সম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম:
আবূ সা’দ আব্দুল মালিক ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম নীশাপুরী খরকূশী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ: ৪০৭ হিজরী) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
وكان النور على وجهه كالهلال يتوقد شعاعه، لا يمر بشيء إلا سجد له، ولا يراه أحد إلا أقبل نحوه
অর্থ: ‘চাঁদ যেমন তার আলোক রশ্মি প্রজ্বলিত করে থাকে, ঠিক তেমনিভাবে আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত চেহারা মুবারক-এ সম্মানিত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার কিরণ মুবারক প্রজ্বলিত করতেন। অর্থাৎ আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত চেহারা মুবারক-এ চাঁদের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখা যেতো এবং চাঁদের কিরণের ন্যায় সেখান থেকে সম্মানিত নূর মুবারক উনার রশ্মি মুবারক বিচ্ছূরিত হতো। সুবহানাল্লাহ! তিনি কোনো কিছুর (যেমন পশু-পাখি, গাছ-পালা, তরুলতা ইত্যাদির) পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে সেগুলো উনাকে সিজদা করতো আর জিন-ইনসান উনাকে সম্মান করতো। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তিই সেই সম্মানিত নূর মুবারক দেখতো, সে মুহব্বতের সাথে উনার নিকট অগ্রসর হতো। সুবহানাল্লাহ! (শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ ১/৩৩১)
সুতরাং এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, যেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার বাইরে। সুবহানাল্লাহ!
আল জাদ্দুছ ছানী সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার আলোচনা মুবারক পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে এবং রোম ও পারস্য সম্রাটদের নিজ মেয়েদেরকে উনার নিকট শাদী মুবারক দেয়ার জন্য দূত প্রেরণ:
আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আলোচনা মুবারক পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবেও ছিলো। যার কারণে যারা আসমানী কিতাবের ইলম রাখতো, তারা উনাকে দেখেই চিনে ফেলতো যে, তিনিই সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক যিনি আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নূর মুবারক ধারণ করে আছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ উনার মাঝে এখন সম্মানিত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবস্থান মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই আরব-অনারবের সকল সম্ভ্রান্তশীলা মহিলাগণ উনার নিকট শাদী মুবারক বসার জন্য বেকারার ছিলো। সুবহানাল্লাহ! এই প্রসঙ্গে মুজাদ্দিদে আ’যম, ছাহিবু ইলমিল আউওয়ালি ওয়াল ইলমিল আখিরি মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “স্বয়ং রোম ও পারস্য সম্রাটরা তাদের নিজ মেয়েদেরকে আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার নিকট সম্মানিত শাদী মুবারক দেয়ার জান্য দূত প্রেরণ করেছিলো। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।” সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে ইমামুল মুহাদ্দিছীন হযরত ইমাম মুহম্মদ ইবনে ইঊসুফ ছালিহী শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ: ৯৪২ হিজরী শরীফ) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
وبعث إليه قيصر رسولا ليتزوج ابنته لما وجد في الإنجيل من صفته فأبى
অর্থ: “রোম সম্রাট ইনজিল শরীফ-এ আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার ছিফত তথা গুণাবলী মুবারক পেয়ে, উনার নিকট দূত প্রেরণ করেছিলো, তার কন্যাকে উনার নিকট শাদী মুবারক দেয়ার জন্য। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত প্রস্তাব অস্বীকার করেন। অর্থাৎ তিনি রোম সম্রাটের প্রস্তাব ফিরেয়ে দেন।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সীরাতি খইরিল ইবাদ ১/২৭০)
আবূ সা’দ আব্দুল মালিক ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইবরাহীম নীশাপুরী খরকূশী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (বিছাল শরীফ: ৪০৭ হিজরী) উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
وبعث إليه قيصر حفيد هرقل ملك الروم، وطلب إليه أن يزوج ابنته منه لما وجد في الإنجيل من قصته، وهو أن النور كان في وجهه ظاهرا فأبى
অর্থ: “আর তৎকালীন রোম সম্রাট আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ দূত প্রেরণ করে এবং উনার নিকট এই আরজী পেশ করে যে, সে তার স্বীয় কন্যাকে উনার নিকট সম্মানিত শাদী মুবারক দিতে চায়। আর এই ঘটনাটি ঘটেছিলো, যখন রোম সম্রাট ইনজীল শরীফ-এ সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম উনার আলোচনা মুবারক পেয়েছিলো তখন। সুবহানাল্লাহ! আর নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম তিনি সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক যে, উনার সম্মানিত চেহারা মুবারক-এ নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সুস্পষ্টভাবে দেখা যেতো। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম তিনি (রোম সম্রাটের) উক্ত প্রস্তাব অস্বীকার করেন, ফিরেয়ে দেন।” সুবহানাল্লাহ! (শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ ১/৩৩১)
অনুরূপ বর্ণনা পারস্য সম্রাটের ক্ষেত্রেও রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল ছিলো এবং তিনি আরব-অনারব তথা সারা পৃথিবীতে কত বেমেছাল সম্মান মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন যে, স্বয়ং তৎকালীন পরাশক্তি রোম ও পারস্য সম্রাটরা তাদের কন্যাদেরকে উনার নিকট বিবাহ দেয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলো; কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। সুবহানাল্লাহ! সুতরাং তিনি সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে সকলের নিকট কতটুকু সম্মানিত ছিলেন, সেটা চিন্তা ও কল্পনার বাইরে। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক:
আল জাদ্দুছ ছানী লিরসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি যখন রোম ও পারস্য সম্রাটের রাজকন্যাদের বিবাহ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন, তখন এক রাতে এক অপূর্ব স্বপ্ন মুবারক দেখতে থাকেনÑ “স্বয়ং যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার বনী আদী ইবনে নাজ্জার গোত্রের সম্ভ্রান্তশীলা, বিস্ময়কর সৌন্দর্য মুবারক এবং পূত-পবিত্র চরিত্র মুবারক মুবারক উনার অধিকারিণী আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে ‘আমর আলাইহাস সালাম উনাকে দেখিয়ে বলতেছেন যে, আপনি উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করুন।” সুবানাল্লাহ!
এই স্বপ্ন মুবারক দেখার পর আল জাদ্দুছ ছানী সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি শাম দেশে সফরকালে মদীনা শরীফ-এ কিছু দিনের জন্য অবস্থান মুবারক করেন। অতঃপর সেখানে কুরইশ বংশীয় বিশেষ শাখা বনী আদী ইবনে নাজ্জার গোত্রের সবচেয়ে সম্ভ্রান্তশীলা, সীমাহীন ইলম মুবারক উনার মালিকাহ, ত্বাহিরাহ, পূত-পবিত্রা ব্যক্তিত্বা মুবারক আল জাদ্দুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনাকে দেখতে পান। তিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ে সমগ্র কুরাইশ, আবর এবং আজম তথা সারা পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে পবিত্রতা, সম্মানিতা এবং সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ!
আল জাদ্দুছ ছানী সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি আল জাদ্দাতুছ ছানিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত সালমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনাকে দেখার সাথে সাথেই চিনে ফেলেন যে, তিনিই স্বপ্ন মুবারক-এ দেখা সেই সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারক। সুবাহানাল্লাহ! আর উনাকেই শাদী মুবারক করার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন। এই সম্পর্কে ‘শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
فأري في المنام أن تزوج بنت زيد بن عمرو فتزوج بها
অর্থ: “অতঃপর উনাকে স্বপ্ন মুবারক দেখানো হয় যে, তিনি যেন হযরত সালমা বিনতে আমর বিনতে যায়েদ ইবনে আমর আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন। অতঃপর তিনি উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (শরফুল মুস্ত¡ফা শরীফ ১/৩৩১)
No comments:
Post a Comment