মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না আর চাওয়াটা স্বাভাবিক না। তবে তোমাদেরকে যেহেতু ফায়দা হাছিল করতে হবে সেহেতু আমার নিকটজন তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত তাফসীর “তাফসীরে মাযহারী” ৮ম জিলদ ৩২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে- “আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাই না, তবে তোমরা আমার নিকটাত্মীয়, আহলে বাইত শরীফ ও বংশধরগণ উনাদের (যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক) হক্ব আদায় করবে। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ফযীলত সম্পর্কে বহু পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। ছহীহ মুসলিম শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, একদা ভোরবেলা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একখানা কালো বর্ণের পশমী নকশী চাদর মুবারক শরীর মুবারকে জড়িয়ে বের হলেন। এমন সময় হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে আসলেন, তিনি উনাকে চাদর মুবারক উনার ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আসলেন উনাকেও প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি আসলেন উনাকেও তাতে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন, উনাকেও চাদর মুবারক উনার ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই পবিত্র আয়াত শরীফখানা তিলাওয়াত করলেন, “হে আমার আহলে বাইত শরীফ! মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি আপনাদেরকে সর্বপ্রকার অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রেখে পবিত্র করার মতো পবিত্র করবেন।” অর্থাৎ আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক রয়েছে, “হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি একখানা পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করলেন যার অর্থ ‘আসো আমরা আহবান করি আমাদের সন্তানগণ উনাদেরকে ও তোমাদের সন্তানদেরকে’ তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম ও হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে ডাকলেন এবং বললেন, আয় আল্লাহ পাক! উনারা সকলে আমার আহলে বাইত শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত।” (মুসলিম শরীফ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একবার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনাদের মধ্যবর্তী “খোম” নামক পানির নালার নিকট দাঁড়িয়ে আমাদেরকে খুতবা মুবারক দান করলেন। প্রথমে মহান আল্লাহ পাক উনার হামদ ও ছানা মুবারক বর্ণনা করলেন, এরপর ওয়াজ ও নছীহত মুবারক এবং সতর্ক করলেন, অতঃপর বললেন, “সাবধান! হে লোক সকল! নিশ্চয়ই আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন। অতএব, অচিরেই আমার নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার দূত (হযরত মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম) তিনি আসবেন, তখন আমি আমার মহান রব তায়ালা উনার আহবানে সাড়া দিবো। আমি তোমাদের মাঝে দুটি মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রেখে যাচ্ছি। তন্মধ্যে প্রথমটি হলো, মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব, এর মধ্যে রয়েছে হিদায়েত ও নূর মুবারক। অতএব, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কিতাব উনাকে খুব মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং দৃঢ়তার সাথে তার বিধি-বিধান মেনে চলো।” (বর্ণনাকারী বলেন,) মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কিতাব মুবারক উনার নিদের্শাবলী দৃঢ়ভাবে মেনে চলার জন্য তিনি খুব বেশি উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করলেন। অতঃপর বললেন, “আর দ্বিতীয়টি হলো; আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমি তোমাদেরকে আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে বিশেষ নছীহত মুবারক করছি।” (মুসলিম শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত বারা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি যে, তিনি হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজের কাঁধ মুবারক অর্থাৎ উনার উপর রেখে বলছেন, আয় মহান আল্লাহ পাক! আমি উনাকে মুহব্বত করি, আপনিও উনাকে মুহব্বত করুন।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি, তিনি (বিদায়) হজ্জে পবিত্র আরাফাত উনার দিন উনার “কাসওয়া” নামক উষ্ট্রীর উপর সওয়ার অবস্থায় পবিত্র খুতবা মুবারক দান করছেন। আমি শুনেছি, তিনি পবিত্র খুতবা মুবারক উনার মধ্যে বলেন, “হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন নিয়ামত রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি তা শক্তভাবে ধরে রাখো, তবে কখনও গুমরাহ হবে না। তা হলো মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব মুবারক ও আমার পবিত্র ইতরত বা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম।” (তিরমিযী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্পর্কে বলেছেন, যারা উনাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করবে, সে যেন আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করলো। পক্ষান্তরে যে উনাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবো।” (তিরমিযী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে, “হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা দু’জনই জান্নাতী যুবক উনাদের সাইয়্যিদ।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা দু’জনেই দুনিয়াতে আমার দুটি জান্নাতী ফুলস্বরূপ।” (তিরমিযী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন, হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন (চেহারা মুবারক-আকৃতি-অবয়ব মুবারক অর্থাৎ) মাথা মুবারক হতে বক্ষ মুবারক পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদৃশ। আর হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন বক্ষ মুবারক হতে নিচ পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদৃশ।” (তিরমিযী শরীফ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো। কেননা তিনি তোমাদের প্রতি খাদ্যসামগ্রীর মাধ্যমে অনুগ্রহ করে থাকেন। আর আমাকে মুহব্বত করো মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-এ, যেহেতু আমি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব। আর আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার মুহব্বত-এ।” (তিরমিযী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। পবিত্র কা’বা শরীফ উনার দরজা মুবারক ধরে তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, সাবধান! আমার সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হলেন তোমাদের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার নৌকার ন্যায়। যে তাতে আরোহণ করবে, সে রক্ষা পাবে। আর যে তা হতে পশ্চাতে থাকবে সে ধ্বংস হবে।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ)
No comments:
Post a Comment