Saturday, February 20, 2016

উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বংশ জারি রয়েছে


উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদাসমূহের মধ্যে অনন্যতম একটি মর্যাদা হলো, তিনিই একমাত্র উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনার মুবারক রেহেম শরীফ-এ নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সব ক’জন আওলাদ বা সন্তান যমীনে তাশরীফ নেন এবং উনাদের মাধ্যমে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নছব বা বংশধারা যমীনে জারী রয়েছে। অবশ্য উনার পুত্র সন্তানগণ উনাদের মধ্যে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত মারিয়া কিব্তিয়া আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে যমীনে আগমন করেন।
হযরত মুহাদ্দিছীন ও মুর্য়ারিখীনগণ উনারা এ বিষয়ে একমত যে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কন্যা সন্তানগণ উনারা ছিলেন সর্বমোট চারজন। উনাদের মধ্যে প্রথম হলেন হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম, দ্বিতীয় হলেন হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম, তৃতীয় হলেন হযরত উম্মে কুলছূম আলাইহাস সালাম এবং চতুর্থ হলেন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয্ যাহ্রা আলাইহাস সালাম।
নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পুত্র সন্তানগণ উনাদের সংখ্যার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো, পুত্র সন্তানগণ উনারা সকলে শৈশবকালেই বিদায় নিয়েছিলেন। তবে এক্ষেত্রে অধিকাংশ আলিমদের অভিমত হলো, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পুত্র সন্তানগণ উনারাও ছিলেন মোট চারজন। তন্মধ্যে তিনজন বিলাদত শরীফ লাভ করেছিলেন উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুব্রা আলাইহাস সালাম উনার রেহেম শরীফ-এ এবং অপর একজন বিলাদত শরীফ লাভ করেছিলেন উম্মুল মু’মিনীন হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনার রেহেম শরীফ-এ। এই হিসেবে উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুব্রা আলাইহাস সালাম উনার রেহেম শরীফ-এ চার কন্যা ও তিন পুত্র মিলে মোট সাতজন সন্তান বিলাদত শরীফ লাভ করেছিলেন। ছেলেদের মধ্যে প্রথম ছিলেন হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম। এই নামানুসারেই নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘আবুল ক্বাসিম’ (হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম উনার পিতা) নামে সম্বোধিত হতেন। হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের পূর্বেই মক্কা শরীফ-এ বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং মাত্র প্রায় দু’ বছর বয়স মুবারক-এ সেখানেই বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন।
দ্বিতীয় হলেন হযরত ত্বইয়িব আলাইহিস সালাম। তিনিও শৈশবেই বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন।
তৃতীয় হলেন হযরত ত্বহির আলাইহিস সালাম। তিনিও বিলাদত শরীফ লাভের পর শৈশবেই বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন।
চতুর্থ হলেন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম। উনার বিলাদত শরীফ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মদীনা শরীফ হিজরতের পরে এবং প্রায় ১৮ মাস দুনিয়াবী হায়াত মুবারক-এ থাকার পর তিনিও শৈশবেই বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ছেলে আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিছাল শরীফ-এর পর কাফিরেরা বিশেষতঃ আছ ইবনে ওয়ায়িল নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আবতার বা নির্বংশ বলে উপহাস করতে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা ‘আল কাওছার’ নাযিল করেন- অর্থাৎ হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আপনার শত্রুরাই লেজকাটা, নির্বংশ।
এখানে স্মরণযোগ্য যে, যদিও অন্যান্য ব্যক্তির বংশধারা ছেলে সন্তানের মাধ্যমে জারি থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নছব বা বংশ মুবারক জারি থাকার বিষয়টি ব্যতিক্রম। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আমার নছব বংশ জারি থাকবে আমার মেয়ে হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে। অর্থাৎ উনার দু’ছেলে হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের মাধ্যমে। যাঁরা উভয়ে জান্নাতের যুবকগণ উনাদের সাইয়্যিদ। উনাদের বংশদ্ভূত সন্তানগণই সাইয়্যিদ বা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
এছাড়া হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার অন্যান্য সন্তানগণ উনাদের দ্বারা যে বংশ মুবারক জারি রয়েছে উনারা ফাতিমী নামে পরিচিত। আর হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার অন্যান্য আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের আওলাদগণ উনাদের মধ্যমে যে বংশ জারি রয়েছে উনারা আলূবী নামে পরিচিত।

No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...