আল্লামা হাফিয আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহম্মদ মুহিব্বুদ্দীন ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৬৯৪ হিজরী) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব “যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা শরীফ” উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
ان النبي صلى الله عليه وسلم قال أتانى جبريل بِتُفَّاحَةٍ من الجنة فأكلتها وواقعت خديجة فحملت بفاطمة
অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একদা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি জান্নাত থেকে একখানা আপেল মুবারক নিয়ে আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত হন। অতঃপর আমি উক্ত জান্নাতী আপেল মুবারক খাই। এরপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আমার সম্মানিত ছোহবত মুবারক গ্রহণ করেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ ধারণ মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ, তারীখুল খমীস)
এই সম্মানিত ওয়াকেয়া মুবারক দ্বারা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থানকালীন সময়ে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে যে, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থানকালীন সময়ে, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম! হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে একখানা বিশেষ সুসংবাদ মুবারক নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, আপনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ আমার একজন মেয়ে আওলাদ আলাইহাস সালাম তিনি অবস্থান মুবারক করছেন। আমার সম্মানিত বংশ মুবারক উনার মাধ্যম দিয়ে দুনিয়ার যমীনে বিস্তার লাভ করবে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। সুবহানাল্লাহ! আর উনার বংশধরগণ অত্যন্ত দ্বীনদার, পরহেযগার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার আখাচ্ছুল খাছ মাহবূব হবেন। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহিস সালাম তিনি এই সুসংবাদ মুবারক শুনে অত্যন্ত খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থানকালীন সময়ে উনার সম্মানিতা আম্মাজান উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব করেননি:
আমরা জানি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করেন, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম তিনি কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব করেননি। সুবহানাল্লাহ! ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করেন, তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিও কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব করেননি। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
فحملت بفاطمة فقالت انى حملت حملا خفيفا
অর্থ: “অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ ধারণ মুবারক করেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি উনাকে আমার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অতি উত্তমভাবে এবং অতি সহজে ধারণ মুবারক করেছি। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ এতে আমার কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব হয়নি।” সুবহানাল্লাহ! (যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ১/৪৫, তারীখুল খমীস)
সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ থাকা অবস্থায় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সবসময় বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক পেতেন:
সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ থাকা অবস্থায় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সবসময় বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক পেতেন। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
فلما حملت خديجة بفاطمة رضي الله عنها وجدت رائحة الجنة تسعة أشهر فلما أرضعتها انتقلت الرائحة إليها فكان النبي صلى الله عليه وسلم إذا اشتاق إلى الجنة قبل فاطمة
অর্থ: “যখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ ধারণ মুবারক করলেন, তখন থেকে তিনি দীর্ঘ ৯ মাস সম্মানিত বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক পেতে থাকলেন। অতঃপর যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করলেন, তখন উক্ত বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক উনার মাঝে শোভা পেতে থাকলো। সুবহানাল্লাহ! আর যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত জান্নাত উনার প্রতি আগ্রহী হতেন তথা বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক গ্রহণ করার ইচ্ছা মুবারক প্রকাশ করতেন, তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত চুমু মুবারক দিতেন।” সুবহানাল্লাহ! (নুযহাতুল মাজালিস ২/১৭১)
No comments:
Post a Comment