Sunday, December 20, 2015

৫ই রবিউল আউওয়াল,নবীজির আম্মাজান হযরত আমিনা আলাইহাস সালামের জন্মদিন

আজকে একটি মহাসম্মানিত পবিত্র দিন, ৫ই রবিউল অাউয়াল শরীফ। এদিন নবীজির সম্মানিত আম্মাজান হযরত আমিনা আলাইহিস সালাম তিনি পৃথিবীতে আগমন বা বিলাদত (জন্মদিবস) গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ।
আসুন নবীজি আম্মাজান হযরত আমিন আলাইহিস সালাম সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই-
১) সম্মানিত পিতার নাম (নবীজির নানাজান) : সাইয়্যিদুনা হযরত ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম। উনার একখানা বিশেষ লক্বব মুবারক ছিলো ‘সাইয়্যিদুন নাস’। সুবহানাল্লাহ!
২) সম্মানিত মাতার নাম (নবীজির নানীজান) : সাইয়্যিদাতুনা হযরত বাররাহ আলাইহাস সালাম।
৩) তিনি যে দ্বীন অনুসরণ করতেন : হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দ্বীন, দ্বীনে হানীফ।
৪) বিলাদত (জন্মদিবস) গ্রহণের সময় ও স্থান: হিজরতের ৭২ বছর পূর্বে ৫ই রবীউল আউয়াল জুমাহ বা’দ ফজর। মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
৫) কোথায় অবস্থান করতেন : পবিত্র মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ।
৬) ভাই-বোন : নেই।
৭) কত বছর দুনিয়াতে অবস্থান করেছেন : ২৫ বছর।
৮) বিছাল গ্রহণ (ওফাত দিবস) : ১০ই রবিউল আউয়াল তারিখ, নবীজির বয়স মুবারক তখন ৬ বছর। দিনটি ছিলো সোমবার।
৯) রওজা শরীফ : আরবের আবওয়া নামক স্থান, যা ‍উনার রওজা মুবারকের সংস্পর্ষে সম্মানিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ।
মহান্ আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেককে নবীজির সম্মানিত আম্মাজান হযরত আমিনা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে জানার তৌফিক দান করুন। আমিন।

৪ ঠা রবিউল আউওয়াল নবীজির ৩য় পুত্রের জন্মদিন

আজ ঐতিহাসিক ৪ঠা রবিউল আউয়াল শরীফ
আখেরী নবী হাবীবুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ৩য় পূত্র সন্তান হযরত ত্বহির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু’র দুনিয়াতে আগমন দিবস (জন্মদিবস)। সুবহানাল্লাহ।
নবীজির নবুয়াতের বিয়ষটি প্রকাশের ৮ বছর পূর্বে ৪ঠা রবিউল আউয়াল তারিখে উনার তৃতীয় পূত্র হিসেবে হযরত ত্বহির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ‍দুনিয়ার বুকে আগমন করেন। ঐ সময় নবীজির বয়স মুবারক ছিলো ৩২ বছর এবং হযরত উম্মুল মু’মীনিন খাদিজাতুল কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা’র বয়স মুবারক ছিলো ৪৭।
৩য় পূত্র সন্তান হযরত ত্বহির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আগমনের ৭ম দিনে নবীজি দুটি দুম্বা অথবা খাসী দ্বারা আক্বিকা দেন। এরপর শত শত উট ও অন্যান্য পশু জবাই করে মেহমানদারির ব্যবস্থা করেন। সুবহানাল্লাহ।
নবীজির ৩য় পূত্র সন্তান হযরত ত্বহির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দুনিয়ার বুকে মাত্র ৮দিন অবস্থান করেছিলেন। তিনি বিলাদত গ্রহনের মাত্র ৮ দিন পর আবার দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। উনার ওফাত মুবারকের দিনটি ছিলো ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখ।
আমরা মুসলমানরা আজকে অনেক কিছু জানি, কিন্তু আমাদের প্রাণপ্রিয় নবীজির কতজন আওয়াদ (সন্তান) ছিলেন, উনাদের নাম কি, উনাদের আগমন-বিদায় কবে কিংবা জীবনী এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে কিছুই জানি না। এটা সত্যিই দুঃখের বিয়ষ।
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেককে উনাদের সম্পর্কে জানার তৌফিক দান করুন । আমিন।

Tuesday, December 15, 2015

২রা রবিউল আউওয়াল নবীজির ২য় পুত্রের জন্মদিন

আজকে একটি ঐতিহাসিক দিন।
আরবী মাসের ২রা রবিউল আউয়াল তারিখ।
এদিনে নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বিতীয় পূত্র সন্তান ত্বইয়্যিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পৃথিবীতে আগমণ (জন্মদিবস) করেন। সুবহানাল্লাহ।
উন্নার সম্মানিত আম্মাজান উম্মুল মু’মীমিন হযরত খাদিজাতুল কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা।
নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বিতীয় পূত্র সন্তান ত্বইয়্যিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বিলাদত (জন্মদিবস) গ্রহণ করেন নবীজির নবুয়ত প্রকাশের ৯ বছর পূর্বে, পবিত্র মক্কা শরীফে। অর্থাৎ নবীজির বয়স মুবারক তখন ৩১ বছর। আর হযরত উম্মুল মু’মীমিন খাদিজাতুল কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা’র বয়স তখন ৪৬ বছর।
নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বিতীয় পূত্র সন্তান ত্বইয়্যিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পৃথিবীতে ৬দিন অবস্থান করেন এবং ৮ই রবিউল আউয়াল তারিখে দুনিয়া থেকে বিদায় (ইন্তেকাল) গ্রহণ করেন।
নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বিতীয় পূত্র সন্তান ত্বইয়্যিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু’র বিদায় গ্রহনের একদিন পর নবীজি ৯ রবীউল আউয়াল তারিখে দুটি দুম্বা বা খাসি দ্বারা উনার আক্বীক্বা দেন। তারপর অনেক উট ও অন্যান্য পশু যবাই করে বিশেষ মেহমানদারীর ব্যবস্থা করেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বিতীয় পূত্র সন্তান ত্বইয়্যিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সম্পর্কে আরো জানার তৌফিক দান করুন। আমিন।

২৮শে সফর ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর শাহাদাতের দিন

নবীজির পরিবারের একটি বিশেষ দিন
আজ ২৮শে সফর। হিজরী ৪৯ সনের এই দিনের নবীজির সম্মানিত বংশধর ও সম্মানিত দৌহিত্র ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু এ দিনে শাহাদাতের সুধা গ্রহণ করেন।
ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সম্পর্কে একখানা হাদীস শরীফ-
হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু বলেন, “একদা আমি দিনের শেষাংশে আখিরী রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বাইরে বের হলাম। এক পর্যায়ে হযরত ফাতিমাতুজ হযরত যাহরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা’র হুজরা শরীফের নিকটবর্তী হলাম। তখন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহুকে ডাকলেন। আর তিনি দৌড়ে এসে নবীজির কাধ মুবারক জড়িয়ে ধরলেন। তিনিও উনাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন,- হে মহান আল্লাহ তায়ালা ! আমি উনাকে মুহব্বত করি। আপনিও উনাকে মুহব্বত করুন। আর উনাকে যারা মুহব্বত করবে, উনাদেরকেও আপনি মুহব্বত করুন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেককে ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে মুহব্বত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

নবীজির বংশধররা আছে বলেই পৃথিবী টিকে রয়েছে


নবীজির সাথে আহলে বাইত ও সাহাবীগণের একটি স্মৃতি বিজড়িত দিন

আখেরী চাহার শোম্বা : নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহিত আহলে বাইত ও সাহাবীগণের একটি স্মৃতি বিজড়িত দিন......
আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘদিন অসুস্থতা অনুভব করার পর পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ’র (সফর মাসের শেষ বুধবার) সকালে সুস্থতা অনুভব করেন। অতঃপর গোসল করতঃ হযরত উম্মুল মু’মিনীনগণ এবং আহলে বাইতগনকে সাথে নিয়ে নাস্তা করেন। অতঃপর সাহাবীগণের খোঁজ-খবর নেন এবং খুশি প্রকাশ করে মসজিদে নববী শরীফে যান।
আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুস্থতা অনুভব দেখতে পেয়ে সাহাবীগণ অত্যন্ত আনন্দিত হন। এজন্য উনারা মহান আল্লাহ’র দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং সে উপলক্ষে সাধ্যমতো আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র খিদমতে হাদিয়া তোহফা দেন। এছাড়া গরিব-মিসকিনদেরকেও দান সদকা করেন। সেক্ষেত্রে হযরত আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সাত হাজার দিনার, হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পাঁচ হাজার দিনার, হযরত উছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দশ হাজার দিনার, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিন হাজার দিনার এবং আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একশত উট ও একশত ঘোড়া হাদিয়া করেন।
তবে উক্ত দিনের শেষ প্রান্তে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় অসুস্থতা অনুভব করেন এবং তা নিয়েই পবিত্র ১২ই রবীউল আউয়াল তারিখে তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেন।
(সীরাতে ইবনে হিশাম: দ্বিতীয় ভাগ, পৃষ্ঠা ৬৫৩, আদ দ্বীন ওয়াত তারীখুল হারামাইনিশ শারীফাঈন, পৃষ্ঠা ২৮১)
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সফর মাসের শেষ বুধবার তারিখের সকল নিয়ামত-রবকত দান করুন। আমিন।

নবীজির বংশধরদের প্রতি মুহব্বত-ই ঈমানের মূল

খুবই গুরুত্বপূর্ণ হাদীস শরীফ। সবাই সংগ্রহে রাখুন।

যে চার ব্যক্তি কিয়ামতের দিন খাছভাবে সুপারিশ পাবে

হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়লা আনহু বলেন -
অর্থ: হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “ক্বিয়ামতের দিন আমি নিজেই চার শ্রেণীর লোককে খাছভাবে সুপারিশ করবো।
১. যে ব্যক্তি আমার বংশধর তথা আহলে বাইত এবং আওলাদে রসূলদেরকে সম্মান করবে।
২. যে ব্যক্তি আহলে বাইত এবং আওলাদে রসূলদেরকে অর্থ-সম্পদ দ্বারা খিদমত করবে।
৩. যে ব্যক্তি আহলে বাইত এবং আওলাদে রসূলদেরকে কাজে-কর্মে সহযোগিতা বা খিদমত করবে। 
৪. যে ব্যক্তি আহলে বাইত এবং আওলাদে রসূলদেরকে মনেপ্রাণে গভীরভাবে মুহব্বত করবে।”
(বিহারুল আনওয়ার-৮/৪৯, যখায়িরুল উক্ববা-১৮)

কুরআন শরীফে আহলু বাইতগণের প্রতি মুহব্বত করার নির্দেশ

অনেককে দেখেছি, নবীজি পরিবার বা আহলে বাইতগণকে মুহব্বত করার কথা বললেই শিয়া ভেবে বসে। সবার এক ধারণা বাতিল আকিদ্বাভূক্ত শিয়ারাই বুঝি শুধু নবীজির পরিবারকে ভালোবাসে, বাকিরা বাসে না।
এ ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। রবীন্দ্রনাথ দাড়ি রাখে বলে কিন্তু আমরা দাড়ি রাখা বাদ দেইনি। কাদিয়ানীরা নামাজ পরে বলে কিন্তু আমরা নামাজ পড়া বাদ দেইনি। ঠিক একই ভাবে শিয়ারা নবীজির পরিবার বা আহলে বাইতগণের মুহব্বতের কথা বলে দেখে কিন্তু নবীজির পরিবারকে ভালোবাসার কথা বাদ দেওয়া যাবে না।
নবীজির পরিবারের প্রতি যে সুন্দর আচরণ ও মুহব্বত রাখতে হবে এটা কিন্তু স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার আদেশ। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন পাকের সূরা আশ-শুরা ২৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
“হে রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি বলুন, আমি তোমাদের নিকট রিসালত-এর দায়িত্ব পালনের কোন প্রতিদান চাই না। তবে তোমারা আমার আত্মীয়-স্বজনদের তথা বংশধরদের সাথে সদাচরণ করবে। (সূরা আশ-শুরা : ২৩)
অর্থাৎ নবীজির পরিবার বা বংশধরদের প্রতি ভালোবাসা ও সৎভাব পোষন করা স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার এবং নবীজির নির্দেশ। এখানে বাতিল আকিদ্বাভূক্ত শিয়াদের বিষয়টি উঠতেই পারে না।

আহলু বাইত বা নবীজির বংশধরদের প্রতি মুহব্বতকারীদের প্রতি সুসংবাদ

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-
অর্থ: “যে ব্যক্তি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আল তথা বংশধরগণদের মুহব্বত এ মৃত্যুবরণ করবে, সে শহীদের মৃত্যু পাবে।” অর্থাৎ সে শহীদী মর্যাদা পাবে। সুবহানাল্লাহ!
তিনি আরো বলেন , 
“তোমরা সাবধান হও! যে ব্যক্তি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বংশধরগণদের মুহব্বত এ মারা যাবে, সে ব্যক্তির সমস্ত গুনাহখতা আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ!
তিনি আরো বলেন ,
অর্থ: “তোমরা সাবধান হও! যে ব্যক্তিহুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বংশধরগণদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তিকাল করবে, সে ব্যক্তি পরিপূর্ণ ঈমানদাররূপে ইন্তিকাল করবে।” সুবহানাল্লাহ!
তিনি আরো বলেন -
অর্থ: “যে ব্যক্তি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বংশধরগণদের মুহব্বত এ ইন্তিকাল করবে, সে ব্যক্তি তওবাকারীরূপে ইন্তিকাল করবে।”
(তাফসীরে কবীর- ৭/৩৯০, তাফসীরে কাশশাফ, তাফসীরে রুহুল বয়ান- ৩/৫৩৪, নুজহাতুল মাজালিস-২/২২২)

নবীজির ৪ জন কন্যা সন্তানের নাম


নবীজির ৪ জন পুত্র সন্তানের নাম


নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পিতা-মাতার ফযীলত


পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ طَلْقِ بْنِ عَـلِــىٍّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ لَوْ اَدْرَكْتُ وَالِدَىَّ اَوْ اَحَدَهُـمَا وَاَنَا فِىْ صَلَاةِ الْعِشَاءِ وَقَدْ قَرَاْتُ فِيْهَا بِفَاتِـحَةِ الْكِتَابِ تُنَادِىْ يَا مُـحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَاَجَبْتُهَا لَبَّيْكِ
অর্থ: “হযরত ত্বলক্ব ইবনে আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি, নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি আমি আমার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মাকে অথবা উনাদের দু’জনের একজনকে দুনিয়ার যমীনে পেতাম, আর আমি ইশার নামায (ফরয নামায)-এ দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করতে থাকতাম। এমতাবস্থায় উনারা যদি আমাকে এই বলে আহ্বান করতেন, হে মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে অবশ্যই অবশ্যই ওই অবস্থায় থেকেও (নামায ছেড়ে দিয়ে) আমি উনাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইরশাদ করতাম, লাব্বাইক, হে আমার মহাসম্মানিত আব্বাজান , হে আমার মহাসম্মানিতা আম্মাজান, আমি উপস্থিত, হাযির।” সুবহানাল্লাহ!
অপর বর্ণনায় এসেছে-
لَوْ دَعَانِىْ وَالِدَىَّ اَوْ اَحَدُهُـمَا وَاَنَا فِى الصَّلَاةِ لَاَجَبْتُهٗ
অর্থ: “যদি আমার মহাসম্মানিত হযরত আব্বাজান ও আম্মাজান দু’জন অথবা উনাদের দু’জনের একজন আমাকে নামায আদায় করা অবস্থায় আহ্বান করতেন, তাহলে আমি অবশ্য অবশ্যই ওই অবস্থায় থেকেও (নামায ছেড়ে দিয়ে) উনাদের আহ্বান-এ সাড়া দিতাম।” সুবহানাল্লাহ!
(সূত্র: শুয়াবুল ঈমান ১০/২৮৪, দায়লামী শরীফ ৩/৩৪৫, জামিউল আহাদীছ ১৮/৭৪, কাশফুল খফা ২/১৬০, আল মাক্বাছিদুল হাসানাহ ১/৫৫১, কানযুল উম্মাল ১৬/৪৭০, জামউল জাওয়ামি’ ১৬৮/১৩, মাসালিকুল হুনাফা ফী হুকমি ঈমানি ওয়ালিদাইল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৩৭ পৃষ্ঠা, আল হাওই শরীফ ২/২৮১ ইত্যাদি)

আহলে বাইত বা নবীজির বংশধরদের ফাযায়িল-ফযীলত


হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বতকারীগণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একত্রিত হবেন:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে,
ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اخذ بيد (حضرت) حسن عليه السلام و (حضرت) حسين عليه السلام فقال من احبنى واحب هذين واباهما وامهما كان معى فى درجة يوم القيامة.
অর্থ: “একদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের হাত মুবারক ধরলেন এবং ইরশাদ মুবারক করলেন, “যে ব্যক্তি আমাকে মুহব্বত করবে, এ দু’জনকে মুহব্বত করবে এবং উনাদের সম্মানিত আব্বাজান ও সম্মানিত আম্মাজান উনাদেরকে মুহব্বত করবে সে ব্যক্তি ক্বিয়ামতের দিন আমার সাথে একই স্থানে অবস্থান করবে।” (মুসনদে আহমদ- ২/২৬, শহীদ ইবনে শহীদ- ৪১)
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার কাছে তাশরীফ আনলেন। অতঃপর ইরশাদ মুবারক করলেন-
انى واياك وهذا النائم يعنى (حضرت) عليا عليه السلام وهما يعنى (حضرت) امام الحسن عليه السلام و(حضرت) امام الحسين عليه السلام فى مكان واحد يوم القيامة.
অর্থ: “আমি ও আপনি এবং এই ব্যক্তি যিনি মুবারক ঘুমে নিমগ্ন তথা সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম আর উনারা তথা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা ক্বিয়ামতের দিন একই সাথে থাকবো। (মুস্তাদরাকে হাকীম- ৩/১৬৫)
ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, আসাদুল্লাহিল গালিব, সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজাহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন,
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اربعة انالهم شفيع يوم القيامة المكرم لذريتى والقاضى لهم حوائجهم والساعى فى امورهم عند اضطرارهم اليه والمحبة لهم بقلبه ولسانه-
অর্থ: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ক্বিয়ামতের দিন আমি নিজেই চার শ্রেণীর লোককে খাছভাবে সুপারিশ করবো। ১. যে ব্যক্তি আমার বংশধর তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ এবং আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মান করবে। ২. যে ব্যক্তি আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে অর্থ-সম্পদ দ্বারা খিদমত করবে। ৩. যে ব্যক্তি হযরত আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে শারিরীক শ্রম দিয়ে অর্থাৎ কাজে-কর্মে উনাদেরকে সহযোগিতা বা খিদমত করবে। ৪. যে ব্যক্তি হযরত আহলে বাইত শরীফ ও হযরত আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মনেপ্রাণে গভীরভাবে মুহব্বত করবে।” (বিহারুল আনওয়ার-৮/৪৯, যখায়িরুল উক্ববা-১৮)

নবী পরিবারের সদস্যরাই হলেন আহলে বাইত

নববী পরিবারের সদস্যদের আহলে বাইত বলা হয়। তাদের সম্পর্কে সহীহ হাদীসে বর্নিত আছে,
হযরত আয়েশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, 'একদা সকালে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হলেন, তার গায়ে ছিল কালো পশমের চাদর, হযরত হাসান ইবনে আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এলে তাকে তাতে দাখিল করলেন, অতঃপর হযরত হোসাইন রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এলে তাকে তার সঙ্গে দাখিল করলেন, অতঃপর হযরত ফাতেমা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা এলে তাকে দাখিল করলেন, অতঃপর হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এলে তাকেও সে কম্বলের ভিতর দাখিল করলেন। অতঃপর তেলাওয়াত করলেন, 'হে নবী পরিবার, আল্লাহ তো কেবল চান আপনাদের থেকে অপবিত্রতাকে দূরীভূত করতে এবং তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।' অর্থাৎ আপনাদের পবিত্র করেই সৃষ্টি করা হয়েছে
(সহিহ মুসলিম : ৪৪৫৭)।

আওলাদে রসূল বা নবীজির বংশধরদের স্তর

সম্মানিত শরীয়ত উনার পরিভাষায় ‘সম্মানিত নববী পরিবার’ বলতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পরিবার মুবারক উনাকে বুঝায়, উনার সম্মানিত পরিবার মুবারক উনার সম্মানিত সদস্যগণ উনাদেরকে বুঝায়। সুবহানাল্লাহ!
আর সম্মানিত নববী পরিবার উনাদের ৩টি স্তর রয়েছে-
১. প্রথম স্তরে হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম তথা উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ!
২. দ্বিতীয় স্তরে হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ!
৩. তৃতীয় স্তরে হচ্ছেন হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নূরে মুজাসসাম, হাবীল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছেলে সন্তান আলাইহিমুস সালাম) উনারা এবং হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নূরে মুজাসসাম, হাবীল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মেয়ে সন্তান আলাইহিন্নাস সালাম) উনারা এবং উনাদের আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালামগণ উনারা।” সুবহানাল্লাহ!
উপরোক্ত বিষয়টি সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার দ্বারাই প্রমাণিত। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اللهَ قَسَّمَ الْـخَلْقَ قِسْمَيْنِ فَجَعَلَنِىْ فِىْ خَيْرِهِـمَا قِسْمًا ثُـمَّ جَعَلَ الْقِسْمَيْنِ اَثْلَاثًا فَجَعَلَنِىْ فِىْ خَيْرِهَا ثُلُثًا ثُـمَّ جَعَلَ الْاَثْلَاثَ قَبَائِلَ فَجَعَلَنِىْ فِىْ خَيْرِهَا قَبِيْلَةً ثُـمَّ جَعَلَ الْقَبَائِلَ بُيُوْتًا فَجَعَلَنِىْ فِىْ خَيْرِهَا بَيْتًا فَذٰلِكَ قَوْلُهٗ تَعَالـٰى{اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُـمْ تَطْهِيْراً} فَاَنَا وَاَهْلُ بَيْتِىْ مُطَهَّرُوْنَ مِنَ الذُّنُوْبِ. 
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত সৃষ্টিকে দু’ভাগে বিভক্ত করে আমাকে সর্বোত্তম ভাগে রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর উভয় ভাগকে তিন প্রকারে বিভক্ত করে আমাকে সর্বোত্তম প্রকারে রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! এরপর প্রত্যেক প্রকারকে গোত্রে গোত্রে বিভক্ত করে আমাকে সর্বোত্তম গোত্র মুবারক-এ রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! এরপর গোত্রকে সম্মানিত পরিবার মুবারক-এ বিভক্ত করে আমাকে সর্বোত্তম সম্মানিত পরিবার মুবারক-এ রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! এ কারণেই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, হে সম্মানিত নববী পরিবার আলাইহিমুস সালাম, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।’ সুবহানাল্লাহ! আর আমি এবং আমার সম্মানিত নববী পরিবার আলাইহিমুস সালাম আমরা সকলেই যুনূব তথা সমস্ত প্রকার ছগীরা-কবীরা এবং যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকে পূত-পবিত্র।” সুবহানাল্লাহ! (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বায়হাক্বী, শিফা ১/৩২৫, সীরাতে হালবিয়্যাহ ১/৪২, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ১/৪৯৮, খছাইছুল কুবরা ১/৬৬, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/২৩৫ ইত্যাদি)

নবীজির বংশধরদের মুহব্বতকারীদের প্রতি সুসংবাদ

হযরত আহলে বাইত শরীফ ও হযরত আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতকারীদের জন্য সুসংবাদ :
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-
من مات على حب ال (سيدنا حضرت) محمد صلى الله عليه وسلم مات شهيدا الا ومن مات على حب ال (سيدنا حضرت) محمد صلى الله عليه و سلم مات مغفورا له.
অর্থ: “যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আল তথা বংশধরগণ উনাদের মুহব্বত মুবারকে মৃত্যুবরণ করবে, সে শহীদের মৃত্যু পাবে।” অর্থাৎ সে শহীদী মর্যাদা পাবে। সুবহানাল্লাহ!
তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা সাবধান হও! যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধরগণ উনাদের মুহব্বত মুবারকে মারা যাবে, সে ব্যক্তির সমস্ত গুনাহখতা মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ!
তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
الا ومن مات على حب ال (سيدنا حضرت) محمد صلى الله عليه وسلم مات مؤمنا مستكمل الايمان.
অর্থ: “তোমরা সাবধান হও! যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধরগণ উনাদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তিকাল করবে, সে ব্যক্তি পরিপূর্ণ ঈমানদাররূপে ইন্তিকাল করবে।” সুবহানাল্লাহ!
তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
الا من مات على حب ال (سيدنا حضرت) محمد صلى الله عليه وسلم مات تائبا
অর্থ: “যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধরগণ উনাদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তিকাল করবে, সে ব্যক্তি তওবাকারীরূপে ইন্তিকাল করবে।” (তাফসীরে কবীর- ৭/৩৯০, তাফসীরে কাশশাফ, তাফসীরে রুহুল বয়ান- ৩/৫৩৪, নুজহাতুল মাজালিস-২/২২২)

উম্মুল মু’মিনিন বা নবীজির ১৩ জন আহলিয়াগণের নাম

আমরা মুসলমানরা তো অনেক কিছুই মুখস্ত করি, অনেক কিছুই জানি। কিন্তু আমরা কি আমাদের প্রাণপ্রিয় নবীজির সম্মানিত আহলিয়াগণের নামগুলো সম্পর্কে জানি ?
উল্লেখ্য, কুরআন পাকে আমাদের প্রাণপ্রিয় নবীজির আহলিয়াগণকে উম্মুল মু’মিনিন বা মুু’মিনদের মাতা হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে। উম্মুল মু’মীনিনগণের সংখ্যা হচ্ছে মোট ১৩ জন। আসুন উনাদের পবিত্র নামসমূহ আমরা জেনে নেই-
১। উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২। উম্মুল মু’মিনীন হযরত সাওদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
৩। উম্মুল মু’মিনীন হযরত আশিয়া ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
৪। উম্মুল মু’মিনীন হযরত হাফসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
৫। উম্মুল মু’মিনীন হযরত যাইনাব বিনতে খুযাইমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
৬। উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মু সালামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
৭। উম্মুল মু’মিনীন হযরত জুয়াইরিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
৮। উম্মুল মু’মিনীন হযরত যাইনাব বিনতে জাহাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
৯। উম্মুল মু’মিনীন হযরত রাইহানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
১০। উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মু হাবীবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
১১। উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছাফিয়্যা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
১২। উম্মুল মু’মিনীন হযরত মারিয়া কিবতিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
১৩। উম্মুল মু’মিনীন হযরত মাইমূনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
হে আল্লাহ তায়ালা ! আমাদেরকে এই পবিত্র নামমগুলো মুখস্ত করার তৌফিক দিন। আমিন।

আহলে বাইতগণ হলেন নূহ আলাইহিস সালামের কিশতী (নৌকার) ন্যায়।

আমরা মুসলমান হিসেবে আমাদের ধর্ম সম্পর্কে হাতে গুনা অল্প বিস্তর কিছু বিষয় ছাড়া তেমন কিছুই জানিনা। আমাদের দ্বীন ইসলামে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক ফযীলতপূর্ন অনেক বিষয় রয়ে গেছে যার মাধ্যমে খুব সহজেই জান্নাতি হওয়া যায়, শুপারিশ লাভ করা যায় এবং পরিপূর্ণ মুসলমান হওয়া যায়। এসব বিষয়ের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে সম্মানিত হযরত নবী পরিবার তথা আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ﷺ।
স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা কোরআন মাজীদে বলে দিয়েছেন হযরত নবী পরিবারের প্রতি উম্মতের কী দায়িত্ব-কর্তব্য।
যেমন- আল্লাহ বলেন-
“হে আমার হাবীব ﷺ ! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। (আর তোমাদের পক্ষ্যে তা দেয়াও সম্ভব নয়) তবে দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- আমার নিকটজন তথা পরিবার-পরিজন, তাঁদের প্রতি তোমরা সদাচারণ করবে।” (সূরা শূরা:২৩)
আর হাদিসে পাওয়া যায়-
হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র কা’বা শরীফের দরজা ধরে বললেন, “আমি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি-
الا ان مثل اهل بيتى فيكم مثل سفينة (حضرت) نوح عليه السلام من ركبها نجا ومن تخلف عنها هلك.
অর্থ: “বিশ্ববাসী তোমরা সাবধান হও! আমার সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফগণ তোমাদের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস সালামের কিশতী (নৌকার) ন্যায়। যারা সেই কিশতির উপর আরোহণ করেছে তারা নাজাত (মুক্তি) পেয়েছে। আর যারা কিশতীর উপর আরোহণ করেনি তারা হালাক বা ধ্বংস হয়েছে।” (মিশকাত-৫৭৩, খাসায়িসুল কুবরা-৪৬৬)
সূতরাং আসুন আমরা সকলেই সম্মানিত নববী পরিবার সম্পর্কে বেশি করে জানার চেষ্টা করি।

Tuesday, December 8, 2015

হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার দানশীলতা।

কিতাবে, তাফসীরে
বর্ণিত রয়েছে-
ﻭﻳﻄﻌﻤﻮﻥ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻋﻠﻰ ﺣﺒﻪ ﻣﺴﻜﻴﻨﺎ ﻭﻳﺘﻴﻤﺎ ﻭﺍﺳﻴﺮﺍ . ﺍﻧﻤﺎ
ﻧﻄﻌﻤﻜﻢ ﻟﻮﺟﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻧﺮﻳﺪ ﻣﻨﻜﻢ ﺟﺰﺍﺀ ﻭﻻ ﺷﻜﻮﺭﺍ .
কালামুল্লাহ শরীফ উনার আয়াত
শরীফ। আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
ﻭﻳﻄﻌﻤﻮﻥ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻋﻠﻰ ﺣﺒﻪ ﻣﺴﻜﻴﻨﺎ ﻭﻳﺘﻴﻤﺎ ﻭﺍﺳﻴﺮﺍ
উনারা খাদ্য দিয়ে থাকেন,
খাইয়ে থাকেন যিনি খালিক্ব
যিনি মালিক যিনি রব আল্লাহ পাক
উনার মুহব্বতে এবং যিনি নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার মুহব্বতে উনারা
মানুষদেরকে খাদ্য দেন, ইয়াতীম-
মিসকীন এবং বন্দীদেরকে এবং
ﺍﻧﻤﺎ ﻧﻄﻌﻤﻜﻢ ﻟﻮﺟﻪ ﺍﻟﻠﻪ
উনারা কি বলেন? আমরা নিশ্চয়ই
মানুষদেরকে খাদ্য দিয়ে থাকি,
মানুষকে যে হাদীয়া- তোহফা দেই,
দান-খয়রাত যে করে থাকি
একমাত্র যিনি খালিক্ব¡ যিনি
মালিক যিনি রব আল্লাহ পাক উনার
রেযামন্দি, উনার হাবীব, নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার রেযামন্দি-
সন্তুষ্টি হাছিলের লক্ষ্যে।
সুবহানাল্লাহ!
ﻻ ﻧﺮﻳﺪ ﻣﻨﻜﻢ ﺟﺰﺍﺀ ﻭﻻ ﺷﻜﻮﺭﺍ
এর বিনিময়ে আমরা তোমাদের কাছ
থেকে কোন বদলাও চাচ্ছি না,
তোমরা আমাদের কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করো সেটাও চাচ্ছি না।
সুবহানাল্লাহ!
এই আয়াত শরীফ-উনার তাফসীরে বলা
হয়, এর শানে নুযূল, অর্থাৎ নাযিল
হয়েছিল এই আয়াত শরীফ কেন?
সেটা বলা হয়ে থাকে বা বর্ণিত
রয়েছে- হযরত আলী
কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস
সালাম
এবং হযরত সাইয়্যিদাতু নিসায়ি
আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা
আলাইহাস সালাম উনারা রোযা
রেখেছেন। এটার পিছনেও
মুখতালিফ বর্ণনা রয়েছে।
কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে, হযরত
ইমাম হাসান এবং হযরত ইমাম হুসাইন
আলাইহিমাস সালাম উনাদের কোন
কারণে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি
আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা
আলাইহাস সালাম তিনি তিনটা
রোযা রাখার নিয়ত করেছিলেন।
এখন রোযা রেখেছেন ইফতার করবেন,
ইফতারের সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে
বা বন্দোবস্তও করা হয়েছে। এমন সময়
একজন ইয়াতীম এসে উনাদের বাড়ির
দরজায় হাক দিলো যে, আমাকে দয়া
করে কিছু খাদ্য দান করুন, আমি
কয়েকদিন ধরে না খাওয়া রয়েছি।
যখন সে ইয়াতীম ছেলে হাক দিল তখন
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল
জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস
সালাম তিনি হযরত আসাদুল্লাহিল
গালিব কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু
আলাইহিস সালাম
উনাকে
বললেন, আমরাতো গত রাতে সাহরী
করেছি; এখন এই ইয়াতীম বলতেছে, সে
কয়েকদিন ধরে না খাওয়া তাহলে
আমাদের ইফতারীর যা ব্যবস্থা করা
হয়েছে সেটা আমরা তাকে দান করে
দেই।
তখন উনারা সেটা দান করে দিলেন
সেই ইয়াতীমকে। এরপর উনারা পানি
দিয়ে ইফতার করলেন। সুবহানাল্লাহ!
আবার সেই রাত্রিতে উনারা কিছু
সাহরীর ব্যবস্থা করলেন, পরের দিন
আবার ইফতারীর ব্যবস্থা করা হয়েছে,
ইফতারী করবেন। ইফতারীর সময়
নিকটবর্তী ঠিক সেই মুহূর্তে একজন
মিসকীন এসে দরজায় হাক দিলো যে,
আমি একজন মিসকীন আমাকে কিছু
খাদ্য দান করুন, আমি কয়েকদিন ধরে না
খাওয়া।
এটা শুনে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত
যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি
বললেন, হযরত আসাদুল্লাহিল গালিব
কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস
সালাম
উনাকে,
আমরাতো গতরাতে খাওয়া-দাওয়া
করেছি। এখন এই মিসকীন সেতো
কয়েকদিন ধরে না খাওয়া, কাজেই
আমাদের ইফতারগুলো তাকে দান করে
দেই। উনারা সেটা দান করে দিলেন।
সুবহানাল্লাহ! উনারা শুধু পানি
দিয়ে ইফতার করলেন।
এরপর তৃতীয় দিন উনারা আবার রোযা
রাখলেন; কিছু সাহরী করলেন। তৃতীয়
দিন যখন উনারা আবার ইফতার করবেন;
কিছু ব্যবস্থা করা হয়েছে ঠিক সেই
মূহুর্তে একজন আসীর (বন্দি) সে এসে
হাক দিলো। সে কয়েকদিন ধরে না
খাওয়া। তাকে কিছু খাদ্য দিলে তার
জন্য ভালো হত।
এটা শুনে আবার সাইয়্যিদাতু
নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত
যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি
আবার একই কথা বললেন যে, আমরাতো
কিছু খেয়েছি গত দিন। এখন এই আসীর
বা বন্দি ব্যক্তি, সে তো কয়েক দিন
ধরে না খাওয়া রয়েছে। কাজেই,
আমরা আমাদের ইফতারী তাকে দান
করে দেই। সত্যিই সেটা উনারা দান
করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
উনাদের এই আমলে সন্তুষ্ট হয়ে যিনি
খালিক্ব¡, যিনি মালিক, যিনি
আল্লাহ পাক তিনি উপরোক্ত আয়াত
শরীফ নাযিল করলেন। সুবহানাল্লাহ!
উনাদের এই আমলে সন্তুষ্ট হয়ে যিনি
খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব
আল্লাহ পাক তিনি আয়াত শরীফ
নাযিল করলেন-
ﻭﻳﻄﻌﻤﻮﻥ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻋﻠﻰ ﺣﺒﻪ ﻣﺴﻜﻴﻨﺎ ﻭﻳﺘﻴﻤﺎ ﻭﺍﺳﻴﺮﺍ . ﺍﻧﻤﺎ
ﻧﻄﻌﻤﻜﻢ ﻟﻮﺟﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻧﺮﻳﺪ ﻣﻨﻜﻢ ﺟﺰﺍﺀ ﻭﻻ ﺷﻜﻮﺭﺍ
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী
আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল
আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার প্রতি আল্লাহ পাক
তিনি আয়াত শরীফ নাযিল করেন
উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যে উনারা
কেমন, যাঁরা আহলে বাইত আলাইহিমুস
সালাম তথা সাইয়্যিদাতু নিসায়ি
আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা
আলাইহাস সালাম উনার আমলগুলো
আল্লাহ পাক তিনি কতটুকু পছন্দ করেন,
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল
জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস
সালাম, হযরত আসাদুল্লাহিল গালিব
কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস
সালাম
উনারা
যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি
রব আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে, উনার
হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার মুহব্বতে নিজেরা
খাদ্য না খেয়ে ইয়াতীম, মিসকীন,
আসীর-বন্দী তাদেরকে দান করে
দিয়েছেন শুধুমাত্র উনাদের
রেযামন্দী, সন্তুষ্টি হাছিলের
লক্ষ্যে। সুবহানাল্লাহ! এবং এর
বিনিময়ে উনারা কিছুই চাচ্ছেন না।
শুধু সন্তুষ্টি তলব করেছেন। বিষয়টা ঠিক
এই রকমই। উনাদের মর্যাদা-মর্তবা,
ফযীলত বেমেছাল।
হাদীছ শরীফ এ বর্ণিত রয়েছে, একদিন
স্বয়ং নবী আলাইহিমুস সালাম
উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম
উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম,
হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন,
ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি একখানা জামা
মুবারক তৈরি করে হাদিয়া স্বরূপ
পাঠালেন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি
আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা
আলাইহাস সালাম উনার কাছে। উনার
কাছে যখন সেই জামা মুবারক
পৌছানো হল ঠিক সেই মুহূর্তে একজন
গরীব মহিলা এসে সাহায্য চাইলো
যে, আমাকে দয়া করে একখানা
জামা দান করুন। উনাদের
বৈশিষ্ট্যগুলো, মর্যাদাগুলো,
ফযীলতগুলো আল্লাহ পাক তিনি
কিভাবে উম্মতদেরকে, বান্দাদেরকে,
বান্দীদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন
সেটা চিন্তা ফিকিরের বিষয়। উনার
কাছে গরীব মহিলা এসে তলব করলো,
আমাকে দয়া করে একটা জামা যদি
দিতেন তাহলে আমার জন্য ভালো
হতো। এখন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি
আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা
আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, উনার
কাছে আগে এক জোড়া, এক সেট
জামা ছিল। এখন আরেক সেট
পৌছেছে নতুন, পুরাতনও রয়েছে। এখন
তিনি কোনটা দান করবেন এই
মহিলাকে; নতুনটা না পুরাতনটা?
তিনি বললেন, যিনি খালিক্ব যিনি
মালিক যিনি রব আল্লাহ পাক তিনি
তো নাযিল করেছেন-
ﻟﻦ ﺗﻨﺎﻟﻮﺍ ﺍﻟﺒﺮ ﺣﺘﻰ ﺗﻨﻔﻘﻮﺍ ﻣﻤﺎ ﺗﺤﺒﻮﻥ
তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কোন নেকী ও
সন্তুষ্টি হাছিল করতে পারবেনা
যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের
পছন্দনীয় বিষয়গুলো দান না করবে।
সুবহানাল্লাহ! তোমাদের প্রিয়
পছন্দনীয় বিষয়গুলো দান না করা পর্যন্ত
নেকী হাছিল করতে পারবে না। এখন
উম্মতদেরকে শিক্ষা দিতে হবে,
তা’লীম দিতে হবে, নছীহত করতে
হবে, উনারাই তো করবেন সেটা।
তিনি কি করলেন, সেই নতুন জামা
সেটা সেই গরীব মহিলাকে দান করে
দিলেন। সুবহানাল্লাহ! যিনি
খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব
আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট তো সবসময়
রয়েছেন, মাঝে মাঝে উনার সন্তুষ্টি
কখনো কখনো তিনি প্রকাশ করেন।
সেটা তিনি প্রকাশ করলেন। কি
প্রকাশ করলেন? তৎক্ষনাৎ হযরত জিবরীল
আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে
দিয়ে এক জোড়া জান্নাতী লিবাস
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী
আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল
আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার খিদমতে পেশ করলেন।
সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী
আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল
আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি তো জানেন
তারপরেও ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া
হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম! আপনি যে জামা
মুবারক হাদিয়া করেছিলেন
সেটাতো সাইয়্যিদাতু নিসায়ি
আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা
আলাইহাস সালাম উনি অনেক পছন্দ
করেছিলেন, মুহব্বত করেছিলেন। উনার
অন্তর চাচ্ছিল না সেটা দিয়ে
দেয়ার জন্য। কিন্তু যেহেতু যিনি
খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব
আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন পছন্দনীয়
জিনিস দান করতে হবে সেজন্য তিনি
সেটা দান করেছেন। এখন স্বয়ং যিনি
খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব
আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট হয়ে
উনাকে জান্নাত থেকে এক জোড়া
লিবাস তিনি পাঠিয়ে দিয়েছেন।
সুবহানাল্লাহ! এই যে উনাদের
মর্যাদা-মর্তবা, ফযীলত, খুছূছিয়ত এটা
তো বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন এই
দান খয়রাতের ব্যাপারে উনারা
বেমেছাল ছিলেন। নূরে মুজাসসাম,
হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম
উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম
উনাদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে
বলা হয়েছে তিনি এত দান খয়রাত
করতেন, দ্রুতগ্রামী বাতাসের
চাইতেও বেশি তিনি দ্রুতগতিতে
দান খয়রাত করতেন। সুবহানাল্লাহ!
তিনি তো উনার লখতে জিগার। উনার
কলিজা মুবারক-এর টুকরা মুবারক।
কাজেই উনি তো সেভাবেই করবেন।
সুবহানাল্লাহ

যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী তথা জীবনী মুবারক

ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদু সুলত্বানিল আউলিয়া, ইমামুল মুহাক্বক্বিক্বীন, পেশওয়ায়ে দ্বীন, আস সাজ্জাদ, আবূ আব্দুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী তথা জীবনী মুবারক
হযরত আহালু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে জানা, উনাদের মুহব্বত করা, উনাদের খিদমত মুবারক করা, উনাদের তা’যীম-তাকরীম করা এবং উনাদের মুবারক ছানা-ছিফত করা সমস্ত মুসলমান তথা জিন-ইনসান সমস্ত কায়িনাতের জন্য ফরয। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
قل لا أسألكم عليه أجرأ الا المودة في القربى. ومن يقترف حسنة نزد له فيها حسنا. ان الله غفورشكور.

নবী পরিবারকে কুখ্যাত ইয়াযীদ কাফির গোষ্ঠিরা ফোরাত নদীর এক ফোঁটা পানিও পান করতে দেয়নি।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرة علي عليه السلام قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أهل بيتي أمان لأمتي
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার পবিত্র আহলি বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাই হচ্ছেন- আমার উম্মতের একমাত্র নিরাপত্তাদানকারী তথা একমাত্র নাজাতদানকারী। সুবহানাল্লাহ! (কানযুল উম্মাল)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে সুস্পষ্ট যে পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন কুল-কায়িনাতবাসীর নিরাপত্তাদানকারী, রহমতদানকারী, নাজাতদানকারী তথা সমস্ত কিছুর মালিক উনারাই। সুবহানাল্লাহ! অথচ আহলে বাইত উনাদের মধ্যমণি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার পূত-পবিত্র নবী পরিবার উনাদের সাথে কিরূপ নিষ্ঠুর-নির্মম আচরণ করা হয়েছিল; তা নি¤েœ বর্ণনা করা হলো-

হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার আখাছছুল খাছ মনোনীত ব্যক্তিত্বগণ উনাদের মধ্যে ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি অন্যতম। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত এবং পূত-পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্ব। উনার ফাযায়িল-ফযীলত এবং খুছুছিয়াত মুবারক সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। উনার মুবারক শানে হুসনে যন পোষণের ব্যাপারে রয়েছে অত্যধিক তাক্বীদ। পবিত্র শা’বান মাস হলো উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণের মাস। সঙ্গতকারণেই এ মাসে উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা-পর্যালোচনা করা অতীব প্রয়োজন। আর এ কারণেই সংক্ষিপ্তাকারে উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করা হলো।

হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার মহান কারামত মুবারক

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার ওলী উনাদেরকে অনেক মর্যাদা-মর্তবা, সম্মান দিয়েছেন। সেই মহান মর্যাদা-মর্তবার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে উনাদের কারামত। কারামত সত্য। সমষ্টিগত কারামত উনাকে অবিশ্বাস করা কুফরী। তবে ব্যক্তি বিশেষে কারামতকে অস্বীকার করা আমভাবে কুফরী না হলেও খাছভাবে গুমরাহী বা বিভ্রান্তির কারণ।
আমিরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিষয়টি ব্যতিক্রম। উনার কোনো বিষয়েই কোনো প্রকার চু-চেরা, ক্বিল-ক্বাল করা যাবে না। করলে কুফরী হবে। আর উনাকে ওলীআল্লাহ বলা উনার সুমহান শান-মান উনার খিলাফ।
এছাড়াও তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হলেও উনার হাক্বীক্বী বা প্রকৃত পরিচয় হচ্ছে তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত ও ইমাম। ‘কারামত’ উনার আর কোনো পরিভাষা রচিত না হওয়ায় আমরা উনার মহান শান মুবারকে কারামত শব্দটিই ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার সুমহান ফাযায়িল-ফযীলত

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না আর চাওয়াটা স্বাভাবিক না। তবে তোমাদেরকে যেহেতু ফায়দা হাছিল করতে হবে সেহেতু আমার নিকটজন তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত তাফসীর “তাফসীরে মাযহারী” ৮ম জিলদ ৩২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে- “আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাই না, তবে তোমরা আমার নিকটাত্মীয়, আহলে বাইত শরীফ ও বংশধরগণ উনাদের (যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক) হক্ব আদায় করবে। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইত শরীফ মুহব্বতকারীগণ জান্নাতী এবং বিদ্বেষকারীরা জাহান্নামী



কুল-মাখলুক্বাতের নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম, সম্মানিত, নূরানী আহাল-ইয়াল, পরিবার-পরিজন উনারাই হচ্ছেন ‘আহলু বাইত’ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম সারির অন্তর্ভুক্ত হলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহা সম্মানিত হযরত আব্বাও হযরত আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা আর তৃতীয় সাবির অন্তর্ভুক্ত হলেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম এবং দ্বিতীয় সারির অন্তর্ভুক্ত হলেন আওলাদু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা।
স্মরণীয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন শারি’ বা শরীয়ত উনার প্রবর্তক অর্থাৎ তিনি যা বলেন তাই শরীয়ত। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
الشريعة اقوالى
অর্থ: “আমার কথা মুবারকই শরীয়ত।”

আহলে বাইত শরীফ উনাদের প্রতি মহান খলিফা হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অপরিসীম শ্রদ্ধা ও মুহব্বত!


হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিলাফতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কতিৃত্ব হলো, যানু হাশিম বা আহলে বাইত শরীফ-উনাদের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও উনাদের ভাতা নির্ধারন।
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শাসনামলে বনু হাশিমদের পুরো নিরাপত্তা এর ব্যবস্হা করা হয়- উনাদের যথাযথ মর্যাদা দান ও বাইতুল মাল হতে উপযুক্ত ভাতা নির্ধারণ করা হয়। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আত্মীয়দেরকেও। তিনি উনার খিদমতের হস্ত প্রসারীত করে দেন।

হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম ও সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে শিয়াদের বদ আক্বীদা

নিশ্চয় ১২তম ইমাম হযরত ইমাম মাহাদী আলাইহিস সালাম উনার যামানায় হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উমর ফারূক আলাইহিস সালাম উনাদেরকে একটি গাছে ফাঁসি দিবেন। ফাঁসিতে ঝুলানোর পূর্বে গাছটি কাঁচা থাকবে এবং ফাঁসিতে ঝুলানোর পর গাছটি শুকিয়ে যাবে। (আল মাসায়েলুন নাসেরিয়াহ, সৈয়দ মুরতাযা) নাঊযুবিল্লাহ!
যখন হযরত ইমাম মাহাদী আলাইহিস সালাম তিনি আত্ম প্রকাশ করবেন তখন তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে পুনরায় জীবিত করবেন এবং উনার উপর হদ্দ (ব্যভিচারের শাস্তি) কায়ম করবেন। (হাক্কুল ইয়াক্বীন, আল মাজলেসী)
পবিত্র আশূরা উপলক্ষে শিয়ারা একটি কুকুর নিয়ে আসে এবং কুকুরের নাম রাখে “উমর”। অতঃপর তারা কুকুরটিকে লাঠির আঘাত এবং কংকর নিক্ষেপ করে মেরে ফেলে। তারপর তারা একটি বকরি ছানা নিয়ে আসে এবং তার নাম রাখে “আয়িশা”। অতঃপর ঐ বকরি ছানার লোম উপড়াতে ও জুতা দ্বারা আঘাত করতে করতে মেরে ফেলে। অনুরূপভাবে হযরত উমর ফারূক আলাইহিস সালাম উনার বিছাল (শাহাদাৎ) শরীফ দিবসে তারা আনন্দ অনুষ্ঠান পালন করে এবং উনার শাহাদাৎকারীকে “বাবা শুজাউদ্দীন” বা “ধর্মীয় বীর” নামে খেতাব দেয়। উল্লেখ্য, হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উমর ফারূক আলাইহিস সালাম উনাদের প্রতি বদদোয়া করার জন্য শিয়ারা দোয়া রচনা করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!

আহলে বাইত শরীফ উনাদের ৬ষ্ঠ ইমাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম উনার মুবারক নছীহত

১) নিজেকে হারাম বস্তু থেকে বাঁচাও, যা কিসমতে আছে তার উপর সন্তুষ্ট থাক; তবে ছুফী হতে পারবে।
২) মনে রেখ মিথ্যাবাদী ভদ্র হয় না, হিংসুক আরাম পায় না, চরিত্রহীন নেতৃত্ব করতে পারে না।
৩) দুশ্চরিত্রের সাথে চলাফেরা করিও না। তাহলে তোমার চরিত্র নষ্ট হতে সময় লাগবে না।
৪) কারো গুণ দেখলে প্রশংসা করিও। দোষ দেখলে গোপন রাখিও এবং কেউ অন্যায় করিলে ক্ষমা করিও; তবেই তুমি নেককার মানুষ।
৫) ক্রোধ-এর উৎপত্তি আগুন থেকে আর আগুন দ্বারাই দোযখ তৈরি করা হয়েছে। অতএব, সর্বদা ক্রোধ বর্জন কর।
৬) পাঁচ প্রকার লোকের সাথে সংশ্রব রাখিও না। 
এক. মিথ্যাবাদী, কারণ মিথ্যাবাদীর কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 
দুই. কৃপণ, কারণ কৃপণ নিজ লাভের জন্য তোমার ক্ষতি করে বসবে। 
তিন. নির্দয়, কারণ নির্দয় বিপদের সময় তোমার প্রতি দয়া দেখাবে না। 
চার. কাপুরুষ, কারণ কাপুরুষ বিপদের সময় নিজ নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। 
পাঁচ. ফাসিক, কারণ ফাসিকের নির্দিষ্ট কোনো চরিত্র নেই। সে নিজ স্বার্থে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সবসময় আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম উনার মুল্যবান নছীহত মুবারক পালনের তাওফীক দান করুন। আমিন!

হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা শূরা শরীফ উনার ২৩নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতগণ উনাদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাই না। (উম্মতের পক্ষে বিনিময় দেয়াটাও কখনোই সম্ভব নয়)। তবে তোমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে আমার আপনজন- অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি মুহব্বত রাখবে।”
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, বিদ্বআতুম মিন রসূলিল্লাহ, শাবীহাতু রসূলিল্লাহ, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন।
হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মূল ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্ত।

আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম, সাত খলীফা আলাইহিমুসসালাম ও ১২ ইমাম আলাইহিমুসসালাম

পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররম শরীফ-এ হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিস সালাম ও ১২ ইমাম আলাইহিস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা শিক্ষা নেয়া মু’মিন-মুসলমানগণ উনাদের দায়িত্ব-কর্তব্য।
আহলে বাইত ৪ জন:
১. সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কারমাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম।
২. সাইয়্যিদুনা হযরত ফাতিমাতুয্ আলাইহাস সালাম।
৩. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম।
৪. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের মধ্যে খুলাফায়ে রাশিদীন ৭ জন:
১. সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব ইবনে কুহাফা আলাইহিস সালাম।
২. সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ফারূক ইবনে খাত্তাব আলাইহিস সালাম।
৩. সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান গনী ইবনে আফ্ফান আলাইহিস সালাম।
৪. সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবূ তালিব আলাইহিস সালাম।
৫. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান ইবনে আলী আলাইহিস সালাম।
৬. সাইয়্যিদুনা হযরত মুআবিয়া ইবনে আবূ সুফইয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।
৭. সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।
আর ১২ ইমাম হচ্ছেন:
১. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী ইবনে আবূ তালিব আলাইহিস সালাম।
২. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান ইবনে আলী আলাইহিস সালাম।
৩. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন ইবনে আলী আলাইহিস সালাম।
৪. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন ইবনে ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম।
৫. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম বাকির ইবনে যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম।
৬. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক ইবনে বাকির আলাইহিস সালাম।
৭. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মূসা কাযিম ইবনে জা’ফর ছাদিক আলাইহিস সালাম।
৮. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী রিযা ইবনে মূসা কাযিম আলাইহিস সালাম।
৯. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ তক্বী ইবনে আলী রিযা আলাইহিস সালাম।
১০. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী নক্বী ইবনে মুহম্মদ তক্বী আলাইহিস সালাম।
১১. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী ইবনে আলী নক্বী আলাইহিস সালাম।
১২. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ আহমদ মাহদী আলাইহিস্ সালাম (এখনো আসেননি, ক্বিয়ামতের আগে আসবেন)।
উনাদের প্রত্যেকেরই বেমেছাল মর্যাদা ও মর্তবা। যেহেতু উনাদের সম্পর্ক নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে।
আয় আল্লাহ পাক! হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত খুলাফায়ে রশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরিপূর্ণ মুহব্বত আমাদের অন্তরে দান করুন। (আমীন)

আহলে বাইত, ১২ ইমাম সম্পর্কে সঠিক তালিকা জানা আবশ্যক।

আশূরা মিনাল মুহররমে আহলে বাইত, ইমামগণকে মুহব্বত করা শিক্ষা নেয়া মু’মিন-মুসলমানদের দায়িত্ব-কর্তব্য। নিম্নে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত উনাদের মত অনুশারে ১২ ইমাম উনাদের নামে তালিকা দেয়া হল।
০১.সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী ইবনে আবূ তালিব আলাইহিস সালাম
১. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী ইবনে আবূ তালিব আলাইহিস সালাম। (তিনি পবিত্র রজবুল হারাম মাস উনার ১৩ তারিখ পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। হিজরী ৪০ সনের ১৬ রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াতি বা শুক্রবার ফযর নামাযে গমনকালে আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম নামক খারিজী ঘাতকের তলোয়ারে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ১৭ রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল সাবতি বা শনিবার পবিত্র শাহাদাতবরণ করেন।  উনার হায়াত মুবারক ছিল ৬৩ বছর।)
২. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান ইবনে আলী আলাইহিস সালাম
২. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান ইবনে আলী আলাইহিস সালাম। (হিজরী ৩য় সনে শা’বান মাসের ১৫ তারিখ ইয়াওমুল আরবিয়ায়ি বা বুধবার তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেন। ৪৯ হিজরী সনের ২৮শে ছফর প্রায় ৪৬ বৎসর বয়স মুবারক-এ তিনি শাহাদাত বরণ করেন বা বিছাল শরীফ লাভ করেন।)
৩. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন ইবনে আলী আলাইহিস সালাম
৩. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন ইবনে আলী আলাইহিস সালাম। (তিনি চতুর্থ হিজরীর শা’বান মাসের ৫ তারিখ মদীনা শরীফ-এ বিলাদত শরীফ মুবারক লাভ করেন। ১০ ই (আশুরা মিনাল) মুহররম শরীফ কারবালা প্রন্তরে ইয়াযিদের বাহিনী কর্তৃত শাহাদাত বরণ করেন।)
৪. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন ইবনে ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম
৪. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী আওসাত যাইনুল আবিদীন ইবনে ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম।
৫. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম বাকির ইবনে যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম
৫. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম বাকির ইবনে যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালাম।
৬. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক ইবনে বাকির আলাইহিস সালাম
৬. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক ইবনে বাকির আলাইহিস সালাম। (তিনি ১৪৮ হিজরী সনে রজবুল হারাম মাসেরই ১৪ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ-এ বাদ ইশা পবিত্র মদীনা শরীফ-এ ¬পবিত্র বিছাল শরীফ লাভ করেন।)
৭. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মূসা কাযিম ইবনে জা’ফর ছাদিক আলাইহিস সালাম
৭. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মূসা কাযিম ইবনে জা’ফর ছাদিক আলাইহিস সালাম।( ১২৮ হিজরীর ৭ই ছফর বিলাদত শরীফ লাভ করেন।)
৮. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী রিযা ইবনে মূসা কাযিম আলাইহিস সালাম
৮. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী রিযা ইবনে মূসা কাযিম আলাইহিস সালাম। (১২৮ হিজরীর ৭ই ছফর বিলাদত শরীফ মুবারক লাভ করেন।)
৯. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ তক্বী ইবনে আলী রিযা আলাইহিস সালাম
৯. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ তক্বী ইবনে আলী রিযা আলাইহিস সালাম।
১০. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী নক্বী ইবনে মুহম্মদ তক্বী আলাইহিস সালাম
১০. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী নক্বী ইবনে মুহম্মদ তক্বী আলাইহিস সালাম।
১১. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী ইবনে আলী নক্বী আলাইহিস সালাম
১১. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী ইবনে আলী নক্বী আলাইহিস সালাম।
১২. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ আহমদ মাহদী আলাইহিস্‌ সালাম
১২. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ আহমদ মাহদী আলাইহিস্‌ সালাম (এখনো আসেননি, ক্বিয়ামতের আগে আসবেন)।
উনাদের প্রত্যেকেরই বেমেছাল মর্যাদা ও মর্তবা। যেহেতু উনাদের সম্পর্ক নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে।
আয় আল্লাহ পাক! আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরিপূর্ণ মুহব্বত আমাদের অন্তরে দান করুন। (আমীন)

হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। আর তোমাদের পক্ষে তা দেয়াও সম্ভব নয়। তবে যেহেতু তোমাদেরকে ইহকাল ও পরকালে কামিয়াবী হাছিল করতে হবে, তাই আমার নিকটজন তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)

হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সকল সচ্ছলতার মালিক- একটি আকলী দলিল

একদিন হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার কাছে দু’জন দরবেশ এলেন। মেহমানদারী করারও প্রয়োজন কিন্তু ঘরে ছিল মাত্র ২টা রুটি। তিনি দু’জন দরবেশকে তা পরিবেশনও করলেন। উনারা যখন খাদ্য গ্রহণ করতে যাবেন তখন একজন সুওয়ালকারী বা ভিক্ষুক এলো। তিনি দরবেশ উনাদের পাত থেকে রুটি দুটো তুলে নিয়ে দিয়ে দিলেন সেই সুওয়ালকারীকে। দরবেশ দু’জন একটু অবাক হলেন বটে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর একজন মহিলা খাঞ্চা ভর্তি খাবার নিয়ে এলেন রুটিসহ। হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহা তিনি গুনে দেখলেন ১৮টি রুটি। তিনি বললেন এই খাবার আমার নয়। আপনি হয়তো ভুলে অন্য কারো খাবার নিয়ে এসেছেন। আসলে সে মহিলাই দুটো রুটি লুকিয়ে ফেলেছিলো। পরে সেই মহিলা পুনরায় ২০টি রুটি নিয়ে এলো।

জিহাদ থেকেও বেশি ফযীলতপূর্ণ হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খিদমত করা

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। আর তোমাদের পক্ষে তা দেয়াও সম্ভব নয়। তবে যেহেতু তোমাদেরকে ইহকাল ও পরকালে কামিয়াবী হাছিল করতে হবে, তাই আমার নিকটজন তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিশ্ববিখ্যাত ‘তাফসীরে মাযহারী শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না, তবে তোমাদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে: তোমরা আমার নিকটাত্মীয় হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও বংশধরগণ উনাদের (যথাযথ সম্মান, আলোচনা ও খিদমত প্রদর্শনপূর্বক) হক্ব আদায় করবে।” আর উনাদের খিদমতই মুসলমানের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল।

হযরত আহলে বাইত শরীফদের প্রতি হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মুহব্বত।

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালাম পাক উনার মধ্যে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি মুহব্বত করাকে ফরয করে দিয়েছেন। তাই আমরা দেখতে পাই যিনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, যিনি ছাহিবু রসূলিল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি মুহব্বত প্রকাশের বেমেছাল দৃষ্টান্ত ব্যক্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে ছহীহ বুখারী শরীফ উনার ২য় খ- ৪০৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে-
والذى نفسى بيده لقرابة رسول الله صلى الله عليه وسلم احب الى ان اصل من قرابتى
অর্থ: “(সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন) মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ, যাঁর কুদরতী হাত মুবারকে আমার প্রাণ মুবারক রয়েছে, আমার আপনজন থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আপনজন উনাদেরকে আমি অধিক মুহব্বত করে থাকি।” সুবহানাল্লাহ!
ছহীহ বুখারী শরীফ উনার ২য় খ- ৪১৫ পৃষ্ঠায় অপর এক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اقبوا محمدا صلى الله عليه وسلم فـى اهل بيتـا
অর্থ:- “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিষয়ে উনার মর্যাদা মুবারককে রক্ষা করো।”

হযরত আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুহব্বতকারীদের জন্য সম্মানিত জান্নাত সুসংবাদ


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
من مات على حب ال محمد صلى الله عليه وسلم بشره ملك الموت بالجنة ثم منكرنكير
অর্থ: যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরানী পরিবার ও আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত নিয়ে ইনতিকাল করবে, তাকে মালাকুল মউত হযরত আযরাইল আলাইহিস সালাম এবং হযরত মুনকার ও নাকীর ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনারা সম্মানিত জান্নাত উনার সুসংবাদ দিবেন।
আরেক বর্ণনায় বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
من مات على حب ال محمد صلى الله عليه وسلم يزف الى الجنة كما تزف العروس الى بيت زوجها
অর্থ: যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত, আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতের উপর ইনতিকাল করবে। ঐ ব্যক্তিকে নববধূকে যেমনভাবে বাসর রাতে তার স্বামীর ঘরে প্রবেশ করানো হয় তেমনিভাবে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। সুবহানাল্লাহ!
উপরে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে এবং উনাদের যারা বংশধর, ক্বিয়ামত পর্যন্ত যমীনে অবস্থান করবেন উনাদেরকে যারা মুহব্বত করবে, তাদের সকলের জন্য পবিত্র জান্নাত ওয়াজিব।

হযরত আহলে বাইত ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিরোধিতাকারীরা জাহান্নামী।

বিখ্যাত ছাহাবী হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لوان رجلا صعد بين الركن والمقام فصلى وصام ثم مات وهو مبغض لاهل بيت النبى صلى الله عليه وسلم دخل النار.
অর্থ: “যদি কোনো ব্যক্তি বাইতুল্লাহ শরীফ উনার হাজরে আসওয়াদ ও মাক্বামে ইবরাহীম উনার মধ্যে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করে এবং রোযাও রাখে, কিন্তু সে হযরত আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষভাব রেখে মৃত্যুবরণ করে, নিশ্চয়ই সে জাহান্নামে যাবে।” নাউযুবিল্লাহ! (খছায়েছুল কুবরা)
অপর এক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক

হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মর্যাদা সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি জানিয়ে দিন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয হচ্ছে- আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।”

হযরত আহলে বাইত ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুহব্বতকারীদের জন্য সম্মানিত জান্নাত উনার সুসংবাদ।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
من مات على حب ال محمد صلى الله عليه وسلم بشره ملك الموت بالجنة ثم منكرونكير.
অর্থ: “যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরানী পরিবার ও আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত নিয়ে ইনতিকাল করবে, তাকে মালাকুল মউত হযরত আযরাইল আলাইহিস সালাম এবং হযরত মুনকার ও নাকীর ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনারা সম্মানিত জান্নাত উনার সুসংবাদ দিবেন।”
আরেক বর্ণনায় বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
من مات على حب ال محمد صلى الله عليه وسلم يزف الى الجنة كما يزف العروس الى بيت زوجها.
অর্থ: “যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত, আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতের উপর ইনতিকাল করবে। ঐ ব্যক্তিকে নববধূকে যেমনভাবে বাসর রাতে তার স্বামীর ঘরে প্রবেশ করানো হয় তেমনিভাবে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।” সুবহানাল্লাহ!
উপরে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে এবং উনাদের যারা বংশধর, ক্বিয়ামত পর্যন্ত যমীনে অবস্থান করবেন উনাদেরকে যারা মুহব্বত করবে, তাদের সকলের জন্য পবিত্র জান্নাত ওয়াজিব।

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...