Tuesday, March 29, 2016

শানে উম্মু আবিহা, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম


বিলাদত শরীফ :
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ২০শে জুমাদাল উখরা জুমুয়ার দিন ছুবহি ছাদিকের সময় যমীনে আগমন করেন অর্থাৎ বিলাদত শরীফ লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ! 
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী জিন্দেগীতে বয়স মুবারক যখন ৩৭ বছর সে সময় সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যমীনে আগমন করেন।
উনার বিলাদত শরীফ-এর সময় উনার যিনি মাতা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই বলেন, উনার সন্তান সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন যমীনে আসবেন তার পূর্বেই অনেককে সংবাদ দেয়া হয়েছিল খিদমতের জন্য। কিন্তু এখন যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি মহান রব আল্লাহ পাক তিনি উনার কুদরতী ফায়ছালা কোনো মহিলাই খিদমতের জন্য আসেননি। তিনি একটু চিন্তিত হলেন কী ফায়ছালা হবে? হঠাৎ করে তিনি দেখতে পেলেন চারজন মহিলা উনার হুজরা শরীফ-এ তাশরীফ নিয়েছেন। হুজরা শরীফটা সবসময় তো নূরানী তারপরেও সেটা মনে হচ্ছে উনাদের নূর মুবারক-এর কারণে আরো বেশি আলোকিত হয়ে গেলো। তিনি উনাদেরকে লক্ষ্য করলেন এই মহিলারা কারা? তিনি পরক্ষণে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কারা? এখানে কী কারণে এসেছেন? উনারা বললেন, আমরা এসেছি খিদমতের জন্য। সুবহানাল্লাহ!

চারজন মহিলা- প্রথম যিনি তিনি হচ্ছেন হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম, দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব তিনি হচ্ছেন হযরত আছিয়া আলাইহাস সালাম, তৃতীয়জন হচ্ছেন হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম আর চতুর্থ যিনি তিনি হচ্ছেন হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহাস সালাম উনার বোন হযরত উম্মে কুলসুম আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! 
এই চারজন মহিলা উনারা পরিচয় দিলেন, আমরা এসেছি আপনার সরাসরি খিদমত করার জন্য। যিনি আগমন করবেন তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ। উনার সেই খিদমতের জন্য যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি মহান রব আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে পাঠিয়েছেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, এরপর মহান আল্লাহ পাক যিনি খালিক্ব, মালিক, রব তিনি কুদরতীভাবেই সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার যমীনে আগমনের বিষয়টি কুদরতীভাবে ফায়ছালা করেন। সুবহানাল্লাহ!
লক্বব মুবারক: 
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার লক্বব মুবারক কোটি কোটি, অসংখ্য, অগণিত।
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনি আসসাইয়্যিদাতু অর্থাৎ উনি সকলেরই প্রধান, শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারিণী।
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার লক্বব মুবারক হচ্ছে উনি বাতুল। যার অর্থ হচ্ছে তিনি সমস্ত দুনিয়াবি লোভ-লালসা সবকিছু বর্জনকারিনী; তিনি হচ্ছেন আল বাতুল।
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার লক্বব মুবারক হচ্ছে আত ত্বাহিরা অর্থাৎ পবিত্রা। এখন তিনি পবিত্রা যার কোনো মিছাল নেই। যেটা কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, তিনি যে ত্বাহিরা সেটা সাধারণভাবে মানুষের পক্ষে ফিকির করা অত্যন্ত কঠিন।
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনি আযযাহরা। আযযাহরা অর্থ ফুল বা কলি, কুসুম ফুল বলা হয়। উনার খুছূছিয়ত, বৈশিষ্ট্য বুঝানোর জন্য। উনার মা’ছূমিয়াত, ইছমত, উনি যে নিষ্পাপ সে বিষয়টা উল্লেখ করা হয়েছে। আর তিনি বাতিনী খুবছূরত হওয়ার সাথে সাথে যাহিরীও অত্যন্ত খুবছূরত যা মানুষের ভাষায় প্রকাশ করা অত্যন্ত কঠিন বা অসম্ভব।
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে আযযাকিয়া বলা হয়। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت معاوية رضي الله تعالى عنه قل قل رسول الله صلى الله عليه وسلم من يرد الله به خيرا يفقهه فى الدين-
হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক যিনি খালিক্ব, মালিক, রব তিনি যার ভালো চেয়ে থাকেন, তিনি তো সকলের ভালো চান, তাকে দ্বীনের ছহীহ সমঝ দান করেন। সেটা আযযাকিয়া অর্থাৎ তিনি সমঝদার। এখন উনাদের বুদ্ধিমত্তার যে বিষয়টা সেটাতো বলার অপেক্ষা রাখে না। বেমেছাল উনারা, সমঝদারও বেমেছাল। 
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনি রাদ্বিয়া ওয়াল মারদ্বিয়া। উনি সবসময়ই যিনি খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক এবং যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট উনারা উনার প্রতি সন্তুষ্ট যার জন্য তিনি সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত। তাই উনাকে মারদ্বিয়া বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! 
কাজেই, উনার লক্বব মুবারক-এর শেষ নেই। তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্ন্হা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি হাযিহিল উম্মাহ, অর্থাৎ তিনি জান্নাতের মেয়েদের সাইয়্যিদাহ। সমস্ত আলমের মেয়েদের মধ্যে তিনি সাইয়্যিদা। উম্মতের মেয়েদের মধ্যে সাইয়্যিদাহ। সুবহানাল্লাহ!
বিছাল শরীফ: 
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বিলাদত শরীফ জুমাদাল উখরা মাসের ২০ তারিখ জুমুয়ার দিন ছুবহি ছাদিক্বের সময়। উনার বিছাল শরীফ হচ্ছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ-এর ছয় মাস পর ১১ হিজরী তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেন। রমাদ্বান শরীফ-এর ৩ তারিখ। সে বারটা ছিলো সোমবার শরীফ। রমাদ্বান শরীফ-এর ৩ তারিখ সোমবার দিন বাদ আছর তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেন। উনাকে রওযা শরীফ-এ রাখার সময়টা হলো সোমবার দিন দিবাগত রাত্র। সোমবার দিন বাদ আছর ১১ হিজরী ৩রা রমাদ্বান শরীফ তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেন এবং উনার যে রওযা শরীফ সেটা জান্নাতুল বাকি-এর পিছন দিকে হুজন নামক একটা জায়গা। ওই স্থানটা হচ্ছে উনার রওযা শরীফ-এর স্থান। তিনি যখন বিছাল শরীফ লাভ করেন, তখন উনার দুনিয়াবি জিন্দেগী মুবারক-এর বয়স মুবারক ২৬ বৎসর হয়ে প্রায় তিন মাস অর্থাৎ বলা হয় প্রায় ২৭ বৎসর ছিলো। 
আকদ মুবারক:
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ‘আকদ মুবারক’ হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সাথে হয়। অর্থাৎ তিনি উনাকে গ্রহণ করলেন খিদমত করার জন্য, সে ‘আকদ মুবারক’-এর যে তারিখটা সেটা হচ্ছে ২য় হিজরী অর্থাৎ হিজরী সালের দ্বিতীয় বর্ষ বদরের জিহাদের কিছুদিন পর অর্থাৎ সেটা হচ্ছে যিলহজ্জ মাস। দ্বিতীয় হিজরীর যিলহজ্জ মাস।
হাদীছ শরীফ বর্ণনা:
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে বলা হয়, তিনি ১৮খানা হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। মূল বিষয় হচ্ছে- উনাদের সমস্ত ক্বওল, ফে’ল, তাক্বরীর মুবারক অর্থাৎ উনাদের কথাবার্তা, আচার-আচরণ, চাল-চলন মুবারক সবকিছুই হাদীছ শরীফ-এর অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! উনারা নিজ থেকে কোনো কথা বলেননি, কোনো কাজ করেননি। সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পুঙ্খানুপুঙ্খ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনসুরণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! প্রতি পদে পদে, প্রতি অবস্থায়, মুহূর্তে মুহূর্তে তিনি অনুসরণ অনুকরণ করেছেন। কাজেই উনার সব বিষয়গুলি হাদীছ শরীফ। যার কারণে দেখা যায় হযরত ইমাম দারু কুতনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একটা কিতাব লিখেছেন, যে কিতাবটার নাম দিয়েছেন, ‘মুসনাদে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম।’ এ মুসনাদ শরীফ-এ উনার হাদীছ শরীফগুলো সংগ্রহ করে লিপিবদ্ধ করেছেন। হযরত ইমাম দারু কুতনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হাদীছ শরীফ-এর একজন বড় ইমাম। কাজেই বুঝা যাচ্ছে উনাদের সমস্ত কিছুই হাদীছ শরীফ-এর অন্তর্ভুক্ত। উনারা নিজ থেকে কোনো কাজ করেননি ও কথা বলেননি।
দানশীলতা:
হাদীছ শরীফ এ বর্ণিত রয়েছে, একদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একখানা জামা মুবারক তৈরি করে হাদিয়াস্বরূপ পাঠালেন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার কাছে। উনার কাছে যখন সেই জামা মুবারক পৌঁছানো হলো ঠিক সেই মুহূর্তে একজন গরিব মহিলা এসে সাহায্য চাইলো যে, আমাকে দয়া করে একখানা জামা দান করুন। আমাকে দয়া করে একটা জামা যদি দিতেন তাহলে আমার জন্য ভালো হতো। এখন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, উনার কাছে আগে এক জোড়া, এক সেট জামা ছিল। এখন আরেক সেট পৌঁছেছে নতুন, পুরাতনও রয়েছে। এখন তিনি কোনটা দান করবেন এই মহিলাকে; নতুনটা না পুরাতনটা? তিনি বললেন, যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব আল্লাহ পাক তিনি তো নাযিল করেছেন-
لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون
তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো নেকী ও সন্তুষ্টি হাছিল করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের পছন্দনীয় বিষয়গুলো দান না করবে। সুবহানাল্লাহ! 
তোমাদের প্রিয় পছন্দনীয় বিষয়গুলো দান না করা পর্যন্ত নেকী হাছিল করতে পারবে না। এখন উম্মতদেরকে শিক্ষা দিতে হবে, তা’লীম দিতে হবে, নছীহত করতে হবে । তিনি কি করলেন, সেই নতুন জামা সেটা সেই গরিব মহিলাকে দান করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি মহান রব আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট তো সবসময় রয়েছেন, মাঝে মাঝে উনার সন্তুষ্টি কখনো কখনো তিনি প্রকাশ করেন। সেটা তিনি প্রকাশ করলেন। কি প্রকাশ করলেন? তৎক্ষণাৎ হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে দিয়ে এক জোড়া জান্নাতী লিবাস নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে পেশ করলেন। সুবহানাল্লাহ! 
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো জানেন তারপরেও ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি যে জামা মুবারক হাদিয়া করেছিলেন সেটাতো সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনি অনেক পছন্দ করেছিলেন, মুহব্বত করেছিলেন। উনার অন্তর চাচ্ছিল না সেটা দিয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু যেহেতু যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি মহান রব আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন পছন্দনীয় জিনিস দান করতে হবে সেজন্য তিনি সেটা দান করেছেন। এখন স্বয়ং যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি মহান রব আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট হয়ে উনাকে জান্নাত থেকে এক জোড়া লিবাছ তিনি পাঠিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
উনাদের মর্যাদা-মর্তবা, ফযীলত, খুছূছিয়ত এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন এই দান খয়রাতের ব্যাপারে উনারা বেমেছাল ছিলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে বলা হয়েছে তিনি এত দান খয়রাত করতেন, দ্রুতগ্রামী বাতাসের চাইতেও বেশি তিনি দ্রুতগতিতে দান খয়রাত করতেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম তিনি তো উনার লখতে জিগার। উনার কলিজা মুবারক-এর টুকরা মুবারক। কাজেই উনি তো সেভাবেই করবেন।
নিছবত ও সাদৃশ্যতা:
হযরত মিছর ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ‘সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার জিসিম মুবারক-এর গোশত মুবারক-এর টুকরাসমূহের একখানা টুকরা মুবারক।’ সুবহানাল্লাহ! 
উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে যেতেন, সাক্ষাৎ করার জন্য, তখন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মুহব্বতের কারণে দাঁড়িয়ে উনার নিকটবর্তী হয়ে উনার হাত মুবারক নিয়ে চুম্বন করতেন, বুছা দিতেন। সুবহানাল্লাহ!
চুম্বন করে, বুছা দিয়ে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আসন মুবারক-এ উনাকে বসাতেন। সুবহানাল্লাহ!
আবার ঠিক একইভাবে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি অনুরূপটা করতেন। যেমন হাদীছ শরীফ-এ এসেছে-
যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সাক্ষাতে যেতেন, তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি তা’যীম করে, তাকরীম করে, মুহব্বত করে তিনি দাঁড়িয়ে তাড়াতাড়ি এসে উনার হাত মুবারক নিয়ে বুছা দিয়ে উনার স্থানে তা’যীম-তাকরীম-এর সহিত উনাকে বসাতেন। সুবহানাল্লাহ!
এই যে বিষয়টা, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আর কারও সাথে এ রকম ব্যবহার করতেন না। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার তাহলে কতটুকু মর্যাদা, কতটুকু ফযীলত, খুছুছিয়ত সেটা বান্দাদের জন্য, বান্দিদের জন্য, উম্মতদের জন্য ফিকির এবং চিন্তার বিষয়। 
উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন-
ما رأيت احدا اشبه
আমি কাউকে দেখিনি, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বেশি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুরূপ।
سمتا وهاديا ودالا
চুপ থাকা, কথাবার্তা, তা’লীম-তালক্বীন মুবারক, ছূরত-সীরত মুবারক, চরিত্র মুবারক, উনার ইতমিনান, ধীরস্থিরতা, চাল-চলন স্বভাব-চরিত্র মুবারক ইত্যাদি প্রতিটি বিষয়ে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুবহু নকশা বা অনুরূপ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই এ থেকে বুঝা যায়, উনার মর্যাদা, উনার মর্তবা-ফযীলত, উনার খুছূছিয়ত, উনার বৈশিষ্ট্য কত অপরিসীম।
উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই এটা বলেন-
ما رأيت احدا اشبه
আমি কাউকে দেখিনি অনুরূপ। এতো মুশাবাহা, এতো মিল। এবং তিনি অন্য হাদীছ শরীফ-এ বলেন, অনেক সময় আওয়াজ শুনে আমরা মনে করতাম অথবা চালচলন মুবারক-এর শব্দ শুনে মনে করতাম হয়তো নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আসছেন। আমরা তা’যীমের জন্য দাঁড়িয়ে যেতাম। কিছুক্ষণ পর দেখতাম, তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি নন। তবে উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত হচ্ছে ঈমান আর উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা হচ্ছে কুফরী।
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যমীনে আগমন করেছেন ২০শে জুমাদাল উখরা, জুমুয়ার দিন ছুবহি ছাদিক্বের সময়। আবার তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেছেন এগারই হিজরী ৩রা রমাদ্বান শরীফ সোমবার শরীফ বাদ আছর অর্থাৎ সেটা সোমবার শরীফই পড়েছে।
উনার এই ছূরতান দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক অল্প সময় যদি সঠিকভাবে হিসাব করা হয় তাহলে উনার দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক এ বয়স মুবারক ছাব্বিশ পার হয়ে সাতাইশে পড়েছিলো। সাতাইশ বৎসর বয়স মুবারক পুরা হয়নি। এর পূর্বে তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেন। এখন উনার এই দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক-এ অল্প সময়ের মধ্যে তিনি যে আদর্শ যে খুছূছিয়ত-বৈশিষ্ট, যে মর্যাদা-মর্তবা, আমলসমূহ রেখে গেছেন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সমস্ত কায়িনাত, জিন-ইনসান, পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য তিনি আদর্শ রেখে গেছেন। সুবহানাল্লাহ! কেননা তিনি সরাসরি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বায়িম-মাক্বাম।
পর্দা পালন:
হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পর্দার আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার পূর্ব থেকে পর্দা করতেন। সুবহানাল্লাহ! কোন জরুরত ব্যতীত তিনি কোথাও বের হতেন না এবং কারো সামনে তিনি যেতেন না। 
একদিন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে বসে তিনি আলোচনা করছিলেন, এমতাবস্থায় হঠাৎ তিনি উঠে ভিতরের কামরায় গিয়ে কিছুক্ষণ পর আবার আসলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো সব জানেন, কিন্তু উম্মতদেরকে শিক্ষা দিতে হবে, বান্দা-বান্দীদেরকে শিক্ষা দিতে হবে, তাই উনি যখন ফিরে আসলেন তখন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, আপনি উঠে চলে গেলেন কেন? তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এখানে তো হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এসেছিলেন সেজন্য উনাকে দেখে আমি চলে গেছি। বিষয়টাকে স্পষ্ট করার জন্য স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন কেন, তিনি তো আপনাকে দেখতেন না, যেভাবে অন্যান্য মানুষ দেখে থাকে। সেই দৃষ্টি শক্তি তো উনার মধ্যে নেই। তিনি তো আপনাকে দেখতেন না। তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, তিনি আমাকে না দেখলেও আমি তো উনাকে দেখতাম! সেজন্য আমি উঠে চলে গেছি। সুবহানাল্লাহ!
উনার প্রতি মুহব্বত:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-
وما ينطق عن الهوى ان هو الا وحى يوحى
মহান আল্লাহ পাক যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব তিনি নিজেই বলেন, আমার যিনি হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওহী ব্যতীত কোনো কথা বলেন না, কোনো কাজও করেন না। অর্থাৎ তিনি যিনি খালিক্ব, মালিক, রব উনার দ্বারা পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত। সেই হিসেবে ওহী ব্যতীত তিনি কোনো কথা বলেন না, বলবেন না, কাজ করেন না, করবেন না। সেজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি বলে দিলেন, হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
قل لا اسئلكم عليه اجرا الا المودة فى القربى
“আপনি বলে দিন উম্মতদেরকে, সমস্ত কায়িনাতকে, আমি তোমাদের কাছে কোনো বিনিময় চাচ্ছি না, তোমরা কোনো বিনিময় দিতে পারবে না, তোমাদের সেই যোগ্যতা নেই।” মহান আল্লাহ পাক যিনি খালিক্ব, মালিক, রব উনার শরাফত সেজন্য তিনি ভাষাটা এইভাবে বলেছেন। কোনো বিনিময় চাওয়া হচ্ছে না, তোমরা দিতে পারবে না। তবে তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, কর্তব্য হচ্ছে, আমার আহাল ও ইয়াল, আওলাদ যাঁরা রয়েছেন, আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম যাঁরা রয়েছেন উনাদের প্রতি তোমরা মুহব্বত পোষণ করবে ও সৎ ব্যবহার করবে, উনাদের খিদমত করবে, তা’যীম-তাকরীম করবে সবদিক থেকে। উনাদেরকে যেভাবে তোমাদের খিদমতের আঞ্জাম দেয়া দরকার, তা’যীম-তাকরীম করা দরকার, ছানা-ছিফত করা দরকার সেভাবে তোমরা করবে। 
সেই দিক থেকে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার তাহলে কতটুকু মর্যাদা, কতটুকু ফযীলত, খুছুছিয়ত সেটা বান্দাদের জন্য বান্দিদের জন্য উম্মতদের জন্য ফিকির এবং চিন্তার বিষয়। 
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-
واحبوا اهل بيتى لحبى.
তোমরা আমার যাঁরা আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো। কেন মুহব্বত করবে? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত হাছিলের লক্ষ্যে, উনার মুহব্বতের কারণে। উনাকে যে বান্দা মুহব্বত করে, বান্দী মুহব্বত করে, উম্মত মুহব্বত করে, আমরা মুহব্বত করে থাকি এটার নিদর্শন স্বরূপ উনার যাঁরা আহাল ও ইয়াল- আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করতে হবে। সেটাই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-
واحبوا اهل بيتى لحبى.
আমার মুহব্বতের কারণে আমার আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম যাঁরা রয়েছেন উনাদেরকে মুহব্বত করো। সুবহানাল্লাহ! 
এখন এই হাদীছ শরীফ দ্বারা যাঁরা আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতটা ফরয-ওয়াজিব হয়ে গেছে। (সুবহানাল্লাহ) তিনি সরাসরি নির্দেশ করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনিও সরাসরি বলেছেন। কাজেই বিষয়টা অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়, ফিকিরের বিষয়। উনাদের মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম, উনাদের খিদমত, ইজ্জত, বান্দা-বান্দী উম্মতের জন্য খুব ফিকিরের বিষয়।
কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা স্পষ্ট প্রমানিত হলো সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে মুহব্বত করা, উনার মুহব্বত হাছিল করা, উনাকে তা’যীম-তাকরীম করা কুল কায়িনাত-এর সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব।
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার যাঁরা আওলাদ যমীনে আগমন করেছেন, উনাদের সম্পর্কে বলা হয়, উনারা বাদ আছর যমীনে আগমন করেছেন। তিনি আছর নামাযও পড়েছেন আবার উনারা আগমন করার পর তিনি মাগরিব নামাযও আদায় করেছেন। সুবহানাল্লাহ! 
সাধারণভাবে মহান আল্লাহ পাক খালিক্ব, মালিক, রব এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যাঁরা মাতা হয়ে থাকেন তাঁদেরকে রুখছত দিয়েছেন। অর্থাৎ মাতাদের সন্তান আগমনের পরে কিছুকাল কিছু ইবাদত বন্দেগী থেকে রুখছত দেয়া হয় বিশেষ কারণে। কিন্তু হযরত সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ আলাইহাস সালাম তিনি আছর নামায পড়েছেন এরপর উনার সন্তান আলাইহিমুস সালাম উনারা আগমন করেছেন, তিনি এরপর মাগরিবের নামাযও আদায় করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ উনাকে ইবাদত বন্দেগী থেকে রুখছত নিতে হয়নি। তিনি ত্বাহিরা আত্ত্বাহিরা। এত পবিত্রা তিনি, সেটা বেমেছাল। উনাকে যাহরা বলা হয়। অনেকে যোহরা বলে থাকে, আসলে শব্দটা কিন্তু যোহরা না। আয যাহরা অর্থ ফুল বা কলি, কুসুম, ফুল বলা হয়। এটা উনার খুছূছিয়ত, বৈশিষ্ট্য বুঝানোর জন্য। উনার মা’ছূমিয়াত, ইছমত, উনি যে নিষ্পাপ সে বিষয়টা উল্লেখ করা হয়েছে। এবং তিনি বাতিনী খুবছূরত; হওয়ার সাথে সাথে যাহিরীও অত্যন্ত খুবছূরত যা মানুষের ভাষায় প্রকাশ করা অত্যন্ত কঠিন বা অসম্ভব।
উনার প্রতি মুহব্বত ঈমান:
কিতাবে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের খুছূছিয়ত, উনাদের বৈশিষ্ট্য যেটা বর্ণনা করা হয়েছে-
يا اهل البيت حبكم فرض من الله فى القران العظيم انزله
হে আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম! আপনাদের মুহব্বতটা ফরয করা হয়েছে। যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ আয়াত শরীফ নাযিল করে সেটা সাব্যস্ত করেছেন। আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত ঈমান এবং ঠিক একইভাবে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুহব্বতটাও ঈমান। উনার মুহব্বত যারা অন্তরে পোষণ করতে পারবে তাঁদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ! আর যারা বিরোধিতা করবে তাদের জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে যাবে। নাঊযুবিল্লাহ! 
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে- 
عن المسور بن مخرمة رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فاطمة بضعة منى فمن اغضبها اغضبنى وفى رواية يريبنى ما ارابها ويؤذينى ما اذاها.
হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম তিনি
بضعة منى
তিনি আমার গোশত মুবারক-এর একখানা টুকরা মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
فمن اغضبها اغضبنى
উনাকে যারা অসন্তুষ্ট করলো, গোস্সা করালো তারা স্বয়ং আমাকে অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অসন্তুষ্ট করলো। নাঊযুবিল্লাহ!
فى رواية يريبنى ما ارابها
যে সমস্ত বিষয় সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম উনাকে চিন্তিত করে, পেরেশান করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, সে বিষয়গুলি আমাকেও চিন্তিত করে। সুবহানাল্লাহ! নিছবত, তায়াল্লুক-এর যে বিষয়টা এবং 
ويؤذينى ما اذاها
যে সমস্ত বিষয় সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম উনাকে কষ্ট দেয়, সে সমস্ত বিষয়গুলি স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেও কষ্ট দেয়। নাঊযুবিল্লাহ!

No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...