سَيِّدُ قُرَيْشٍ (সাইয়্যিদু কুরাইশ)Ñ সমগ্র কুরাইশ উনাদের সাইয়্যিদ, সর্দার: যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত কুরাইশ উনাদের সাইয়্যিদ তথা সর্দার ছিলেন, তাই উনাকে এই সম্মানিত লক্বব মুবারক-এ আহ্বান করা হতো। সুবহানাল্লাহ!
شَيْخُ الْبَطْحَاءِ (শায়খুল বাত্বহা’)Ñ সম্মানিত বাত্বহা’ তথা সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার শায়েখ: বাত্বহা’ হচ্ছেন সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার একখানা সম্মানিত নাম মুবারক। সুবহানাল্লাহ! যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত মক্কা শরীফবাসী উনাদের সকলের শায়েখ তথা সাইয়্যিদ ছিলেন। সকলেই উনার আদেশ-নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী চলতেন। সুবহানাল্লাহ! তাই তিনি আরব-অনারবের তথা সারা পৃথিবীতে ‘শায়খুল বাত্বহা’ লক্বব মুবারক-সুপরিচিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
مُجَابُ الدعوة (মুজাবুদ দা’ওয়াহ বা মুস্তাজাবাদ দা’ওয়াত)Ñ এমন সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক, যিনি দোয়া মুবারক করার সাথে সাথে, উনার দোয়া মুবারক কবূল করা হয়: এই সম্পর্কে ‘সীরাতে হালবিয়্যাহ শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
وكَانَ مُجَاب الدعوة
অর্থ: “আর তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন, মুস্তাজাবুদ দা’ওয়াহ তথা মুস্তাজাবুদ দা’ওয়াত।” সুবহানাল্লাহ!
কুরাইশরা বা যেকোনো ব্যক্তি যখন কোন বালা-মুছীবতে পতিত হতো, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসতো এবং উনার নিকট এসে দোয়া চাইতো। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করতেন এবং সাথে সাথে তাদের বালা মুছীবত দূর হয়ে যেতো। সুবহানাল্লাহ! এই জন্য সবাইকে উনাকে ‘মুজাবুদ দা’ওয়াহ বা মুস্তাজাবাদ দা’ওয়াত’ বলে সম্বোধন করতো। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে কিতাবে অনেক ঘটনা বর্ণিত রয়েছে। যেমন বর্ণিত রয়েছে,
وكانت قريش اذا اصابها قحط شديد تاتى عبد المطلب عليه السلام فتستسقى به فيسقون
অর্থ: “আর কুরাইশরা যখন অনাবৃষ্টির কারণে কঠিন দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হতো, তখন তারা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসতো। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বৃষ্টির জন্য দোয়া করতেন এবং সাথে সাথে বৃষ্টি বর্ষিত হতো।” সুবহানাল্লাহ!
ফলে কুরাইশরা কঠিন দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি পেতো। সুবহানাল্লাহ!
আর সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার সম্মানিত গিলাফ মুবারক ধরে আবরাহার ও তার হস্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে বদোয়া করা এবং বদদোয়া মুবারক উনার বদৌলতে আবরাহা ও তার হস্তিবাহিনী পরিপূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা মুবারকখানা সমস্ত সীরাতগ্রন্থেই উল্লেখ রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, এই ঘটনা মুবারক উনাকে কেন্দ্র করে, স্বয়ং যিনি খালিক্ব রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ‘সম্মানিত সূরা ফীল শরীফ’ নামে আলাদাভাবে একখানা সূরা শরীফ নাযিল করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যা সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীমাহীন শান-মান, ফাযায়িল-ফযীল, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
এই সংক্রান্ত ঘটনা মুবারকখানা পরে বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে ইনশাআল্লাহ।
সুতরাং সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, তা সমস্ত জিন-ইনসান ও তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার বাইরে। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে ছহীহ সমঝ দান করুন। আমীন!
No comments:
Post a Comment