আহলে কিতাব উনাদের মধ্যে অনেকেই হক্ব তালাশী ছিলেন। উক্ত আহলে কিতাব উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
ليسوا سواء من اهل الكتاب امة قائمة يتلون ايت الله اناء اليل وهم يسجدون.
অর্থ: “উনারা সবাই সমান নন। আহলে কিতাব উনাদের মধ্যে কিছু লোক এমনও আছেন যাঁরা রাতের একাংশে অবিচলভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ তিলাওয়াত করেন এবং পবিত্র সিজদাহ করেন।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৩)
এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় তাফসীরকারকগণ উনারা বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে যমীনে তাশরীফ আনয়ন করার পূর্বে উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম এবং উনার সকল পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম ও পূর্ব মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছাড়াও আরো অনেকেই মহান আল্লাহ পাক উনাকে বিশ্বাস করতেন এবং উনারা সত্য পথের উপর অর্থাৎ পবিত্র দ্বীনে হানীফ উনার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে সকল মানুষই মুশরিক ছিলো এ দাবি আদৌ সত্য নয়। কারণ বর্ণিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার প্রথমাংশ স্পষ্টতই প্রমাণ বহন করছে যে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আগমন পূর্ব সময়ে সকল মানুষ এক সমান ছিল না।
“তিবরানী শরীফ” উনার মধ্যে উল্লেখ আছে যে, নিম্ন বর্ণিত ব্যক্তিগণ মহান আল্লাহ পাক উনার একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিলেন এবং উনারা পাক-নাপাকীতেও বিশ্বাসী ছিলেন। যদি উনাদের কেউ নাপাক হতেন, তাহলে অযু-গোসল করে পবিত্র হতেন, এমনকি উনারা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র দ্বীনে বিশ্বাসী হয়ে আমল করতেন। উনাদের নাম মুবারক হলো- (১) সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম, (২) সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম, (৩) হযরত আসওয়াদ বিন সারারা বিন মাইরুর আনছারী, (৪) হযরত মুহম্মদ বিন মাসলামা ও (৫) হযরত আবূ কাইস বিন সারমা প্রমুখ। সুবহানাল্লাহ!
No comments:
Post a Comment