Saturday, February 27, 2016

“হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল আত্মত্যাগ ও খিদমত”

উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ উনার একজন বিত্তশালী মহিলা হওয়া সত্ত্বেও নিজ হাতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সেবা করতেন। উনার আহার, বিশ্রাম ইত্যাদির তদারক নিজেই করতেন। সন্তানদের প্রতিপালনসহ গৃহকর্মের যাবতীয় দায়িত্ব নিজে পালন করতেন। একবার হযরত জিব্রীল আলাইহিস্ সালাম তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই যে, হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আসছেন পাত্রে করে আপনার জন্য তরকারী, খাদ্যসামগ্রী অথবা পানীয় কিছু নিয়ে। আপনি উনার রব ও আমার পক্ষ থেকে উনাকে মুবারক সালাম বলবেন এবং পবিত্র জান্নাতে মণি-মুক্তার তৈরি একটি বাড়ীর সুসংবাদ দান করবেন। সুবহানআল্লাহ!
হযরত যায়িদ বিন হারিসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার প্রিয় গোলাম, উনাকেও তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতের জন্য হাদিয়া করেন।

আনুষ্ঠানিক সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের পর শত্রুবেষ্টিত গোটা দেশের চরম সঙ্কটময় দিনগুলোতে উনার একমাত্র সহমর্মী ছিলেন চাচা আবু তালিব এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম। দাওয়াতের কাজ শেষে ক্লান্ত শ্রান্ত অবস্থায় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন ঘরে ফিরে আসতেন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি তখন উনাকে নানারূপ শান্তনা বাক্যে উনার যাতনা লাঘব করে দিতেন এবং তিনি যে সত্য ও সঠিক, দৃঢ় ভাষায় সে কথা উল্লেখ করতেন। আর পবিত্র মক্কা শরীফবাসীদের বিরোধিতার বিষয়টিকে ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ করে উপস্থাপন করতেন।
কাফিররা যখন ফলে গোটা বনী হাশিম এবং বনী আব্দুল মুত্তালিব-এর লোকদের বয়কট করল, তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম এবং সন্তানসহ দু’পাহাড়ের মাঝে এক সংকীর্ণ উপত্যকতায় তিন বছর প্রায় বন্দী জীবনযাপন করেছেন। মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক উনার লক্ষ্যে অনাহারের কষ্টসহ বিবিধ দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছেন।
উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আত্মীয়-স্বজনদেরকেও ভালবাসতেন ও সম্মান করতেন, খোঁজ খবর নিতেন এবং উনাদের বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়াতেন।
একবার হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুধমাতা হযরত হালীমা সা’দিয়া আলাইহাস সালাম তিনি আসলেন দেখা করতে। উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আপন শ্বাশুড়ীর মত মর্যাদা ও সম্মান দিয়ে উনার সেবা-যত্ন করলেন। হযরত হালিমা আলাইহাস সালাম তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন, উনাদের অঞ্চলে খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে পশু-পাখি মারা গেছে এবং অভাব দেখা দিয়েছে। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের সমস্যা নিয়ে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে কথা বললেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত হালীমা আলাইহাস সালাম উনাকে চল্লিশটি ছাগল ও উট দান করলেন উনার খান্দানের মধ্যে বন্টনের জন্য।
আবূ লাহাবের বাদী হযরত সুওয়াইবা আলাইহাস সালাম তিনিও ছিলেন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আর এক দুধমাতা। তিনি যখন দেখা করতে আসতেন তখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকেও খুবই সম্মান ও সমাদর করতেন।

No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...