Tuesday, March 29, 2016

সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সাইয়্যিদাতুন নিসা লক্বব মুবারক


হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সকলেই সাইয়্যিদাতুন নিসা। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উনাদের সকলকে এই লক্বব মুবারকে ভূষিত করা হয়েছে। অনুরূপভাবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক শানে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عائشة عليها السلام ان النبى صلى الله عليه وسلام قال وهو فى مرضه الذى توفى فيه يا فاطهة عليها السلام الا ترضين ان تكونى سيدة نساء العالـمين وسيده نساء هذه الامة وسيدة نساء الـمؤمنين.
অর্থ:- “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্বোধন করে ইরশাদ মুবারক করলেন যে, আপনি কি সন্তুষ্ট নন। আপনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন তথা সারা কায়িনাতের মহিলাদের সাইয়্যিদাহ। আপনি এই উম্মতের মহিলাদের সাইয়্যিদাহ। আপনি মু’মিন মহিলাদের সাইয়্যিদাহ।” সুবহানাল্লাহ! (আল মুসতাদারাক)
মূল কথা হচ্ছে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি দুনিয়া ও আখিরাত উভয়কালে মাখলুকাতের সমস্ত মহিলাদের সাইয়্যিদাহ। অর্থাৎ সমস্ত মহিলাদের উপর উনার আধিপত্য। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা:
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সর্বপ্রথম সম্পন্ন করেন হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা। সেই সময়ে হযরত আহলু বাইত শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন- উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম, বিনতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলসুম আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম। এ সংবাদ শুনার সাথে সাথে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম তিনিও উনার শ্বশুরবাড়ি থেকে এসে তিনিও দ্বীন ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
মুবারক খিদমতে বেমেছাল আঞ্জাম:
আনুষ্ঠানিক নবুওয়াত প্রকাশকালে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক প্রায় ৩ বছর। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত মুবারক ঘোষণার পর হতেই কাফিররা যুলুম শুরু করে। কাফিরদের যুলুম নির্যাতন চরম পর্যায় পৌঁছে যায়। শারীরিক-মানসিকসহ সর্বপর্যায়ে তারা তাদের এই নির্যাতন চালিয়ে যায়। আর কঠিন সময়ে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মুবারক খিদমতের বেমেছাল আঞ্জাম দিয়েছেন। সেই সময়ে উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যদিও কম, তথাপি তিনি যে খিদমত মুবারক করেছেন, তা সকলকে চমকিয়ে দিতেন। এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ অনেক ঘটনা বর্ণিত রয়েছে। যেমন- পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- 
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رضى الله تعالى عنه قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ يُصَلِّي عِنْدَ الْكَعْبَةِ، وَجَمْعُ قُرَيْشٍ فِي مَجَالِسِهِمْ إِذْ قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ أَلاَ تَنْظُرُونَ إِلَى هَذَا الْمُرَائِي أَيُّكُمْ يَقُومُ إِلَى جَزُورِ آلِ فُلاَنٍ، فَيَعْمِدُ إِلَى فَرْثِهَا وَدَمِهَا وَسَلاَهَا فَيَجِيءُ بِهِ، ثُمَّ يُمْهِلُهُ حَتَّى إِذَا سَجَدَ وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ فَانْبَعَثَ أَشْقَاهُمْ، فَلَمَّا سَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ، وَثَبَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَاجِدًا، فَضَحِكُوا حَتَّى مَالَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ مِنَ الضَّحِكِ، فَانْطَلَقَ مُنْطَلِقٌ إِلَى فَاطِمَةَ ـ عَلَيْهَا السَّلاَمُ ـ وَهْىَ جُوَيْرِيَةٌ، فَأَقْبَلَتْ تَسْعَى وَثَبَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَاجِدًا حَتَّى أَلْقَتْهُ عَنْهُ، وَأَقْبَلَتْ عَلَيْهِمْ تَسُبُّهُمْ، فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ قَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ،
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদা পবিত্র কা’বা শরীফ উনার সামনে পবিত্র নামায আদায় করছিলেন। পাশেই কুরাইশদের তথাকথিত নেতারা একত্রিত হয়েছিল। তখন তাদের একজন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে ইশারা করে বললো, তোমরা কি উনাকে দেখছ না? তোমাদের মাঝে এখন কে আছে যে, অমুক গোত্রের উট যবেহ করার স্থানে যেতে রাযী আছে? সেখান হতে উটের গোবর, রক্ত এবং নাড়ী-ভূড়ি নিয়ে এসে অপেক্ষায় থাকবে। যখন তিনি সেজদা মুবারক দিবেন, তখন উটের সেই ময়লাগুলো উনার কাঁধ মুবারকে রেখে আসবে। নাউযুবিল্লাহ! এ কাজের জন্য তাদের সর্বনিকৃষ্ট এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো এবং উটের ময়লাগুলো নিয়ে আসলো।
নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন সিজদা মুবারক দিলেন, তখন সেই চরম নিকৃষ্ট কাফিরটি উনার পবিত্র কাঁধ মুবারকে উটের সেই নাড়ি- ভূড়িগুলো দিয়ে দিলো। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র কাঁধ মুবারকে এই ময়লাগুলো চাপিয়ে দেয়ায় তিনি উনার সিজদা মুবারক দীর্ঘায়িত করতে লাগলেন। আর এই পরিস্থিতি দেখে সেই কাফিরগুলো হাসাহাসি করতে লাগলো। হাসাহাসি করতে করতে তারা একজনের গায়ের উপর অপরজন পড়ে যেতে লাগলো। নাউযুবিল্লাহ! এমতাবস্থায় কেউ একজন সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট এই করুণ সংবাদ পৌঁছালো। তখন উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক খুবই কম। তিনি সংবাদ পাওয়া মাত্রই অত্যধিক দ্রুত গতিতে সেখানে উপস্থিত হলেন। তখনও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সিজদা মুবারকেই অবস্থান করছিলেন। সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাঁধ মুবারক হতে উটের নাড়ী-ভূড়িগুলো সরিয়ে দিলেন। তিনি কাফিরদের প্রতি অত্যধিক জালালী শান মুবারক প্রকাশ করলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র নামায শেষ করে দোয়া মুবারক করলেন, আয় আল্লাহ পাক! কুরাইশ কাফিরদেরকে ধ্বংস করুন। (বুখারী শরীফ)
উপরোক্ত ঘটনা দ্বরা সুস্পষ্ট যে, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন। আর এজন্যই উনার লক্বব মুবারক হলো ‘উম্মু আবীহা’। একজন মাতা উনার সন্তান উনার যেরূপ সার্বিক খিদমতের আঞ্জাম দিয়ে থাকেন, তেমনি তিনি খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...