কিতাবে, তাফসীরে
বর্ণিত রয়েছে-
ﻭﻳﻄﻌﻤﻮﻥ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻋﻠﻰ ﺣﺒﻪ ﻣﺴﻜﻴﻨﺎ ﻭﻳﺘﻴﻤﺎ ﻭﺍﺳﻴﺮﺍ . ﺍﻧﻤﺎ
ﻧﻄﻌﻤﻜﻢ ﻟﻮﺟﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻧﺮﻳﺪ ﻣﻨﻜﻢ ﺟﺰﺍﺀ ﻭﻻ ﺷﻜﻮﺭﺍ .
কালামুল্লাহ শরীফ উনার আয়াত
শরীফ। আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
ﻭﻳﻄﻌﻤﻮﻥ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻋﻠﻰ ﺣﺒﻪ ﻣﺴﻜﻴﻨﺎ ﻭﻳﺘﻴﻤﺎ ﻭﺍﺳﻴﺮﺍ
উনারা খাদ্য দিয়ে থাকেন,
খাইয়ে থাকেন যিনি খালিক্ব
যিনি মালিক যিনি রব আল্লাহ পাক
উনার মুহব্বতে এবং যিনি নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার মুহব্বতে উনারা
মানুষদেরকে খাদ্য দেন, ইয়াতীম-
মিসকীন এবং বন্দীদেরকে এবং
ﺍﻧﻤﺎ ﻧﻄﻌﻤﻜﻢ ﻟﻮﺟﻪ ﺍﻟﻠﻪ
উনারা কি বলেন? আমরা নিশ্চয়ই
মানুষদেরকে খাদ্য দিয়ে থাকি,
মানুষকে যে হাদীয়া- তোহফা দেই,
দান-খয়রাত যে করে থাকি
একমাত্র যিনি খালিক্ব¡ যিনি
মালিক যিনি রব আল্লাহ পাক উনার
রেযামন্দি, উনার হাবীব, নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার রেযামন্দি-
সন্তুষ্টি হাছিলের লক্ষ্যে।
সুবহানাল্লাহ!
ﻻ ﻧﺮﻳﺪ ﻣﻨﻜﻢ ﺟﺰﺍﺀ ﻭﻻ ﺷﻜﻮﺭﺍ
এর বিনিময়ে আমরা তোমাদের কাছ
থেকে কোন বদলাও চাচ্ছি না,
তোমরা আমাদের কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করো সেটাও চাচ্ছি না।
সুবহানাল্লাহ!
এই আয়াত শরীফ-উনার তাফসীরে বলা
হয়, এর শানে নুযূল, অর্থাৎ নাযিল
হয়েছিল এই আয়াত শরীফ কেন?
সেটা বলা হয়ে থাকে বা বর্ণিত
রয়েছে- হযরত আলী
কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস
সালাম
এবং হযরত সাইয়্যিদাতু নিসায়ি
আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা
আলাইহাস সালাম উনারা রোযা
রেখেছেন। এটার পিছনেও
মুখতালিফ বর্ণনা রয়েছে।
কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে, হযরত
ইমাম হাসান এবং হযরত ইমাম হুসাইন
আলাইহিমাস সালাম উনাদের কোন
কারণে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি
আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা
আলাইহাস সালাম তিনি তিনটা
রোযা রাখার নিয়ত করেছিলেন।
এখন রোযা রেখেছেন ইফতার করবেন,
ইফতারের সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে
বা বন্দোবস্তও করা হয়েছে। এমন সময়
একজন ইয়াতীম এসে উনাদের বাড়ির
দরজায় হাক দিলো যে, আমাকে দয়া
করে কিছু খাদ্য দান করুন, আমি
কয়েকদিন ধরে না খাওয়া রয়েছি।
যখন সে ইয়াতীম ছেলে হাক দিল তখন
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল
জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস
সালাম তিনি হযরত আসাদুল্লাহিল
গালিব কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু
আলাইহিস সালাম
উনাকে
বললেন, আমরাতো গত রাতে সাহরী
করেছি; এখন এই ইয়াতীম বলতেছে, সে
কয়েকদিন ধরে না খাওয়া তাহলে
আমাদের ইফতারীর যা ব্যবস্থা করা
হয়েছে সেটা আমরা তাকে দান করে
দেই।
তখন উনারা সেটা দান করে দিলেন
সেই ইয়াতীমকে। এরপর উনারা পানি
দিয়ে ইফতার করলেন। সুবহানাল্লাহ!
আবার সেই রাত্রিতে উনারা কিছু
সাহরীর ব্যবস্থা করলেন, পরের দিন
আবার ইফতারীর ব্যবস্থা করা হয়েছে,
ইফতারী করবেন। ইফতারীর সময়
নিকটবর্তী ঠিক সেই মুহূর্তে একজন
মিসকীন এসে দরজায় হাক দিলো যে,
আমি একজন মিসকীন আমাকে কিছু
খাদ্য দান করুন, আমি কয়েকদিন ধরে না
খাওয়া।
এটা শুনে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত
যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি
বললেন, হযরত আসাদুল্লাহিল গালিব
কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস
সালাম
উনাকে,
আমরাতো গতরাতে খাওয়া-দাওয়া
করেছি। এখন এই মিসকীন সেতো
কয়েকদিন ধরে না খাওয়া, কাজেই
আমাদের ইফতারগুলো তাকে দান করে
দেই। উনারা সেটা দান করে দিলেন।
সুবহানাল্লাহ! উনারা শুধু পানি
দিয়ে ইফতার করলেন।
এরপর তৃতীয় দিন উনারা আবার রোযা
রাখলেন; কিছু সাহরী করলেন। তৃতীয়
দিন যখন উনারা আবার ইফতার করবেন;
কিছু ব্যবস্থা করা হয়েছে ঠিক সেই
মূহুর্তে একজন আসীর (বন্দি) সে এসে
হাক দিলো। সে কয়েকদিন ধরে না
খাওয়া। তাকে কিছু খাদ্য দিলে তার
জন্য ভালো হত।
এটা শুনে আবার সাইয়্যিদাতু
নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত
যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি
আবার একই কথা বললেন যে, আমরাতো
কিছু খেয়েছি গত দিন। এখন এই আসীর
বা বন্দি ব্যক্তি, সে তো কয়েক দিন
ধরে না খাওয়া রয়েছে। কাজেই,
আমরা আমাদের ইফতারী তাকে দান
করে দেই। সত্যিই সেটা উনারা দান
করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
উনাদের এই আমলে সন্তুষ্ট হয়ে যিনি
খালিক্ব¡, যিনি মালিক, যিনি
আল্লাহ পাক তিনি উপরোক্ত আয়াত
শরীফ নাযিল করলেন। সুবহানাল্লাহ!
উনাদের এই আমলে সন্তুষ্ট হয়ে যিনি
খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব
আল্লাহ পাক তিনি আয়াত শরীফ
নাযিল করলেন-
ﻭﻳﻄﻌﻤﻮﻥ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻋﻠﻰ ﺣﺒﻪ ﻣﺴﻜﻴﻨﺎ ﻭﻳﺘﻴﻤﺎ ﻭﺍﺳﻴﺮﺍ . ﺍﻧﻤﺎ
ﻧﻄﻌﻤﻜﻢ ﻟﻮﺟﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻧﺮﻳﺪ ﻣﻨﻜﻢ ﺟﺰﺍﺀ ﻭﻻ ﺷﻜﻮﺭﺍ
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী
আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল
আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার প্রতি আল্লাহ পাক
তিনি আয়াত শরীফ নাযিল করেন
উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যে উনারা
কেমন, যাঁরা আহলে বাইত আলাইহিমুস
সালাম তথা সাইয়্যিদাতু নিসায়ি
আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা
আলাইহাস সালাম উনার আমলগুলো
আল্লাহ পাক তিনি কতটুকু পছন্দ করেন,
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল
জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস
সালাম, হযরত আসাদুল্লাহিল গালিব
কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস
সালাম
উনারা
যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি
রব আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে, উনার
হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার মুহব্বতে নিজেরা
খাদ্য না খেয়ে ইয়াতীম, মিসকীন,
আসীর-বন্দী তাদেরকে দান করে
দিয়েছেন শুধুমাত্র উনাদের
রেযামন্দী, সন্তুষ্টি হাছিলের
লক্ষ্যে। সুবহানাল্লাহ! এবং এর
বিনিময়ে উনারা কিছুই চাচ্ছেন না।
শুধু সন্তুষ্টি তলব করেছেন। বিষয়টা ঠিক
এই রকমই। উনাদের মর্যাদা-মর্তবা,
ফযীলত বেমেছাল।
হাদীছ শরীফ এ বর্ণিত রয়েছে, একদিন
স্বয়ং নবী আলাইহিমুস সালাম
উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম
উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম,
হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন,
ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি একখানা জামা
মুবারক তৈরি করে হাদিয়া স্বরূপ
পাঠালেন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি
আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা
আলাইহাস সালাম উনার কাছে। উনার
কাছে যখন সেই জামা মুবারক
পৌছানো হল ঠিক সেই মুহূর্তে একজন
গরীব মহিলা এসে সাহায্য চাইলো
যে, আমাকে দয়া করে একখানা
জামা দান করুন। উনাদের
বৈশিষ্ট্যগুলো, মর্যাদাগুলো,
ফযীলতগুলো আল্লাহ পাক তিনি
কিভাবে উম্মতদেরকে, বান্দাদেরকে,
বান্দীদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন
সেটা চিন্তা ফিকিরের বিষয়। উনার
কাছে গরীব মহিলা এসে তলব করলো,
আমাকে দয়া করে একটা জামা যদি
দিতেন তাহলে আমার জন্য ভালো
হতো। এখন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি
আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা
আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, উনার
কাছে আগে এক জোড়া, এক সেট
জামা ছিল। এখন আরেক সেট
পৌছেছে নতুন, পুরাতনও রয়েছে। এখন
তিনি কোনটা দান করবেন এই
মহিলাকে; নতুনটা না পুরাতনটা?
তিনি বললেন, যিনি খালিক্ব যিনি
মালিক যিনি রব আল্লাহ পাক তিনি
তো নাযিল করেছেন-
ﻟﻦ ﺗﻨﺎﻟﻮﺍ ﺍﻟﺒﺮ ﺣﺘﻰ ﺗﻨﻔﻘﻮﺍ ﻣﻤﺎ ﺗﺤﺒﻮﻥ
তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কোন নেকী ও
সন্তুষ্টি হাছিল করতে পারবেনা
যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের
পছন্দনীয় বিষয়গুলো দান না করবে।
সুবহানাল্লাহ! তোমাদের প্রিয়
পছন্দনীয় বিষয়গুলো দান না করা পর্যন্ত
নেকী হাছিল করতে পারবে না। এখন
উম্মতদেরকে শিক্ষা দিতে হবে,
তা’লীম দিতে হবে, নছীহত করতে
হবে, উনারাই তো করবেন সেটা।
তিনি কি করলেন, সেই নতুন জামা
সেটা সেই গরীব মহিলাকে দান করে
দিলেন। সুবহানাল্লাহ! যিনি
খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব
আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট তো সবসময়
রয়েছেন, মাঝে মাঝে উনার সন্তুষ্টি
কখনো কখনো তিনি প্রকাশ করেন।
সেটা তিনি প্রকাশ করলেন। কি
প্রকাশ করলেন? তৎক্ষনাৎ হযরত জিবরীল
আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে
দিয়ে এক জোড়া জান্নাতী লিবাস
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী
আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল
আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার খিদমতে পেশ করলেন।
সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী
আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল
আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি তো জানেন
তারপরেও ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া
হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম! আপনি যে জামা
মুবারক হাদিয়া করেছিলেন
সেটাতো সাইয়্যিদাতু নিসায়ি
আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা
আলাইহাস সালাম উনি অনেক পছন্দ
করেছিলেন, মুহব্বত করেছিলেন। উনার
অন্তর চাচ্ছিল না সেটা দিয়ে
দেয়ার জন্য। কিন্তু যেহেতু যিনি
খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব
আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন পছন্দনীয়
জিনিস দান করতে হবে সেজন্য তিনি
সেটা দান করেছেন। এখন স্বয়ং যিনি
খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব
আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট হয়ে
উনাকে জান্নাত থেকে এক জোড়া
লিবাস তিনি পাঠিয়ে দিয়েছেন।
সুবহানাল্লাহ! এই যে উনাদের
মর্যাদা-মর্তবা, ফযীলত, খুছূছিয়ত এটা
তো বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন এই
দান খয়রাতের ব্যাপারে উনারা
বেমেছাল ছিলেন। নূরে মুজাসসাম,
হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম
উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম
উনাদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে
বলা হয়েছে তিনি এত দান খয়রাত
করতেন, দ্রুতগ্রামী বাতাসের
চাইতেও বেশি তিনি দ্রুতগতিতে
দান খয়রাত করতেন। সুবহানাল্লাহ!
তিনি তো উনার লখতে জিগার। উনার
কলিজা মুবারক-এর টুকরা মুবারক।
কাজেই উনি তো সেভাবেই করবেন।
সুবহানাল্লাহ