Thursday, March 31, 2016

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হিজরত মুবারক


সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার প্রেক্ষাপট
দ্বিতীয় হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ-এ সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক সংঘটিত হয়। সেই সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ এক হাজার কুরাইশ অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনিও ছিলেন। বস্তুত তিনি উনার অনিচ্ছা সত্ত্বেও কুরাইশদের পিড়াপিড়ির কারণে জিহাদে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি কস্মিনকালেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে বা সম্মানিত মুসলমান উনাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য সেখানে উপস্থিত হননি। কারণ, তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় ভিতরে ভিতরে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তখনও তা প্রকাশ করেননি। যা হোক, যুদ্ধে কুরাইশরা পরাজিত হয়। তাদের ৭০ জন নিহত এবং ৭০ জন বা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক লোক বন্দি হয়। এ সকল বন্দিদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনিও ছিলেন। বন্দিদেরকে যখন সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ নিয়ে যাওয়া হলো, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নির্দেশ মুবারক দিলেন, 

اِسْتَوْصُوْا بِالْاُسَارٰى خَيْرًا
অর্থ: ‘আপনারা বন্দিদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।’ 
উনারা তা করেছিলেন। উনারা নিজেরা খেজুর খেতেন, কিন্তু বন্দিদের রুটি প্রদান করতেন। সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ অগণিত খেজুর গাছ ছিল। সুতরাং খেজুর ছিল সস্তা। কিন্তু গম ও যবের মতো খাদ্য শস্য অধিক মূল্যে খরিদ করতে হতো। তা সত্ত্বেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যথাযথভাবে পালন করেন ও অপরের জন্য ত্যাগের উদাহরণ প্রদর্শন করেন। সুবহানাল্লাহ!
যুদ্ধবন্দিদের হত্যা করা সে সময়ের রীতি ছিলো। এই জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বদর জিহাদ মুবারক উনার যুদ্ধবন্দিদের হত্যা করার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে তাদের নিকট থেকে মুক্তিপণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত মুবারক গ্রহণ করেন। এক হাজার থেকে তিন বা চার হাজার দিরহাম প্রত্যেক বন্দি থেকে মুক্তিপণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিলো।
যখন মক্কাবাসীরা অবগত হলো বন্দিদের মুক্তিপণের মাধ্যমে মুক্ত করার সুযোগ রয়েছে, তারা অতিসত্বর সে সুযোগ গ্রহণ করলো। লোকেরা তাদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ দ্রুত সংগ্রহ করলো। যদিও সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি সম্পদশালী ছিলেন, কিন্তু সে সময় উনার নিকট মুক্তিপণের অর্থ ছিলো না। তাই তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার নিকট মুক্তিপণের ব্যবস্থা করার জন্য বার্তা মুবারক পাঠালেন। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত শাদী মুবারক উনার সময় উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার থেকে হাদিয়াস¦রূপ যে সমস্ত অলংকারসমূহ পেয়েছিলেন সেখান থেকে একখানা সম্মানিত হার মুবারক মুক্তিপণ হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত মুবারক গ্রহণ করলেন। মক্কাবাসীরা মুক্তিপণের অর্থ প্রদানের জন্য সম্মানিত মদীনা শরীফ গমন করলো। তাদের মাঝে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার দূত আমর ইবনে রবী’, যিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার আপন ভাই তিনিও ছিলেন। এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ لَمَّا بَعَثَ اَهْلُ مَكَّةَ فِـىْ فِدَاءِ اَسْرَاهُمْ بَعَثَتْ حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ فِـىْ فِدَاءِ اَبِـى الْعَاصِ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِـمَالٍ وَّبَعَثَتْ فِيْهِ بِقِلَادَةٍ لَّـهَا كَانَتْ عِنْدَ خَدِيْـجَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَدْخَلَـتْهَا بِـهَا عَلـٰى حَضْرَتْ اَبِـى الْعَاصِ عَلَيْهِ السَّلَامُ. قَالَتْ فَلَمَّا رَاٰهَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَقَّ لَـهَا رِقَّةً شَدِيْدَةً وَّقَالَ اِنْ رَاَيْتُمْ اَنْ تُطْلِقُوْا لَـهَا اَسِيْرَهَا وَتَرُدُّوْا عَلَيْهَا الَّذِىْ لَـهَا. فَقَالُوْا نَعَمْ. وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَخَذَ عَلَيْهِ اَنْ يُّـخَلِّىَ سَبِيْلَ حَضْرَتْ زَيْنَبَ عَلَيْهَا السَّلَامُ اِلَيْهِ وَبَعَثَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَرَجُلًا مِّنَ الْاَنْصَارِ فَقَالَ كُوْنَا بِبَطْنِ يَأْجِجَ حَتّٰى تَـمُرَّ بِكُمَا حَضْرَتْ زَيْنَبُ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَتَصْحَبَاهَا حَتّٰى تَاْتِيَا بِـهَا.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মক্কাবাসীরা মুক্তিপণের অর্থ প্রদানের জন্য সম্মানিত মদীনা শরীফ গমন করলো। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনিও সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার মুক্তিপণ দিয়ে উনার দূত (আমর ইবনে রবী’ উনাকে) প্রেরণ করলেন। মুক্তিপণ হিসেবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি উনার দূতকে কিছু মালসহ সেই সম্মানিত হার মুবারকখানাও দিয়ে প্রেরণ করেছিলেন, যেই সম্মানিত হার মুবারকখানা ছিলো উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার। সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক হওয়ার সময় উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উক্ত সম্মানিত হার মুবারকখানা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছিলেন। যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সেই সম্মানিত স্মৃতিবাহী হার মুবারকখানা দেখলেন, তখন তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হলেন। তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বললেন,
اِنْ رَاَيْتُمْ اَنْ تُطْلِقُوْا لَـهَا اَسِيْرَهَا وَتَرُدُّوْا عَلَيْهَا الَّذِىْ لَـهَا
‘যদি আপনারা যথাযথ মনে করেন, তাহলে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার বন্দি তথা সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে মুক্ত করে দিন এবং উনার সম্মানিত হার মুবারকখানাও ফেরত দিন।’
তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আহুম উনারা বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি যা ইরশাদ মুবারক করেছেন, তাই হবে। অর্থাৎ উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকেও মুক্ত করে দিলেন এবং সেই সম্মানিত হার মুবারকখানাও ফেরত দিলেন। সুবহানাল্লাহ! 
অবশ্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনাকে শপথ মুবারক করালেন যে, তিনি সম্মানিত মক্কা শরীফ প্রত্যাবর্তন করার পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত মদীনা শরীফ পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যায়িদ ইবনে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে এবং একজন হযরত আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে পাঠালেন এবং উনাদেরকে বলে দিলেন, আপনারা দু’জন সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার অনতিদূরে ‘বাত্বনে ইয়া’জিজে’ অবস্থান করবেন। যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি সেখানে উপস্থিত হবেন, তখন সেখান থেকে আপনারা উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়ে উনাকে সম্মানিত মদীনা শরীফ নিয়ে আসবেন।” (আবূ দাঊদ, মুসনাদে আহমদ, আস সুনানুল কুবরা লিননাসাঈ, আল মু’জামুল কাবীর, হাকিম, বাইহাক্বী, মিশকাত ইত্যাদি)

সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার প্রস্তুতি মুবারক
সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত মদীনা শরীফ থেকে সম্মানিত মক্কা শরীফ-এ এসে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হিজরত মুবারক সম্পর্কে যা বলেছিলেন সেই সংবাদ মুবারক পৌঁছে দেন। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত মক্কা শরীফ থেকে সম্মানিত মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক করার জন্য প্রস্তুতি মুবারক নিতে থাকেন। হযরত হিন্দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা যিনি হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়াহ তিনি উনাকে উনার প্রস্তুতি মুবারক উনার ব্যাপারে খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিতে চাইলেন। কিন্তু তিনি প্রস্তাবটি গ্রহণ করলেন না। সম্মানিত বদর জিহাদ উনার পর মাত্র একমাস অতিবাহিত হয়েছে। মক্কাবাসীরা যুদ্ধে তাদের অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতির কারণে তখনও দুঃখ-ভারাক্রান্ত। তাদের কবিলাগুলো মৃতদের জন্য শোক প্রকাশ করছিল এবং গোত্রের প্রতি অনুগত মৃতদের প্রতিশোধ নেয়ার ডাক দিয়ে যাচ্ছিলো। এ অবস্থায় সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার কোনো মুসলমান উনাদের পক্ষে সম্মানিত মক্কা শরীফ প্রবেশ করা যেমন অসম্ভব ছিলো তেমনিভাবে একজন মুসলমান উনার জন্য অক্ষত অবস্থায় সম্মানিত মক্কা শরীফ ত্যাগ করাও কঠিন ছিলো। এ কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যায়িদ ইবনে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে এবং একজন হযরত আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার জন্য ‘বাত্বনে ইয়া’জিজে’ অপেক্ষার নির্দেশ মুবারক দিয়েছিলেন। স্থানটি ছিলো সম্মানিত মক্কা শরীফ থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে। 
সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা
সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি যখন সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার প্রস্তুতি মুবারক সম্পন্ন করলেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি উনার ভাই হযরত কিনানাহ ইবনে রবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে উনার সাথে ‘বত্বনে ইয়া’জিজে’ যেখানে হযরত যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার জন্য অপেক্ষা করছেন, সে স্থান পর্যন্ত যেতে বললেন। সে সময় সম্ভ্রান্ত মহিলারা সফরকালে উটের পিঠে একটি হাওদার ভিতরে অবস্থান করতেন, যা উনাদের সম্মান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ ছিলো। সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি উনার উটের উপর একটি হাওদার ভিতর অবস্থান মুবারক করলেন। অতঃপর তিনি সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা মুবারক হলেন। কুরাইশদের কিছু সংখ্যক লোক উনাদের পিছু নিলো। তারা উনাদেরকে সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার বাইরে ‘জী-তুয়া’ নামক স্থানে পেলো। সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার নিকট এগিয়ে যান, তিনি হচ্ছেন হযরত হাব্বার ইবনে আসওয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি (তখনও ঈমান আনেননি) এবং ফিহরী (নাফি’ ইবনে ‘আবদে ক্বইস অথবা খালিদ ইবনে ‘আবদে ক্বইস)। হযরত হাব্বার ইবনে আসওয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত উট মুবারকটিকে বর্শা দ্বারা আঘাত করেন। বর্শার আঘাতে উটটি লাফিয়ে উঠলো এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি পাথরের উপর পড়ে গেলেন এবং প্রচ- আঘাত মুবারক গ্রহণ করলেন। সে সময় তিনি হামিলা শান মুবারক-এ ছিলেন। এই প্রচ- আঘাতের কারণে উনার সম্মানিত আওলাদ তিনি সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। তখন উনার অনেক নূরুন নাজাত (রক্ত মুবারক) মুবারক প্রবাহিত হন। (এর ফলে তিনি দীর্ঘ দিন মারিদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করেন এবং এই মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় ৮ম হিজরী সনের ৮ই মুহাররমুল হারাম শরীফ সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন)। তখন হযরত কিনানাহ ইবনে রবী’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ধনুকে তীর সংযোগ করলেন এবং তিনি আক্রমণকারীদের সতর্ক করলেন যে, ‘যদি তোমাদের কেউ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার ক্ষতি করার চেষ্টা করো, তবে তার সীনা হবে আমার তীরের লক্ষ্যস্থল।’ তিনি ছিলেন দক্ষ তীরন্দাজ। উনার নিক্ষিপ্ত কোনো তীর কখনও লক্ষ্যভ্রষ্ট হতো না। ফলে আক্রমণকারীরা থেমে গেল। এ সময় দৃশ্যপটে হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উদয় হলেন (তিনি তখনও ঈমান আনেননি)। তিনি হযরত কিনানাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে শান্ত করলেন এবং তীর নিক্ষেপ না করার জন্য অনুরোধ করলেন।
তিনি সে অবস্থা কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করলেন এবং হযরত কিনানাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, কিছুদিন পর যখন লোকেরা স¦াভাবিক হবে, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত মক্কা শরীফ ত্যাগ করে সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক রাখতে পারবেন। তিনি বলেলন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা বানাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার ক্ষতি করা মক্কাবাসীদের উদ্দেশ্য ছিলো না। আপনি প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে মানুষের সম্মুখ দিয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে নিয়ে বের হয়েছেন, আর আমরা বসে বসে তা দেখছি। গোটা আরববাসী জানে সম্মানিত বদর জিহাদে আমাদের কী করুণ অবস্থা হয়েছিলো এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে কী কঠিনভাবে পরাজিত করেছিলেন। আপনি যদি এভাবে প্রকাশ্যে উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহাস সালাম উনাকে আমাদের নাকের উপর দিয়ে নিয়ে যান, তাহলে সবাই আমাদেরকে কাপুরুষ ভাববে এবং এ কাজটি আমাদের জন্য অপমান বলে বিবেচনা করবে। আপনি আজ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। কিছু দিন তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার হুজরা শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করুন। অতঃপর লোকজন যখন বলতে শুরু করবে যে, আমরা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে মক্কা শরীফ থেকে যেতে বাধা দিয়েছি, তখন একদিন আপনি গোপনে উনাকে উনার সম্মানিত পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পৌঁছে দিবেন। হযরত কিনানাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন খুবই বিচক্ষণ ব্যক্তি। তিনি ফিরে যেতে সম্মত হলেন। উতবা ইবনে রবিয়ার কন্যা এবং হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়াহ হযরত হিন্দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সাথে কুরাইশদের দুর্ব্যবহারে ক্ষুব্ধ হলেন। 
যদিও তিনি তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বড় শত্রুদের মধ্যে গণ্য ছিলেন, তা সত্ত্বেও তিনি আক্রমণকারীদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, যারা জিহাদের ময়দানে শত্রুদের মোকাবিলায় অসামর্থ্য; কিন্তু কোনো মহিলা যিনি উনার সম্মানিত পিতা উনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান, উনাকে হয়রান করে, তারা কাপুরুষ। একটি কবিতায় তিনি তাদেরকে বললেন,
اَفِـى السِّلْـمِ اَعْيَارًا جَفَاءً وَّغِلْظَةً ... وَّفِـى الْـحَرْبِ اَشْبَاهَ الـنِّـسَاءِ الْعَوَارِكِ
অর্থ: “তারা ছিল বন্য গাধার ন্যায়, যারা শান্তির সময় খুবই কঠোর এবং কর্কশ। কিন্তু যুদ্ধের সময় স¦াভাবিক মাজুরতায় রত নারীদের মতো।” (ইবনে হিশাম ৩/২০৭, বিদায়া নিহায়া ৩/৪০০, আর রওদ্বতুল উনফ ৩/১০৫)
আক্রমণকারীদেরকে পেলেই কতল করার নির্দেশ 
সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার উপর আক্রমণের পর পরই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সংবাদ পেশ করা হয়। সংবাদ পেয়ে তিনি অত্যন্ত কষ্ট পান। আর যারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার উপর আক্রমণ করেছিলো, তিনি তাদের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট হন। এমনকি সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে সারিয়্যাহ প্রেরণ করেন এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নির্দেশ মুবারক প্রদান করেন যে, 
اِنْ ظَفِرْتُـمْ بـِهَبَّارِ بْنِ الْاَسْوَدِ وَالرَّجُلِ الَّذِىْ سَبَقَ مَعَهٗ اِلـٰى حَضْرَتْ زَيْنَبَ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَحَرِّقُوْهُـمَا بِالنَّارِ 
অর্থ: “যদি আপনারা হাব্বার ইবনে আসওয়াদকে এবং তার সাথে যে লোকটি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার দিকে এগিয়ে গিয়েছিলো, তাদের উপর বিজয়ী হন, তাহলে তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলবেন।”
অপর বর্ণনায় রয়েছে, 
اِنْ وَّجَدْتُّـمُوْهُ فَاجْعَلُوْهُ بَيْنَ حُزْمَتَـىْ حَطَبٍ ثُـمَّ اَشْعِلُوْا فِيْهِ النَّارَ
অর্থ: “আপনারা যদি তাকে হাতের মুঠোয় পান, তাহলে তাকে লাকড়ির দুই আঁটির মাঝে রেখে তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিবেন।” (সুনানে সা‘ঈদ ইবনে মানছূর ২/২৮৬)
পরের দিন তিনি আবার ইরশাদ মুবারক করেন, 
اِنّـِــىْ كُنْتُ اَمَرْتُكُمْ بِتَحْرِيْقِ هٰذَيْنِ الرَّجُلَيْنِ اِنْ اَخَذْتُـمُوْهُـمَا ثُـمَّ رَأَيْتُ اَنَّهٗ لَا يَنْبَغِىْ لِاَحَدٍ اَنْ يُّـعَـذِّبَ بِالنَّارِ اِلَّا اللهُ فَاِنْ ظَفِرْتُـمْ بِـهِمَا فَاقْتُلُوْهُـمَا
অর্থ: ‘আমি আপনাদেরকে নির্দেশ মুবারক দিয়েছিলাম যে, যদি আপনারা আক্রমণকারীদেরকে ধরতে পারেন, তাহলে আগুনে পুড়িয়ে মারবেন। কিন্তু পরে আমি সিদ্ধান্ত মুবারক গ্রহণ করলাম যে, কাউকে আগুন দিয়ে শাস্তি দেয়া মহান আল্লাহ পাক উনার শান মুবারক। কাজেই, আপনারা যদি তাদেরকে ধরতে পারেন, তাহলে কতল করবেন।’ (বুখারী শরীফ, মুছান্নাফে আবী শায়বা ১২/৩৮৯, রওদ্বতুল উনফ ৩/১০৫, ইবনে হিশাম ৩/২০৮, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ২/২৮৭ ইত্যাদি)
অপর বর্ণনায় রয়েছে,
اِنْ وَّجَدْتُّـمُوْهُ فَاقْطَعُوْا يَدَهٗ ثُـمَّ اقْطَعُوْا رِجْلَهٗ ثُـمَّ اقْطَعُوْا يَدَهٗ ثُـمَّ اقْطَعُوْا رِجْلَهٗ فَلَمْ تُصِبْهُ السَّرِيَّةُ
অর্থ: “যদি আপনারা তাকে পান, তাহলে প্রথমে তার ডান হাত কাটবেন। তারপর ডান পা কাটবেন। অতঃপর বাম হাত কাটবেন। তারপর বাম পা কাটবেন। কিন্তু সারিয়্যাহ তাকে পায়নি।” (সুনানে সা‘ঈদ ইবনে মানছূর ২/২৮৬)
পরবর্তীতে হযরত হাব্বার ইবনে আসওয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ الْاِسْلَامَ مَـحَا ذٰلِكَ .
অর্থ: “নিশ্চয়ই ইসলাম এই সমস্ত কিছু মিটিয়ে দিয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (ওয়াক্বিদী) 
উল্লেখ্য যে, স¦াভাবিকভাবে সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার বিধান হচ্ছে, কতলের পরিবর্তে কতল। কিন্তু সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে যারা কষ্ট দিয়েছিলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের বিরুদ্ধে সারিয়্যাহ প্রেরণ করেছেন। শুধু তাই নয়, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন, তাদেরকে পেলেই আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য। সুবহানাল্লাহ! অবশ্য পরে নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন কতল করার জন্য। সুবহানাল্লাহ! 
সুতরাং এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক কত বেমেছাল এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে কত বেমেছাল মুহব্বত মুবারক করতেন। যেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার বাইরে। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ
কিছুদিন পর যখন ঘটনাটি লোকজনের মাঝে জানাজানি হয়ে গেল, তখন একদিন মধ্য রাতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে নিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত কিনানাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মক্কা শরীফ থেকে বের হলেন। তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী ‘বাত্বনে ইয়া’জিজে’ নিয়ে হযরত যায়িদ ইবনে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এবং হযরত আনসার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের নিকট পৌঁছিয়ে দিলেন। হযরত যায়িদ ইবনে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এবং হযরত আনসার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উভয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে নিয়ে সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। উনারা নিরাপদে সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ পৌঁছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে কাছে পেয়ে বেমেছাল খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। সাথে সাথে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও বেমেছাল খুশি হন। সুবহানাল্লাহ!

হযরত হাব্বার ইবনে আসওয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ

এ সম্পর্কে হযরত ইমাম আবূ আব্দিল্লাহ আল ওয়াক্বিদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘মাগাযী’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন, 
فَبَيْنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ بِالْمَدِيْنَةِ فِـىْ اَصْحَابِهٖ اِذْ طَلَعَ حَضْرَتْ هَبَّارُ بْنُ الْاَسْوَدِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَكَانَ لَسِنًا فَقَالَ يَا مُـحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُبَّ مَنْ سَبَّكَ اِنّـِــىْ قَدْ جِئْتُ مُقِرًّا بِالْاِسْلَامِ اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ وَاَنَّ مُـحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “একদা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ বসা ছিলেন। হঠাৎ সেখানে হযরত হাব্বার ইবনে আসওয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আসলেন। তিনি সুভাষী ছিলেন। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনাকে যে আঘাত দিয়েছে, আপনি তাকে হত্যা করুন! নিশ্চয়ই আমি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স¦ীকৃতি নিয়ে এসেছি।
اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ وَاَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ 
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক। উনার কোনো শরীক নেই। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ‘আবদ তথা হাবীব এবং উনার রসূল।” সুবহানাল্লাহ! (মাগাযী ১/৮৫৭, ইমতা’ ২/২৩৮)
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি কবূল করেন এবং ইরশাদ মুবারক করেন, 
يَا حَضْرَتْ هَبَّارُ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ عَفَوْتُ عَنْكَ وَالْاِسْلَامُ يـَجُبُّ مَا كَانَ قَـبْلَهٗ 
অর্থ: “হে হযরত হাব্বার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আমি আপনার অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছি। আর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম তিনি উনার পূর্বের সমস্ত কিছু বাতিল করে দেন, মিটিয়ে দেন।” সুবহানাল্লাহ! (নিহায়াতুল ঈজাঝ ১/৩৬৩)

No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...