মহাসম্মানিত আযীমুশ শান শাদী মুবারক-এ সম্মানিত হাদিয়া মুবারক:
আযীমুশ শান শাদী মুবারক-এ সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সম্মানিতা মাতা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের পক্ষ থেকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে যে সকল সম্মানিত হাদিয়া মুবারক দেয়া হয়েছিলো, সে সকল সম্মানিত হাদিয়া মুবারক উনাদের মধ্যে ইয়ামেনের প্রসিদ্ধ আকীক পাথরের একখানা হার মুবারকও ছিলো। এই সম্মানিত হার মুবারকখানা হাদিয়া মুবারক করা হয়েছিলো উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পক্ষ থেকে। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ:
আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা সর্বপ্রথম উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট প্রকাশ করেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিই পুরুষ-মহিলা সকলের পূর্বে সর্বপ্রথম সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সাথে সাথে উনার মহাসম্মানিত বানাত আলাইহিন্নাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারাও সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি অল্প সময়ের ব্যবধানে সংবাদ মুবারক পাওয়ার সাথে সাথে এসে সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনারাই পুরুষ-মহিলা সকলের মাঝে সর্বপ্রথম সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া:
সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন। এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَلْـحَارِثِ بْنِ الْـحَارِثِ الْغَامِدِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قُلْتُ لِاَبِـىْ مَا هٰذِهِ الْـجَمَاعَةُ قَالَ هٰؤُلَاءِ قَوْمُ ۨ اجْتَمَعُوْا عَلـٰى صَابِئٍ لَّـهُمْ قَالَ فَتَشَرَّفْنَا فَاِذَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو النَّاسَ اِلـٰى تَوْحِيْدِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَالْاِيْـمَانِ بِهٖ حَتَّى ارْتَفَعَ النَّهَارُ فَتَصَدَّعَ عَنْهُ النَّاسُ وَاَقْبَلَتِ امْرَاَةٌ قَدْ بَدَا نَـحْرُهَا تَبْكِىْ تَـحْمِلُ قَدَحًا وَّمِنْدِيْلًا فَنَاوَلَتْهُ مِنْهَا فَشَرِبَ وَتَوَضَّاَ ثُـمَّ رَفَعَ رَأْسَهٗ اِلَيْهَا فَقَالَ يَا بُنَيَّةُ خَـمِّرِىْ عَلَيْكِ نَـحْرَكِ وَلَا تَـخَافِـىْ عَلـٰى اَبِيْكِ غَلَبَةً وَّلَا ذُلًّا فَقُلْتُ مَنْ هٰذِهٖ قَالُوْا هٰذِهٖ حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ اِبْنَتُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “হযরত হারিছ ইবনে হারিছ আল গ¦ামিদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন যে, একদা তিনি উনার পিতার সাথে সম্মানিত মক্কা শরীফ-এ গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একদল লোককে জড়ো হওয়া অবস্থায় দেখতে পেলেন। তখন তিনি উনার সম্মানিত পিতা উনাকে বলেন, হে আমার সম্মানিত পিতা, কি কারণে লোকেরা এখানে জড়ো হয়েছে, এটা কিসের জামায়াত? জবাবে উনার পিতা বলেলন, একজন ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি উনার সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক ও রিসালাত মুবারক প্রকাশ করেছেন। এই কারণে উনার সম্প্রদায়ের লোকজন উনার নিকট জমায়েত হয়েছে। তিনি বলেন, অতঃপর আমরা একটু উঁচু জায়গায় আরোহণ করে দেখতে পেলাম যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত তাওহীদ মুবারক ও সম্মানিত ঈমান মুবারক উনাদের দিকে আহ্বান মুবারক করছেন। জনতা সেখানে দুপুর পর্যন্ত ছিলো। (তারা উনাকে কষ্ট দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়েছিলো এবং বিভিন্নজন বিভিন্ন এলোমেলো কথাবার্তা বলতেছিলো।) এরপর লোকেরা চলে যেতে শুরু করলো। তখন একজন সম্মানিতা মহিলা তিনি কাঁদতে কাঁদতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য এক পাত্র পানি মুবারক ও একটি রুমাল মুবারক নিয়ে অতি দ্রুততার সাথে সেই দৃশ্যপটে উপস্থিত হলেন। তিনি সেখানে এতো বেকারার ও ব্যতিব্যস্ত অবস্থায় উপস্থিত হলেন যে, তিনি তখন নিজেকে যথাযথভাবে আবৃত করতে পারেননি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত পাত্র মুবারক থেকে পানি মুবারক পান করলেন এবং ওযূ মুবারক করলেন। (আর রুমাল মুবারকখানা দিয়ে সম্মানিত মুখম-ল মুবারক ও হাত মুবারক মুছলেন।) অতঃপর তিনি উনার মাথা মুবারক উনার দিকে উত্তোলন করে এ কথা মুবারক বললেন,
يَا بُنَيَّةُ خَـمِّرِىْ عَلَيْكِ نَـحْرَكِ وَلَا تَـخَافِـىْ عَلـٰى اَبِيْكِ غَلَبَةً وَّلَا ذُلًّا
“হে আমার সম্মানিতা আওলাদ আলাইহাস সালাম, আপনি আপনার চাদর মুবারক দিয়ে নিজেকে আবৃত করুন এবং আপনার পিতার জন্য এতো অধিক চিন্তা করা থেকে বিরত থাকুন।”
হযরত হারিছ গ¦ামিদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম। ইনি কে? লোকজন বললো, তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা আওলাদ, লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী ৩/৪৩৩, আল আহাদ ওয়াল মাছানী ৫/১৫৯, মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/৪৩৬, জামিউল আহাদীছ ২৩/২১৩)
No comments:
Post a Comment