কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর দৃষ্টিতে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত
মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে যত মাখলূকাত তিনি সৃষ্টি করেছেন, তন্মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব আকরামুল খলায়িক্ব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও সর্বাধিক মর্যাদা, মর্তবা, ফযীলত তথা মাক্বামাত হাদিয়া করেছেন। এককথায় তিনি শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক নন। এছাড়া আর যত প্রকার ফযীলত, মর্যাদা ও মর্তবা রয়েছে, তা সবই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ওসীলায় ইনসানকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আর জিন-ইনসানের মধ্যে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যার যতবেশি তায়াল্লুক ও মুহব্বত উনাকেই মহান আল্লাহ পাক তিনি ততবেশি ফযীলত, মর্যাদা ও মর্তবা হাদিয়া করেছেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কারণেই উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সবচেয়ে বেশি ফযীলত, মর্যাদা ও মর্তবা। দ্বিতীয়তা মহান আল্লাহ পাক উনাদেরকে আলাদা মর্যাদা দিয়েই সৃষ্টি করেছেন।
কারণ অন্যান্য মানুষের চেয়ে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সর্বাধিক তায়াল্লুক বা সম্পর্ক।
স্মরণীয়, প্রতিটি মানুষের হাক্বীক্বী মর্যাদা প্রকাশিত হবে জান্নাতে। আর হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা জান্নাতে থাকবেন স্বয়ং হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে।
সুতরাং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে সমস্ত মানুষের মধ্যে সর্বাধিক ফযীলত, মর্যাদা ও মর্তবার অধিকারী হচ্ছেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সর্বাধিক তায়াল্লুক ও মুহব্বত সম্পন্ন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ!
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ফযীলত ও লক্বব মুবারক সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঈমানদারগণ উনাদের নিকট উনাদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। আর উনার আহলিয়াগণ উনারা মু’মিনগণ উনাদের মাতা।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৬)
আলোচ্য আয়াত শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গিনী আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে ‘উম্মুল মু’মিনীন’ বা ‘মু’মিনগণ উনাদের মাতা’ লক্বব মুবারক হাদিয়া করেছেন।
অর্থাৎ আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গিনীগণ উনারা সমস্ত উম্মত উনাদের নিকট নিজের মায়ের মতো তো অবশ্যই বরং উনার সমস্ত কায়িনাতের মাতা।
নিজের মাতাকে যেমন তা’যীম-তাকরীম বা সম্মান করা ফরয, তা থেকে লক্ষ কোটিগুণ বেশি সম্মান-ইজ্জত করা প্রত্যেক উম্মত উনাদের জন্য ফরয হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাঁরা আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালামগণ উনাদেরকে। নিজের মাতাকে যেরূপ বিয়ে করা হারাম, তেমনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালামগণ উনাদেরকেও কোনো (পুরুষ) উম্মতের জন্য বিয়ে করা হারাম।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ-এর পর উনার আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে তোমরা বিয়ে করবে না, তোমাদের জন্য উনাদেরকে বিয়ে করা হারাম।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৫৩)
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ফযীলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ করেন, “হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালামগণ! আপনারা অন্যান্য মহিলাদের মতো নন।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৩২)
অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন অন্য কোনো মানুষের মতো নন, তেমনি উনার আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালামগণ উনারাও দুনিয়ার অন্য কোনো মতো নন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে বেমেছাল পূত-পবিত্রা এবং সুমহান চরিত্র মুবারক-এর অধিকারিণী করে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খাছ করে সৃষ্টি করেছেন। সেজন্য উনাদের আরেকটি খাছ লক্বব মুবারক হলো ‘আযওয়াজুম মুত্বাহহারাত’ অর্থাৎ পূত-পবিত্রা আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালামগণ।
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হে (আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার) আহলে বাইত আলাইহিমুস সালামগণ! মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে (সর্বপ্রকার) অপবিত্রতা, অশালীনতা দূর করতে। তিনি আপনাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্রা করতে চান।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৩৩)
উপরোক্ত আয়াত শরীফ-এর অর্থ এটা নয় যে, হযরত আহলে বাইত বা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে কোনো প্রকার অপবিত্রতা রয়েছে যা থেকে উনাদেরকে পবিত্র করতে হবে। বরং এর অর্থ হচ্ছে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং স্বীয় ভাষায় কুরআন শরীফ-এর মধ্যে উনাদের পবিত্রতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। যেমন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নবী হিসেবে সৃষ্টি হওয়ার পরও উনাকে চল্লিশ বছর বয়স মুবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নবী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
মূলত কোনো প্রকার অশ্লীল ও অশালীন কাজ তো দূরের কথা, কোনো প্রকার অশোভনীয় ও মুরুওয়াতের খিলাফ কাজও হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ উনাদের স্পর্শ করতে পারেনি। সুবহানাল্লাহ! তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, “হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালামগণ! আপনাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো প্রকার স্পষ্ট শালীনতার খিলাফ কাজে জড়িত হন, তবে উনাকে দ্বিগুণ অসন্তুষ্টি দেয়া হবে। এটা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষে অত্যন্ত সহজ।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৩০)
উপরোক্ত আয়াত শরীফ-এ দ্বিগুণ শাস্তির কথা বলা হয়েছে। তার অর্থ হলো উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় ছোহবত অর্জন ও আহলিয়া হওয়ার কারণে উনাদের মর্যাদা-মর্তবা অন্যান্য মহিলাদের তুলনায় সীমাহীন ঊর্ধ্বে। উনারা যে বেমেছাল ফযীলত, মর্যাদা ও মর্তবার অধিকারিণী ছিলেন, তারই দলীল পেশ করেছেন মহান আল্লাহ পাক তিনি এ আয়াত শরীফ-এ।
যেমন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের ক্ষেত্রে কালাম পাক-এ ইরশাদ হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাক তিনি নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের থেকে এই মর্মে ওয়াদা নিলেন যে, আমি আপনাদেরকে কিতাব ও হিকমত হাদিয়া করবো। অতঃপর আপনাদেরকে প্রদত্ত কিতাবসমূহকে সত্য প্রতিপাদনকারী হিসেবে একজন রসূল, অর্থাৎ যিনি আখিরী রসূল, যিনি আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আগমন করবেন। আপনারা উনার প্রতি ঈমান আনবেন এবং উনাকে পেলে খিদমত করবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনারা কি আমার এ ওয়াদা স্বীকার ও গ্রহণ করলেন? উনারা বললেন, হ্যাঁ, আমরা স্বীকার করে নিলাম। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, তাহলে আপনারা সাক্ষী থাকুন এবং আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী রইলাম। এরপর যারা এ ওয়াদা থেকে ফিরে যাবেন উনারা কিন্তু নবী ও রসূল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবেন না।” (সূরা আলে ইমরান : আয়াত শরীফ ৮১, ৮২)
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যতীত এক লক্ষ চব্বিশ হাজার, মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত ওয়াদা নিয়েছিলেন। কিন্তু কেউই ওয়াদা থেকে ফিরে যাননি বা ওয়াদা ভঙ্গ করেননি। আর ওয়াদা ভঙ্গ করার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনারা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত ওহী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি পূর্ণ অনুগত।
উপরোক্ত আয়াত শরীফ-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কেবল এ কথাটি জানিয়ে দেয়া যে, আপনাদেরকে যেহেতু সবচাইতে শ্রেষ্ঠ ও মহান নিয়ামত, অর্থাৎ নুবুওওয়াত ও রিসালত প্রদান করা হয়েছে, আর তা প্রদান করার শর্ত হিসেবে যে ওয়াদা করা হলো তা পালন না করলে সে নিয়ামত বহাল থাকবে না। আর এটাই স্বাভাবিক এবং বাস্তবসম্মত কথা যে, যাকে যত বড় নিয়ামত দেয়া হবে তিনি যদি সে নিয়ামতের ক্বদর ও শুকরিয়া না করেন, তাহলে সে অনুপাতেই তার বিপরীত অবস্থা হওয়া উচিত।
প্রকৃতপক্ষে আয়াত শরীফ-এর উদ্দেশ্য অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা নয়। বরং উনাদের মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো। কারণ উনারা সর্বদাই মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিতেন এবং তাই তলব করতেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ করেন, “হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আপনার আহলিয়াগণ উনাদেরকে বলুন; যদি আপনারা পার্থিব জীবন ও দুনিয়াবী সৌন্দর্য কামনা করেন; তবে আসুন, আপনাদেরকে দ্রব্যসামগ্রী ও বিলাসিতার ব্যবস্থা করে দেই এবং আমি আপনাদেরকে উত্তম পন্থায় চলে যাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করি। আর যদি আপনারা মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং পরকালীন কল্যাণ কামনা করেন, তবে মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদের সৎকর্ম পরায়ণতার জন্য মহা পুরস্কারের ব্যবস্থা করে রেখেছেন।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ২৮, ২৯)
এ আয়াত শরীফ প্রসঙ্গে হযরত উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, “আমাদের পরিধানের পোশাক এক সেট থাকার কারণে আমাদের ইবাদত-বন্দেগী এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত যথাযথভাবে সম্পাদন করা কষ্টকর হয়ে পড়ার আশঙ্কায় আমরা দ্বিতীয় আরেক সেট পোশাক চেয়েছিলাম, যাতে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত যথাযথভাবে সম্পাদন করা সহজ হয়। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রকৃতপক্ষে আমাদের পবিত্রতাই ঘোষণা করেছিলেন।”
অনেকে মনে করে যে, “হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ উনারা অন্যান্য মহিলাদের মতো হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে দুনিয়াবী সম্পদ তলব করেন।” নাউযুবিল্লাহ!
সেই ভ্রান্ত ধারণার মূলোৎপাটনের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি এ আয়াত শরীফ নাযিল করে জানিয়ে দিলেন যে, হাক্বীক্বত উনারা দুনিয়া তলব করেননি। বরং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ উনারা যে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য দুনিয়াবী সমস্ত কিছু ত্যাগ করে খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাছিলে মশগুল ছিলেন, তারই স্পষ্ট বর্ণনা ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা মহান আল্লাহ পাক তিনি এ আয়াত শরীফ-এ দান করেন।
উপরোক্ত আয়াত শরীফসমূহে এবং আরো অনেক আয়াত শরীফসমূহে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ফযীলত বর্ণনা করেছেন।
No comments:
Post a Comment