খাতুনে জান্নাত হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে ওছিয়ত করেন যে, আমাকে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম এবং আপনি মিলে গোসল দিবেন এবং আমার জানাযার ব্যাপারে কাউকে আহ্বান করবেন না। তবাকাতে ইবনে সা’দ ও অন্যান্য কিতাবের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মু সালামা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেছেন যে, খাতুনে জান্নাত হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ঘরে ছিলেন না। তিনি আমাকে বললেন, আম্মাজান! আমাকে গোসল করিয়ে দিন। আমি পানি ঢেলে দিলাম। তিনি ভালোভাবে গোসল করলেন। আর আমাকে নতুন কাপড়ের জন্য বললেন, আমি উনাকে নতুন কাপড় পরিয়ে দিলাম এবং হুজরা শরীফ উনার মধ্যে বিছানা তৈরি করার জন্য বললে আমি হুজরা শরীফ উনার মধ্যে চার পায়ের উপর বিছানা বিছিয়ে দিলাম এবং তিনি হুজরা শরীফ উনার মধ্যে পায়ের উপরে শুয়ে গেলেন এবং আমাকে বললেন, আম্মাজান! আমি গোসল সেরে নিয়েছি, আমার বিছাল শরীফ উনার পর যাতে কেউ গোসল না দেয়। এ কথা মুবারকের পর উনার বিছাল শরীফ হয়ে যায়। এরপর হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তাশরীফ নিলেন। ঘটনা শুনলেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন যে, উনার গোসল হয়েছে আর গোসল দেয়ার প্রয়োজন নেই। (তবাকাতে ইবনে সা’দ ৮ম খণ্ড)
মুসনাদে আহমদ শরীফ ২য় খ- ৪৮৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে যে, খাতুনে জান্নাত হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মু সালামা আলাইহাস সালাম উনাকে বলেন,
يا امة انى مقبوضة الان وقد تطهرت فلا يكثفنى احد
অর্থাৎ আম্মাজান! আমি কিছুক্ষণের মধ্যে দুনিয়া হতে বিদায় নিয়ে যাচ্ছি। আমি গোসল সেরে নিয়েছি। সুতরাং কেউ যেনো গোসলের জন্য আমার শরীর মুবারক না খুলে।
হিলইয়াতুল আউলিয়া কিতাবের মধ্যে হযরত আবু নঈম ইস্পাহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, খাতুনে জান্নাত হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে গোসলের পানি নিয়ে আসার জন্য বলেন, তিনি পানির ব্যবস্থা করে দিলেন। তখন হযরত খাতুনে জান্নাত আলাইহাস সালাম তিনি গোসল সেরে নিলেন এবং কাফনের কাপড় চাইলেন, তা দেয়া হলে তিনি নিজেই তা পরিধান করে খুশবু লাগালেন এবং বললেন, উনার বিছাল শরীফ উনার পর যেনো কেউ উনার পরিধেয় কাপড় মুবারক না খুলে।
হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি গোসল মুবারক সেরে নিয়ে কাপড় মুবারক পরিধান করে যখন শুয়ে পড়লেন তখন মালাকুল মউত হযরত আজরাইল আলাইহাস সালাম তিনি উনার হুজরা শরীফ উনার মধ্যে এসে রূহ মুবারক নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তিনি পর্দার গুরুত্ব আরোপ করে হযরত মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম উনাকে উত্তর দিলেন, আপনাকে আমি আমার রূহ মুবারক নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি দিবো না। তখন হযরত মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ উনার মধ্যে গিয়ে একথা জানালে। স্বয়ং খালিক্ব মালিক্ব রব মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তিনি কুদরতী অবস্থায় খাতুনে জান্নাত হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার রূহ মুবারক নিয়ে যান। এ সম্পর্কে ‘তাফসীরে রূহুল বয়ান’ কিতাব উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, “হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট যখন হযরত মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন তখন উনার দ্বারা তিনি উনার রূহ মুবারক কবজ করতে রাজি হননি। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি কুদরতীভাবে উনার রূহ মুবারক নিয়ে যান।” সুবহানাল্লাহ!
আর মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে কারো রূহ কবজ করা অসম্ভবও নয়। কেননা, পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাক তিনি আত্মাসমূহ কবজ করেন উনাদের ইন্তিকালের পর।”
No comments:
Post a Comment