নিছবত, সাদৃশ্যতা ও মুবারক খুছছিয়ত সম্পর্কে সামান্যতমআলোকপাতঃ
হযরত মিছর ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, স্বয়ংনূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ‘সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার জিসিম মুবারক-এর গোশত মুবারক-এর টুকরাসমূহের একখানা টুকরামুবারক।’ সুবহানাল্লাহ!
উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন নূরেমুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুননাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে যেতেন,সাক্ষাৎ করার জন্য, তখন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মুহব্বতের কারণে দাঁড়িয়ে উনারনিকটবর্তী হয়ে উনার হাত মুবারক নিয়ে চুম্বন করতেন, বুছা দিতেন।সুবহানাল্লাহ!
চুম্বন করে, বুছা দিয়ে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আসন মুবারক-এ উনাকে বসাতেন।সুবহানাল্লাহ!
আবার ঠিক একইভাবে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরাআলাইহাস সালাম তিনি অনুরূপটা করতেন। যেমন হাদীছ শরীফ-এ এসেছে-
যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামতিনি উনার সাক্ষাতে যেতেন, তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহহযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি তা’যীম করে, তাকরীম করে, মুহব্বতকরে তিনি দাঁড়িয়ে তাড়াতাড়ি এসে উনার হাত মুবারক নিয়ে বুছা দিয়েউনার স্থানে তা’যীম-তাকরীম-এর সহিত উনাকে বসাতেন। সুবহানাল্লাহ!
এই যে বিষয়টা, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন,ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আর কারও সাথে এ রকম ব্যবহার করতেন না। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারতাহলে কতটুকু মর্যাদা, কতটুকু ফযীলত, খুছুছিয়ত সেটা বান্দাদের জন্য,বান্দিদের জন্য, উম্মতদের জন্য ফিকির এবং চিন্তার বিষয়।
উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন-
ما رأيت احدا اشبه
আমি কাউকে দেখিনি, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালামউনার থেকে বেশি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম উনার অনুরূপ।
سمتا وهاديا ودالا
চুপ থাকা, কথাবার্তা, তা’লীম-তালক্বীন মুবারক, ছূরত-সীরত মুবারক,চরিত্র মুবারক, উনার ইতমিনান, ধীরস্থিরতা, চাল-চলন স্বভাব-চরিত্রমুবারক ইত্যাদি প্রতিটি বিষয়ে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরতযাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুবহু নকশা বা অনুরূপ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই এ থেকে বুঝা যায়, উনার মর্যাদা, উনার মর্তবা-ফযীলত, উনারখুছূছিয়ত, উনার বৈশিষ্ট্য কত অপরিসীম।
উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই এটা বলেন-
ما رأيت احدا اشبه
আমি কাউকে দেখিনি অনুরূপ। এতো মুশাবাহা, এতো মিল। এবং তিনি অন্যহাদীছ শরীফ-এ বলেন, অনেক সময় আওয়াজ শুনে আমরা মনে করতামঅথবা চালচলন মুবারক-এর শব্দ শুনে মনে করতাম হয়তো নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আসছেন। আমরাতা’যীমের জন্য দাঁড়িয়ে যেতাম। কিছুক্ষণ পর দেখতাম, তিনি নূরেমুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরিনন। তবে উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরতযাহরা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার আচার-আচরণ,কথা-বার্তা, চরিত্র-বৈশিষ্ট্য এবং ছূরত-সীরত মুবারক-এর মধ্য দিয়েসম্পূর্ণভাবে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারনিদর্শনসমূহই ফুটে উঠতো। জ্ঞানে-গুণে, কাজে-কর্মে, ত্যাগে-সাধনায়, কষ্ট-সহিষ্ণুতায় এবং মাধুর্যময় চরিত্র মহিমায় তিনি ছিলেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই আদর্শের উজ্জ্বল প্রতীক। তিনি পিতাসাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মাতা উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাসসালাম উনার নিকট থেকেই শিক্ষা লাভ করেন।
No comments:
Post a Comment