আরবী মাসসমূহের ষষ্ঠ মাস হচ্ছে “জুমাদাল উখরা।” ‘জুমাদা’ শব্দটি মুয়ান্নাছ(স্ত্রী লিঙ্গ) তার অর্থ ‘জমাট পানি’ বা ‘বরফ।’ সে হিসেবে তার পরে “উখরা”শব্দটিও ‘আখির’ শব্দ থেকে মুয়ান্নাছ এবং এর অর্থ শেষ।
অধিকাংশ মতে আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের প্রায় তিন বৎসর পূর্বে (নূরেমুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারদুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক ৩৭ বছর এর সময়) ২০শে জুমাদাল উখরাজুমুয়ার দিন ছুবহি ছাদিকের সময় যমীনে আগমন করেন তামাম জাহানেরদোআলমে নারীকূল শিরোমণি খাতুনে জান্নাত সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরতফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম। (সুবহান আল্লাহ)
তিনি হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে আগমনকৃতনূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারসর্বকনিষ্ঠা কন্যা আলাইহাস সালাম ছিলেন।
নামকরণ ও লক্বব মুবারকক
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং উনার এইউত্তম কন্যা আলাইহাস সালাম উনার নাম মুবারক রাখেন ফাতিমা আলাইহাসসালাম। এটি উনার মূল নাম মুবারক। এছাড়াও আরো অসংখ্য লক্বব বাগুণবাচক নাম মুবারক-এ তিনি পরিচিত হয়ে আছেন। তারমধ্যে যেমন-সাইয়্যিদাহ, ত্বাহিরাহ, যাহরা, যাকিয়াহ, রদ্বিয়াহ, মারদ্বিয়াহ, উম্মু আবিহা ওবতুল।
“সাইয়্যিদাহ” অর্থ শ্রেষ্ঠা, সরওয়ার। তিনি এ লক্ববে ভূষিত হয়েছিলেন একারণে যে, ‘তিনি দুনিয়ায় যেমন নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারিণী তেমনিবেহেশতেও তিনি হবেন নারী কূলের সাইয়্যিদাহ।” সুবহানাল্লাহ!
“ত্বাহিরাহ”- ত্বাহিরাহ অর্থ পবিত্রা। এ লক্ববটি বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয়প্রকার পবিত্রতার সাথে সম্পর্কযুক্ত। এ লক্ববটি হাদিয়া দেয়ার একটা কারণহলো এই যে, মহিলাদের সন্তান হওয়ার পর নামায তরক করতে হয়। কিন্তুউনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত। আছরের নামায পড়ার পর উনার আওলাদআলাইহিমুস সালাম উনাদের বিলাদত শরীফ হয়েছে। অতঃপর মাগরিব থেকেযথারীতি তিনি নামায আদায় শুরু করেন। অর্থাৎ তিনি উনার আওলাদআলাইহিস সালাম উনাদের বিলাদত শরীফ-এর পূর্ব ওয়াক্ত এবং পরবর্তীওয়াক্ত নামায পড়েছেন। উনার এক ওয়াক্ত নামাযও তরক্ব হয়নি।সুবহানাল্লাহ!
“যাহরাহ”- অর্থ কুসুমকলি বা ফুল। বাস্তবিক পক্ষে তিনি একটি অনুপম সুন্দরসুরভিত কুসুম কলির মতোই রূপে-গুণে সুষমান্ডিত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
“যাকিয়াহ”- অর্থ বুদ্ধিমতি, প্রখর মেধার অধিকারিণী। লক্ববটি দেয়া হয়েছিলএ জন্য যে, তিনি কোন বিষয় শোনা মাত্রই তা আয়ত্ত করে ফেলতেন।সুবহানাল্লাহ!
“রদ্বিয়াহ”-অর্থ সন্তুষ্ট। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদেঅবিচলভাবে তিনি ছিলেন পরিপূর্ণভাবে আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা ও সন্তুষ্টিরউপর পূর্ণ নির্ভরশীল। সুবহানাল্লাহ!
“মারদ্বিয়াহ”- অর্থ সন্তুষ্টিপ্রাপ্তা। এ লক্ববটি এজন্য যে, তিনি মহান আল্লাহপাক উনার সন্তুষ্টি লাভে ধন্য হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
“বতুল”- অর্থ ভোগ- লিপ্সা বর্জনকারিণী। উনার এ লক্ববটি হয়েছিল একারণে যে, তিনি পার্থিব ভোগ-লিপ্সা ইত্যাদি সবকিছুই একেবারে বর্জনকরেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
উনার সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরতফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বেহেশতবাসিনী নারীগণেরসাইয়্যিদা হবেন।” সুবহানাল্লাহ!
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো বলেন, “হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম আমার দেহ মুবারক-উনার অংশ মুবারক।যে ব্যক্তি হযরত সাইয়্যিদাতুন নিসা যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে কষ্ট দেয়সে মূলত আমাকেই কষ্ট দেয়। আর যে উনাকে শান্তি দান করে সে আমাকেইশান্তি দান করে।” এসব হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সাইয়্যিদাতুননিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মর্যাদা এবং ফযীলত কত ঊর্ধ্বে।
No comments:
Post a Comment