Saturday, February 27, 2016

সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা বিনতে খুওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম উনাকে নিকাহ করে ধনী ছিফত প্রকাশ


হে কুরাইশ সম্প্রদায়গণ! আপনারা সাক্ষী থাকুন যে, আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা বিনতে খুওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম উনাকে চারশত মিছকাল মহরের বিনিময়ে সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট নিকাহ মুবারক দিলাম। তখন আবূ ত্বালিব তিনি বললেন, হে হযরত ওয়ারাকা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আমি চাই যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পিতৃব্য (চাচা) আমর ইবনে আসাদ তিনিও খুতবা প্রদানে অংশ গ্রহণ করুক। এরপর আমর ইবনে আসাদ তিনি সকলের উদ্দেশ্যে একটি খুতবা দিলেন। হে কুরাইশগণ! আপনারা সাক্ষী থাকুন! আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা বিনতে খুওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে নিকাহ মুবারক দিলাম। উভয় পক্ষের মধ্যে ইজাব ও কবুল বিনিময় হলো। ‘রওজাতুল আহবাব কিতাবে এ বর্ণনা রয়েছে।

‘মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া কিতাবে কোনো কোনো বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিত রয়েছে, “সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকাহ মুবারক-এর মহর ছিলো সাড়ে বারো আওকিয়া। এক আওকিয়া সমান ৪০ দিরহাম।” এক বর্ণনানুসারে এই নিকাহ মুবারক-এর মহর ছিলো ৫০০ দিরহাম। বর্ণনাদ্বয়ের সামঞ্জস্য সমাধানে বলা যেতে পারে যে, ওই সময় বিশটি উটের মূল্য ছিলো ৫০০ দিরহাম অথবা চারশত মিছকাল স্বর্ণ।
‘রওজাতুল আহবাব কিতাবে আরো উল্লেখ রয়েছে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বাঁদীকে তিনি এই সুমহান নিকাহ মুবারক উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুরোধ করলেন যে, আপনার পিতৃব্য আবূ ত্বালিব তিনি যেনো এই বিশটি উট থেকে একটি উট যহেব করে লোকদের জন্য খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেন। যা হোক, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেও এই নকাহ মুবারক-এ খুবই খুশি হলেন। আবূ ত্বালিবসহ সকলেই খুশি প্রকাশ করলেন। আবূ ত্বালিব তিনি আনন্দিত হয়ে বললেন-
الحمد لله الدى اذهب عنا ااكرب ورفع عنا الهموم .
অর্থঃ- “সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার, যিনি আমাদেরকে সব বিপদাপদ দূর করে দিয়েছেন, আমাদের সকলের চিন্তা-ভাবনার অবসান ঘটিয়েছে।” (মাদারিজুন নুবুওওয়াত, ৬ষ্ঠ জিল্দ, ৮১-৮২ পৃষ্ঠা)
কুরআন শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, 
ووجدك عانلا فاغنى .
অর্থঃ- “মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে অধিক আহাল-ইয়াল, পরিবার-পরিজন বিশিষ্ট পেয়েছেন। অতঃপর আপনাকে গণি বা সম্পদশালীরূপে প্রকাশ করেছেন।” (সুরা দ্বুহা, আয়াত শরীফ : ৮)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহাল-ইয়াল ও আওয়াদগণ উনাদের সংখ্যা অসংখ্য, অগণিত আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্পদের দ্বারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইসলামের অনেক খিদমত নিয়েছেন। 
মূলত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির পূর্ব থেকে সবচেয়ে বেশি ধনী বা গণি। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে নিকাহ মুবারক করার মাধ্যমে উনার সেই গণি বা ধনী ছিফত মুবারককে আরো প্রকাশ করলেন। সুবহানাল্লাহ!

No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...