Thursday, March 3, 2016

সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক



সম্মানিত পরিচিতি মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টিজগতে যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এবং শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার দিক থেকে সর্বোচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত উনাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন সাইয়্যিদুন নাস, সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, আল ফাইয়্যায, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুল কায়িনাত, জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন ঈমান। উনার সবচেয়ে বড় পরিচয় মুবারক হচ্ছেন, তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত দাদাজান আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তাই মুজাদ্দিদে আ’যম সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত ফতওয়া মুবারক দিয়েছেন যে, “সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, আল ফাইয়্যায, যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ, মুত্ব‘ইমুল ইন্সি ওয়াল ওয়াহ্শি ওয়াত ত্বইর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক জানা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য ফরযে আইন।” সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে আমারা এখানে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক আলোচনা করার নিয়াত করেছি। মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানিত ক্বদম মুবারক-এ চুমু খেয়ে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে হাক্বীক্বী তাওয়াল্লুক্ব-নিছবত মুবারক, ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ, ইলম, ইখলাছ, ইছলাহী ও দয়া, দান, ইহসান মুবারক ভিক্ষা চেয়ে শুরু করছি। 

সম্মানিত বংশীয় পবিত্রতা মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَتَقَلُّبَكَ فِى السَّاجِدِيْنَ
অর্থ: “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনার স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়টি ছিল সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা শুয়ারা শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ২১৯)
‘তাফসীরে কবীর শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, 
فَالْاٰيَةُ دَالَّـةٌ عَلـٰى اَنَّ جَمِيعَ آبَاءِ مُحَمَّدٍ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ كَانُوْا مُسْلِمِيْنَ
অর্থ: “এই সম্মানিত আয়াত শরীফ থেকে প্রমাণিত হয় যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই মুসলমান ছিলেন, ঈমানদার ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর শরীফ ১৩/৩২) 
اِنَّهٗ كَانَ يَنْقُلُ نُوْرهُ مِنْ سَاجِدٍ إِلَى سَاجِدٍ
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নূর মুবারক সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর শরীফ ১৩/৩২, মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ শরীফ ১/১০৪, শরহুয যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব ১/৩২৬, তারীখুল খমীস ১/২৩৪, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَمْ اَزَلْ اُنْقَلُ مِنْ اَصْلَابِ الطَّاهِرِيْنَ اِلى اَرْحَامِ الطَّاهِرَاتِ
অর্থ: “আমি সবসময় পূত-পবিত্র পুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে পূত-পবিত্রা মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মানিত রেহেম শরীফ মুবারক-এ স্থানান্তরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ!
এখান থেকেই সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বংশীয় পবিত্রতা মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! 
সম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম: 
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা ছিলেন সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আজম, সাইয়্যিদু কুরাইশ, মাহবূবে এলাহী, আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনারা ছিলেন চার ভাই-
১. সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম,
২. সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুশ শামস ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম,
৩. সাইয়্যিদুনা হযরত মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম,
৪. নাওফিল ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম।
কেউ কেউ বলেছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন উনার ভাই উনাদের মধ্যে সকলের বড়। আবার কেউ কেউ ভিন্ন মতও পোষণ করেছেন।
আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন উনার পিতার নিকট সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তিত্ব মুবারক। তিনি আল জাদ্দাতুছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আতিকাহ বিনতে মুররাহ আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে সম্মানিত মক্কা শরীফ-এ মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
তিনি কুরাইশ বংশের বনু হাশিম শাখার সম্মানিত প্রথম পুরুষ। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত নাম মুবারক ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত আমর আলাইহিস সালাম। উনার সীমাহীন সম্মান ও মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার কারণে উনাকে ‘আমরু ‘উলা বা আমরুল ‘আলী’ বলে সম্বোধন করা হতো। সুবহানাল্লাহ! তিনি সকলের মাঝে হাশিম আলাইহিস সালাম হিসেবে পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেন। এর কারণ হিসেবে সীরাতগ্রন্থসমূহে অনেক বর্ণনা রয়েছে। অনেকের মতে তিনি মক্কা শরীফ-এ দুর্ভিক্ষের সময় রুটি টুকরা টুকরা করে ছারীদ তৈরি করে সবাইকে খাওয়ান, যার কারণে তিনি সকলের মাঝে হাশিম হিসেবে পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেন। কেননা ‘হাশমুন’ শব্দ মুবারক উনার অর্থ মুবারক হচ্ছেন, চূর্ণ করা, গুঁড়ো করা, টুকরো করা ইত্যাদি। আর সেখান থেকে ‘হাশিম’। অর্থ- টুকরাকারী, গুঁড়োকারী, চূর্ণকারী।
তিনি ছিলেন বেমেছাল দানশীল। উনার বদান্যতার বিষয়টি আরব এবং অনারব তথা সারা পৃথিবীতে প্রসিদ্ধ ছিলো।
তিনিই সর্বপ্রথম কুরাইশদের জন্য শীত ও গ্রীষ্মকালীন দুটি বাণিজ্য সফর প্রচলন করেন। সুবহানাল্লাহ! যেই বিষয়টি স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার ‘সম্মানিত সূরা কুরাইশ শরীফ’ উনার মধ্যে আলোচনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আবার তিনিই সর্বপ্রথম মক্কা শরীফ-এ হাজীদেরকে ছারীদ দ্বারা আপ্যায়ন করেন। সুবহানাল্লাহ!
আল জাদ্দুছ ছানী সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত পিতা আল জাদ্দুছ ছালিছ সাইয়্যিদুনা হযরত আবদু মানাফ ইবনে কুছই আলাইহিস সালাম উনার পর রিফাদাহ ও সিক্বায়াহ তথা হাজীদের খাদ্য খাওয়ানো ও পানি পান করানোর দায়িত্ব মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী। এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, 
وكان من أحسن الناس وأجملهم
অর্থ: “তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বোত্তম ও সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সীরাতি খইরিল ইবাদ ১/২৭০)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
كان النور يرى على وجهه كالهلال يتوقّد، لا يراه أحد إلا أحبّه وأقبل نحوه.
অর্থ: “চাঁদ যেরূপ প্রজ্বলিত হয়, তদ্রƒপ সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত চেহেরা মুবারক-এ সম্মানিত নূর মুবারক তথা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রজ্বলিত অবস্থায় দেখা যেতো। সুবহানাল্লাহ! যে কেউ সেই সম্মানিত নূর মুবারক দেখতো, সে উনাকে মুহব্বত না করে পারতো না এবং সে উনার নিকট চলে আসতো।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সীরাতি খইরিল ইবাদ ১/২৭০)

No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...