মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার ওলী উনাদেরকে অনেক মর্যাদা-মর্তবা, সম্মান দিয়েছেন। সেই মহান মর্যাদা-মর্তবার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে উনাদের কারামত। কারামত সত্য। সমষ্টিগত কারামত উনাকে অবিশ্বাস করা কুফরী। তবে ব্যক্তি বিশেষে কারামতকে অস্বীকার করা আমভাবে কুফরী না হলেও খাছভাবে গুমরাহী বা বিভ্রান্তির কারণ।
আমিরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিষয়টি ব্যতিক্রম। উনার কোনো বিষয়েই কোনো প্রকার চু-চেরা, ক্বিল-ক্বাল করা যাবে না। করলে কুফরী হবে। আর উনাকে ওলীআল্লাহ বলা উনার সুমহান শান-মান উনার খিলাফ।
এছাড়াও তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হলেও উনার হাক্বীক্বী বা প্রকৃত পরিচয় হচ্ছে তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত ও ইমাম। ‘কারামত’ উনার আর কোনো পরিভাষা রচিত না হওয়ায় আমরা উনার মহান শান মুবারকে কারামত শব্দটিই ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি।
তিনি কোনো বাহন ছাড়া শুধুমাত্র মুবারক পায়ে হেঁটে ১৫বার পবিত্র হজ্জ মুবারক করেছেন। একবার তিনি পবিত্র হজ্জ উনার সময় মুবারক পায়ে হেঁটে পবিত্র মক্কা শরীফ গমন করছিলেন। পথিমধ্যে উনার পা মুবারক ফুলে গেলো। তা দেখে উনার খাদিম আরজ করলেন, হে আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বেয়াদবি ক্ষমা চাই, আপনি যদি কোনো সাওয়ারীতে আরোহন করতেন তাহলে খুবই ভালো হতো। আপনার পা মুবারক উনার ব্যথা কমে যেতো এবং ফুলাটাও সেরে উঠতো। তিনি সেই খাদিম উনার আবেদন কবুল করলেন না; বরং তিনি বললেন, আপনি নিকটেই কোথাও গিয়ে দেখুন, কোনো একটি গৃহে পৌঁছে একজন হাবশীকে দেখতে পাবেন। তার কাছে কিছু তেল থাকবে। আপনি তা কিনে নিবেন। তার সাথে কোনো প্রকার ফিতনা-ফাসাদ, ঝগড়া-বিবাদ করবেন না।
খাদিম বললেন, আমার মা-বাবা আপনার জন্য কুরবান হউক। আমরা কোথাও এরূপ কোনো লোক দেখতেছি না। যার কাছে এমন ওষুধ আছে। এখানে কোথায় তাকে পাওয়া যাবে? কিন্তু পরের মঞ্জিলে পৌঁছার পরেই সেই হাবশী দৃষ্টিগোচর হলো। আমিরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তখন বললেন, এই হাবশী সম্পর্কেই আমি আপনাকে বলেছিলাম। যান তার কাছ থেকে তেল নিয়ে আসুন।
খাদিম সেই হাবশীর কাছে গিয়ে তেল চাইলেন। হাবশী জিজ্ঞাসা করলো, এই তেল কার জন্য চাচ্ছেন? সেই খাদিম বললেন, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য। তখন হাবশী ব্যক্তি বললো আমাকে উনার নিকট নিয়ে চলুন। খাদিম তাকে নিয়ে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পৌঁছলেন। হাবশী ব্যক্তি উনাকে বললেন, হে আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা আপনাদের গোলাম। কাজেই, আমি তেলের কোনো মূল্য নিবো না। আপনি আমার স্ত্রীর জন্য দোয়া করুন। তার এখন সন্তান দুনিয়ায় আসার সময়কাল চলছে। সে অত্যন্ত বেদনা কাতর। আপনি মেহেরবানী করে দোয়া করুন- যেন মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে একটি সুন্দর ও সুস্থ-সবল সন্তান দান করেন।
সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, নিজের ঘরে ফিরে যান। মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে এমনিই একজন শিশু সন্তান দান করবেন। যেমনটি আপনি চেয়েছেন। মনে রাখুন, সে সন্তান আমার অনুসারী হবে। আহলে বাইত শরীফ উনাদের মুহব্বতে সবসময় গরক থাকবে। হাবশী ব্যক্তি ঘরে ফিরে গেলো এবং তিনি যা বলেছেন, হুবহু তেমনি পেলো। সুবহানাল্লাহ!
No comments:
Post a Comment