Thursday, March 31, 2016

উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক



মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, 
وَ لِلّٰهِ الْاَسْـمَاءُ الْـحُسْنٰـى فَادْعُوْهُ بِـهَا
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার অনেক সুন্দর সুন্দর সম্মানিত নাম মুবারক তথা লক্বব মুবারক রয়েছে, তোমরা উনাকে সেই সম্মানিত নাম মুবারক তথা লক্বব মুবারক দ্বারা আহ্বান করো।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আ’রাফ শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ১৮০) 
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন অসীম ঠিক তেমনিভাবে উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার সংখ্যাও অসীম। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার সংখ্যাও অসীম। এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সমস্ত লক্বব মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! ঠিক একইভাবে আফদ্বলুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত সম্মানিত লক্বব মুবারক রয়েছে সমস্ত সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! 

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হিজরত মুবারক


সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার প্রেক্ষাপট
দ্বিতীয় হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ-এ সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক সংঘটিত হয়। সেই সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ এক হাজার কুরাইশ অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনিও ছিলেন। বস্তুত তিনি উনার অনিচ্ছা সত্ত্বেও কুরাইশদের পিড়াপিড়ির কারণে জিহাদে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি কস্মিনকালেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে বা সম্মানিত মুসলমান উনাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য সেখানে উপস্থিত হননি। কারণ, তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় ভিতরে ভিতরে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তখনও তা প্রকাশ করেননি। যা হোক, যুদ্ধে কুরাইশরা পরাজিত হয়। তাদের ৭০ জন নিহত এবং ৭০ জন বা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক লোক বন্দি হয়। এ সকল বন্দিদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনিও ছিলেন। বন্দিদেরকে যখন সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ নিয়ে যাওয়া হলো, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নির্দেশ মুবারক দিলেন, 

সাইয়্যিদাতুনা ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শ্রেষ্ঠতম সম্মানিত বানাত আলাইহাস সালাম:


সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, 
عَنْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ خَيْرُ بَنَاتِـىْ اُصِيْبَتْ فِـىَّ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি আমার শ্রেষ্ঠ বানাত (মেয়ে)। আমাকে মুহব্বত করার কারণে উনাকে অনেক কষ্টবরণ করতে হয়েছে।” (আল মু’জামুল কাবীর ১৬/২৯০, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৫/৮০, মা’রিফাতুছ ছাহাবা লি আবী নাঈম ২২/২২২, মাজমাউয যাওয়াদি ৯/৩৪১ ইত্যাদি) 
মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:

উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার প্রেক্ষাপট:


দ্বিতীয় হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ-এ সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক সংঘটিত হয়। সেই সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ এক হাজার কুরাইশ অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনিও ছিলেন। বস্তুত তিনি উনার অনিচ্ছা সত্ত্বেও কুরাইশদের পিড়াপিড়ির কারণে জিহাদে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি কস্মিনকালেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে বা সম্মানিত মুসলমান উনাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য সেখানে উপস্থিত হননি। কারণ, তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় ভিতরে ভিতরে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তখনও তা প্রকাশ করেননি। যা হোক, যুদ্ধে কুরাইশরা পরাজিত হয়। তাদের ৭০ জন নিহত এবং ৭০ জন বা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক লোক বন্দি হয়। এ সকল বন্দিদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনিও ছিলেন। বন্দিদেরকে যখন সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ নিয়ে যাওয়া হলো, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নির্দেশ মুবারক দিলেন, 

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল মুহব্বতপূর্ণ সম্পর্ক:



সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাদের মাঝে ছিলো বেনযীর মুহব্বতপূর্ণ সম্পর্ক। উনাদের সেই সম্মানিত সম্পর্ক মুবারক উনার গভীরতা প্রকাশ পায়- যখন কুরাইশরা সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলো তখন। 
যখন কুরাইশরা অনুভব করলো যে, কোনো পরিকল্পনা করেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার দাওয়াত মুবারক থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। তখন তারা নতুন পরিকল্পনা করলো। কুরাইশরা বলে উঠলো, তোমাদের সর্বনাশ হোক! তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে নিজেদের ছেলেদের বিবাহ করিয়ে উনার দুশ্চিন্তা নিজেদের ঘাড়ে তুলে নিয়েছো। নাঊযুবিল্লাহ! তোমরা যদি উনার বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের থেকে নিজেদের ছেলেদেরকে বিচ্ছন্ন করে নাও, তাহলে তিনি উনাদেরকে নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন। নাঊযুবিল্লাহ! তাদের মধ্যে অনেকে এ কথা সমর্থন করে বললো, এ তো চমৎকার যুক্তি। নাঊযুবিল্লাহ! তারা দল বেঁধে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার নিকট গিয়ে বললো, “আপনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং উনাকে উনার পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পৌঁছে দিন। উনার পরিবর্তে আপনি আপনার পছন্দমত কুরাইশদের যে কোনো সুন্দরী নারীকে বিবাহ করতে পারবেন।”

উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আযীমুশ শান শাদী মুবারক-এ সম্মানিত হাদিয়া মুবারক:

মহাসম্মানিত আযীমুশ শান শাদী মুবারক-এ সম্মানিত হাদিয়া মুবারক:
আযীমুশ শান শাদী মুবারক-এ সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সম্মানিতা মাতা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের পক্ষ থেকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে যে সকল সম্মানিত হাদিয়া মুবারক দেয়া হয়েছিলো, সে সকল সম্মানিত হাদিয়া মুবারক উনাদের মধ্যে ইয়ামেনের প্রসিদ্ধ আকীক পাথরের একখানা হার মুবারকও ছিলো। এই সম্মানিত হার মুবারকখানা হাদিয়া মুবারক করা হয়েছিলো উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পক্ষ থেকে। সুবহানাল্লাহ!

উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُـمْ تَطْهِيْرًا.
অর্থ: “হে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ৩৩) 
এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত আযীমুশ শান শাদী মুবারক:

উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ



সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম উনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের প্রায় ১১ বছর পূর্বে ২১শে জুমাদাল উখরা শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ বা’দ ফজর মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক অনুযায়ী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ২৯ বৎসর পার হয়ে ৩০ বৎসর চলতে ছিলেন। আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিলেন ৪৪ বছর। সুবহানাল্লাহ!
স্মরণীয় যে, দুনিয়ার কোনো কিতাবে উপরোক্ত বর্ণনাটি উল্লেখ নেই; বরং এটা মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার একখানা অভূতপূর্ব বেমেছাল সম্মানিত তাজদীদ মুবারক, যা উনার বেমেছাল শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ। সুবহানাল্লাহ! এর মাধ্যমেই প্রতিভাত হয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার কত বেমেছাল আখাচ্ছুল খাছ তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! 

উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আবনা তথা ছেলে আওলাদ আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিতা বানাত তথা মেয়ে আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন মোট আট (৮) জন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার ধারাবাহিকক্রমে উনাদের সম্মানিত নাম মুবারক হচ্ছেন, 

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক


মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্রতা সম্পর্কে যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُمْ تَطْهِيْرًا.
অর্থ: “হে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৩৩) 
এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে উল্লেখ রয়েছে,
هُمْ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنَ السُّوْءِ وَاخْتَصَّهُمْ بِرَحْمَتِهٖ

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত ও বুযূর্গী-সম্মান মুবারক


সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত ‘আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ তথা নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন, ‘সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন’ তথা সারা কায়িনাতে যত মহিলা রয়েছেন উনাদের প্রতেক্যের সাইয়্যিদাহ। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন ‘সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ’ তথা জান্নাতবাসী সমস্ত মহিলাগণ উনাদের সাইয়্যিদাহ। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন ‘বিদ্ব‘আতুম মির রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জিসম মুবারক উনার সম্মানিত গোশত মুবারক উনার একখানা টুকরো মুবারক, লখতে জিগার মুবারক। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছে ঈমান। সুবহানাল্লাহ! উনার শান মুবারক-এ স¦য়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে ইরশাদ মুবারক করেছেন,

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার জন্য রয়েছে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ বিশেষ ব্যবস্থা মুবারক


‘নুযহাতুল মাজালিস’-এ বর্ণিত রয়েছে,
قال الكسائي وغيره لما خلق الله آدم خلق من ضلعه الأيسر حواء وهو في الجنة وأودعها حسن سبعين حوراء فصارت حواء بين الحور العين كالقمر بين الكواكب وكان آدم نائما فلما استيقظ مد يده إليها فقيل له حتى تؤدي مهرها قال وما هو قال أن تصلي على محمد ثلاث مرات وقيل حتى تعلمها معالم دينها وكان آدم عليه السلام أودعه الله من الحسن والكمال حتى أن خده الأيمن يغلب شعاع الشمس وكان نور محمد صلى الله عليه وسلم في خده الأيسر يغلب على القمر وكان يوسف عليه السلام فيه فلما نظر آدم في وجه حواء نظرت حواء في وجه آدم قال يا حواء ما أرى أن الله تعالى خلق خلقا أحسن منك ومني فأوحى الله تعالى إلى جبريل خذ بيد حواء وآدم إلى الفردوس الأعلى وافتح لهما قصرا من القصور ففتح باب قصر من الياقوت الأحمر فيه قُبَّة مِنَ الْكَافُوْرِ على قوائمه الزبرجد في روضة من زعفران ففتح جبريل باب القبة فرأى سريرا من الذهب قوائمه من الدر عليه جارية لها نور وشعاع على رأسها تاج من ذهب مُرَصَّع بالجواهر لم ير آدم أحسن منه عليه صورة جميلة قال آدم يا رب من هذه الصورة قال فاطمة بنت نبي محمد صلى الله عليه وسلم قال يا رب من يكون بعلها فقال الله تعالى يا جبريل إفتح باب قصر من ياقوت ففتح له فرأى فيه قبة من الكافور فيها سرير من ذهب عليه شاب حُسْنُهٗ كَحُسْنِ يُوْسُفَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فقال هذا بعلها علي بن أبي طالب فقال يا رب هل لهم أولاد فأمر الله تعالى جبريل عليه السلام أن يفتح باب قصر من اللؤلؤ ففتح باب قصر من اللؤلؤ فيه قبة من الزبرجد فيها سرير من العنبر عليه صورة الحسن والحسين رضي الله عنهما فرجع آدم إلى موضعه

হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাওয়ানেহে উমরী মুবারক এবং বেমেছাল ফাযায়িল-

এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, 
عَنْ حَضْرَتْ عَلِـىِّ بْنِ اَبِـىْ طَالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَدِّبُوْا اَوْلَادَكُمْ عَلـٰى ثَلَاثِ خِصَالٍ حُبِّ نَـبِـيِّكُمْ وَحُبِّ اَهْلِ بَيْتِهٖ وَقِرَاءَةِ الْقُرْاٰنِ
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে তিনটি বিষয়ে যথাযথ শিক্ষা প্রদান করোÑ ১. তোমাদের যিনি নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারক, ২. উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত মুহব্বত মুবারক এবং ৩. সম্মানিত কুরআন শরীফ তিলাওয়াত।” সুবহানাল্লাহ! (আল জামিউছ ছগীর ফী হাদীছিল বাশীর ওয়ান নাযীর লিস সুয়ূত্বী ১/২২, আল ফাতহুল কাবীর লিস সুয়ূত্বী ১/৫৭, জামিউল আহাদীছ লিস সুয়ূত্বী ২/৮৯, দায়লামী শরীফ, কাশফুল খফা লিল ‘আজূলানী ১/৮৫ ইত্যাদি)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক এবং বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
قُلْ لَّااَسْاَلُكُمْ عَلَيْهِ اَجْرًا اِلَّا الْمَوَدَّةَ فِى الْقُرْبـٰى وَمَنْ يَّقْتَرِفْ حَسَنَةً نَّزِدْ لَهٗ فِيْهَا حُسْنًا اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ شَكُوْرٌ.
অর্থ: “(হে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সমস্ত বান্দাদেরকে, উম্মতদেরকে, তামাম কায়িনাতবাসীকে) বলে দিন যে, তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় বা প্রতিদান চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। বরং তোমাদের জন্য এটা চিন্তা করাটাও কাট্টা কুফরী হবে। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করতে চাও, তাহলে তোমাদের জন্য ফরয হচ্ছে আমার নিকটাত্মীয় তথা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা শূরা শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ২৩)

সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম’


সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ ام المؤمنين حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ زَوِّجَ كَرِيـْمَتَيَّ مِنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَحَضْرَتْ أُمَّ كُلْثُوْمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ 
“উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করেছেন, আমি যেন আমার সম্মানিতা দুই আওলাদ আলাইহিমাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাদের সম্মানিত শাদী মুবারক হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সুসম্পন্ন করি।” সুবহানাল্লাহ! (মা’রিফাতুছ ছাহাবা-লিআবী নাঈম ২২/২২৪)

সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম উনার সাথে কারো তুলনা করা যাবে না



মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اَللهُ الصَّمَدُ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা ইখলাছ শরীফ, সম্মানিত আয়াত শরীফ ২) 
ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালিনা ইলাল আখিরীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মাখলূকাত থেকে, সমস্ত কিছু থেকে ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত মাখলূকাত থেকে, সমস্ত কিছু থেকে ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)। সুবহানাল্লাহ! আর মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ব্যতীত সমস্ত কায়িনাত থেকে, সমস্ত কিছু থেকে ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী)।” সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

Tuesday, March 29, 2016

হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার স্বামির খিদমতে নছীহত

১. স্বামীর আগে ভোরে বিছানা ত্যাগ করবে।
২.স্বামীর খিদমত করে জান্নাত হাছিল করবে।
৩.স্বামীর খিদমতে নিজেকে ফানা করে দেবে।
৪. কখনো স্বামীর অবাধ্য হবে না।
৫. কোনো কাজে স্বামীর সাথে তর্ক করবে না।
৬. স্বামীর সাধ্যের বাইরে কোনো কিছু তার নিকট চাইবে না।
৭. অযথা আবদার করে স্বামীকে লজ্জা দেবে না।
৮. স্বামীর দোষ তালাশ করবে না।
৯. স্বামীর মনে কষ্ট পায় এমন কাজ করবে না।
১০. স্বামীর সামনে নম্র ও কোমল ভাষায় কথা বলবে।
১১.  সদা স্বামীর সাথে হাসিমুখে কথা বলবে।
১২. স্বামীর দুঃখ-কষ্টের ভাগী হবে।
১৩. স্বামীর আওয়াজের চেয়ে বড় আওয়াজ দিয়ে কথা বলবে না।  
১৪. স্বামী ডাকা মাত্রই তার ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির হবে।
১৫. স্বামীকে সর্বদা খুশি রাখতে চেষ্টা করবে।
১৬. স্বামীর ঘরে কখনো জিদ ও হঠকারিতা করবে না।
১৭. স্বামী ব্যতীত অন্য কারো সাথে হাসিমুখে কথা বলবে না।
১৮. স্বামীর কোনো জিনিসপত্রে কখনো অসন্তুষ্ট হবে না।
১৯. স্বামীর সকল নিকটাত্মীয়ের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে।
২০. স্বামীর বিনা অনুমতিতে কাউকে কিছু খাওয়াবে না।
২১. স্বামীর সাথে কর্কশ ভাষা ব্যবহার করবে না।
২২. স্বামীর মন সন্তুষ্টির জন্য তার ইচ্ছানুযায়ী বেশ-ভুষা করবে এবং সেজে-গুজে চলবে। 

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বিছাল শরীফ উনার পূর্বে গোসল সংক্রান্ত ওছিয়ত মুবারক


খাতুনে জান্নাত হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে ওছিয়ত করেন যে, আমাকে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম এবং আপনি মিলে গোসল দিবেন এবং আমার জানাযার ব্যাপারে কাউকে আহ্বান করবেন না। তবাকাতে ইবনে সা’দ ও অন্যান্য কিতাবের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মু সালামা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেছেন যে, খাতুনে জান্নাত হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ঘরে ছিলেন না। তিনি আমাকে বললেন, আম্মাজান! আমাকে গোসল করিয়ে দিন। আমি পানি ঢেলে দিলাম। তিনি ভালোভাবে গোসল করলেন। আর আমাকে নতুন কাপড়ের জন্য বললেন, আমি উনাকে নতুন কাপড় পরিয়ে দিলাম এবং হুজরা শরীফ উনার মধ্যে বিছানা তৈরি করার জন্য বললে আমি হুজরা শরীফ উনার মধ্যে চার পায়ের উপর বিছানা বিছিয়ে দিলাম এবং তিনি হুজরা শরীফ উনার মধ্যে পায়ের উপরে শুয়ে গেলেন এবং আমাকে বললেন, আম্মাজান! আমি গোসল সেরে নিয়েছি, আমার বিছাল শরীফ উনার পর যাতে কেউ গোসল না দেয়। এ কথা মুবারকের পর উনার বিছাল শরীফ হয়ে যায়। এরপর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তাশরীফ নিলেন। ঘটনা শুনলেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন যে, উনার গোসল হয়েছে আর গোসল দেয়ার প্রয়োজন নেই। (তবাকাতে ইবনে সা’দ ৮ম খণ্ড)

শানে উম্মু আবিহা, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম


বিলাদত শরীফ :
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ২০শে জুমাদাল উখরা জুমুয়ার দিন ছুবহি ছাদিকের সময় যমীনে আগমন করেন অর্থাৎ বিলাদত শরীফ লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ! 
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী জিন্দেগীতে বয়স মুবারক যখন ৩৭ বছর সে সময় সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যমীনে আগমন করেন।
উনার বিলাদত শরীফ-এর সময় উনার যিনি মাতা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই বলেন, উনার সন্তান সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন যমীনে আসবেন তার পূর্বেই অনেককে সংবাদ দেয়া হয়েছিল খিদমতের জন্য। কিন্তু এখন যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি মহান রব আল্লাহ পাক তিনি উনার কুদরতী ফায়ছালা কোনো মহিলাই খিদমতের জন্য আসেননি। তিনি একটু চিন্তিত হলেন কী ফায়ছালা হবে? হঠাৎ করে তিনি দেখতে পেলেন চারজন মহিলা উনার হুজরা শরীফ-এ তাশরীফ নিয়েছেন। হুজরা শরীফটা সবসময় তো নূরানী তারপরেও সেটা মনে হচ্ছে উনাদের নূর মুবারক-এর কারণে আরো বেশি আলোকিত হয়ে গেলো। তিনি উনাদেরকে লক্ষ্য করলেন এই মহিলারা কারা? তিনি পরক্ষণে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কারা? এখানে কী কারণে এসেছেন? উনারা বললেন, আমরা এসেছি খিদমতের জন্য। সুবহানাল্লাহ!

হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে হযরত আলী কাররমাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার শাদী মুবারক দেয়ার জন্য স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নির্দেশ মুবারক করেছেন:


عن حضرت عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الله تعالى امرنى ان ازوج حضرت فاطمة عليها السلام من حضرت على عليه السلام
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে ওহী মুবারক করেছেন, আমি যেন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারকে হযরত কাররমাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সাথে বিবাহ বা নিকাহ মুবারক দিয়ে দেই।” (মুজামুল কবির, তাবরানী, ১০/১৫৬, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, হায়সামী, ৯/২০৪, আল কাশফুল হাদীছ, হালাবী, ১/১৭৪, কানযুল উম্মাল, ১৩/৩৮১, আল বয়ান ওয়াত তা’রীফ, ১/১৭৪)

হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি চাল-চলন, আচার-আচরণ, কথাবার্তায় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বাধিক সদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন


عن ام المؤمنين حضرت عائشة عليها السلام قالت ما رايت احدا اشبه سمتا ودلا وهديا برسول الله صلى الله عليه وسلم فى قيامها وقعودها من حضرت فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক চাল-চলন, আচার-আচরণ, কথা-বার্তা, স্বভাব-চরিত্র, কাজ-কর্ম, উঠা-বসায় হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার চেয়ে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ আর কাউকে দেখেনি। অর্থাৎ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিই ছিলেন সর্বাধিক সদৃশ্যপূর্ণ।”
অপর বর্ণায় রয়েছে-
ما رايت احدا من الناس كان اشبه بالنبى صلى الله عليه وسلم كلاما ولا حديثا ولا جلسة من حضرت فاطمة الزهراء عليها السلام
অর্থ: “হযরত উম্মুল মু’মিনীন ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি মানুষের মধ্যে আর কাউকে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার চেয়ে কথাবার্তায়, বর্ণনা ভঙ্গি ও উঠা-বসায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে অধিক সাদৃশ্য পূর্ণ দেখিনি।” (তিরমিযী শরীফ, ৫/৭০০, আবু দাউদ শরীফ, ৪/৩৫৫, ফাদায়িলুস সাহাবা, ৭৭, আল মুস্তাদরাক হাকিম, ৪/৩০৩, সুনানুল কুবরা, বাইহাকী, ৫/৯৬, তবাকাতুল কুবরা ইবনে সাআদ, ২/২৪৮, সিফাতুস সাফওয়া, ২/৬-৭, আদাবুল মুফরাদ, ৩২৬ পৃ:)

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সর্বাধিক মুহব্বত করতেন


عن حضرت جمير بن عمير التيمى رضى الله تعالى عنه قال دخلت مع عمتى على حضرت عائشة عليها السلام فسئلت اى الناس كان احب الى رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قالت حضرت فاطمة عليها السلام. فقيل من الرجال؟ قالت زوجها ان كان ما علمت صواما قواما.
অর্থ: “হযরত জুমাই ইবনে উমাইর আত তাইমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি আমার ফুফুর সাথে হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার দরবার শরীফে হাজির হলাম। উনার মহান খিদমতে আরজ করলাম- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাকে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত করতেন?
হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম। অতঃপর জিজ্ঞাসিত হলেন- পুরুষগণের মধ্যে কে? তিনি বললেন, উনারই স্বামী হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম। আমার জানা মতে তিনি অধিক পরিমাণে রোযা রাখতেন এবং রাত্রি জাগরণকারী ছিলেন।” (তিরমিযী শরীফ, ৫/৭০১, আল মুজামুল কবীর- তাবারানী, ২২/৪০৩-৪০৪, আল মুস্তাদরাকে হাকিম, ৩/১৭১, যখায়িরুল উৎবা ফি মানাকিবিল যাবিল বাররা, ৭৭, উসুদুল গাবাহ ফি মারিফাতিল সাহাবা, ৭/২১৯, সিয়ারু আলামীন নুবাযা, যাহাবী- ২/১২৫, তাহযীবুল কামাল- মুযী, ৪/৫১২, দুররস সাহাবা ফি মানাকিবিল কারাবাহ, ২৭৩)

হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারক


عن حضرت المسور بن مخرمة رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال حضرت فاطمة عليها السلام بضعة منى فمن اغضبها اغضبنى.
অর্থ: “হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি আমার শরীর মুবারক উনার টুকরা মুবারক। কাজেই যে ব্যক্তি উনাকে অসন্তুষ্ট করলো সে যেন আমাকেই অসন্তুষ্ট করলো।” (বুখারী শরীফ-৩/১৩৬১, মুসলিম শরীফ- ৪/১৯০৩, আল মুসান্নাফ -ইবনে আবি শাইবা-৬/৩৮৮, আল মুসনাদ - আবু আওয়ানা- ৩/৭০, আল আহাদ ওয়াল মাসালী- ইমাম শায়বানী-৫/৩৬১, আল মু’জামুল কবীর অবারানী-২২/৪০৪, আল মুস্তাদরাক- হাকিম-৩/১৭২, আস সুনানুল কুবরা ইমাম বায়হাকী-১০/২০১, আল ফিরদাউস বিমা’সুরিল খিতাব দায়লামী-৩/১৪৫, সিফাতুস সাফওয়া -ইবনি যাওজি-২/৭, যখারিরুল উকবা ফি মানাকিবি যাবিল কুরবা-৮০, আল ইসাবা ফিতমায়িযিস সাহাবা- ৮/৫৬, আল বয়ানওয়াত তাবিফ-১/২৭০।)

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার এবং উনার সন্তান-সন্ততিগণের জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম:


عن حضرت ابن عباس رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لفاطمة عليها السلام ان الله غير معذبك ولا ولدك.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে এবং আপনার সন্তানগণকে কোনো প্রকার শাস্তি দিবেন না।” (আল মুজামুল কবীর - তাবারানী- ১১/২১০, মাজমাউয যাওয়ায়িদ - হাযসামী- ৯/২০২, আল মুসনাদ- বাযযার - ৫/২২৩, আল মুস্তাদরিক - হাকিম - ৩/১৬৫, হিলয়াতুল আউলিয়া - আবু নাঈম -৪/১৮৮)

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সন্তানদ্বয় সম্মানিত জান্নাতী যুবকগণের সাইয়্যিদ:

عن حضرت حذيفة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان هذا ملك لم ينزل الارض قط قبل هذه الليلة استأذن ربه ان يسلم على ويبشرنى بان حضرت فاطمة عليها السلام سيدة نساء اهل الجنة وان الحسن والحسين عليهما السلام سيدا شباب اهل الجنة.
অর্থ: “হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একজন ফেরেশতা এমন রয়েছেন যিনি এই রাতের পূর্বে কখনো পৃথিবীতে অবতরণ করেননি। তিনি মহান রব আল্লাহ পাক উনার নিকট আমার খিদমতে আসার অনুমতি প্রার্থনা করলেন। আর এই সুসংবাদ জ্ঞাপন করলেন যে, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত জান্নাতী মহিলাদের সাইয়্যিদা এবং হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা জান্নাতী যুবকগণের সাইয়্যিদ।” (তিরমিযী শরীফ-৫/৬৫০, সুনানুল কুবরা - নাছায়ী-৫/৮০, আল মুসনাদ - আহমদ ইবনে হাম্বল-৫/৩৯১, আল মুসান্নাফ- ইবনে আবিশায়বা - ৬/৩৮৮, আল মুস্তাদরাক- হাকিম = ৩/১৬৪, আল মুহামুল কবির-তাবারানী -২২/৪০২, আল ইতিকাদ- বায়হাকী=৩২৮, হিলয়াতুল আউলিয়া- আবু নাঈম ৪/১৯০, নুবালা-যাহাবী=৩/১২৩)



সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সকল মহিলাদের সাইয়্যিদা

عن ام المؤمنين حضرت عائشة عليها السلام ان النبى صلى الله عليه وسلم قال وهو فى مرضه الذى توفى فيه. يا حضرت فاطمة عليها السلام الا ترضين ان تكونى سيدة نساء العالـمين وسيدة نساء هذه الامة وسيدة نساء الـمؤمنين؟
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শেষ শয্যা মুবারকে বললেন, হে হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম! আপনি কি এতে সন্তুষ্ট নন যে, আপনি গোটা বিশ্বের সকল মহিলাদের ও আমার এই উম্মতের মহিলাদের এবং সকল মু’মিনাদের সাইয়্যিদা?”
(আল মুস্তাদরিক হাকিম- ৩/১৭০, আস সুনানুল কুবরা ইমাম নাসায়ী- ৪/২৫১, তাবাকাতুল কুবরা- ইবনে সা’দ- ২/২৪৭-২৪৮, উছুদুল গাবাহ ফি মা’রিফাতুস সাহাবা- ইবনে আসির- ৭/২১৮)
عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان ملكا من السماء لم يكن زارنى فاستأذن الله فى زيارتى فبشرنى او اخبرنى ان حضرت فاطمة عليها السلام سيدة نساء امتى.
অর্থ: “হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আসমানের জনৈক ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি আমার সাক্ষাৎ লাভ করতে পারেননি। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আবেদন করলেন। তিনি সাক্ষাৎ লাভের অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে আমার সাক্ষাত লাভ করলেন। তিনি আমাকে সুসংবাদ দিলেন কিংবা সংবাদ জানালেন যে, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন আমার উম্মতের মহিলাদের সাইয়্যিদা।” (মুজামল কবির-তাগবানী-২২/৪০৩, তারিখুল কবির - বুখারী- ১/২৩২, মাজমাউয যাওয়ায়িদ -হাযসামী-৯/২০১, সিয়ারু আলামিন নুবাবসা- যাহাবী-২/১২৭, তাহযীবুল কামাল-মুজি- ২৬/৩৯১)

উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন কাওছার তথা খইরে কাছীর।



মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
انا اعطيناك الكوثر. فصل لريك وانحر. ان شانئك هو الابتر.
অর্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওছার হাদিয়া করেছি। অতএব, আপনি আপনার রব তায়ালা উনার উদ্দেশ্যে নামায আদায় করুন এবং কুরবানী করুন। নিশ্চয়ই আপনার শত্রুরাই নির্বংশ।” (পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ)
হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি আহলে বাইত উনাদের মধ্যমণি:
عن حضرت انس بن مالك رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يمر بباب حضرت فاطمة عليها السلام ستة اشهر اذا خرج الى صلاة الفجر يقول الصلاة يا اهل البيت "انما يريد الله ليذهب عنكم ا لرجس اهل البيت ويطهركم تطهيرا" (الاحزاب ৩৩)

উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ওছীয়ত মুবারক মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য মহান নছীহত


উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পূর্বে হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বিনতে আমিস উনাকে ডেকে বলেছিলেন: “আমার পবিত্র জানাযা মুবারক নেয়ার সময় এবং দাফন মুবারক করার সময় পর্দার পুরো ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং আপনি ও আমার স্বামী ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে গোসলের ব্যাপারে সাহায্য নেয়া যাবে না। হাবশায় পবিত্র জানাযা মুবারক উনার উপর গাছের ডাল বেঁধে ঢাল আকৃতির বানানো হয় এবং তার উপর পর্দা দিয়ে দেয়া হয়। অতঃপর তিনি খেজুরের কয়েকটি ডাল আনালেন এবং তা জোড়া দিলেন। অতঃপর তার উপর কাপড় টাঙিয়ে সাইয়্যিদা আলাইহাস সালাম উনাকে দেখালেন। তিনি তা পছন্দ করলেন। বস্তুত পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পর উনার পবিত্র জানাযা মুবারক ওইভাবেই উঠানো হলো। জানা যায়, খুব কম সংখ্যক লোকেরই অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছিলো। সাইয়্যিদা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ আছরের পরে হয়েছিলো এবং ওছীয়ত মুবারক অনুযায়ী হযরত আলী কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি রাতেই দাফন মুবারক সম্পন্ন করেছিলেন।
বর্ণিত আছে, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার সংবাদ কাউকেও জানতে দেননি। তিনি নিজেই উনার গোসল মুবারক করান এবং পবিত্র জানাযা মুবারক উনার নামায পড়ান। হযরত সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র রওজা শরীফ জান্নাতুল বাক্বী উনার মধ্যে। এখন চিন্তা ও ফিকিরের বিষয় হলো- হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ পূর্বকালীন ওছীয়ত মুবারক ও গোসল মুবারক, কাফন মুবারক-দাফন মুবারক সম্পর্কীয় ইত্যাকার বিষয়াদি উনার বেমেছাল এবং ওয়ারাউল ওয়ারা খাছ পর্দার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। অতএব, সারা দুনিয়ার মুসলিম মহিলা-পুরুষের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, যার যার ক্ষেত্রে খাছ শরঈ পর্দা বজায় রেখে চলা। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সে তাওফীক দান করুন। আমীন।

বিনতু রসূলিল্লাহ, শাবীহাতু রসূলিল্লাহ, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার একটি উপাধি মুবারক হচ্ছে ‘সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন’



সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন তথা জগতের সকল নারীদের যিনি সাইয়্যিদা, প্রধান, শ্রেষ্ঠ, মালিক, সর্বাধিক মর্যাদা সম্পন্ন ইত্যাদি।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সুপরিচিত কিতাব ‘হাকিম শরীফ’ ও ‘আহমদ শরীফ’ এ বর্ণিত রয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, জান্নাতের অধিবাসিনী মহিলাদের সাইয়্যিদা হলেন চারজন। (১) উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম, (২) উম্মুল ইমামাইনিল হুমামাইন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম। (৩) হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম (৪) হযরত আছিয়াহ আলাইহাস সালাম।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার আমলে সন্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করেন


একবার সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি কোনো কারণে লাগাতার তিন দিন রোযা রাখলেন। অতঃপর প্রথম দিন ইফতারী করার জন্য বন্দোবস্ত করলেন। ইফতার করবেন ঠিক সেই মুহূর্ত একজন মিসকীন উনার বাড়ির দরজায় এসে হাঁক দিয়ে বললো, আমাকে দয়া করে কিছু খাদ্য দান করুন, আমি কয়েকদিন থেকে ক্ষুধার্ত। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ইফতারীর জন্য যা ব্যবস্থা করেছিলেন তা সবই সেই মিসকীনকে দান করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
আবার দ্বিতীয় দিন রোযা রাখলেন। অতঃপর সেদিনও ইফতারীর ব্যবস্থা করলেন ইফতার করার জন্য। কিন্তু দেখা গেল ইফতারীর পূর্ব মূহূর্তে একজন ইয়াতীম এসে দরজায় হাঁক দিয়ে বললো, আমি কয়েকদিন ধরে না খেয়ে আছি। দয়া করে আমাকে কিছু খাদ্য দান করুন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ইফতারীর জন্য যা ব্যবস্থা করেছিলেন তা আগন্তুক ইয়াতীমকে দান করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
এরপর তৃতীয় দিন রোযা রাখলেন এবং সেদিনও ইফতারীর ব্যবস্থা করলেন। অতঃপর যখন ইফতার করবেন ঠিক সেই মুহূর্তে একজন বন্দি এসে দরজায় হাঁক দিয়ে বললো, আমি কয়েকদিন ধরে না খাওয়া, দয়া করে আমাকে কিছু খাদ্য দান করুন। এটা শুনে হযরত সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ আলাইহাস সালাম তিনি ইফতারীর জন্য যা ব্যবস্থা করেছিলেন তা সেই বন্দিকে দান করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
উনার এই আমলে সন্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি আয়াত শরীফ নাযিল করে দিলেন যে, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম এবং আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত ও সন্তুষ্টি হাছিলের উদ্দেশ্যে মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দিদেরকে দান করেন এবং এ বিষয়ে উনাদের বক্তব্য হলো, আমরা যে তোমাদেরকে খাদ্য দান করলাম এর কোনো বদলা কিংবা এজন্য তোমরা আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো তার কোনটাই আমরা কামনা করি না। সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ উনারা উক্ত নেক কাজ শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত ও সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই করেছেন তাই প্রকাশ করা হলো। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ছিফতী নাম মুবারক ও কিছু কথা


আরবী মাসসমূহের ষষ্ঠ মাস হচ্ছে “জুমাদাল উখরা।” ‘জুমাদা’ শব্দটি মুয়ান্নাছ (স্ত্রী লিঙ্গ) তার অর্থ ‘জমাট পানি’ বা ‘বরফ।’ সে হিসেবে তার পরে “উখরা” শব্দটিও ‘আখির’ শব্দ থেকে মুয়ান্নাছ এবং উনার অর্থ শেষ।
বিশুদ্ধ মতে, আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের প্রায় তিন বৎসর পূর্বে ২০শে জুমাদাল উখরা তারিখ মুসলিম জাহানের শিরোমণি খাতূনে জান্নাত সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন। তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বকনিষ্ঠা বানাত ছিলেন। উনার সম্মানিতা মাতা হলেন ত্বইয়িবা, ত্বাহিরা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম।

হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সুমহান পবিত্রতম বাণী মুবারক


মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, একদিন আমরা অনেক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বসেছিলাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে দরবার শরীফ-এ অর্থাৎ দরবারে নববী শরীফ-এ।

তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন- ‘মেয়েদের জন্য কোন আমলটা সবচেয়ে উত্তম?’ হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ‘সকলেই চুপ থাকলেন।’ হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ‘আমি আস্তে করে পিছন থেকে উঠে বাড়িতে চলে আসলাম। এসে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছেন, মেয়েদের জন্য কোন আমলটা সবচাইতে উত্তম? সকলেই চুপ করে বসে রয়েছেন? এখন আপনি দয়া করে আমাকে কি সেটা বলবেন? সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, মেয়েদের জন্য সবচাইতে উত্তম আমল হচ্ছে যে, “কোনো বেগানা পুরুষ সে মহিলাকে দেখবে না এবং সে মহিলা কোনো বেগানা পুরুষকে দেখবে না।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম


মহান আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ঘোষিত, মনোনীত লক্বব মুবারক হচ্ছে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা- যা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক শানে ভূষিত করেছেন।
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত হুযাইফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন-
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان هذا ملك لـم ينـزل الارض قط قبل هذا الليلة استأذن ربه ان يسلم على ويـبشرنى بان حضرت فاطمة عليها السلام سيدة نساء اهل الجنة.
অর্থ: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একজন হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম যিনি অত্র রাতের পূর্বে কখনো যমীনে অবতরণ করেননি। তিনি নিজের রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আমাকে সালাম করতে এবং সুসংবাদ প্রদান করতে অনুমতি প্রার্থনা করলেন যে, হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম তিনি জান্নাতী সকল মহিলাগণের সাইয়্যিদাহ। (তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, আহমদ শরীফ, আল মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, মুসতাদরাক, হিলয়াতুল আউলিয়া, সিয়ারু আলামিন নুবালা)

উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক


আফদ্বলুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার, মহাসম্মানিতা বানাত (মেয়ে)। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা হযরত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে তিনি হচ্ছেন ‘রাবিয়াহ তথা চতুর্থ।’ সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন ঈমান। নিম্নে এক নজরে উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক তুলে ধরা হলো,
সম্মানিত নাম মুবারক: সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ আলাইহাস সালাম। 

সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার হুলিয়া বা অবয়ব মুবারক:


সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ নকশা মুবারক ছিলেন। উনার পবিত্র জিসিম মুবারকের গঠন মুবারক, কথা মুবারক, চলন মুবারক, কন্ঠস্বর মুবারকসহ সার্বিকভাবেই তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুরূপ। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عائشة عليها السلام قالت ما رايت احدا اشبه سمتا و دلا و هديا برسول الله صلى الله عليه وسلم فى قيامها و قعودها من فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه و سلم.
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাল-চলন মুবারক, স্বভাব-চরিত্র মুবারক, কাজ-কর্ম মুবারক এবং মুবারক উঠা-বসাতে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ দেখিনি। (তিরমিযী শরীফ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عائشة عليها السلام قالت ما رايت احدا من الناس كان اشبه بالنيى صلى الله عليه وسلم كلاما و لاحديثا ولاجلسة من فاطمة عليها السلام.
অর্থ:- উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বচনভঙ্গি মুবারক ও উপবেশন মুবারকে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে আমি অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ দেখিনি। (আল মু’জাম আল আওসাত)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল বুযুর্গী মুবারক


বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী ৩৭ বছর বয়স মুবারকে এবং উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের প্রায় তিন বৎসর পূর্বে ২০শে জুমাদাল উখরা তারিখে জুমুআবার দিন ছুবহি ছাদিকের সময় তিনি যমীনে আগমন করেন। উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশকালে উনার সম্মানিতা আম্মা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার কাছে কোনো মহিলাই উপস্থিত ছিলেন না- যিনি উনার খিদমতের আঞ্জাম দিবেন। ফলে তিনি কিছুটা চিন্তিত হতে না হতেই হঠাৎ উনার হুজরা শরীফ-এ চারজন মহিলার উপস্থিতি লক্ষ্য করলেন। উক্ত মহিলাদের আগমনে নূরানী ঘর আরো নূরানী বা আলোকিত হয়ে গেলো। তিনি উনাদের পরিচয় জিজ্ঞেস করে জানলেন উনারা হলেন- উম্মুল বাশার হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম, হযরত আছিয়াহ আলাইহাস সালাম, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার বোন হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম এবং হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক বিলাদতী শান প্রকাশের প্রেক্ষাপট


সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নিদর্শনস্বরূপ। একথা সুস্পষ্ট যে, মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত অজুদ মুবারক যাহির হওয়ার পূর্বে দুনিয়ার যমীনকে বিশেষভাবে সুসজ্জিত করা হয়। আর তারই ধারাবাহিকতায় সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মুবারক বিলাদতী শান প্রকাশের পূর্বে আরবভূমিকে বিশেষভাবে সুসজ্জিত করা হয়েছে। 
মুহতারামা আম্মাজান:
এ বিষয়ে সকল হযরত উলামায়ে কিরাম একমত যে, হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সকলেই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি চতুর্থতম। আর হযরত আওলাদু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদুতান নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সপ্তম।
পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সাইয়্যিদাতুন নিসা লক্বব মুবারক


হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সকলেই সাইয়্যিদাতুন নিসা। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উনাদের সকলকে এই লক্বব মুবারকে ভূষিত করা হয়েছে। অনুরূপভাবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক শানে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عائشة عليها السلام ان النبى صلى الله عليه وسلام قال وهو فى مرضه الذى توفى فيه يا فاطهة عليها السلام الا ترضين ان تكونى سيدة نساء العالـمين وسيده نساء هذه الامة وسيدة نساء الـمؤمنين.
অর্থ:- “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্বোধন করে ইরশাদ মুবারক করলেন যে, আপনি কি সন্তুষ্ট নন। আপনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন তথা সারা কায়িনাতের মহিলাদের সাইয়্যিদাহ। আপনি এই উম্মতের মহিলাদের সাইয়্যিদাহ। আপনি মু’মিন মহিলাদের সাইয়্যিদাহ।” সুবহানাল্লাহ! (আল মুসতাদারাক)

সৃষ্টির সূচনাতেই সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল অনন্য খুছূছিয়াত মুবারক আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উম্মুল বাশার সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম তিনি অবলোকন করেন



এই সম্পর্কে ‘নুযহাতুল মাজালিস’-এ বর্ণিত রয়েছে,
قال الكسائي وغيره لما خلق الله آدم خلق من ضلعه الأيسر حواء وهو في الجنة وأودعها حسن سبعين حوراء فصارت حواء بين الحور العين كالقمر بين الكواكب وكان آدم نائما فلما استيقظ مد يده إليها فقيل له حتى تؤدي مهرها قال وما هو قال أن تصلي على محمد ثلاث مرات وقيل حتى تعلمها معالم دينها وكان آدم عليه السلام أودعه الله من الحسن والكمال حتى أن خده الأيمن يغلب شعاع الشمس وكان نور محمد صلى الله عليه وسلم في خده الأيسر يغلب على القمر وكان يوسف عليه السلام فيه فلما نظر آدم في وجه حواء نظرت حواء في وجه آدم قال يا حواء ما أرى أن الله تعالى خلق خلقا أحسن منك ومني فأوحى الله تعالى إلى جبريل خذ بيد حواء وآدم إلى الفردوس الأعلى وافتح لهما قصرا من القصور ففتح باب قصر من الياقوت الأحمر فيه قُبَّة مِنَ الْكَافُوْرِ على قوائمه الزبرجد في روضة من زعفران ففتح جبريل باب القبة فرأى سريرا من الذهب قوائمه من الدر عليه جارية لها نور وشعاع على رأسها تاج من ذهب مُرَصَّع بالجواهر لم ير آدم أحسن منه عليه صورة جميلة قال آدم يا رب من هذه الصورة قال فاطمة بنت نبي محمد صلى الله عليه وسلم قال يا رب من يكون بعلها فقال الله تعالى يا جبريل إفتح باب قصر من ياقوت ففتح له فرأى فيه قبة من الكافور فيها سرير من ذهب عليه شاب حسنه كحسن يوسف عليه السلام فقال هذا بعلها علي بن أبي طالب فقال يا رب هل لهم أولاد فأمر الله تعالى جبريل عليه السلام أن يفتح باب قصر من اللؤلؤ ففتح باب قصر من اللؤلؤ فيه قبة من الزبرجد فيها سرير من العنبر عليه صورة الحسن والحسين رضي الله عنهما فرجع آدم إلى موضعه

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান, খুছূছিয়ত-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে


নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামূল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাঁরা আওলাদ উনাদের বিষয়ে আজকে আমাদের আলোচনা। উনার যাঁরা আওলাদ ছেলে হিসেবে যাঁরা এসেছিলেন চারজন এবং মেয়ে চারজন। হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম, হযরত তইয়িব আলাইহিস সালাম, হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম- এই চারজন হচ্ছেন ছেলেদের মধ্য থেকে। মেয়েদের মধ্য থেকে হচ্ছেন- হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম, হযরত রুকাইয়া আলাইহাস  সালাম, হযরত উম্মে কুলছূম আলাইহাস সালাম এবং হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম যিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ। হযরত সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ উনার খুছূছিয়ত, বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আজকে আমরা আলোচনা করবো। উনার বিলাদত শরীফ নিয়ে অনেক ইখতিলাফ রয়েছে। তারপরেও যেটা ছহীহ মত সেটা হচ্ছে তিনি ২০শে জুমাদাল উখরা জুমুয়ার দিন ছুবহি ছাদিকের সময় যমীনে আগমন করেন, বিলাদত শরীফ লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী জিন্দেগীতে বয়স মুবারক তখন ৩৭ বৎসর সে সময় সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যমীনে আগমন করেন।

মুসলমানদেরকে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হবে যে, কিভাবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালন করতে হয় -

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, একদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একজোড়া জামা মুবারক তৈরি করে হাদিয়াস্বরূপ পাঠালেন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার কাছে। উনার কাছে যখন সেই হাদিয়া মুবারক পৌঁছানো হলো, ঠিক সেই মুহূর্তে একজন গরিব মহিলা এসে সাহায্য চাইলো যে, আমাকে দয়া করে একটা জামা যদি দিতেন তাহলে আমার জন্য ভালো হতো। এখন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, উনার কাছে আগে এক সেট জামা ছিল। তিনি কোনটা দান করবেন এই মহিলাকে; নতুনটা না পুরাতনটা? তিনি বললেন, যিনি খালিক্ব, মালিক, রব আল্লাহ পাক তিনি তো নাযিল করেছেন, “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো নেকী ও মুবারক সন্তুষ্টি হাছিল করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের পছন্দনীয় বিষয়গুলো দান না করবে।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯২)
তিনি এটা ফিকির করে সেই নতুন জামা গরিব মহিলাকে দান করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! এই ঘটনা দ্বারা বুঝা যায় যে, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি কতোটুকু পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালন করেছেন। যা বলার অপেক্ষাই রাখে না।

হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম মুবারক শৈশব ,হিজরত , শাদী মুবারক

মুবারক শৈশব  ঃ
তিনি হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম ও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোলে অত্যন্ত স্নেহ ও আদরে লালিত পালিত হন।নুবুওওয়াত প্রকাশের ৭ম বছরে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরতফাতিমা বিনতে আসাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা, হযরত আলী আলাইহিসসালাম ও বনু হাশিমের কয়েক ব্যক্তি শিয়াবে আবী তালিব নামে এক গিরিপথেঅবস্থান গ্রহণ করেন। অল্প বয়স্ক হয়েও ওইস্থানে অবরুদ্ধ অবস্থায় অবর্ণনীয়দুঃখ কষ্টে পিতা-মাতা এবং বংশের অন্যদের সঙ্গে অবস্থান করে জিহাদেরকঠিন পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন। কাফিরদের অবরোধ শেষ হলে নুবুওওয়াতপ্রকাশের ১০ম বর্ষে পবিত্র রমযান মাসে হযরত যাহরা আলাইহাস সালামউনার আম্মা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম বিছাল শরীফ লাভকরেন। চাচা আবু তালিবও ইতোমধ্যে ইন্তিকাল করেন। এমতাবস্থায় হযরতআলী আলাইহিস সালাম উনার মাতা হযরত ফাতিমা বিনতে আসাদরদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উপরোক্ত মুরব্বীদের শূন্যস্থান পূরণ করেন। হযরতফাতিমা বিনতে আসাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা চল্লিশ বৎসর পূর্বে হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শৈশবে লালন পালন করেছিলেন।এখন তিনি হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম

‘সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নিছবত, সাদৃশ্যতা ও মুবারক খুছছিয়ত সম্পর্কে সামান্যতম আলোকপাত

নিছবত, সাদৃশ্যতা ও মুবারক খুছছিয়ত সম্পর্কে সামান্যতমআলোকপাতঃ
হযরত মিছর ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, স্বয়ংনূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ‘সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার জিসিম মুবারক-এর গোশত মুবারক-এর টুকরাসমূহের একখানা টুকরামুবারক।’ সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন নূরেমুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুননাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে যেতেন,সাক্ষাৎ করার জন্য, তখন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মুহব্বতের কারণে দাঁড়িয়ে উনারনিকটবর্তী হয়ে উনার হাত মুবারক নিয়ে চুম্বন করতেন, বুছা দিতেন।সুবহানাল্লাহ!

উম্মু আবীহা, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নামকরণ ও লক্বব মুবারকক



আরবী মাসসমূহের ষষ্ঠ মাস হচ্ছে “জুমাদাল উখরা।” ‘জুমাদা’ শব্দটি মুয়ান্নাছ(স্ত্রী লিঙ্গ) তার অর্থ ‘জমাট পানি’ বা ‘বরফ।’ সে হিসেবে তার পরে “উখরা”শব্দটিও ‘আখির’ শব্দ থেকে মুয়ান্নাছ এবং এর অর্থ শেষ।

অধিকাংশ মতে আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের প্রায় তিন বৎসর পূর্বে (নূরেমুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারদুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক ৩৭ বছর এর সময়) ২০শে জুমাদাল উখরাজুমুয়ার দিন ছুবহি ছাদিকের সময় যমীনে আগমন করেন তামাম জাহানেরদোআলমে নারীকূল শিরোমণি খাতুনে জান্নাত সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরতফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম। (সুবহান আল্লাহ)

ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম-উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক

পরিচিতি:
বিশ্বের সকল মহিলার সাইয়্যিদ, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাহিস সালাম উনাদের সম্মানিতা মাতা, হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অত্যন্ত স্নেহময়ী কন্যা এবং উনার সর্বপ্রথম আহলিয়া হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার চার কন্যার একজন। তিনি রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বকনিষ্ঠা কন্যা ছিলেন। উনার পবিত্র মুখমণ্ডল মুবারকের দীপ্তি ও লাবণ্যের কারণে উনাকে ‘‘আয যাহরা’’ বলা হত।

সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র মোহর মুবারক


মোহর মুবারক :
সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শাদী মুবারকে প্রদত্ত মোহর মুবারক ছিলো পাঁচশত দিরহাম। যা মোহরে যাহরায়ী আলাইহাস সালাম নামে অভিহিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে এরূপ মোহর মুবারক প্রদান করেছিলেন।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শাদী মুবারক


দ্বিতীয় হিজরী সনের যিলহজ্জ মাসে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র মোহর মুবারকের জন্য হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বদর জিহাদে গণিমতস্বরূপ লাভ করা একটি বর্ম সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট বিক্রয় করেন। তিনি বর্মখানা পাঁচশত দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করেন বটে, তবে সেই বর্মখানা আবার হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেন। যা মূলত সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক খিদমতে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল আঞ্জামের একখানা উপমা। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন খুছুছিয়ত মুবারক হতে কতিপয় খুছুছিয়ত মুবারক

মহান আল্লাহ পাক উনার মহান কুদরত হচ্ছেন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন খুছুছিয়ত মুবারক হতে কতিপয় খুছুছিয়ত মুবারক
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে,
১. সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, ত্বাহিরা, ত্বয়িইবাহ, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম জিসিম মুবারকের গোশত মুবারক উনার এক বিশেষ টুকরা মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
২. উনার পবিত্রতম মুহব্বত-ই হচ্ছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম মুহব্বত। সুবহানাল্লাহ!
৩. উনি পবিত্রতম আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল-মধ্যমণি। সুবহানাল্লাহ!

Saturday, March 26, 2016

সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল ফযীলত


সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত সুমামা ইবনে হাযন কুশাইরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, (যখন বিদ্রোহীরা সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার গৃহ অবরোধ করে রেখেছিল, এ সময়) আমি উনার গৃহের কাছে উপস্থিত ছিলাম। যখন সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি গৃহের উপর হতে লোকদের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি তোমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা কি এই ব্যাপারে অবগত আছ যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজরত করে যখন পবিত্র মদীনা শরীফ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন, তখন ‘রুমার কূপ’ ব্যতীত অন্য কোথাও মিষ্টি পানি পাওয়া যেত না? তখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি রুমার কূপটি খরিদ করে মুসলমানদের অবাধে ব্যবহারের জন্য ওয়াকফ করে দিবে, বিনিময়ে সে বেহেশতে তদপেক্ষা উত্তম কূপ লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! তখন আমি উক্ত কূপটি আমার একান্ত ব্যক্তিগত অর্থে খরিদ করে হাদিয়া করি। অথচ আজ তোমরা আমাকে উক্ত কূপের পানি পান করা হতে বাধা দিচ্ছ। 

জিহাদ থেকেও বেশি ফযীলতপূর্ণ হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খিদমত করা


পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। আর তোমাদের পক্ষে তা দেয়াও সম্ভব নয়। তবে যেহেতু তোমাদেরকে ইহকাল ও পরকালে কামিয়াবী হাছিল করতে হবে, তাই আমার নিকটজন তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (পবিত্র সূরা কূরা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিশ্ববিখ্যাত ‘তাফসীরে মাযহারী শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না, তবে তোমাদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে: তোমরা আমার নিকটাত্মীয় হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও বংশধরগণ উনাদের (যথাযথ সম্মান, আলোচনা ও খিদমত প্রদর্শনপূর্বক) হক্ব আদায় করবে।” আর উনাদের খিদমতই মুসলমানের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক রাখার পূর্বে বরকতময় ঘটনা:


আল্লামা হাফিয আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহম্মদ মুহিব্বুদ্দীন ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৬৯৪ হিজরী) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব “যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা শরীফ” উনার মধ্যে উল্লেখ করেন, 
ان النبي صلى الله عليه وسلم قال أتانى جبريل بِتُفَّاحَةٍ من الجنة فأكلتها وواقعت خديجة فحملت بفاطمة
অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একদা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি জান্নাত থেকে একখানা আপেল মুবারক নিয়ে আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত হন। অতঃপর আমি উক্ত জান্নাতী আপেল মুবারক খাই। এরপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আমার সম্মানিত ছোহবত মুবারক গ্রহণ করেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ ধারণ মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ, তারীখুল খমীস)
এই সম্মানিত ওয়াকেয়া মুবারক দ্বারা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা আহলে হক্ব উনার অন্তর্ভুক্ত



আহলে কিতাব উনাদের মধ্যে অনেকেই হক্ব তালাশী ছিলেন। উক্ত আহলে কিতাব উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
ليسوا سواء من اهل الكتاب امة قائمة يتلون ايت الله اناء اليل وهم يسجدون.
অর্থ: “উনারা সবাই সমান নন। আহলে কিতাব উনাদের মধ্যে কিছু লোক এমনও আছেন যাঁরা রাতের একাংশে অবিচলভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ তিলাওয়াত করেন এবং পবিত্র সিজদাহ করেন।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৩) 
এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় তাফসীরকারকগণ উনারা বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে যমীনে তাশরীফ আনয়ন করার পূর্বে উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম এবং উনার সকল পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম ও পূর্ব মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছাড়াও আরো অনেকেই মহান আল্লাহ পাক উনাকে বিশ্বাস করতেন এবং উনারা সত্য পথের উপর অর্থাৎ পবিত্র দ্বীনে হানীফ উনার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে সকল মানুষই মুশরিক ছিলো এ দাবি আদৌ সত্য নয়। কারণ বর্ণিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার প্রথমাংশ স্পষ্টতই প্রমাণ বহন করছে যে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আগমন পূর্ব সময়ে সকল মানুষ এক সমান ছিল না।
“তিবরানী শরীফ” উনার মধ্যে উল্লেখ আছে যে, নিম্ন বর্ণিত ব্যক্তিগণ মহান আল্লাহ পাক উনার একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিলেন এবং উনারা পাক-নাপাকীতেও বিশ্বাসী ছিলেন। যদি উনাদের কেউ নাপাক হতেন, তাহলে অযু-গোসল করে পবিত্র হতেন, এমনকি উনারা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র দ্বীনে বিশ্বাসী হয়ে আমল করতেন। উনাদের নাম মুবারক হলো- (১) সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম, (২) সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম, (৩) হযরত আসওয়াদ বিন সারারা বিন মাইরুর আনছারী, (৪) হযরত মুহম্মদ বিন মাসলামা ও (৫) হযরত আবূ কাইস বিন সারমা প্রমুখ। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার কিছু নছীহত মুবারক

(১) চাকচিক্য পোশাকের লোভ যাদের অন্তরে, তাদের কাফনের কথা স্মরণ করা উচিত। জাঁকজমক বাড়ির আকাঙ্খা যাদের অন্তরে, তাদের উচিত কবরের ছোট্ট গর্তটির কথা স্মরণ করা। যারা সবসময় সুস্বাদু খাবারের লোভ করে তাদের কর্তব্য হচ্ছে- নিজের লাশটি যে শেষ পর্যন্ত কীটের খোরাক হবে তা স্মরণ করা।

(২) যার হাতে অন্যের নিন্দাবাদ করার মতো পর্যাপ্ত সময় থাকে, তার চাইতে হতভাগা আর কেউই হতে পারে না।
(৩) বছরান্তেও যে ব্যক্তি দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হয় না, তার চিন্তা করা উচিত যে- মহান আল্লাহ পাক তিনি তার উপর সন্তুষ্ট কিনা।
(৪) যে ব্যক্তি চোখের ভাষা বুঝে না, তার সামনে মুখ খোলা নিজেকে লাঞ্ছিত করার নামান্তর।
৫) তরবারির আঘাত মানুষের দেহকে আহত বা ক্ষত-বিক্ষত করে, কিন্তু কটু কথা দ্বারা মানুষের অন্তর রক্তাক্ত হয়।
(৬) মু’মিন বান্দার নিজের ঘর যদি তার যবান, বদনজর ও লজ্জাস্থান নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যম হয়, তবে সেটাই তার জন্য সর্বোত্তম ইবাদতগাহে পরিণত হয়ে যায়।
(৭) দারিদ্র্য কোনো মুসলমানকে বেইজ্জত করতে পারে না। মুসলমান যখন দ্বীন থেকে দূরে সরতে থাকে, তখনই পদে পদে বেইজ্জতির সম্মুখীন হয়।
(৮) গুনাহ কোনো না কোনোভাবে মনের শান্তি বিনষ্ট করে।

Thursday, March 3, 2016

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও মূল:


উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মূল এবং তিনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও মূল সুবহানাল্লাহ! সেটাই আমরা দেখতে পাই ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অন্য সকল হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম এবং আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক এনেছেন এবং একমাত্র উনার মাধ্যম দিয়েই ক্বিয়ামত পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নছব মুবারক জারি থাকবে। সুবহানাল্লাহ! সেটাই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে কুবরা বা মূল, বড়


সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُم المؤمنين حَضْرَتْ عَائِشَةَ الصديقة عليها السلام قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا ذَكَرَ حَضْرَتْ خَدِيجَةَ عليها السلام أَثْنَى عَلَيْهَا فَأَحْسَنَ الثَّنَاءَ، قَالَتْ فَغِرْتُ يَوْمًا فَقُلْتُ مَا أَكْثَرَ مَا تَذْكُرُهَا حَمْرَاءَ الشِّدْقِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ بِهَا خَيْرًا مِنْهَا، قَالَ مَا أَبْدَلَنِي اللهُ عَزَّ وَجَلَّ خَيْرًا مِنْهَا، قَدْ آمَنَتْ بِي إِذْ كَفَرَ بِي النَّاسُ وَصَدَّقَتْنِي إِذْ كَذَّبَنِي النَّاسُ، وَوَاسَتْنِي بِمَالِهَا إِذْ حَرَمَنِي النَّاسُ، وَرَزَقَنِي اللهُ عَزَّ وَجَلَّ وَلَدَهَا إِذْ حَرَمَنِي أَوْلَادَ النِّسَاءِ 
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আলোচনা মুবারক করতেন, উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করতেন, তখন উনার সর্বোত্তম ছানা-ছিফত মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ! (এতো অধিক এবং সর্বোত্তম ছানা-ছিফত মুবারক করতেন, যেটা অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শানে বা অন্য কারো শানে করতেন না। সুবহানাল্লাহ!) একদিন আমি বিস্ময় প্রকাশ করলাম, (উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আমি বললাম,) উনার এতো ছানা-ছিফত মুবারক, এতো প্রশংসা। তিনি তো অতীত হয়ে গেছেন এবং তিনি তো অনেক বয়স্কা ছিলেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি তো এখন আপনাকে উনার চেয়ে উত্তম অনেক উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে হাদিয়া মুবারক করেছেন।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ঊলা বা প্রথমা, কুবরা বা মূল, বড়, মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনারও মূল


 “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক আলোচনা মুবারক করার জন্য বলেছেন। তিনি বলেছেন, আমি যেন, উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সম্পর্কে আলোচনা করি। সুবহানাল্লাহ! তখন আমি বললাম, (বিনয় প্রকাশার্থে মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বললেন,) আমার তো আপনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা নেই। তখন তিনি আমাকে বললেন, যতটুকু জানা রয়েছে, ততটুকুই যেন আমি আলোচনা মুবারক করি। সুবহানাল্লাহ! তারপর থেকে আমি একধারে তিন জুমুয়াহ শরীফ-এ উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান সম্পর্কে আলোচনা মুবারক করি।” সুবহানাল্লাহ!
মূলত, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের পর আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সর্বোত্তম ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেছেন, উনার শান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ঊলা বা প্রথমা
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ‘ঊলা বা প্রথমা’। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকেই সর্বপ্রথম উম্মুল মু’মিনীন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি একাধারে ২৫ বছর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি যতদিন দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করেছেন, ততদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে গ্রহণ করেননি। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُم المؤمنين حَضْرَتْ عَائِشَةَ الصديقة عليها السلام قَالَتْ لَمْ يَتَزَوَّجِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى حَضْرَتْ خَدِيجَةَ عليها السلام حَتَّى مَاتَتْ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে দ্বিতীয় কোন সম্মানিত শাদী মুবারক করেননি অর্থাৎ অন্য কোন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে গ্রহণ করেননি।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ইত্যাদি)
তাহলে এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, যেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় এবং সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা-কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক-১


হাফাদাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আসবাত্ব (নাতি) আলাইহিমুস সালাম এবং সিবত্বাত (নাতনী) আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা মোট ৮ জন। উনাদের মধ্যে হযরত আবনা’ (ছেলে) আলাইহিমুস সালাম উনারা ৪ জন এবং হযরত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ৪ জন। হযরত আবনা’ আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই অল্প বয়স মুবারক-এ তথা সম্মানিত দুধ মুবারক পানরত অবস্থায় মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। আর হযরত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার যুগ পেয়েছেন, সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন, সম্মানিত মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক করেছেন এবং উনাদের সম্মানিত শাদী মুবারকও হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! উনাদের মধ্যে একমাত্র বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্যান্য যাঁরা রয়েছেন অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম উনার, সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বইয়্যাহ আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাদের প্রত্যেকেরই আওলাদ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! 

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক পূণরুদ্ধার


জুরহুম গোত্র সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময়কাল পর্যন্ত সম্মানিত যমযম কূপ উনার কোনো চিহ্ন বিদ্যমান ছিলো না। কেউ কেউ এর সময়কাল ৫০০ বছর বলে উল্লেখ করেছেন। 
একদা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজরে তথা হাতিমে ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই হিজরে ঘুমন্ত অবস্থায় আমি স্বপ্ন মুবারক দেখলাম যে, এক সম্মানিত বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি তাশরীফ নিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, احفر طببة ‘আপনি ‘ত্বইবাহ’ খনন করুন।’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ত্বইবাহ’ কী? তারপর আমার প্রশ্ন মুবারক উনার জবাব না দিয়েই তিনি চলে গেলেন। তিনি বলেন, পরদিন রাতে আমি যখন বিছানা মুবারক-এ গেলাম এবং ঘুমিয়ে পড়লাম, সেই সম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি এসে পুনরায় আমাকে বললেন, احْفِرْ بَرَّةَ. আপনি ‘বাররাহ’ খনন করুন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘বাররাহ’ কী? তারপর কোনো জবাব না দিয়েই তিনি চলে গেলেন। এরপর পরবর্তী রাতে আমি যখন বিছানা মুবারক-এ গেলাম এবং ঘুমিয়ে পড়লাম, সেই সম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি এসে আমাকে বললেন, احْفِرِ الْمَضْنُونَةَ আপনি ‘মাদ্বনূনাহ’ খনন করুন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘মাদ্বনূনাহ’ কী? তিনি কিছু না বলেই আমার কাছ থেকে চলে গেলেন। 

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা সম্মানিত বিশেষ স্বপ্ন মুবারক এবং উক্ত সম্মানিত বিশেষ স্বপ্ন মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক



কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالَ بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ فِي الْحِجْرِ إِذْ رَأَيْتُ رُؤْيَا هَالَتْنِي فَفَزِعْتُ مِنْهَا فَزَعًا شَدِيدًا، فَأَتَيْتُ كَاهِنَةَ قُرَيْشٍ وَعَلَيَّ مُطْرَفُ خَزٍّ وَجُمَّتِي تَضْرِبُ مَنْكِبَيَّ فَلَمَّا نَظَرَتْ إِلَيَّ عَرَفَتْ فِي وَجْهِي التغيير وَأَنَا يَوْمَئِذٍ سَيِّدُ قَوْمِي فَقَالَتْ: مَا بَالُ سَيِّدَنَا قَدْ أَتَانَا مُتَغَيِّرَ اللَّوْنِ، هَلْ رَأَيْتَ مِن حِدْثَانِ الدَّهْرِ شَيْئًا؟ فَقُلْتُ لَهَا بَلَى! وَكَانَ لَا يُكَلِّمُهَا أَحَدٌ مِنَ النَّاس حَتَّى يُقَبِّلَ يَدَهَا الْيُمْنَى، ثمَّ يَضَعُ يَدَهُ عَلَى أُمِّ رَأْسِهَا ثُمَّ يَذْكُرُ حاجته ولم أفعل لاني كنت كَبِيرُ قَوْمِي. فَجَلَسْتُ فَقُلْتُ إِنِّي رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ وأنا نائم في الحجر كأن شجرة تنبت قَدْ نَالَ رَأْسُهَا السَّمَاءَ وَضَرَبَتْ بِأَغْصَانِهَا الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، وَمَا رَأَيْتُ نُورًا أَزْهَرَ مِنْهَا أَعْظَمَ مِنْ نُورِ الشَّمْسِ سَبْعِينَ ضِعْفًا.

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক ও সম্মানিত ইলহাম-ইলক্বা মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন


সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত কুরাইশ বংশ উনার সাইয়্যিদ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন সমস্ত প্রকার উত্তম গুণাবলী মুবারক উনাদের অধিকারী। আরো ছিলেন বেমেছাল খুছূছিয়াত ও বৈশিষ্ট্য মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে ছিলো বেমেছাল তাওয়াল্লুক্ব ও নিসবত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রেই মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ইলহাম-ইলক্বা মুবারক দ্বারা পরিচালিত হতেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে মহান আল্লাহ পাক উনার কতটুকু মাহবূব ছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে উনার কত বেমেছাল-তাওয়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক ছিলো তা ‘সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক’ পুনরুদ্ধারের ঘটনা মুবারক দ্বারাই স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! মূলত সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক ও সম্মানিত ইলহাম-ইলক্বা মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন। যার কারণে সেই কঠিন সময়ে উনার পক্ষে সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক পুনরুদ্ধার করা সহজ এবং সম্ভব হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক ও সম্মানিত ইলহাম-ইলক্বা মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন তা নিম্নোক্ত বর্ণনা মুবারক দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। যেমন এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, 
عَبْدُ الْمُطَّلِبِ يَدْعُو اللهَ وَيَقُولُ:
اللهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ الْمَحْمُودْ ... رَبِّي وَأَنْتَ الْمُبْدِئُ الْمُعِيدْ
وَمُمْسِكُ الرَّاسِيَةِ الْجُلْمُودْ ... مِنْ عِنْدِكَ الطَّارِفُ وَالتَّلِيدْ
إِنْ شِئْتَ أَلْهَمْتَ لِمَا تُرِيدْ ... لِمَوْضِعِ الْحِلْيَةِ وَالْحَدِيدْ
فَبَيِّنِ الْيَوْمَ لِمَا تُرِيدْ ... إِنِّي نَذَرْتُ عَاهِدَ الْعُهُودْ
اجْعَلْهُ رَبِّ لِي وَلَا أَعُودْ
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া মুবারক করেন, আয় আল্লাহ পাক, আপনি চরম প্রশংসিত এবং সমস্ত কায়িনাতের মালিক। আপনি আমার প্রতিপালক, রব, আপনি সমগ্র সৃষ্টির সূচনাকারী এবং ফেরত দানকারী। আপনি পাথুরে পাহাড়কে সুদৃঢ় করে রেখেছেন। আপনার নিকট থেকে আসে নতুন অর্থ-সম্পদ ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ। আপনি ইচ্ছা মুবারক করলে আমার মনে সম্মানিত ইলহাম মুবারক করবেন (সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার) ওই স্থানটি সম্পর্কে যেখানে (সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম উনাদের) স্বর্ণালঙ্কার ও অস্ত্রশস্ত্র প্রোথিত রয়েছে। আজ আপনি আমাকে অবহিত করেন আপনার ইচ্ছা যদি আপনার মর্জি হয়। আমি শপথ করছি, আপনি আমাকে তা দিয়ে দিন। আমি আর চাইবো না।” (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিলবাইহাক্বী ১/৯৩, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াহ ২/৩০৪, ইবনে ইসহাক্ব ১/২৭ ইত্যাদি)

ম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল পবিত্রতা মুবারক


আইয়্যামে জাহিলায়াতের যুগেও উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সারা আরবে, সারা পৃথিবীতে ত্বাহিরাহ, ত্বইয়িবাহ সম্মানিত লক্বব মুবারক-এ পরিচিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
আত ত্বাহিরা সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার অর্থ মুবারক হচ্ছেন পূত-পবিত্রা, মহাপবিত্রা, পূত-পবিত্রতা দানকারিনী। সুবহানাল্লাহ!
আর আত ত্বইয়িবাহ সম্মানিত লক্বব মুবারক উনারও প্রায় কাছাকাছি অর্থ মুবারকÑ পূত-পবিত্রা, মহাপবিত্রা, পূত-পবিত্রতাদানকারিনী, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী, মালিকাহ। সুবহানাল্লাহ!

হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক


সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
وَعَنْ ام المؤمنين حضرت عَائِشَةَ الصديقة عليها السلام قَالَتْ مَا غِرْتُ عَلَى أَحَدٍ مِنْ نِسَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا غِرْتُ عَلَى خَدِيجَةَ وَمَا رَأَيْتُهَا وَلَكِنْ كَانَ يُكْثِرُ ذِكْرَهَا وَرُبَّمَا ذَبَحَ الشَّاةَ ثُمَّ يُقَطِّعُهَا أَعْضَاءً ثُمَّ يَبْعَثُهَا فِي صدائق خَدِيجَة فَيَقُول إِنَّهَا كَانَت وَكَانَت وَكَانَتْ وَكَانَ لِي مِنْهَا ولدٌ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে আমার যতটা বিস্ময় হয়, আমি যতটা বিস্ময় প্রকাশ করতাম, ততটা বিস্ময় প্রকাশ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অপর কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রতি আমি করতাম না। অথচ উনাকে আমি দেখিনি। কিন্তু (বিস্ময় প্রকাশ কারণ ছিলো এই যে, সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক নেয়ার পরেও) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় দায়িমীভাবে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার কথা তথা উনার খুছূছিয়াত-বৈশিষ্ট্য মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সম্পর্কে আলোচনা মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!

নিজ সন্তান কুরবানী করার মানত করা এবং স্বপ্নযোগে আদিষ্ট হয়ে কুরবানী করার সমস্ত কাজ সম্পন্ন করা’ হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক অনন্য বেমেছাল বৈশিষ্ট্য মুবারক



কিতাবে বর্ণিত রয়েছে যে, ‘সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক খনন করার সময় কুরাইশদের সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে বিবাদ হয়েছিলো, তার প্রেক্ষিতে তিনি সম্মানিত মানত মুবারক করেছিলেন যে, যদি উনার দশ জন আওলাদ (পুত্র সন্তান) আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন এবং প্রাপ্ত বয়স মুবারক-এ উপনীত হয়ে উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার উপযুক্ত হন, তাহলে উনাদের একজনকে মহান আল্লাহ পাক উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার নিকটে সম্মানিত যবেহ বা কুরবানী মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক


সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং জাদ্দাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনারা ছিলেন ওই যামানায় মহান আল্লাহ পাক উনার আখাচ্ছুল খাছ লক্ষ্যস্থল, উনার সর্বাধিক মাহবূব ও মাহবূবাহ। উনাদের সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক তিনি ওই যামানায় সমস্ত মানুষকে রিযিক দিয়েছেন, বৃষ্টি দিয়েছেন, সাহায্য করেছেন, যাবতীয় নিয়ামতরাজি দ্বারা ধন্য করেছেন এবং জিন-ইনসান ও তামাম কায়িনাতবাসীকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করেছেন। সারা পৃথিবী, সারা কায়িনাত সেই সময় উনাদের সম্মানার্থে টিকে ছিলো। এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنِ حضرت ابْنِ عَبَّاسٍ رضى الله تعالى عنه قَالَ: " مَا خَلَتِ الْأَرْضُ مِنْ بَعْدِ نُوحٍ مِنْ سَبْعَةٍ يَدْفَعُ اللَّهُ بِهِمْ عَنْ أَهْلِ الْأَرْضِ
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার পর থেকে সবসময় দুনিয়ার যমীনে মহান আল্লাহ পাক উনার সাতজন খাছ মাহবূব ব্যক্তিত্ব মুবারক ছিলেন। উনাদের উছীলায় মহান আল্লাহ পাক তিনি তামাম পৃথিবীবাসী, সমগ্র কায়িনাতবাসীকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করেছেন।” (মাসালিকুল হুনাফা, আল হাওই)

হযরত আবদুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার দোয়ার কারনে আবরাহার ধ্বংস



কাট্টা কাফির আবরাহা সম্মানিত কা’বা শরীফ ধ্বংস করতে এসে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দোআ মুবারক উনার বদৌলতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার দ্বারাও বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে জাদ্দু রসূলিনা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত তাওল্লুক-নিসবত মুবারক কত বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ। এই সম্পর্কে কিতাব-এ বর্ণিত রয়েছে, তিনি আবরাহার বিরুদ্ধে এইভাবে সম্মানিত মুনাজাত মুবারক করেছিলেন-
اللهم ان المرء يمنع + رحله فامنع رحالك
وانصر على ال الصليب + وعابديه اليوم لك
لا يغلبن صليبهم + ومحالهم ابدا محالك
جروا جميع بلادهم + والفيل كى يسبوا عيالك
عمدوا حمال بليدهم + جهلا وما رقبوا جلالك

এক নজরেসাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার পরিচিতি মুবারক



সাইয়্যিদুন নাস, সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, আল ফাইয়্যায, যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ, মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইর, সাইয়্যিদুল বাত্বহা’, আবুল বাত্বহা’, আবূ আব্দিল্লাহ আলাইহিস সালাম, জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সবচেয়ে বড় পরিচয় মুবারক হচ্ছেন, তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত দাদাজান আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেমেছাল মায়া-মুহব্বত, স্নেহ ও সম্মান মুবারক করতেন। তিনি ছিলেন সমস্ত কুরাইশ উনাদের সাইয়্যিদ। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক


হাফাদাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আসবাত্ব (নাতি) আলাইহিমুস সালাম এবং সিবত্বাত (নাতনী) আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা মোট ৮ জন। উনাদের মধ্যে হযরত আবনা’ (ছেলে) আলাইহিমুস সালাম উনারা ৪ জন এবং হযরত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ৪ জন। হযরত আবনা’ আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই অল্প বয়স মুবারক-এ তথা সম্মানিত দুধ মুবারক পানরত অবস্থায় মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। আর হযরত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার যুগ পেয়েছেন, সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন, সম্মানিত মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক করেছেন এবং উনাদের সম্মানিত শাদী মুবারকও হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ‘শায়বাহ’ ইসম বা নাম মুবারক সম্পর্কে কিছু আলোচনা


সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক কেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম’ রাখা হয়েছে, এই বিষয়ে সীরাতবিশারদগণ উনারা বিভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। অধিকাংশ সীরাতবিশারদগণ উনাদের, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন উনার সম্মানিত মাথা মুবারক-এ কিছু শুভ্র বা সাদা চুল মুবারক ছিলো। তাই উনার সম্মানিত নাম মুবারক রাখা হয়েছে সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম। কেননা শায়বাহ উনার একখানা অর্থ মুবারক হচ্ছেন ‘শুভ্র, সাদা চুল, শুভ্র কেশ’।
কেউ কেউ বলেছেন, উনার সম্মানিত মাথা মুবারক উনার মাঝখানে কিছু সাদা চুল মুবারক ছিলো। আবার কেউ কেউ বলেছেন, উনার সম্মুখের কেশগুচ্ছ সাদা ছিলো। যা স্পষ্টভাবে দেখা যেতো।

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক রাখা এবং সম্মানিত আক্বীক্বাহ মুবারক দেয়া:



সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সপ্তম দিনে উনার সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক দেয়া হয় এবং উনার সম্মানিত নাম মুবারক রাখা হয়। উনার সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক কি এই বিষয়ে সীরাতগ্রন্থগুলোতে অনেক বর্ণনা রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, উনার সম্মানিত নাম মুবারক ‘সাইয়্যিদুনা হযরত আমির আলাইহিস সালাম।’ আবার কেউ কেউ বলেছেন, উনার সম্মানিত নাম মুবারক ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাহ আলাইহিস সালাম।’ আবার কেউ কেউ বলেছেন, উনার সম্মানিত নাম মুবারক ‘সাইয়্যিদুনা হযরত শায়বাতুল হামদ আলাইহিস সালাম।’ সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:


আল জাদ্দুছ ছানী সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার এবং আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের মাঝে সম্মানিত শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম তিনি উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বাড়িতে অর্থাৎ সম্মানিত মদীনা শরীফেই অবস্থান মুবারক করতে থাকনে। সুবহানাল্লাহ!

আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনার মাঝে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাশরীফ মুবারক নেয়া:



আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সাথে আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আযীমুশ শান শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয় সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম তিনি বেশ কিছু দিন সম্মানিত মদীনা শরীফ অবস্থান মুবারক করেন। তখনই উনার সম্মানিত কপাল মুবারক থেকে ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উানর সম্মানিত নূর মুবারক’ তিনি আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ কুদরতীভাবে মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন। সুবহানাল্লাহ! সেই রাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে অফুরন্ত রহমত-বরকত সাকীনাহ মুবারক নাযিল করেন এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনাকে অপরূপ সাজে সুসজ্জিত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতপিতা আলাইহিস সালাম

সম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম:
আবূ সা’দ আব্দুল মালিক ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম নীশাপুরী খরকূশী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ: ৪০৭ হিজরী) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
وكان النور على وجهه كالهلال يتوقد شعاعه، لا يمر بشيء إلا سجد له، ولا يراه أحد إلا أقبل نحوه
অর্থ: ‘চাঁদ যেমন তার আলোক রশ্মি প্রজ্বলিত করে থাকে, ঠিক তেমনিভাবে আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত চেহারা মুবারক-এ সম্মানিত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার কিরণ মুবারক প্রজ্বলিত করতেন। অর্থাৎ আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত চেহারা মুবারক-এ চাঁদের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখা যেতো এবং চাঁদের কিরণের ন্যায় সেখান থেকে সম্মানিত নূর মুবারক উনার রশ্মি মুবারক বিচ্ছূরিত হতো। সুবহানাল্লাহ! তিনি কোনো কিছুর (যেমন পশু-পাখি, গাছ-পালা, তরুলতা ইত্যাদির) পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে সেগুলো উনাকে সিজদা করতো আর জিন-ইনসান উনাকে সম্মান করতো। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তিই সেই সম্মানিত নূর মুবারক দেখতো, সে মুহব্বতের সাথে উনার নিকট অগ্রসর হতো। সুবহানাল্লাহ! (শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ ১/৩৩১)

সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক



সম্মানিত পরিচিতি মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টিজগতে যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এবং শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার দিক থেকে সর্বোচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত উনাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন সাইয়্যিদুন নাস, সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, আল ফাইয়্যায, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুল কায়িনাত, জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন ঈমান। উনার সবচেয়ে বড় পরিচয় মুবারক হচ্ছেন, তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত দাদাজান আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তাই মুজাদ্দিদে আ’যম সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত ফতওয়া মুবারক দিয়েছেন যে, “সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, আল ফাইয়্যায, যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ, মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক জানা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য ফরযে আইন।” সুবহানাল্লাহ!

Tuesday, March 1, 2016

সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক

اَلْفَيَّاضُ (আল ফাইয়্যায)- সীমাহীন দাতা: যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবাইকে বেহিসাব দান করতেন, তাই সবাইকে উনাকে ‘আল ফাইয়্যায লক্বব মুবারক দ্বারা সম্বোধন করতো। সুবহানাল্লাহ!
وكان يقال له الفياض لجوده،
অর্থ: “উনার সীমাহীন দানশীলতার কারণ উনাকে আল ফাইয়্যায বলা হতো।” (সীরাতে হালবিয়্যাহ শরীফ ১/৯)
مُطْعِمُ الْاِنْسِ وَالْوَحْشِ وَالطَّيْرِ (মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল ওয়াহশি ওয়াত ত্বইর)Ñ মানুষ, বন্যপশু ও পাখিদেরকে খাদ্যদানকারী: সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মানুষ, اَلْفَيَّاضُ (আল ফাইয়্যায)- সীমাহীন দাতা: যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবাইকে বেহিসাব দান করতেন, তাই সবাইকে উনাকে ‘আল ফাইয়্যায লক্বব মুবারক দ্বারা সম্বোধন করতো। সুবহানাল্লাহ!

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম একখানা বিশেষ স্বপ্ন মুবারক


উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পূর্ব থেকেই মনোনীত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে আনজাম দেয়ার জন্য উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছেন। যা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার একখানা বিশেষ স্বপ্ন মুবারক দ্বারা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হয়। ‘হায়াতুল ক্বুলূব’ নামক কিতাবে উল্লেখ করা হয়- উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার একখানা স্বপ্ন মুবারক বর্ণনা করতে গিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন, তিনি এক রাত্রে স্বপ্ন মুবারক দেখলেন যে,

হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার “উম্মুল মু’মিনীন” হওয়ার মুবারক আকাঙ্খা


উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বাণিজ্যের কাফেলা নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন সিরিয়ায় ছফর মুবারক করছিলেন, তখন এমন সব ঘটনাবলী সংঘটিত হতে থাকে যা দ্বারা একদিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নবুওওয়ত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের বিষয়টি সুস্পষ্ট হচ্ছিল, অপরদিকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি “উম্মুল মু’মিনীন” হওয়ার বিষয়টিও প্রকাশিত হচ্ছিল। যেমন, কিতাবে উল্লেখ করা হয়-

সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল ফযীলত



সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত সুমামা ইবনে হাযন কুশাইরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, (যখন বিদ্রোহীরা সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার গৃহ অবরোধ করে রেখেছিল, এ সময়) আমি উনার গৃহের কাছে উপস্থিত ছিলাম। যখন সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি গৃহের উপর হতে লোকদের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি তোমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা কি এই ব্যাপারে অবগত আছ যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিজরত করে যখন পবিত্র মদীনা শরীফ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন, তখন ‘রুমার কূপ’ ব্যতীত অন্য কোথাও মিষ্টি পানি পাওয়া যেত না? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন

হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক (৫)



ইতিহাসের কুফরীমূলক একটি দিক:
ইতিহাস ও সীরাত গ্রন্থসমূহে উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ব্যবসা-বাণিজ্যের আলোচনায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে দরিদ্র, গরিব, অভাবী, অসহায়, নিঃস্ব, কপর্দকহীন ইত্যাদি শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! অপর দিকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার কর্মচারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক-৫



سَيِّدُ قُرَيْشٍ (সাইয়্যিদু কুরাইশ)Ñ সমগ্র কুরাইশ উনাদের সাইয়্যিদ, সর্দার: যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত কুরাইশ উনাদের সাইয়্যিদ তথা সর্দার ছিলেন, তাই উনাকে এই সম্মানিত লক্বব মুবারক-এ আহ্বান করা হতো। সুবহানাল্লাহ!
شَيْخُ الْبَطْحَاءِ (শায়খুল বাত্বহা’)Ñ সম্মানিত বাত্বহা’ তথা সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার শায়েখ: বাত্বহা’ হচ্ছেন সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার একখানা সম্মানিত নাম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত মক্কা শরীফবাসী উনাদের সকলের শায়েখ তথা সাইয়্যিদ ছিলেন। সকলেই উনার আদেশ-নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী চলতেন। সুবহানাল্লাহ! তাই তিনি আরব-অনারবের তথা সারা পৃথিবীতে ‘শায়খুল বাত্বহা’ লক্বব মুবারক-সুপরিচিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! 
مُجَابُ الدعوة (মুজাবুদ দা’ওয়াহ বা মুস্তাজাবাদ দা’ওয়াত)Ñ এমন সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক, যিনি দোয়া মুবারক করার সাথে সাথে, উনার দোয়া মুবারক কবূল করা হয়: এই সম্পর্কে ‘সীরাতে হালবিয়্যাহ শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, 

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক-১


হাফাদাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আসবাত্ব (নাতি) আলাইহিমুস সালাম এবং সিবত্বাত (নাতনী) আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা মোট ৮ জন। উনাদের মধ্যে হযরত আবনা’ (ছেলে) আলাইহিমুস সালাম উনারা ৪ জন এবং হযরত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ৪ জন। হযরত আবনা’ আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই অল্প বয়স মুবারক-এ তথা সম্মানিত দুধ মুবারক পানরত অবস্থায় মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। আর হযরত বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার যুগ পেয়েছেন, সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন, সম্মানিত মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক করেছেন এবং উনাদের সম্মানিত শাদী মুবারকও হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! উনাদের মধ্যে একমাত্র বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্যান্য যাঁরা রয়েছেন অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম উনার, সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বইয়্যাহ আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাদের প্রত্যেকেরই আওলাদ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! 

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...