Thursday, March 31, 2016

উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার প্রেক্ষাপট:


দ্বিতীয় হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ-এ সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক সংঘটিত হয়। সেই সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ এক হাজার কুরাইশ অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনিও ছিলেন। বস্তুত তিনি উনার অনিচ্ছা সত্ত্বেও কুরাইশদের পিড়াপিড়ির কারণে জিহাদে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি কস্মিনকালেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে বা সম্মানিত মুসলমান উনাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য সেখানে উপস্থিত হননি। কারণ, তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় ভিতরে ভিতরে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তখনও তা প্রকাশ করেননি। যা হোক, যুদ্ধে কুরাইশরা পরাজিত হয়। তাদের ৭০ জন নিহত এবং ৭০ জন বা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক লোক বন্দি হয়। এ সকল বন্দিদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনিও ছিলেন। বন্দিদেরকে যখন সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ নিয়ে যাওয়া হলো, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নির্দেশ মুবারক দিলেন, 

اِسْتَوْصُوْا بِالْاُسَارٰى خَيْرًا
অর্থ: ‘আপনারা বন্দিদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।’ 
উনারা তা করেছিলেন। উনারা নিজেরা খেজুর খেতেন, কিন্তু বন্দিদের রুটি প্রদান করতেন। সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ অগণিত খেজুর গাছ ছিল। সুতরাং খেজুর ছিল সস্তা। কিন্তু গম ও যবের মতো খাদ্যশস্য অধিক মূল্যে খরিদ করতে হতো। তা সত্ত্বেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যথাযথভাবে পালন করেন ও অপরের জন্য ত্যাগের উদাহরণ প্রদর্শন করেন। সুবহানাল্লাহ!
যুদ্ধবন্দিদের হত্যা করা সে সময়ের রীতি ছিলো। এই জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক উনার যুদ্ধবন্দিদের হত্যা করার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে তাদের নিকট থেকে মুক্তিপণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত মুবারক গ্রহণ করেন। এক হাজার থেকে তিন বা চার হাজার দিরহাম প্রত্যেক বন্দি থেকে মুক্তিপণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিলো।
যখন মক্কাবাসীরা অবগত হলো বন্দিদের মুক্তিপণের মাধ্যমে মুক্ত করার সুযোগ রয়েছে, তারা অতিসত্বর সে সুযোগ গ্রহণ করলো। লোকেরা তাদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ দ্রুত সংগ্রহ করলো। যদিও সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি সম্পদশালী ছিলেন, কিন্তু সে সময় উনার নিকট মুক্তিপণের অর্থ ছিলো না। তাই তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার নিকট মুক্তিপণের ব্যবস্থা করার জন্য বার্তা মুবারক পাঠালেন। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত শাদী মুবারক উনার সময় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার থেকে হাদিয়াস¦রূপ যে সম্মানিত হার মুবারকখানা পেয়েছিলেন, সেই সম্মানিত হার মুবারকখানা মুক্তিপণ হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত মুবারক গ্রহণ করলেন। মক্কাবাসীরা মুক্তিপণের অর্থ প্রদানের জন্য সম্মানিত মদীনা শরীফ গমন করলো। তাদের মাঝে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার দূত আমর ইবনে রবী’, যিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার আপন ভাই তিনিও ছিলেন। এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ لَمَّا بَعَثَ اَهْلُ مَكَّةَ فِـىْ فِدَاءِ اَسْرَاهُمْ بَعَثَتْ حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ فِـىْ فِدَاءِ اَبِـى الْعَاصِ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِـمَالٍ وَّبَعَثَتْ فِيْهِ بِقِلَادَةٍ لَّـهَا كَانَتْ عِنْدَ خَدِيْـجَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَدْخَلَـتْهَا بِـهَا عَلـٰى حَضْرَتْ اَبِـى الْعَاصِ عَلَيْهِ السَّلَامُ. قَالَتْ فَلَمَّا رَاٰهَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَقَّ لَـهَا رِقَّةً شَدِيْدَةً وَّقَالَ اِنْ رَاَيْتُمْ اَنْ تُطْلِقُوْا لَـهَا اَسِيْرَهَا وَتَرُدُّوْا عَلَيْهَا الَّذِىْ لَـهَا. فَقَالُوْا نَعَمْ. وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَخَذَ عَلَيْهِ اَنْ يُّـخَلِّىَ سَبِيْلَ حَضْرَتْ زَيْنَبَ عَلَيْهَا السَّلَامُ اِلَيْهِ وَبَعَثَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَرَجُلًا مِّنَ الْاَنْصَارِ فَقَالَ كُوْنَا بِبَطْنِ يَأْجِجَ حَتّٰى تَـمُرَّ بِكُمَا حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَتَصْحَبَاهَا حَتّٰى تَاْتِيَا بِـهَا.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মক্কাবাসীরা মুক্তিপণের অর্থ প্রদানের জন্য সম্মানিত মদীনা শরীফ গমন করলো। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনিও সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার মুক্তি পণ দিয়ে উনার দূত (আমর ইবনে রবী’ উনাকে) প্রেরণ করলেন। মুক্তিপণ হিসেবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি উনার দূতকে কিছু মালসহ সেই সম্মানিত হার মুবারকখানাও দিয়ে প্রেরণ করেছিলেন, যেই সম্মানিত হার মুবারকখানা ছিলো উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার। সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক হওয়ার সময় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উক্ত সম্মানিত হার মুবারকখানা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছিলেন। যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সেই সম্মানিত স্মৃতিবাহী হার মুবারকখানা দেখলেন, তখন তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হলেন। তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বললেন,
اِنْ رَاَيْتُمْ اَنْ تُطْلِقُوْا لَـهَا اَسِيْرَهَا وَتَرُدُّوْا عَلَيْهَا الَّذِىْ لَـهَا
‘যদি আপনারা যথাযথ মনে করেন, তাহলে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার বন্দি তথা সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে মুক্ত করে দিন এবং উনার সম্মানিত হার মুবারকখানাও ফেরত দিন।’
তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আহুম উনারা বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি যা ইরশাদ মুবারক করেছেন, তাই হবে। অর্থাৎ উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকেও মুক্ত করে দিলেন এবং সেই সম্মানিত হার মুবারকখানাও ফেরত দিলেন। সুবহানাল্লাহ! 
অবশ্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে শপথ মুবারক করালেন যে, তিনি সম্মানিত মক্কা শরীফ প্রত্যাবর্তন করার পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত মদীনা শরীফ পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যায়িদ ইবনে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে এবং একজন হযরত আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে পাঠালেন এবং উনাদেরকে বলে দিলেন, আপনারা দু’জন সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার অনতিদূরে ‘বাত্বনে ইয়া’জিজে’ অবস্থান করবেন। যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি সেখানে উপস্থিত হবেন, তখন সেখান থেকে আপনারা উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়ে উনাকে সম্মানিত মদীনা শরীফ নিয়ে আসবেন।” (আবূ দাঊদ, মুসনাদে আহমদ, আস সুনানুল কুবরা লিননাসাঈ, আল মু’জামুুল কাবীর, হাকিম, বাইহাক্বী, মিশকাত ইত্যাদি)

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার স্মরণ মুবারক-এ ক্বাছীদা শরীফ পাঠ:
সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি বেমেছাল মুহব্বত মুবারক করতেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি যখন হিজরত মুবারক করে সম্মানিত মদীনা শরীফ তাশরীফ মুবারক রাখেন, তখন তিনি উনার জুদায়ীর কারণে অত্যন্ত দুঃখে-কষ্টে কালাতিপাত করতে থাকেন। একদা তিনি যখন সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার পাশ দিয়ে সিরিয়া যান, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার স্মরণ মুবারক-এ একখানা ক্বাছীদা শরীফ পাঠ করেন এভাবে, 
ذَكَرْتُ زَيْنَبَ عَلَيْهَا السَّلَامُ لَمَّا وَرَدْتُّ اَرَمَا.... فَقُلْتُ سَقْيًا لِّشَخْصٍ يَّسْكُنُ الْـحَرَمَا
بِنْتُ الْاَمِيْنِ جَزَاهَا اللهُ صَالِـحَةٌ .......وَّكُلُّ بَعْلٍ سَيُثْنِىْ بِالَّذِىْ عَلِمَا
অর্থ: “যখন আমি আরামা নামক স্থানে এসে পৌঁছি, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে স্মরণ হয়। আমি বললাম, যিনি সম্মানিত হেরেম শরীফ বসবাস করছেন, আপনি উনাকে সজীব রাখুন, উনাকে পানি পান করিয়ে ধন্য করুন। অর্থাৎ উনার কাছ থেকে আমার পানি মুবারক পান করতে ইচ্ছা হলো। আল আমীন তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি উত্তম বদলা হাদিয়া করুন। তিনি ছিলেন একজন ছালিহা তথা পুণ্যবতী মহিলা। প্রত্যেক আহাল তথা স¦ামী উনার আহলিয়াহ সম্পর্কে যা ভালো জানেন তাই প্রশংসা মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৪৪, আর রওদ্বুল উনফ ৩/১০৩, যখায়েরুল উক্ববা ১/১৬০, ‘উয়ূনুল আছার ২/৩৬৪, তারীখে দিমাশক্ব ৩/৪৫৪ ইত্যাদি)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি:
ব্যবসা-বাণিজ্যের অভিজ্ঞতা এবং আমানতদারীর জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি বিখ্যাত ছিলেন। হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “অর্থ-বিত্ত, আমানতদারী ও ব্যবসায়ী হিসেবে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার গণ্যমান্য মুষ্টিমেয় ব্যক্তিবর্গ উনাদের অন্যতম ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ!
৬ষ্ঠ হিজরী শরীফ উনার জুমাদাল ঊলা মাসে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি কুরাইশদের ১৭০ উটের একটি বাণিজ্য কাফিলা নিয়ে সিরিয়া যান। বাণিজ্য শেষে সম্মানিত মক্কা শরীফ প্রত্যাবর্তনকালে পথে কাফিলাটি যখন সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছে, তখন এই সংবাদ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ পেশ করা হয়। তিনি ১৭০ জন সদস্যের একটি বাহিনীসহ হযরত যায়িদ ইবনে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে তাদের পশ্চাদগমনের জন্য প্রেরণ করেন। ঈশ নামক স্থানে উভয় কাফিলা মুখোমুখি হন। মুসলিম বাহিনী কুরাইশ কাফিলার বাণিজ্য সম্ভারসহ সকল লোককে বন্দি করেন। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার কোনো ক্ষতি করা হয়নি। 
সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি কাফিলার এই পরিণতি দেখে সম্মানিত মদীনা শরীফ চলে যান এবং সেখানে পৌঁছে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার নিকট নিরাপত্তা মুবারক ত্বলব করেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে নিরাপত্তা মুবারক দিলেন। অন্য কেউ কিছু জানলেন না।
ভোরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে নববী শরীফ-এ ফজর নামাযে দাঁড়ালেন। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি বুলন্দ আওয়াজ মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করলেন, 
اَيُّهَا النَّاسُ اِنّـِــىْ قَدْ اَجَرْتُ حَضْرَتْ اَبَا الْعَاصِ بْنَ الرَّبِيْعِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَلَمَّا سَلَّمَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ صَلَاتِهٖ قَالَ اَيُّهَا النَّاسُ هَلْ سَـمِعْتُمْ مَّا سَـمِعْتُ. قَالُوْا نَعَمْ. قَالَ اَمَا وَالَّذِىْ نَفْسُ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهٖ مَا عَلِمْتُ بِشَىْءٍ مِّـمَّا كَانَ حَتّٰى سَـمِعْتُ مِنْهُ مَا سَـمِعْتُمْ اِنَّهٗ يـُجِيْرُ عَلَى الْمُسْلِمِيْنَ اَدْنَاهُمْ. ثُـمَّ دَخَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلـٰى حَضْرَتْ زَيْنَبَ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَقَالَ اَىْ بُنَيَّةُ اَكْرِمِىْ مَثْوَاهُ. 
অর্থ: “হে লোক সকল, আমি হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে নিরাপত্তা মুবারক দিয়েছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন সম্মানিত নামায মুবারক শেষ করলেন, তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, আমি যা শুনেছি, আপনারাও কি তা শুনেছেন? উনারা সমস¦রে বললেন, জী হ্যাঁ, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা তা শুনেছি। তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, যাঁর কুদরতী হাত মুবারক-এ আমার সম্মানিত প্রাণ মুবারক উনার কসম, এ বিষয়টি আগে আমাকে জানানো হয়নি। 
আমি আপনাদের মতোই এই মাত্র তা শুনলাম। নিশ্চয়ই একজন সাধারণ মুসলমানেরও অধিকার রয়েছে এরূপ নিরাপত্তা প্রদান করার। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ তাশরীফ মুবারক রাখলেন। অতঃপর তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে আমার সম্মানিতা আওলাদ আলাইহাস সালাম, আপনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সম্মানজনক ব্যবহার মুবারক করুন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৪৫, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৯/৯৫, মু’জামুল কাবীর ১৬/২৮২, সিরাতুল হালবীয়া ৩/১৭৬, ইবনে হিশাম ৩/২০৯, যখায়েরুল উক্ববাহ ১/১৫৯ ইত্যাদি)
সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আরজি মুবারক পেশ করলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার আটককৃত বাণিজ্য পণ্য, মাল-সম্পদ ফেরত দেয়ার জন্য। 
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নির্দেশ মুবারক দিতে পারতেন এবং কেউ তা অস¦ীকার করতেন না। কিন্তু তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বললেন,
اِنَّ هٰذَا الرَّجُلَ مِنَّا حَيْثُ قَدْ عَلِمْتُمْ وَقَدْ اَصَبْتُمْ لَهٗ مَالًا فَاِنْ تُـحْسِنُوْا وَتَرُدُّوْا عَلَيْهِ الَّذِىْ لَهٗ فَاِنَّا نُـحِبُّ ذٰلِكَ وَاِنْ اَبَيْتُمْ فَهُوَ فَـىْءُ اللهِ الَّذِىْ اَفَاءَ عَلَيْكُمْ فَأَنْتُمْ اَحَقُّ بِهٖ
অর্থ: “আমার মধ্যে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে যে সম্পর্ক মুবারক সেটা আপনাদের জানা রয়েছে। আপনারা উনার বাণিজ্য সম্ভার, মাল-সম্পদ আটক করেছেন। আপনারা যদি ভালো মনে করেন, তাহলে উনার যা আটক করেছেন, তা উনাকে ফেরত দেন। এটা আমাদের নিকট খুবই পছন্দনীয় হবে এবং এতে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট হবো। আর আপনারা রাজি না হলে তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ হিসেবে সেটা আপনারা ভোগ করতে পারেন। আপনারাই সেই মালের অধিক হক্বদার।” তখন উনারা সমস¦রে বললেন, 
يَا رَسُوْلَ اللهِ بَلْ نَرُدُّهٗ عَلَيْهِ 
“ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বরং অবশ্যই আমরা উনার সমস্ত মাল-সম্পদ ফেরত দিবো।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম ৩/২৬২, আল মু’জামুল কাবীর ১৬/২৮৮, সীরতে হালবীয়া ৩/১৭৬, ইবনে হিশাম ৩/২০৯, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৬/৮৩ ইত্যাদি)
অতঃপর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার সমস্ত মাল-সম্পদ ফেরত দিলেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ এবং সম্মানিত মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক:

এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
ثُـمَّ احْتَمَلَ اِلـٰى مَكَّةَ فَاَدّٰى اِلـٰى كُلِّ ذِىْ مَالٍ مِّنْ قُرَيْشٍ مَّالَهٗ مِـمَّنْ كَانَ اَبْضَعَ مِنْهُ ثُـمَّ قَالَ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ هَلْ بَقِىَ لِاَحَدٍ مِّنْكُمْ عِنْدِىْ مَالٌ لَّـمْ يَأْخُذْهُ قَالُوْا لَا فَجَزَاكَ اللهُ خَيْرًا فَقَدْ وَجَدْنَاكَ وَفِيًّا كَرِيـْمًا قَالَ فَاِنّـِـــىْ اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُـحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَمَا وَاللهِ مَا مَنَعَنِـىْ مِنَ الْاِسْلَامِ عِنْدَهٗ اِلَّا تَـخَوُّفًا اَنْ تَظُنُّوْا اَنِّـىْ اِنَّـمَا اَرَدْتُّ اَخْذَ اَمْوَالِكُمْ فَلَمَّا اَدَّاهَا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ اِلَيْكُمْ وَفَرَغْتُ مِنْهَا اَسْلَمْتُ ثُـمَّ خَرَجَ حَتّٰى قَدِمَ عَلـٰى رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম (উনাকে উনার বাণিজ্য সম্ভার, মাল-সম্পদ ফেরত দেওয়া হলে,) তিনি উনার সমস্ত ধন-সম্পদ নিয়ে সম্মানিত মক্কা শরীফ ফিরে গেলেন। তিনি সেখানে যেয়ে কুরাইশদের প্রত্যেকের মাল-সম্পদ বুঝিয়ে দিলেন। এরপর তিনি কুরাইশদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে আমার নিকট সম্পদ পাবে, অথচ সে তা গ্রহণ করেনি? তারা সমস¦রে বললো যে- না, এমন কেউ নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আপনি একজন ওয়াদা পূরণকারী এবং সম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক। সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি তখন বললেন, তোমরা শুনে রাখো, আমি এখন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলাম। এই বলে, তিনি উনার সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করে পাঠ করলেন, 
فَاِنّـِـــىْ اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُـحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ 
‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি তাছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার আবদ তথা হাবীব এবং রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ সুবহানাল্লাহ! 
এরপর তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত হওয়ার পর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ থেকে একটি মাত্র বিষয় আমাকে নিবৃত্ত রেখেছে। আর তা হচ্ছে, তখন আমি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলে তোমরা বলতে যে, তোমাদের মাল-সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য আমি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছি। এখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে এ বিষয় থেকে উত্তমভাবে মুক্ত করেছেন। তোমাদের সমস্ত পাওনা আমি বুঝিয়ে দিয়েছি। তাই এখন আমি প্রকাশ্যে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করছি। 
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি সেখান থেকে বের হয়ে সম্মানিত হিজরত মুবারক করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত হন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম শরীফ)
সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট বায়াত গ্রহণ করেন এবং প্রকাশ্যে ঈমান আনেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তা দেখে তাকবীর মুবারক দেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার অনেক প্রশংসা মুবারক করেন, ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন, খুশি মুবারক প্রকাশ করেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার অনেক ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর স¦য়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে নিয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ মুবারক-এ যান এবং উনার সাথে অবস্থান মুবারক করার অনুমতি মুবারক প্রদান করেন। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, পূর্বের নিকাহ মুবারকই বহাল ছিলো। নতুন করে আর নিকাহ মুবারক পড়ানো হয়নি। এটাই সর্বাধিক বিশুদ্ধ এবং একমাত্র গ্রহণযোগ্য অভিমত। কেননা সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি পূর্ব থেকেই ঈমানদার ছিলেন। তবে ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন পরে। সুবহানাল্লাহ!


No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...