মহান আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ঘোষিত, মনোনীত লক্বব মুবারক হচ্ছে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা- যা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক শানে ভূষিত করেছেন।
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত হুযাইফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন-
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان هذا ملك لـم ينـزل الارض قط قبل هذا الليلة استأذن ربه ان يسلم على ويـبشرنى بان حضرت فاطمة عليها السلام سيدة نساء اهل الجنة.
অর্থ: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একজন হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম যিনি অত্র রাতের পূর্বে কখনো যমীনে অবতরণ করেননি। তিনি নিজের রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আমাকে সালাম করতে এবং সুসংবাদ প্রদান করতে অনুমতি প্রার্থনা করলেন যে, হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম তিনি জান্নাতী সকল মহিলাগণের সাইয়্যিদাহ। (তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, আহমদ শরীফ, আল মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, মুসতাদরাক, হিলয়াতুল আউলিয়া, সিয়ারু আলামিন নুবালা)
سيدة نساء اهل الجنة (সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ) অর্থ: সম্মানিত জান্নাত উনার অধিকারিনী সকল মহিলাগণের সাইয়্যিদাহ বা শ্রেষ্ঠা।
ام ابيها (উম্মু আবীহ) অর্থ: তিনি উনার সম্মানিত পিতা উনার মা সদৃশ।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা দুনিয়াতে আগমনের ধারবাহিকতায় সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনি হচ্ছেন সপ্তম।
আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৩ বছর পূর্বে পবিত্র মক্কা শরীফ তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সে সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক ছিল প্রায় ৩৭ বছর। আর উনার মমতাময়ী মা, সাইয়িদাতু নিসায়িল আলামীন, ত্বাহিরা, তইয়্যিবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক ছিল ৫২ বছর।
সে পবিত্র দিনটি ছিল জুমুয়াহ শরীফ। আর সময়টি ছিল ছুবহি ছাদিক। রাতের অবসানে দিনের শুরুতে অতি উত্তম সময়ে।
আবার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন- দিনের শেষভাগে বাদ আছর। সেদিন ছিল ১১তম হিজরী, ৩রা পবিত্র রমাদ্বান শরীফ। দিনটি ছিল ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার।
দুনিয়ার যমীনে প্রায় সাড়ে ২৬ বছর অবস্থান মুবারক করেছিলেন তিনি। এই অতি অল্প বয়স মুবারকে দুনিয়াবাসীগণের জন্য যে উত্তম আদর্শ ও নিদর্শন মুবারক রেখে গেছেন তা আগত অনাগত সকল উম্মাহর জন্য অনুসরণীয় অনুকরণীয়। মহিলাগণ যদি উনার আদর্শ ও ঐতিহ্যকে গ্রহণ করেন, তাহলে সকলেই পবিত্র জান্নাত উনার শীর্ষ চূড়ায় উপনীত হতে পারবে অতি অল্পসময়ে।
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যেদিন উনার সম্মানিতা আম্মাজান, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারকে তাশরীফ নিলেন, সেদিন থেকে উনার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম তিনি অকল্পনীয় এক জান্নাতী ফুলের সুবাস পাচ্ছিলেন তিনি অতি সহজেই অনুধাবন করতে পারলেন যে, এই মুবারক আওলাদ সাধারণ আওলাদ নন। উনি অসাধারণ মর্যাদা সম্পন্না, খ্যাতিমান হবেন। সারা কায়িনাতে হিদায়েতের আলো দানকারিণী হবেন।
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারকে থাকাকালীন সময়ে সে সৌরভ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তা উনার সম্মানিত পিতা-মাতা ছল্লাল্লাহু আলাইহিমা ওয়া সাল্লাম অনুভব করেছিলেন। উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার পর সেই সৌরভ সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। দুনিয়াবাসী সকলেই সেই সৌরভরাশি গ্রহন করতঃ ধন্য হয়েছেন এবং অদ্যাবধি হচ্ছে।
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক আনেন। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম সদ্য আগত প্রিয় সন্তান উনার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মুবারক হতে সেই সুঘ্রাণ তীব্রতরভাবে অুনভব করতে লাগলেন। কেবল তিনিই নন, বরং উনার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন প্রিয় বানাত উনাকে পরম আদরে কোলে তুলে নিলেন তিনিও সেই সুমিষ্ট সুঘ্রাণ মুবারক লাভ করলেন। সুবহানাল্লাহ!
বর্ণিত আছে যে, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি তখন উনার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম্ উনার খিদমত মুবারকে অবস্থান করছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে কুবরা আলাইহাস সালাম! হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে আমি জানতে পারলাম যে, আপনার খিদমত মুবারকে এখন একজন বানাত (কন্যা) সন্তান অবস্থান করছেন। আমার পবিত্র বংশধারা মুবারক দুনিয়াতে উনার দ্বারাই বিস্তার লাভ করবে। উনার বংশধরগণ সবাই হবেন অত্যন্ত পরহেযগার, মুত্তাক্বী আল্লাহওয়ালা। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি এই সুসংবাদ মুবারক শুনে অত্যন্ত খুশি হলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা মুবারক করলেন।
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ আনয়নের সময় নিকটবর্তী হলো। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি প্রতিবেশী মহিলাদেরকে খিদমত মুবারক উনার সদয় অনুমতি দান করলেন। ইচ্ছা করলে তারা খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দিতে পারে। যথাসময়ে মুবারক খবরটি সবার কাছে পৌঁছানো হলো। কিন্তু তাদের কোনো সাড়া শব্দ মিললো না। সাড়া শব্দ না মিলার আভ্যন্তরীণ বা অন্তর্নিহিত কারণ ছিল বিশেষ ব্যবস্থাপনা। দুনিয়াবী কোনো মহিলা সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সময় উপস্থিত থাকা মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা- অভিপ্রায় নয়। বিশেষ ব্যবস্থা তথা জান্নাতী মহান মহিলা উনারা হবেন সেই বিশেষ মুহূর্তের সম্মানিতা বিশেষ খাদিমা।
বিশেষ মুহূর্তটি অতীব নিকটবর্তী। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে কোনো খাদিমা নেই। নেই কোনো ব্যবস্থাপনা। কিন্তু তিনি তাতে সামান্যতম বিচলিত নন। বরং পরিপূর্ণ ইতমিনান। কারণ রহমত, বরকত, সাকীনার ফল্গুধারা সদা প্রবাহমান। মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে সালাম পাঠিয়েছিলেন ইতঃপূর্বে। আরো কত শত সহস্র নিয়ামতরাজি দানে ধন্য করেছেন তা শুমার করা যায় না। সেই নিয়ামতরাজির কথা উনার পবিত্র অন্তর মুবারকে উদয় হচ্ছে বার বার। যেন বিশেষ মুহূর্তে বিশেষ নিয়ামত প্রাপ্তির ইনতিজার করছেন তিনি।
মহান আল্লাহ পাক উনার অপার মহিমা। বিশেষ মুহূর্ত আগমনের ঠিক পূর্বক্ষণে হঠাৎ তিনি দেখতে পেলেন অতীব লাবণ্যময়ী খুব ছূরত মুবারক উনার অধিকারিণী, আলোকজ্জ্বল চারজন মহিলা উনার পবিত্রতম হুজরা শরীফে প্রবেশ করলেন। উনাদের ছূরত মুবারকের আলোতে পবিত্র হুজরা শরীফ আলোকিত হলো।
উনারা সবাই এসে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শয্যা মুবারকের পার্শ্বে বসলেন। অত্যন্ত আদব-ইহতিরাম ও বিনয়ের সাথে বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারকে আমরা আপনার খিদমত মুবারকের জন্য এসেছি।
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনাদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাইলেন।
প্রথমজন বললেন: আমি সাইয়্যিদুল বাশার, আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার যাওজাতুল মুকাররামা উম্মুল বাশার সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম।
দ্বিতীয়জন বললেন: আমি জলীলুল ক্বদর রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুলছূম আলাইহাস সালাম।
তৃতীয়জন বললেন: আমি উম্মু রূহিল্লাহ তথা জলীলুল ক্বদর রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম।
চতুর্থজন বললেন: আমি রব্বাতু কালীমিল্লাহ তথা জলীলুল ক্বদর রসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার প্রতিপালনকারিণী সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছিয়া আলাইহাস সালাম।
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যথাসময়ে ধরাপৃষ্ঠে তাশরীফ মুবারক নিলেন। সদ্য আগত শিশুর নূর মুবারকে পবিত্র হুজরা শরীফ নূরানী হলো। জান্নাতী এক সুমিষ্ট ঘ্রাণে চারিদিক আমোদিত হলো।
একটু পরেই এই বরকতময় আওলাদ উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার পবিত্রতম কোল মুবারকে তুলেন নিলেন। তখনো উনার পবিত্র অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মুবারক থেকে জান্নাতী ফুলের ঘ্রাণ মুবারক বিচ্ছুরিত হচ্ছে। ইহা দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত খুশি হলেন। এই বরকতময় শিশু উনার নাম মুবারক রাখলেন হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম।
“ফাতিমা” আলাইহাস সালাম নামে নামকরণের হিকমত ও তাৎপর্য:
فعل الـحكيم لا يخلو عن الحكمة
হাকিম মহান আল্লাহ পাক উনার কোনো কাজই হিকমত থেকে খালি নয়। একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারও কোনো কাজ মুবারকই হিকমত শুন্য নয়। তাতে অনেক হিকমত রয়েছে। রয়েছে অশেষ তাৎপর্য। যা বান্দা-উম্মত কখনো কখনো কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেউ কেউ কিছুটা উপলব্ধি করতে পারেন। সবার পক্ষে সবসময় সবটিই উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নাম মুবারক রেখেছেন “ফাতিমা” আলাইহাস সালাম করে।
فاطمة শব্দ মুবারক فطم শব্দ মুবারক থেকে এসেছে। যার অর্থ হচ্ছে- রক্ষা করা।
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রিয়তম হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম বংশধারা সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে জারি রেখেছেন।
কাজেই, বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় আওলাদ আলাইহাস সালাম উনার নাম মুবারক “ফাতিমা” উচ্চারিত হওয়ার মূলে এই তাৎপর্যটিও নিহিত ছিল।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت جابر بن عبد الله رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انما سميت بنتى فاطمة لان الله تعالى فطمها وفطم محبيها عن النار
অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার পবিত্র কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারক বানাত (কন্যা) আলাইহাস সালাম উনার নাম মুবারক রেখেছি “ফাতিমা”। তা এজন্যই যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে এবং উনার মুহব্বতকারীগণকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন। সুবহানাল্লাহ! (ফিরদাউস লিদ দায়লামী-১/৩৪৬, কানযুল উম্মাল-১২/১০৯, ইসতিজলাবে ইমাম সাখাবী-৯৬, মুসতাদরাকে হাকিম-১৫২)
খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন। একদিন তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারক হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নাম মুবারক “ফাতিমা” রাখার হিকমত, তাৎপর্য কি?
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
ان الله تعالى قد فطمها وذريتها عن النار يوم القيامة
অর্থ: “নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার বংশধরগণকে জাহান্নাম থেকে হিফাযত করবেন। সুবহানাল্লাহ! (যখায়িরুল উক্ববা-২৬, ফাতিমা বতুল বিনতে রসূল-২৮)
আরব দেশে নাম ধরে ডাকা আদব, শরাফতের খিলাফ মনে করা হতো। যার জন্য কুনিয়াত বা উপনাম কিংবা লক্বব দ্বারা ডাকার প্রচলন ছিল। তাছাড়া নূরে মুজাসাসম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম উনার ক্ষেত্রে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনিই অন্যান্যদের মতো উনাকে ডাকা বা সম্বোধন করা নিষেধ করে দিয়েছেন।
لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم كدعاء بعضكم بعضا.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সেভাবে ডাকবে না বা সম্বোধন করবে না; যেরূপ তোমরা পরস্পর পরস্পরকে ডাকো বা সম্বোধন করে থাকো।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৩)
কাজেই উনাকে সাধারণভাবে ডাকা বা সম্বোধন করা চরম বেয়াদবী; যা ঈমান, আমল বরবাদ হওয়ার কারণ। সেক্ষেত্রে ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ, ইয়া নাবীয়াল্লাহ ইত্যাদি আদব-শরাফতপূর্ণ শব্দ মুবারক দ্বারা সম্বোধন করা আবশ্যক।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লম উনার কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারক হচ্ছেন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলইহাস সালাম। সে কারণে উনাদেরকেও সাধারণভাবে নাম মুবারক ধরে ডাকা বা সম্বোধন করা চরম বেয়াদবী। ঈমান আমল বরবাদের কারণ। আর সম্মান প্রদর্শন হচ্ছে ঈমান, আমল বিশুদ্ধ হওয়ার কারণ। মর্যাদা-মর্তবা বৃদ্ধির মাধ্যম। সেকারণে আমরা উনার মূল নাম মুবারকে সম্বোধন না করে উনার বিশেষ লক্বব মুবারক ‘যাহরা’ আলাইহাস সালাম এই লক্বব মুবারকে সম্বোধন করার চেষ্টা করবো।
زهراء (যাহরা) অর্থ: কুসুমকলি। তিনি ছিলেন জান্নাতী কুসুমকলি। যেহেতু উনার পবিত্র জিসিম মুবারক থেকে জান্নাতী ফুলের খুশবু বা ঘ্রাণ পাওয়া যেতো। যার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম মুবারক থেকে জান্নাতের খোশবু নিতেন।
সুলত্বানুল আরিফীন, মুজাদ্দিদে যামান, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি খাছায়িছুল কুবরা কিতাবে উল্লেখ করেন-
ابنته حضرت فاطمة عليها السلام انها لاتحيض وكانت اذا ولدت طهرت من نفاسها بعد ساعة حتى لا تفوتها صلاة وكذلك سميت الزهراء
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই নূরানী বানাত (কন্যা) সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম তিনি স্বাভাবিক মাজুরতা থেকে পূত-পবিত্র ছিলেন। উনার আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা যমীনে তাশরীফ মুবারক আনার সময় উনি সামান্যতম সময়ে ব্যতিক্রম অবস্থায় ছিলেন। পরে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছেন। এমনকি এক ওয়াক্ত নামাযও ফউত হয়নি। আর এ কারণেও উনার পবিত্র মুবারক নামকরণ করা হয়েছে “যাহরা’ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! (আশ শরফুল মুয়াইয়্যিদ-৭৪, সাইয়্যিদা বতুল বিনতে রসূল-৩০)
উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদা শাবাবি আহলিল জান্নাহ, ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুশ শুহাদা, ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা দুজনই পবিত্র আছর নামাযের পর তাশরীফ মুবারক আনেন।
ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি রঈসুল মুফাসসিরীন, সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বর্ণনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
ان ابنتى حضرت فاطمة عليها السلام حوراء ادمية لـم تحض ولـم تطمث
অর্থ: “আমার এই নূরানী বানাত (কন্যা) তিনি মানবীয় হূর। যিনি স্বাভাবিক মা’জূরতা এবং সন্তান দুনিয়াতে আগমনকালীন সময়ের মা’জূরতা থেকে মুক্ত ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (আশশরফুল মুয়াইয়্যিদ-৭৪, মুসনাদে ফাতিমা আলাইহাস সালাম-১৩৭)
বিশিষ্ট ছাহাবী, খাদিমে রসূলিল্লাহ হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সম্মানিতা আম্মাজান হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে একবার জিজ্ঞাসা করলেন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম উনাকে ‘যাহ্রা’ লক্বব মুবারকে সম্বোধন করা হয় কেন?
তার জাওয়াবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বললেন-
كانت كالقمر ليلة البدر
অর্থ: “তিনি পূর্ণ চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল নূরানী চেহারা মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন বলেই উনাকে যাহ্রা লক্বব মুবারকে সম্বোধন করা হয়।” (মুসতাদরাকে হাকিম-৩/১৬১, সফীনায়ে নূহ-৫০, সাইয়্যিদা বতুল বিনতে রসূল-৩১)
সম্মানিত জান্নাত উনার হূর এবং পবিত্র পানি দ্বারা গোসল দান
মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে জান্নাতী দশজন হূর পাঠান। উনাদের প্রত্যেকের নিকট একটি বড় বাটি এবং উজ্জ্বল সৌন্দর্যম-িত, কারুকার্যখচিত পানির মশক ছিল। প্রত্যেক মশকে সম্মানিত জান্নাত উনার পানি দ্বারা পূর্ণ ছিল। উনারা সবাই সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহ্রা আলাইহাস সালাম উনাকে গোসল দিলেন। অতঃপর একটি সাদা কাপড়ে অতি উত্তম খুশবু মিশিয়ে তা উনাকে পরিয়ে দিলেন। আরো একটি খুশবুদার রুমাল উনার মাথা মুবারকে জড়িয়ে দিলেন। এভাবে পুত-পবিত্রাবস্থায় সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ত্বহিরা, ত্বইয়্যিবা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার কোল মুবারকে তুলে দিলেন। আর এই বলে দোয়া করলেন যে, “মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন উনাকে এবং উনার আল আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পুত-পবিত্র রাখেন।” (রওজাতুশ শুহাদা, সাইয়্যিদা বতুল বিনতে রসূল-৪৪)
No comments:
Post a Comment