মুবারক শৈশব ঃ
তিনি হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম ও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোলে অত্যন্ত স্নেহ ও আদরে লালিত পালিত হন।নুবুওওয়াত প্রকাশের ৭ম বছরে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরতফাতিমা বিনতে আসাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা, হযরত আলী আলাইহিসসালাম ও বনু হাশিমের কয়েক ব্যক্তি শিয়াবে আবী তালিব নামে এক গিরিপথেঅবস্থান গ্রহণ করেন। অল্প বয়স্ক হয়েও ওইস্থানে অবরুদ্ধ অবস্থায় অবর্ণনীয়দুঃখ কষ্টে পিতা-মাতা এবং বংশের অন্যদের সঙ্গে অবস্থান করে জিহাদেরকঠিন পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন। কাফিরদের অবরোধ শেষ হলে নুবুওওয়াতপ্রকাশের ১০ম বর্ষে পবিত্র রমযান মাসে হযরত যাহরা আলাইহাস সালামউনার আম্মা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম বিছাল শরীফ লাভকরেন। চাচা আবু তালিবও ইতোমধ্যে ইন্তিকাল করেন। এমতাবস্থায় হযরতআলী আলাইহিস সালাম উনার মাতা হযরত ফাতিমা বিনতে আসাদরদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উপরোক্ত মুরব্বীদের শূন্যস্থান পূরণ করেন। হযরতফাতিমা বিনতে আসাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা চল্লিশ বৎসর পূর্বে হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শৈশবে লালন পালন করেছিলেন।এখন তিনি হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম
উনার দেখাশুনায় আত্মনিয়োগকরলেন। সাত বছর বয়স মুবারক হতে হযরত যাহরা আলাইহাসসালাম গৃহের কাজ কর্ম এবং পিতার খিদমত করতে লাগলেন এবং হযরতফাতিমা বিনতে আসাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার কাজেও সাহায্যসহযোগিতা করতেন। তিনি উনার সম্মানিতা মাতার স্থলাভিষিক্তও ছিলেন।তাই রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত এবং বিভিন্নকাজে সাহায্য করতেন।
হাদীছ শরীফ-এ ও ইতিহাসে উল্লেখ আছে যে, একদিন নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মসজিদুলহারামে নামায পড়ছিলেন। তখন আবু জেহেল উনাকে ঠাট্টা বিদ্রূপ করতেলাগল এবং এক পর্যায়ে সে একজনকে বলল: অমুক স্থান হতে উটের নাড়িভুঁড়িনিয়ে এসো। নাড়িভুঁড়ি আনা হলে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামযখন সিজদায় গেলেন, তখন আবু জেহেল উনার পিঠের উপর রেখে দিল।হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম সংবাদ পেয়ে অল্প বয়স্কা হওয়া সত্ত্বেও বাড়িহতে মসজিদুল হারামে আসলেন এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার পিঠ মুবারকের উপর হতে উক্ত নাড়িভুঁড়ি নামিয়ে ফেললেন।
হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন তায়িফ গমনকরেন তখন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম পবিত্র মক্কা শরীফ-এ ছিলেন।তায়িফ হতে তিনি অবসন্ন এবং দুশমনদের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় ফিরেআসেন। হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তখনও উনার সেবা শুশ্রূষা করেন।
হিজরত ঃ
নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মদীনাশরীফ-এ হিজরত করছিলেন তখন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম অসাধারণসাহসিকতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। নূরেমুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শয্যায় হযরতআলী আলাইহিস সালাম উনাকে রেখে মক্কা শরীফ হতে হিজরত করেন। সকালবেলায় হযরত আলী আলাইহিস সালাম এক একটি আমানত উহার মালিকেরনিকট পৌঁছিয়ে দিলেন। নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার গৃহ হতে অন্যান্য কতিপয় মহিলাসহ হযরত যাহরা আলাইহাসসালাম স্বদেশ ত্যাগের উদ্দেশ্যে সফরের আসবাবপত্র তৈরি করলেন। উনারমধ্যে কোনরূপ ভয়-ভীতি, আবেগ-উৎকন্ঠা, দীর্ঘ সফরের দুশ্চিন্তা কিংবাশত্রুর আক্রমণের ভয়ের চিহ্ন ছিল না। মহিলাদিগের কাফিলা নিয়ে হযরতআলী আলাইহিস সালাম তরবারি হাতে রওয়ানা হলেন। উটের উপর ছিলেনহযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত ফাতিমা বিনতে আসাদরদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা, হযরত ফাতিমা বিনতে যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহুতায়ালা আনহা, হযরত ফাতিমা বিনতে হামযা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা।একই নামের একাধিক মহিলাকে একসঙ্গে নেয়ার উদ্দেশ্য সম্ভবতঃ ইহাই ছিলযে, রসূল তনয়া যেন শত্রুর আক্রমণ হতে রক্ষা পান। (অবশ্য একসঙ্গে নূরেমুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিবারেরঅন্যান্য সদস্যগণ উনারাও ছিলেন)। হযরত আলী আলাইহিস সালাম তিনিমহিলাদেরকে সঙ্গে নিয়ে শত্রুদের সম্মুখে বিপদসঙ্কুল রাস্তা অতিক্রম করছিলেন।দাজনান নামক স্থানে কয়েকজন অশ্বারোহী কাফিলা বাধা দেয়ার চেষ্টা করে,কিন্তু শেরে খোদা হযরত আলী আলাইহিস সালাম তিনি তাকবীর দিয়েতরবারি কোষমুক্ত করলে আক্রমণকারীরা ভয়ে পালিয়ে যায়। উনারানিরাপদে পবিত্র মদীনা শরীফ-এর উপকন্ঠে কুবায় পৌঁছে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে হাজির হলেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী আলাইহিস সালাম উনাকে অভ্যর্থনাজানালেন এবং সকলকে সঙ্গে নিয়ে মদীনা শরীফ-এ প্রবেশ করলেন।
অন্য এক বর্ণনা মতে দেখা যায়, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামতিনি হযরত যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আবু রাফি’রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে মক্কা শরীফ-এ প্রেরণ করেন উনারআত্মীয় ও পরিবার-পরিজনকে মদীনা শরীফ-এ আনার জন্য। সম্ভবতউনারাও এক সঙ্গে ছিলেন।
শাদী মুবারক ঃ
পবিত্র বদর জিহাদের পর (২ হিজরী) জিলহজ্জ মাসে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার শাদীমুবারক-এর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে এ অনুষ্ঠানসমাপ্ত হয়। নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারকন্যার মোহর ধার্য করেন পাঁচশত দিরহাম। এ পরিমাণ মোহর এখনওবরকতময় বলে গণ্য করা হয় যা ‘মহরে ফাতিমী’ হিসেবে মশহুর। স্বামীগৃহেতুলে দেয়ার সময় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীয়াহিসেবে দশটি জিনিস প্রদান করেন। শয়ন চৌকী, দুইটি তোষক, একটি চাদর,পানির পাত্র, মশক, কলসি, বদনী, মাটির দুইটি পাত্র, একটি কাঠের পেয়ালাও যাঁতা মুবারক। হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সহযাত্রীদের সাথেহযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন নাস সালাম উনারা এবং বনী হাশিম ওআনছারদিগের মহিলাগণ সানন্দে বরের ঘর পর্যন্ত গমন করেন।
মুবারক সম্মানিত সন্তান–সন্ততি ঃ
১৫ই শা’বান ৩য় হিজরী সনে হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনিবিলাদত শরীফ লাভ করেন। ৪র্থ হিজরী শাবান মাসে হযরত ইমাম হুসাইনআলাইহিস সালাম তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেন। সম্ভবতঃ ৫ম হিজরীতেহযরত জয়নব আলাইহাস সালাম, ৬ষ্ঠ হিজরীতে হযরত রোকাইয়া আলাইহাসসালাম, ৭ম হিজরী সনে হযরত উম্মে কুলছুম আলাইহাস সালাম এবং ৯মহিজরী সনে হযরত মুহসিন আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদত শরীফ লাভকরেন।
ফযীলত ও বুযূর্গী ঃ
হযরত মুহাদ্দিছীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাহিম উনারা এ ব্যাপারে ঐকমত্যপোষণ করেছেন যে, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার আকৃতি ওপ্রকৃতি, চলাফেরা এবং কথাবার্তায় হুবহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার প্রতিচ্ছবি ছিলেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বাআলাইহাস সালাম বলেন, উঠা-বসা, চালচলন ও আচার ব্যবহারে হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে অধিক সামঞ্জস্যশীল হযরত যাহরাআলাইহাস সালাম অপেক্ষা আর কাউকে আমি দেখিনি। (তিরমিযী শরীফ)
হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার বিলাদত শরীফ-এর কিছুদিনপরই উহুদের জিহাদ সংঘটিত হয়। তখন হযরত যাহরা আলাইহাস সালামউনার কোল মুবারকে ছিলেন নবজাতক। এতদসত্ত্বেও তিনি হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহত হওয়ার সংবাদ পেয়ে জিহাদেরময়দানে ছুটে যান। স্বহস্তে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারক্ষতস্থান ধৌত করেন এবং ওষুধ লাগিয়ে দেন।
হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম যাঁতা দিয়ে গম পেষণ করতেন,খাবার রান্না করতেন, ঘর গৃহস্থালীর কাজকর্ম, সন্তানদিগের লালন পালন,স্বামীর খিদমত ও উনার কাজে সহযোগিতা এবং পিতার জিহাদের যাতায়াতেরপ্রস্থতিমূলক কাজকর্ম করতেন। এ সকল দায়িত্ব এমন সুষ্ঠু ও সূচারুরূপে সম্পন্নকরতেন, যার ফলে সন্তানগণ উত্তম সন্তানে পরিণত হয়েছেন, স্বামী সর্বদাসন্তুষ্ট রয়েছেন, পিতা সর্বদা স্নেহপ্রবণ রয়েছেন। খন্দকের জিহাদে ঘরের সকলপুরুষ জিহাদের ময়দানে ছিলেন। হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম একদিন গৃহেরুটি তৈরি করে জিহাদের ময়দানে গিয়ে পিতাকে খেতে দিয়েছিলেন। নূরেমুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকদিনধরে খন্দক খোঁড়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কন্যার এ কাজে খুশি হয়ে হাবীবুল্লাহহুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: শুকরিয়া হে আমারআওলাদ! আজ তিন দিন পর আমি এ খাবার খেলাম।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরতযাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে উম্মতের সকল মহিলা অথবা মু’মিনদেরসকল মহিলার ‘সাইয়্যিদাহ’ বলে উল্লেখ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারীশরীফ)
বিছাল শরীফ ঃ
হিজরী ১১ সনের প্রথম দিকে মুহররমের পর নূরে মুজাসসাম হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কয়েক দিনেরমধ্যে অর্থাৎ ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ তিনি পবিত্র বিছাল শরীফ লাভকরেন। এতে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি শোকে দুঃখে কাতর হয়েপড়েন। এ শোক উনার বিছাল শরীফ-উনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ-উনার পরে মাত্র ছয় মাসযমীনে ছিলেন। ওয়াকিদীর বর্ণনা মতে, তিনি হিজরী ১১ সনে ৩রা রমাদ্বানশরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি (সোমবার) বাদ আছর বিছাল শরীফলাভ করেন। বিছাল শরীফ-এর পূর্বে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিহযরত আসমা বিনতে উমায়েছ আলাইহাস সালাম উনাকে ওছিয়ত করে যানযে, ইহা মহিলা অথবা পুরুষের জানাযা তা যেন কেউ বুঝতে না পারে এবংউনাকে যেন রাত্রে দাফন করা হয় যাতে উনার শরীর মুবারক দেখা না যায়।উনার জানাযার নামায হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পড়ান। উনারমাযার শরীফ পবিত্র জান্নাতুল বাকীতে অবসি‘ত।
পরিশেষেঃ
হযরত ফাতিমাতু যাহরা আলাইহাস সালাম — তিনি দোআলমে সকল মহিলারসাইয়্যিদাহ, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার লখতে জিগার,হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিসসালাম, উনাদের সম্মানিতা মাতা, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,উনার অত্যন্ত স্নেহময়ী কন্যা এবং উনার সর্বপ্রথম আহলিয়া হযরত খাদীজাতুলকুবরা আলাইহাস সালাম, উনার চার কন্যার একজন। তিনি রসূলুল্লাহছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সর্ব কনিষ্ঠা কন্যা ছিলেন। উনার পবিত্রমুখ মণ্ডল মুবারকের পবিত্রতম দীপ্তি ও লাবণ্যের কারণে উনাকে ‘‘আয-যাহরা’’ বলা হত। যেমনিভাবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,উনার কোন পুত্র সন্তানই জমিনে থাকেননি, তদ্রূপ উনার অপরাপর কন্যাদেরথেকে উনার বংশীয় ধারা জারি না হয়ে কেবল সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরতফাতিমা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বংশধারা চালু হয়েছে। মূলত তিনিআহলে বাইত উনাদের অন্যতম। মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলে বাইতসম্পর্কে ইরশাদ করেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি(উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট নুবুওওয়াতের দায়িত্ব পালনেরকোন প্রতিদান চাইনা। তবে আমার নিকটজন তথা আহলে বাইতগণ উনাদেরপ্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (সূরা শূরা/২৩) এ আয়াত শরীফ-এরব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত তাফসীর “তাফসীরে মাযহারী” ৮ম জিলদ ৩২০ পৃষ্ঠায়বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেন, “আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাইনা তবে তোমরাআমার নিকটাত্মীয়, আহলে বাইত ও বংশধরগণ উনাদের (যথাযথ সম্মানপ্রদর্শন পূর্বক) হক্ব আদায় করবে। কেননা, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন শেষ নবী। উনার পরে কোননবী নেই।” শরীয়তের দৃষ্টিতে আহলে বাইত উনাদেরকে মুহব্বত করা ফরয।আর উনাদের প্রতি বিন্দু থেকে বিন্দুতম বিদ্বেষ পোষণ করা কুফরী। তাইসকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- উনাকে যথাযথ মুহব্বত ও পরিপূর্ণঅনুসরণ অনুকরণ করা এবং মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের উভয়ের সন্তুষ্টি হাছিল করা।
No comments:
Post a Comment