لها قول رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت اغدوا علينا اذا اصبحنا، فغدونا عليهم قال فوجدناهم قد ذبحوا بقرة والبسوا ابا حضرت خديجة الكبرى عليها السلام حلة، وصفرت لحيته،

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা বিনতে খুওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম উনার ব্যবসায়ীক পন্য নিয়ে গমন -২

হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে,
قال حضرت ابن اسحاق رحمة الله عليه: وقد كانت حضرت خديجة الكبرى بنت خويلد عليها السلام ذكرت لورقة بن نوفل بن اسد رضى الله تعالى عنه - وكان ابن عمها وكان نصرانيا قد تتبع الكتب وعلم من علم الناس ما ذكرلها غلامها من قول الراهب وما كان يرى منه اذ كان الملكان يظلانه- فقال حضرت ورقة ابن نوفل رضى الله تعالى عنه: لئن كان هذا حقا يا حضرت خديجة الكبرى عليها السلام ان سيد المرسلين حبيب الله حضرت محمد صلى الله عليه وسلم لنبى هذه الامة، قد عرفت انه كائن لهذه الامة نبى ينتظر هذا زمانه- او كما قال- فجعل ورقة يستبطئ الامر ويقول حتى متى؟
وقال فى ذلك:
لججت وكنت فى الذكرى لجوجا +
لهم طاما ما بعث النشيجا
ووصف من حضرت خديجة الكبرى عليها السلام بعد وصف+
فقد طال انتظارى يا حضرت خديجة الكبرى عليها السلام
ببطن المكتين على رجائى +
حديثك ان ارى منه خروجا
بما خبرتنا من قول قس +
من الرهبان اكره ان يعوجا

অর্থ: হযরত ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, গোলাম মাইসারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট পাদ্রীর যে উক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং ছফরে দুফেরেশতা কর্তৃক আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ছায়া প্রদান করতে দেখেছিলেন, তা মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার চাচা হযরত ওয়ারাকা ইবনে নাওফিল ইবনে আসাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সেই ঘটনা অবহিত করেন। শুনে হযরত ওয়ারাকা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, হে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম! এ ঘটনা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তা হলে একথা নিশ্চিত যে, সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই উম্মতের নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর আমি নিজেও জানি যে, এই উম্মতের জন্য একজন নবী, যিনি আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু তিনি অতিশিঘ্রই আগমন করবেন। এটাই উনার যমীনে তাশরীফ নেয়ার যুগ। এরপর থেকে ওয়ারাকা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বিষয়টি সপ্রমানিত দেখার জন্য উদ্বেগও উৎকণ্ঠা প্রকাশ শুরু করলেন এবং নি¤েœাক্ত পংক্তিগুলো আবৃত্তি করলেন।
আমি অতি আগ্রহের সাথে এমন একটি জিনিসকে বারবার বলে আসছি, যা দীর্ঘদিন যাবত অনেককে কাঁদিয়ে আসছে। সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট থেকেও নতুন করে সে বিষয়ে নানাবিধ ছিফত মুবারকের বিবরণ পাওয়া গেলো। শুনুন হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম! আমার আশা ও প্রতীক্ষা অনেক দীর্ঘ হয়েছে। আমার প্রত্যাশা, পবিত্র মক্কা শরীফ-এর উচ্চভূমি ও নি¤œভূমির মধ্যখান থেকে যেনো আপনার সে কথা মুবারক বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে দেখতে পাই, যে কথা আপনি পাদ্রী তথা খ্রিস্টান ধর্ম যাজকের সূত্রে জানালেন। বস্তুতঃ ধর্মযাজক তথা পাদ্রীর কথায় কোন হেরফের হোক, আমি তা চাই না।

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা বিনতে খুওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম উনার ব্যবসায়ীক পন্য নিয়ে গমন



অন্য বর্ণনায় এসেছে, হযরত ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইবনে আসাকির রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বয়স মুবারক যখন ২৫ বৎসর তখন তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ-এ ‘আল আমীন লক্বব মুবারক-এ সমধিক পরিচিত ছিলেন। বুছরা নামক স্থানে যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ নেন তখন ‘নাসতূর নামক পাদ্রী উনাকে দেখে চিনে ফেলেন এবং বলেন, এ বৃক্ষের নিচে কখনও কোনো নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ছাড়া অন্য কেউ অবস্থান করেননি। এরপর পাদ্রী মাইসারাকে জিজ্ঞাসা করলেন উনার উভয় চক্ষু মুবারক-এ নূর মুবারক জ্বলজ্বল করছে কি-না? 

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা বিনতে খাওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম উনার প্রথম ব্যবসা



হাদীছ শরীফ-এ এসেছে,
قال حضرت ابن اسحاق رحمة الله عليه وكانت حضرت خديجة بنت خويلد عليها السلام امرأة تاجرة ذات شرف ومال تستأجر الرجال على مالها مضاربة فلما بلغها عن رسول الله صلى الله عليه و سلم ما بلغها من صدق حديثه و عظم أمانته و كرم أخلاقه بعثت اليه فمرضت عليه أن يخرج لها فى مال تاجرا الى الشام وتعطيه أفضل ما تعطى غيره من التجار- مع غلام لها يقال له ميسرة. فقبل رسوالله صلى الله عليه وسلم منها وخرج فى مالها ذاك. وخرج معه غلامها ميسرة حتى
نزل الشام. فترل رسول الله صلى الله عليه وسلم فى ظل شجرة قريبا من صومعة راهب من الرهبان. فاطلع الراهب الى ميسرة. فقال: من هذا الرجل الذى نزل تحت الشجرة؟ فقال ميسرة هذا رجل من قريش من أهل الحرام فقال له الراهب ما نزل تحت هذه الشجرة الانبى. ثم باع رسول الله صلى الله عليه وسلم سلمته- عنى تجارته- التى خرج بها واشترى ماأراد أن يشترى. ثم اقبل قافلاالى مكة ومعه ميسرة.
অর্থ: হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা বিনতে খাওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন একজন শরীফা, সম্ভ্রান্ত, অভিজাত নারী। লাভে অংশীদারিত্বের চুক্তিতে তিনি উনার ব্যবসা পরিচালনা করতেন। বস্তুত পক্ষে কুরাইশ বংশের অনেকেই ছিলেন ব্যবসায়ী। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা, সর্বোত্ত চারিত্রিক মহত্বের সুখ্যাতির কথা জানতে পেরে সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার নিকট প্রস্তাব পাঠালেন যে, তিনি যদি ইচ্ছা করেন তাহলে আমার পণ্য সামগ্রী নিয়ে সিরিয়া সফর করতে পারেন। বিনিময়ে তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অন্যান্যদের তুলনায় ব্যবসার অধিক লভ্যাংশ উনাকে শরীকদার হিসেবে উনার মুবারক খিদমতে পেশ করবেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার গোলাম মাইসারাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতের জন্য সঙ্গে দিতে চাইলেন। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার প্রস্তাব কবুল করলেন এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পণ্য সামগ্রী নিয়ে, গোলাম মাইসারাসহ সিরিয়া অভিমুখে সফর (বা রওয়ানা) করলেন। সিরিয়ায় পৌঁছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জনৈক পাদ্রী-এর গির্জার নিকটবর্তী একটি গাছের ছায়ায় অবস্থান করছিলেন। 
পাদ্রী মাইসারাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, গাছের নিচে অবরতণকারী ব্যক্তি তিনি কে? মাইসারা বললেন, ইনি হারামবাসী কুরাইশী বংশের সম্মানিত একজন ব্যক্তি। পাদ্রী বললেন, এ যাবৎ এই গাছের নিচে নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত কেউ অবস্থান করেননি। অতঃপর আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত পণ্যসামগ্রী বিক্রি করেন এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়ে উনার পছন্দমত অন্য মালামাল ক্রয় করলেন। এরপর মাইসারাকে সাথে নিয়ে মক্কা শরীফ-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করলেন। 

উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আরবের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যে অদ্বিতীয়া এবং বিপুল ধন সম্পদের অধিকারীনী ছিলেন


পৃথিবীর ইতিহাসে তৎকালীন সময়ে সমগ্র আরব জাহানে যত বড় ব্যবসায়ী ও বণিক ছিল, তার মূল কেন্দ্র বিন্দু ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতাজান এবং টাকা পয়সায়, ধন-সম্পদে একমাত্র খ্যাতিসম্পন্ন, সুপরিচিত, এবং সম্মানিত একক ব্যক্তিত্ব। আর এই সম্মানিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের একমাত্র খ্যাতিসম্পন্না, পুত-পবিত্রা কন্যা ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুন্ নিসায়িল আলামীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি। উনার জ্ঞান-গরিমা, ধৈর্য-সহিষ্ণুতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, উদারতা, সৌন্দর্যতা, বুদ্ধিমতিতা, ঐশর্য্যমণ্ডিতা, অপরূপ লাবণ্যতা, পুত-পবিত্রতা, অনুপম মুবারক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে লক্ষ্য করে সারা আরব জাহানের সবচেয়ে সম্পদওয়ালা ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সুযোগ্য ব্যক্তিগণ স্বীয় পুত্রবধু হিসেবে উনাকে পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতার দ্বারে অপেক্ষমান ছিলেন।

সাইয়্যিদুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বংশ মুবারক পরিচিতি:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি কুরাইশ বংশের ছিলেন। উনার বংশ মুবারক পরিচিতি হচ্ছে, উনার পিতার দিক থেকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম বিনতে খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে সাইয়্যিদুনা হযরত কুসাই আলাইহিস সালাম ইবনে সাইয়্যিদুনা হযরত কিলাব আলাইহিস সালাম ইবনে সাইয়্যিদুনা হযরত মুররা আলাইহিস সালাম ইবনে সাইয়্যিদুনা হযরত কাব আলাইহিস সালাম ইবনে সাইয়্যিদুনা হযরত লুয়াই আলাইহিস সালাম ইবনে সাইয়্যিদুনা হযরত গালিব আলাইহিস সালাম ইবনে সাইয়্যিদুনা হযরত ফিহির আলাইহিস সালাম।
আর মাতা উনার দিক থেকে উনার নসব মুবারক হচ্ছে- সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম বিনতে ফাতিমা বিনতে যাইদা আসাদ ইবনে রাওয়াহা ইবনে হাজার ইবনে ইবনে আবস ইবনে মাঈদ ইবনে আমির ইবনে সাইয়্যিদুনা হযরত লুয়াই আলাইহিস সালাম ইবনে সাইয়্যিদুনা হযরত গালিব আলাইহিস সালাম ইবনে সাইয়্যিদুনা হযরত ফিহির আলাইহিস সালাম।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা বিনতে খুওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম উনাকে নিকাহ করে ধনী ছিফত প্রকাশ


হে কুরাইশ সম্প্রদায়গণ! আপনারা সাক্ষী থাকুন যে, আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা বিনতে খুওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম উনাকে চারশত মিছকাল মহরের বিনিময়ে সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট নিকাহ মুবারক দিলাম। তখন আবূ ত্বালিব তিনি বললেন, হে হযরত ওয়ারাকা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আমি চাই যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পিতৃব্য (চাচা) আমর ইবনে আসাদ তিনিও খুতবা প্রদানে অংশ গ্রহণ করুক। এরপর আমর ইবনে আসাদ তিনি সকলের উদ্দেশ্যে একটি খুতবা দিলেন। হে কুরাইশগণ! আপনারা সাক্ষী থাকুন! আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা বিনতে খুওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে নিকাহ মুবারক দিলাম। উভয় পক্ষের মধ্যে ইজাব ও কবুল বিনিময় হলো। ‘রওজাতুল আহবাব কিতাবে এ বর্ণনা রয়েছে।

খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকাহ মুবারক



وخرج بنو هاشم برسول الله صلى الله عليه وسلم، حتي جاءوه فكلموه فقال اين صاحبكم الذى تزعمون انى زوجته؟ حضرت خديجة الكبرى عليها السلام؟ فبرز له رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما نظر اليه، قال ان كنت زوجته فسبيل ذاك، وان لم اكن فعلت فقد زوجته-
এদিকে হাশিম গোত্রের লোকজন সকলেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পিতার সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পিতা বললেন, আপনাদের মধ্যে যাঁর নিকট আমি আমার মেয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে নিকাহ মুবারক দিয়েছি বলে আপনারা ধারণা করেন, তিনি কোথায়? জবাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সামনে তাশরীফ নিলেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পিতা তিনি আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এক নজর দেখে বললেন, আমি যদি এই সম্মানিত ব্যক্তি আল আমীন উনার নিকট আমার মেয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে নিকাহ মুবারক দিয়ে থাকি তা হলে ইহা সর্বোত্তম। তাই এখনই সম্মানিত আল আমীন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে আমার মেয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে নিকাহ মুবারক দিয়ে দিলাম। সুবহানাল্লাহ! (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২য় জিলদ ২৯৫ ও ২৯৬ পৃষ্ঠা, দালায়িলুন নুবুওওয়াহ ২য় জিলদ ৭১ ও ৭২ পৃষ্ঠা, তারিখুল ইসলাম)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি এরূপ ঘটনা শুনে কোনো বিরূপ মন্তব্য করলেন না।

হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে,
اخرج حضرت ابن سعد رحمة الله عليه من طريق حضرت سعيد بن جبير رضى الله تعالى عنه - عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه ان نساء اهل مكة اختلفن فى عيد كان لهن فى رجب فبيناهن عكوف عند وثن مثل لهن كرجل حتى صار منهن قريبا ثم نادى بأعلى صوته يا نساء تيماء انه سيكون فى بلدكن نبى يقال له حضرت احمد صلى الله عليه وسلم يبعث برسالة الله فأيما امرأة استطاعت ان تكون زوجا له فلتفعل فحصبته النساء وقبحنه واغلظن له وأغضت خديجة على قوله ولم تعرض له فيما عرض له النساء.
অর্থঃ- “হযরত ইবনে সাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত সায়ীদ ইবনে জুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই মক্কা শরীফ-এর নারীগণ উনাদের মধ্যে রজব মাসে ঈদ বা খুশির দিন সম্পর্কে মতভেদ দেখা দিলে সকলেই এক মূর্তির নিকট উপস্থিত হয়, হঠাৎ এক মানব আকৃতি তারা দেখতে পান। আকৃতিটি আস্তে আস্তে তাদের নিকট এসে উচ্চস্বরে ঘোষণা করলো, হে তায়মার নারীগণ!

“হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল ইলম এবং বিচক্ষণতা”

আনুষ্ঠানিক পবিত্র নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের প্রারম্ভিককালে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে একবার বলেছিলেন যে, ভবিষ্যতে আর কখনও হযরত জিব্রীল আলাইহিস সালাম আপনার নিকট আবির্ভূত হলে আমাকে অবহিত করবেন। এই প্রস্তাবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মতি প্রকাশ করলেন যে, ঠিক আছে। আবার আসলে আপনাকে বলবো। সুতরাং হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম তিনি পুনরায় আগমন করলে তিনি হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে ডেকে বললেন, এই যে, দেখুন, তিনিই হচ্ছেন হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম ফেরেশতা।

“হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল আত্মত্যাগ ও খিদমত”

উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ উনার একজন বিত্তশালী মহিলা হওয়া সত্ত্বেও নিজ হাতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সেবা করতেন। উনার আহার, বিশ্রাম ইত্যাদির তদারক নিজেই করতেন। সন্তানদের প্রতিপালনসহ গৃহকর্মের যাবতীয় দায়িত্ব নিজে পালন করতেন। একবার হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই যে, হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আসছেন পাত্রে করে আপনার জন্য তরকারী, খাদ্যসামগ্রী অথবা পানীয় কিছু নিয়ে। আপনি উনার রব ও আমার পক্ষ থেকে উনাকে মুবারক সালাম বলবেন এবং পবিত্র জান্নাতে মণি-মুক্তার তৈরি একটি বাড়ীর সুসংবাদ দান করবেন। সুবহানআল্লাহ!
হযরত যায়িদ বিন হারিসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার প্রিয় গোলাম, উনাকেও তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতের জন্য হাদিয়া করেন।

আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের সময় হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল খিদমত”

আনুষ্ঠানিক পবিত্র নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের পূর্বে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিবিষ্ট মনে মহান রব্বুল আলামীন উনার ইবাদত করার জন্য নাগরিক কোলাহল হতে দূরে লোকালয় ছেড়ে হেরা গুহায় নির্জন পরিবেশে চলে যেতেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সঙ্গে আহার্য পুঁটলি বেঁধে দিয়ে দিতেন। ধ্যানমগ্ন হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে একাধারে কয়েকদিন অবস্থান করতেন। রসদ ফুরিয়ে গেলে পুনরায় ঘরে ফিরে আসতেন। মাঝে মাঝে যখন ফিরতে অনেক সময় হয়ে যেত তখন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই রুটি, পানি নিয়ে গুহায় দিয়ে আসতেন। কোনো প্রশ্ন করতেন না বরং ধৈর্যের সাথে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কার্যকলাপ লক্ষ্য করে যাচ্ছিলেন।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারক”

বসরা হতে বাণিজ্য কাফেলা ফিরে আসার তিন মাস পর হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পিতৃব্য আমর ইবনে আসাদের মাধ্যমে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে বিবাহের প্রস্তাব করেন। কিন্তু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বভাবসূলভ লজ্জাবশত, নীরবতার মাধ্যমে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
এক রাতে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, সূর্য একটি আলোর পিণ্ডরূপে উনার গৃহে পতিত হয়। এ আলোতে সমগ্র পবিত্র মক্কা শরীফ আলোকিত হয়ে উঠে। এ স্বপ্নের ব্যাখ্যার জন্য তিনি স্বপ্নের তাবিরবীদগণের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, কোনো আলোকসম্পন্ন ব্যক্তির সঙ্গে উনার শুভ পরিণয় ঘটবে।

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা বিনতে খুওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম উনার সুমহান নিকাহ মুবারক



فكان ميسرة- فيها يزعمون- اذا كانت الهاجرة واشتد الحر. يرى ملكين يظلانه من الشمس وهو يسير على بعيره. فلما قدم مكه على حضرت خديجة عليها السلام بما لها باعت ما جاءٍ به فاضعف أوقريبا. وحدثها ميسرة عن قول الراهب وعما كان يرى من اظلال الملائكة اياة وكانت حضرت خديجة عليها السلام امرأة جازمة شريفة لبيبة مع ماأراد الله بهامن كرامتها. قلما أخبرها ميسرة ما أخبرها بعشت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت له- فيما يزعمون- ياابن عم انى فد رغبت فيك لقرابتك وسطتك-
فى قومك ءأمانتك وحسن خلقك و صدق حديثك، ثم عرضت نفسها عليه وكانت أوسط نساء قريش نسبا وأعظمهن شرفا وأكثرهن مالا، كل قومها كان حريصا على ذاك منها لو يقدر عليه، فلما قالت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر ذلك لأ عمامه، فخرج معه عمه حمزة رضى الله تعالى عنه حتى دخل على خويلدبن أسد فخطبها اليه فتزوجها عليه الصلاة والسلام-
قال حضرت ابن هشام رحمة الله عليه : فأصدقها عشرين بكرة وكانت أول امرأة تزوجها ولم يتزوج عليها غيرها حتى ماتت-

খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযিলত মুবারক

প্রথম মুসলমান
আনুষ্ঠানিকভাবে ওহী নাযিল মুবারক নাযিল হওয়া শুরু হলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বপ্রথম উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে অবহিত করেন। তিনিই সর্বপ্রথম পবিত্র ইসলাম গ্রহণ করেন। হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনয়নের ক্ষেত্রে কায়িনাতের সমস্ত মহিলা হতে অগ্রগামী। (কানজুল উমাল)
আসমানী সালাম
আনুষ্ঠানিক নবুওয়াত মুবারক প্রকাশের পূর্ব হতেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রবিত্র হেরা গুহায় অবস্থান মুবারক গ্রহণ করেন। সেই সময় উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম প্রায়ই মুবারক খিদমতে গমন করতেন। তারই ধারাবহিহিকতায় একদিন তিনি যাচ্ছিলেন, তিনি পৌছার পূর্বেই হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আপনার খিদমত মুবারকে আসতেছেন। মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে উনাকে সালাম জানাবেন। অতপর, উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন পৌছলেন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিষয়টি উনাকে জানালেন। অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লারøাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জবান মুবারকে সালাম মুবারক জানিয়েছেন।সুবহানাল্লাহ।

হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আওলাদ আলাইহিমুস সালাম

হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম
প্রসিদ্ধ, গ্রহণযোগ্য এবং তারযীহপ্রাপ্ত মতে,নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাতজন আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। নি¤েœ উনাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

ইবনু রসূল আল আউয়াল আলাইহিস সালাম
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় সাড়ে ২৭ বছর এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় সাড়ে ৪২ বছর, তখন হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তিনি শিশু বয়স মুবারকে ২রা রজবুল হারাম শরীফ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার নাম মুবারক অনুযায়ী নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কুনিয়াত মুবারক আবুল কাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।

হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার হাবীবি খিদমতে তাশরীফ

হাবীবী খিদমত মুবারকে তাশরীফ

উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উম্মুল মু’মিনীন হিসেবে পূর্ব হতেই নির্ধারিত। তথাপি কতিপয় আনুষ্ঠানিকতা দরকার। আনুষ্ঠানিক নবুওয়ত প্রকাশের ১৫ বছর পূর্বে নূরে মুজাস্সাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন ২৫ বছর,তখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আগ্রহের দরূণ উনাকে শাদী মুবারক করেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার সমস্ত সম্পদ নূরে মুজাস্সাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে হাদিয়া করেন। বলা হয়,উনার উরুস মুবারকের দিনে নূরে মুজাস্সাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য স¦র্ণের পাত বিছিয়ে দেওয়া হয়। স্বর্ণের সেই পাত সমূহ মাড়িয়ে তিনি হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক রাখেন। সুবহানাল্লাহ!


হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ব্যবসা বানিজ্য

ব্যবসা-বাণিজ্য
উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পিতা খুওয়াইলিদ ছিলেন পুরো আরব জাহানের বড় ব্যবসায়ীদের একজন। পিতার ইন্তেকালের পর ওয়ারিশ সত্বে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। আবার ক্রমান্বয়ে দু’স্বামীর নিকট হতেও তিনি অনেক সম্পত্তি লাভ করেন। এই অঢেল সম্পত্তি নিয়ে তিনি ব্যবসা পরিচালনা করেন। সুদূর বসরা-সিরিয়া পর্যন্ত উনার বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই বৃহত্তম বাণিজ্যিক কাফেলাকে সততা ও আমানতদারীর সাথে শৃঙ্খলা, যোগ্যতা, সূক্ষ কৌশলের মাধ্যমে পরিচালনার জন্য সুযোগ্য ও বিশেষ বৈশিষ্টপূর্ণ একজন লোক দরকার। কিন্তু অনেক খোজাখুজির পরেও এমন সুযোগ্য লোক নির্ধারণ সম্ভব হয়নি। পরিশেষে দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো ‘আল আমীন’ লক্বব মুবারকে মশহূর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি।
উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার অনুরোধের প্রেক্ষিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বৃহত্তম বানিজ্যিক কাফেলার তত্ত্বাবধান মুবারক গ্রহণ করেন। এ কাফেলাকে রহমত বরকতে পরিপূর্ণ করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে সে সম্পত্তি কয়েক গুণ বৃদ্ধি হয়ে যায়। কিতাবে উল্লেখ করা হয়, নূরে মুজাস্সাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তত্ত্বাবধান মুবারকের দরূণ উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্পত্তি এত পরিমাণে বৃদ্ধি পায় যে সমগ্র মক্কা শরীফ উনার সমস্ত ব্যবসায়ীদের যত সম্পদ, উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার এককভাবে তার চেয়ে অনেক বেশী সম্পদ ছিল। সুবহানাল্লাহ!

হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার উম্মুল মু’মিনীন হওয়ার ইঙ্গিত

উম্মুল মু’মিনীন হওয়ার ইঙ্গিত
পরপর দু’বার বিধবা হওয়ায় উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বেশ কষ্ট অনুভব করেন। যাবতীয় কার্যকলাপে বেশ অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়। এরই মাঝে সংঘটিত হয় এক দ্বৈব ঘটনা।
পবিত্র মক্কা শরীফে মহিলাদের বিশেষ অনুষ্ঠান চলছিল। সকলেই বেশ আনন্দিত সময় কাটাচ্ছিল। কিন্তু উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন গম্ভীর। এমতাবস্থায় এক আগন্তুক জাহির হলেন। তিনি ঘোষণা দিলেন, “হে কুরাঈশ মহিলাগণ! অতি শীঘ্রই পবিত্র মক্কা শরীফে আখেরী নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করবেন। উনার নাম মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আপনাদের মধ্যে যার পক্ষে সম্ভব আপনারা উনার খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম প্রদানের কোশেশ করবেন।” এই ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর হতে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আখেরী নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন। তিনি আখেরী নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক করার দৃঢ় ইচ্ছা অন্তরে লালন করতে থাকেন।

উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম

উম্মুল মুমিনীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র রওজা শরীফ। সুবহানাল্লাহ! যা শত সহস্র বছর ধরে বিশ্ববাসীর নিকট অতীব স্মরনীয়ভাবে চিহ্নিত ছিলো। কিন্তু সৌদী ওহাবী গং ক্ষমতা দখল করার পর এই মহাপবিত্র চিহ্নটুকুও মানুষের দৃষ্টির আড়াল করে দেয়। নাউজুবিল্লাহ।

অর্থ : মু’মিনগণ উনাদের নিকট উনাদের জীবনের চেয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অধিক প্রিয়। আর উনার হযরত আযওয়াজুম মুত্বহহারাহ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন মু’মিনগণ উনাদের মাতা তথা উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ০৬)

উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র সাদী মুবারক


বিবাহের প্রস্তাব

ব্যবসা সংক্রান্ত সাফল্য ও বহু চারিত্রিক গুণাবলীর জন্য হযরত কুবরা ত্বাহিরা আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শুধু ব্যবসার অংশীদার নয়, জীবনসঙ্গী হিসেবেও কল্পনা করতে থাকেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নাফিসা নামের একজন দাসী ছিলেন। তিনি এই বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি তাকে উদ্বুদ্ধ করেন। মধ্যস্থতা ও আলোচকের ভূমিকায় ছিলেন নাফিসা বিনতে মানিয়া ও আমর ইবনে আসাদ।

Friday, February 26, 2016

সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক-২


সম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম: আবূ সা’দ আব্দুল মালিক ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম নীশাপুরী খরকূশী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ: ৪০৭ হিজরী) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
وكان النور على وجهه كالهلال يتوقد شعاعه، لا يمر بشيء إلا سجد له، ولا يراه أحد إلا أقبل نحوه
অর্থ: ‘চাঁদ যেমন তার আলোক রশ্মি প্রজ্বলিত করে থাকে, ঠিক তেমনিভাবে আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত চেহারা মুবারক-এ সম্মানিত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার কিরণ মুবারক প্রজ্বলিত করতেন। অর্থাৎ আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত চেহারা মুবারক-এ চাঁদের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখা যেতো এবং চাঁদের কিরণের ন্যায় সেখান থেকে সম্মানিত নূর মুবারক উনার রশ্মি মুবারক বিচ্ছূরিত হতো। সুবহানাল্লাহ! তিনি কোনো কিছু (যেমন পশু-পাখি, গাছ-পালা, তরুলতা ইত্যাদি) পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে সেগুলো উনাকে সিজদা করতো আর জিন-ইনসান উনাকে সম্মান করতো। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তিই সেই সম্মানিত নূর মুবারক দেখতো, সে মুহব্বতের সাথে উনার নিকট অগ্রসর হতো। সুবহানাল্লাহ! (শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ ১/৩৩১)

Thursday, February 25, 2016

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক (২)


সম্মানিত ওয়ালিদ আলাইহিস সালাম:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম সম্মানিত ওয়ালিদ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়,
كان أبوها خويلد عليه السلام من سادة قريش وسيد بني عبد العزى بن قصي وأحد أشراف قريش 
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতা খুওয়াইলিদ আলাইহিস সালাম তিনি কুরাঈশদের মধ্যে নেতৃস্থানী, আব্দুল্ উয্যা গোত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং কুরাঈশদের অধীক সম্মানিত ব্যক্তিত্ব উনাদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সুবহানাল্লাহ।
অন্যত্র বর্ণিত রয়েছে,
كان من أشراف وفرسان قريش
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতা তিনি কুরাঈশদের গণ্য মান্য এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। (আল মুহবার)

উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক (১)


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يَااَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مّـِنْ رَّبّـِكُمْ وَشِفَاء لّـِمَا فِى الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لّـِلْمُؤْمِنِيْنَ. قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مّـِمَّا يَـجْمَعُوْنَ. 
অর্থ: “হে মানুষেরা! হে সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসী! অবশ্যই তোমাদের মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ নছীহতকারী, তোমাদের অন্তরের সর্বপ্রকার ব্যাধিসমূহের সর্বশ্রেষ্ঠ আরোগ্যদানকারী, সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াত দানকারী এবং সমস্ত কায়িনাতবাসীর জন্য, খাছ করে ঈমানদারদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রহমতস্বরূপ আমার যিনি হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। (সুবহানাল্লাহ) হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসীকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যে ফযল, করম ও রহমত মুবারক হিসেবে উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন, সেজন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে, ঈদ পালন করে। তারা দুনিয়া ও আখিরাতে যা কিছু করে, তা হতে এই খুশি প্রকাশ করা, ঈদ পালন সর্বোত্তম।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা ইউনূস শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৫৮)

সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক-১

সম্মানিত পরিচিতি মুবারক: মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টিজগতে যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এবং শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার দিক থেকে সর্বোচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত উনাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন সাইয়্যিদুন নাস, সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, আল ফাইয়্যায, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুল কায়িনাত, জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন ঈমান। উনার সবচেয়ে বড় পরিচয় মুবারক হচ্ছেন, তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত দাদাজান আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তাই মুজাদ্দিদে আ’যম সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত ফতওয়া মুবারক দিয়েছেন যে, “সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, আল ফাইয়্যায, যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ, মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক জানা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য ফরযে আইন।” সুবহানাল্লাহ!

Saturday, February 20, 2016

১১ জুমাদাল উলা শরীফ- সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালীছা আলাইহাস সালাম উনার সুমহান পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস।


মুসলিম সমাজ আজ মৎস্যকন্যা, সূর্যকন্যা, পুতুলকন্যা, পাহাড়ি কন্যা, অশ্রুকন্যা, স্বর্ণকন্যা, রেকর্ডকন্যা ইত্যাদি অনেক কন্যার কথা শুনছে। মিডিয়ায় প্রচার হচ্ছে। বলাবলি হচ্ছে। এমনকি তাদের ভক্তও তৈরি হচ্ছে। অনুসরণ-অনুকরণের চেষ্টাও চলছে। বিশেষতঃ মুসলমান শিশুরা জীবনের শুরুতেই রাজকন্যার কথা শুনে। রাজকন্যা সর্ম্পকে শ্রদ্ধা ও সম্মান মিশ্রিত একটা ধারণা পায়। 
কিন্তু মুসলমানদের পবিত্র ঈমানের যিনি মূল, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসলীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিনি সুমহান বানাত (কন্যা) হযরত বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছালিছা আলাইহাস সালাম উনার সর্ম্পকে সম্পূর্ণই বেখবর! নাউযুবিল্লাহ!

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা ঈমান, আমল এবং নাজাতের মূল


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
رضوان من الله اكبر
অর্থ: খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক সবচেয়ে বড়। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭২)
অর্থাৎ মাখলূক্বাতের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক। সন্তুষ্টি মুবারক যেহেতু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনাকে সর্বাধিক মুহব্বত করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
والذين امنوا اشد حبا لله
অর্থ: ঈমানদারগণ মহান আল্লাহ পাক উনাকে সর্বাধিক মুহব্বত করেন। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬৫)

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক-এ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম



মহান আল্লাহ পাক তিনি বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য মু‘য়াল্লিমাহ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি নূরে মুজসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, কিভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতে হয়। সুবহানাল্লাহ! যখন মুশরিকরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট-তাকলীফ দিতো এবং উনার উপর যুলুম নির্যাতন করতো, তখন তিনি একজন মা তার সন্তানকে যেভাবে স্নেহভরে আদর-যতœ করে থাকে, ঠিক সেইভাবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতেন। সুবহানাল্লাহ!

এক নজরে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক


আফদ্বলুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম উনার সবচেয়ে বড় পরিচয় মুবারক হচ্ছে, তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লখতে জিগার, মহাসম্মানিতা বানাত (মেয়ে)। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা হযরত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে তিনি হচ্ছেন ‘ছালিছাহ তথা তৃতীয়া’। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি না এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি না; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছে ঈমান। নিম্নে এক নজরে উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক তুলে ধরা হলো,

উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক


মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৫ বছর পূর্বে ১১ই জুমাদাল ঊলা শরীফ মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক অনুযায়ী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৩৫ বছর। আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিলেন ৫০ বছর। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাদেরকে কষ্ট দেয়ার কারণে উতবাহ ও উতাইবার কঠিন পরিণতি


উসদুল গবাহতে উল্লেখ রয়েছে,
فَلَمَّا اَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ {تَبَّتْ يَدَا اَبِـىْ لَـهَبٍ} قَالَ اَبُوْ لَـهَبٍ لِّاِبْنَيْهِ رَأْسِىْ مِنْ رُءُوْسِكُمَا حَرَامٌ اِنْ لَّـمْ تُطْلِقَا اِبْنَتَىْ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি নাযিল করলেন, ‘আবূ লাহাবের দু’হাত ধ্বংস হোক’। অর্থাৎ সম্মানিত সূরা লাহাব শরীফ নাযিল মুবারক করলেন, তখন আবূ লাহাব সে তার দুই পুত্রকে বললো, আমি পুনরায় তোমাদের চেহারা দেখবো না, যদি না তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা দুই বানাত (মেয়ে) আলাইহিমাস সালাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক থেকে মাহরূম হয়ে না যাও।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (উসদুল গবাহ)

উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক

النبى اولى با لمؤمنين من انفسهم وازواجه امها تهم
অর্থ : মু’মিনগণ উনাদের নিকট উনাদের জীবনের চেয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অধিক প্রিয়। আর উনার হযরত আযওয়াজুম মুত্বহহারাহ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন মু’মিনগণ উনাদের মাতা তথা উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ০৬)

অর্থাৎ, মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আযওয়াজুম মুত্বহহারাহ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে কায়িনাতবাসীর মাতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যা দ্বারা উনাদের সীমাহীন মর্যাদা ও বুযুর্গী-সম্মানের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়েছে। সঙ্গত কারণেই উনাদের সম্পর্কে জানা, উনাদের সাওয়ানেহ উমরী মুবারক সম্পর্কে অবহিত হওয়া সকলের জন্যই অত্যাবশকীয়।

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন ত্বহিরা, ত্বইয়িবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পৃথিবীর সকল মহিলাদের জন্য আদর্শ

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, 
يا نساء النبى لستن كاحد من النساء
অর্থ: “হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়াগণ! আপনারা অন্য কোনো মহিলাদের মতো নন।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেন,
انما يريد الله ليذهب عنكم الرجس اهل البيت ويطهركم تطهيرا
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদের (আহলে বাইত উনাদের) থেকে সর্বপ্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি, অপ্রিয়-অপছন্দনীয় বিষয়গুলি দূর করে পূত-পবিত্র করতে চান।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)

হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্রতম বিছাল শরীফ উনার পূর্ব মুহূর্তে মুবারক ওয়াকিয়া


উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নিজের মারীদ্বী শান অনুভব করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সারা জীবনের খিদমত মুবারক সম্পর্কে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। যদিও তিনি তা থেকে ছিলেন সম্পূর্ণরূপে পবিত্র থেকে পবিত্রতম। সুবহানাল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে সান্তনা মুবারক প্রদান করে উনার জীবনের সর্বশক্তি মুবারক দিয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি অতুলনীয় খিদমত মুবারক, সীমাহীন দান-বদান্যতা মুবারক ও সীমাহীন আত্মত্যাগ মুবারক সম্পর্কীয় কথা উল্লেখ করে পরকালে উনার সৌভাগ্যের সুসংবাদ শুনিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!

বরকতময় ১৭ রমাদ্বান শরীফ ! উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম ও হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্র বিছাল শরীফ দিবস


কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর দৃষ্টিতে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত 

মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে যত মাখলূকাত তিনি সৃষ্টি করেছেন, তন্মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব আকরামুল খলায়িক্ব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও সর্বাধিক মর্যাদা, মর্তবা, ফযীলত তথা মাক্বামাত হাদিয়া করেছেন। এককথায় তিনি শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক নন। এছাড়া আর যত প্রকার ফযীলত, মর্যাদা ও মর্তবা রয়েছে, তা সবই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বংশ জারি রয়েছে


উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদাসমূহের মধ্যে অনন্যতম একটি মর্যাদা হলো, তিনিই একমাত্র উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার মুবারক রেহেম শরীফ-এ নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সব ক’জন আওলাদ বা সন্তান যমীনে তাশরীফ নেন এবং উনাদের মাধ্যমে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নছব বা বংশধারা যমীনে জারী রয়েছে। অবশ্য উনার পুত্র সন্তানগণ উনাদের মধ্যে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত মারিয়া কিব্তিয়া আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে যমীনে আগমন করেন।
হযরত মুহাদ্দিছীন ও মুর্য়ারিখীনগণ উনারা এ বিষয়ে একমত যে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কন্যা সন্তানগণ উনারা ছিলেন সর্বমোট চারজন। উনাদের মধ্যে প্রথম হলেন হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম, দ্বিতীয় হলেন হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম, তৃতীয় হলেন হযরত উম্মে কুলছূম আলাইহাস সালাম এবং চতুর্থ হলেন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয্ যাহ্রা আলাইহাস সালাম।

ত্বাহিরা, আউওয়ালুল মু’মীনা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল বৈশিষ্ট্য মুবারক

মহান রব্বুল আলামীন তিনি স্বয়ং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার শান, মান ও মর্যাদা মুবারককে বুলন্দ করেছেন এবং আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং উনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন, ছানা-ছিফত করেছেন। কাজেই কোনো মাখলুকাত উনার ছানা-ছিফত, মর্যাদা মুবারক বর্ণনা করে কস্মিনকালেও শেষ করতে পারবে না। মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়াগণ! আপনারা অন্য কোনো নারীদের মতো নন।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)
অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি অন্য কোনো সাধারণ নারীদের মতো নন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সবচেয়ে বড় খুছুছিয়াত তিনি যাওজাতু রাসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এছাড়াও উনার অসংখ্য অগণিত খুছুছিয়াত মুবারক রয়েছে, যা খাতা কলমে লিখা সম্ভব নয়। তারপরেও কিছু বৈশিষ্ট্য মুবারক উল্লেখ করার চেষ্টা করবো।

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...