Saturday, February 20, 2016

উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক


মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৫ বছর পূর্বে ১১ই জুমাদাল ঊলা শরীফ মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক অনুযায়ী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৩৫ বছর। আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিলেন ৫০ বছর। সুবহানাল্লাহ!


মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে খুশি প্রকাশ:

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, হযরত উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি, মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং সমস্ত কায়িনাত সকলেই সম্মানিত খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন, ‘ফালইয়াফরহূ’ তথা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত আক্বীক্বাহ মুবারক দেয়া এবং সম্মানিত নাম মুবারক রাখা:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ, লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সপ্তম দিনে উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত আক্বীক্বাহ মুবারক দেন এবং উনার সম্মানিত নাম মুবারক রাখেন ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমাইয়্যাহ আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! 
এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وَاسْمُ حَضْرَتْ اُمِّ كُلْثُوْمٍ بِنْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَضْرَتْ اُمَيَّةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক হচ্ছেন ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমাইয়্যাহ আলাইহাস সালাম’।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৫৩) 

সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক ছিলো ‘উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম’। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত মুবারক করে ‘উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম’ বলে আহ্বান মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ! আরবী ‘কুলছূম’ শব্দ মুবারক উনার অর্থ মুবারক হচ্ছে- ‘এমন একজন সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক, যিনি পূর্ণ গোলাকার মুখম-ল মুবারক উনার অধিকারিণী’। সুবহানাল্লাহ! এরপর থেকেই তিনি সকলের নিকট ‘উম্মু কুলছূম’ হিসেবে পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! 
সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি সেই সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারক যিনি নাম মুবারক দ্বারা পরিচিতি মুবারক গ্রহণ না করে, সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক দ্বারা পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, 
وِهِىَ مِـمَّنْ عُرِفَ بِكُنْيَتِهٖ وَلَـمْ يعرف لها اسم.
অর্থ: “তিনি সেই সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারক যিনি সম্মানিত নাম মুবারক দ্বারা পরিচিতি মুবারক গ্রহণ না করে সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক দ্বারা পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (যখাইরুল ‘উক্ববা ১/১৬৪, তারীখুল খমীস ১/২৭৫)

সম্মানিত লালন-পালন মুবারক:

আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিতা মাতা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের সর্বাধিক সম্মানিত আদর-যতœ মুবারক-এ, সম্মানিত তত্ত্বাবধান মুবারক-এ লালিত-পালিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার সম্মানিত পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সম্মানিতা মাতা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের যাবতীয় সমস্ত খুছূছিয়াত ও বৈশিষ্ট্য মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ইলম মুবারক:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- 
اِنَّـمَا اَنَا قَاسِمٌ وَاللهُ يُعْطِىْ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন দাতা আর আমি হচ্ছি বণ্টনকারী।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রকার সম্মানিত ইলম মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! শুধু সম্মানিত ওহী মুবারক নাযিল হওয়া ব্যতীত সমস্ত প্রকার সম্মানিত ইলম মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন তিনি। মূলত উনার সম্মানার্থে সমস্ত কায়িনাতবাসী ইলম, আমল, ইখলাছ, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করেছে, করছে এবং করতেই থাকবে। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ছূরত মুবারক:

বিদ্ব‘য়াতুম মির রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মুল আবীহা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ! 

সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক:

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُمْ تَطْهِيْرًا.
অর্থ: “হে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ৩৩) 
এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে উল্লেখ রয়েছে,
هُمْ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنَ السُّوْءِ وَاخْتَصَّهُمْ بِرَحْمَتِهٖ
অর্থ: “উনারা হচ্ছেন মহান সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা ও পাপ থেকে পূত-পবিত্র রেখেছেন এবং উনার সম্মানিত রহমত মুবারক দ্বারা খাছ করে নিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! 
আর সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اَنَّ نَبِـىَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (প্রায়) ইরশাদ মুবারক করতেন, আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর লিস সুয়ূত্বী ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)
অর্থাৎ মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম উনার খনি মুবারক ইত্যাদি সমস্ত কিছু থেকে পবিত্র, ছমাদ তথা বেনিয়ায। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! উনাদের কারণেই সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, সমস্ত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, সম্মানিত রহমত মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারকসহ সমস্ত কিছুই ফযীলতপ্রাপ্ত হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! 
উপরোক্ত সম্মানিত আয়াত শরীফ এবং সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! উনার কারণেই সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক, সম্মানিত রিসালাত মুবারক, সমস্ত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, সম্মানিত রহমত মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারকসহ সমস্ত কিছুই ফযীলতপ্রাপ্ত হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! 
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি আমাদের সবাইকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে সেই সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক উনার হিসসা নছীব করুন। আমীন! 

সম্মানিত শাদী মুবারক:

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারক হয়েছিলো আবূ লাহাবের পুত্র উতবার সাথে এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারক হয়েছিলো উতাইবার সাথে। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলো ৭ বছরের কাছাকাছি আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলো ৫ বছরের কাছাকাছি। এটি ছিল শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বিবাহ। উনাদেরকে তাদের গৃহে যেতে হয়নি। সুবহানাল্লাহ! তার আগেই সম্মানিত সূরা ‘লাহাব শরীফ’ নাযিল হওয়ার পর আবূ লাহাব ও তার স্ত্রীর কারণে উতবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারক থেকে মাহরূম হয়ে যায় অর্থাৎ মুবারক খেদমত করার ব্যাপারে অযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়। এবং উতাইবাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারক থেকে মাহরূম হয়ে যায়। অর্থাৎ মুবারক খিদমত করার ব্যাপারে অযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
অপর বর্ণনায় রয়েছে, যখন কুরাইশরা অনুভব করলো যে, কোনো পরিকল্পনা করেই নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার দাওয়াত মুবারক দেয়া থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না; তখন তারা নতুন পরিকল্পনা করলো। কুরাইশরা বলে উঠলো, তোমাদের সর্বনাশ হোক, তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে নিজেদের ছেলেদের বিবাহ করিয়ে উনার দুশ্চিন্তা নিজেদের ঘাড়ে তুলে নিয়েছো। নাঊযুবিল্লাহ! তোমরা যদি উনার আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের থেকে নিজেদের ছেলেদেরকে বিচ্ছিন্ন করে নাও, তাহলে তিনি উনাদেরকে নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন। নাঊযুবিল্লাহ! তাদের মধ্যে অনেকে এ কথা সমর্থন করে বললো, এ তো চমৎকার যুক্তি। নাঊযুবিল্লাহ! তারা দল বেঁধে উতবাহ এবং উতাইবাহর নিকট গিয়ে বললো, “তোমরা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও। যদি তোমরা তা করো, তহলে উনাদের পরিবর্তে তোমরা তোমাদের পছন্দমত কুরাইশদের যে কোনো সুন্দরী নারীকে বিবাহ করতে পারবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ!
তারা রাজি হয়ে যায়। ফলে উতবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারক থেকে মাহরূম হয়ে যায় অর্থাৎ মুবারক খেদমত করার ব্যাপারে অযোগ্য বলে প্রমাণিত হয় এবং উতাইবাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারক থেকে মাহরূম হয়ে যায় অর্থাৎ মুবারক খিদমত করার ব্যাপারে অযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়। নাঊযুবিল্লাহ! অতঃপর তারা তাদের পছন্দমত কুরাইশদের দুইজন মহিলাকে বিবাহ করে নেয়। না‘ঊযুবিল্লাহ!
মূলত, এখান থেকে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, উতবাহ এবং উতাইবাহ তারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনাদের আনজাম দেয়ার ব্যাপারে চরম অযোগ্য ছিলো। মহান আল্লাহ পাক তিনি চাননি যে, তাদের মতো এরূপ অযোগ্য বর্বর সর্বনিকৃষ্ট কাফির ও মুশরিক লোকদের ঘরে উনারা সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন। যার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি কুদরতীভাবে উনাদেরকে তাদের নিকৃষ্ট ঘরে তাশরীফ মুবারক নেওয়া থেকে হিফাযত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! কারণ উনারা হচ্ছেন পূত-পবিত্রা। শুধু তাই নয়, উনারা হচ্ছেন পূত-পবিত্রতাদানকারিণী। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনিই ছিলেন উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার একমাত্র উপযুক্ত ব্যক্তিত্ব মুবারক। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! 

সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ:

মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা সর্বপ্রথম উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট প্রকাশ করেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পুরুষ-মহিলা সকলের পূর্বে সর্বপ্রথম সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সাথে সাথে উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে কুলছূম আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারাও সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস তিনিও সংবাদ মুবারক পাওয়ার সাথে সাথে এসে সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনারাই হচ্ছেন পুরুষ-মহিলা সকলের মাঝে সর্বপ্রথম সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশকারিণী। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
اَوَّلُ مَنْ اَسْلَمَ وَاٰمَنَ فِىْ خَلْقِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنَ الرَّجُلِ وَالْاِمْرَاَةِ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ خَدِيْجَةُ عَلَيْهِا السَّلَامُ وَبَنَاتُهَا عَلَيْهِنَّ السَّلَامُ. 
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি জগতে পুরুষ মহিলা সকলের মাঝে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সর্বপ্রথম সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন।” সবুহানাল্লাহ!
তাই মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সায়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “উনারাই যেহেতু পুরুষ-মহিলা সকলের মাঝে সর্বপ্রথম সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন। কাজেই ক্বিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ ঈমান আনবে এবং যত নেক আমল করবে, সমস্ত ফযীলত উনাদের সম্মানিত আমল নামা মুবারক-এ যেয়ে পৌঁছবে।” সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত মি’রাজ শরীফ:

আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৫১তম বছরের ২৭শে রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত মি’রাজ শরীফ-এ যান। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষ শান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক ঘটে। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য ৫ ওয়াক্ত ছলাত (নামায) মুবারক হাদিয়াস্বরূপ নিয়ে আসেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার বিষয়টি বিশ্বাস করে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ‘ছিদ্দীক্বে আকবর’ লক্বব মুবারক-এ ভূষিত হন। সুবহানাল্লাহ! আর কাফিরেরা চরম বিরোধিতা করতে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি উনার পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশেষ শান মুবারক প্রকাশে যেমন অত্যন্ত খুশি মুবারক প্রকাশ করেন তেমনিভাবে এই বিষয়ে কাফিরদের বিরোধীতায় নিজ পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সান্তনা মুবারকও দেন। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশের ন্যায় সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার অন্যান্য বোন অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা পুরুষ-মহিলা সকলের মাঝে সর্বপ্রথম ৫ ওয়াক্ত ছলাত আদায় শুরু করেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত হিজরত মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ সম্মানিত হিজরত মুবারক করার প্রায় এক থেকে দেড় মাস পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম উনারা এক সাথে সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশক্রমে নির্দিষ্ট স্থান থেকে হযরত জায়িদ ইবনে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং আবূ রাফি’ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনারা উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিয়ে সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ নিয়ে যান। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত তা’লীম-তালক্বীন মুবারক:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি যখন সম্মানিত মদীনা শরীফ সম্মানিত হিজরত মুবারক করেন, তখন দুনিয়াবী হিসেবে উনার সম্মানিত বয়স মুবারক প্রায় ১৮ বছর। সম্মানিত মক্কা শরীফ অবস্থান মুবারক করা অবস্থাতেই তিনি হযরত মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুন্না উনাদেরকে তা’লীম-তালক্বীন মুবারক দিয়ে আসতেছিলেন। অতঃপর তিনি যখন সম্মানিত মদীনা শরীফ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন, তখন আরো ব্যাপকভাবে সমস্ত মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুন্না উনাদেরকে সম্মানিত তা’লীম-তালক্বীন মুবারক দিতে থাকেন। উনার সম্মানিত তা’লীম-তালক্বীনে মুবারক ও ছোহবত মুবারক উনাদের মাধ্যম হযরত মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুন্নাগণ বেমেছাল নি‘য়ামত মুবারক লাভে ধন্য হন। সুবহানাল্লাহ! 

সম্মানিত বদর জিহাদ

দ্বিতীয় হিজরী সনের ১৭ই রমাদ্বান শরীফ সম্মানিত বদর জিহাদ সংঘটিত হয়। তিনি সম্মানিত বদর জিহাদ-এ উপস্থিত ছিলেন এবং মুসলমানদের বিজয় ও কুরাইশদের নির্মম পরাজয় অবলোকন মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত ক্বদম মুবারক উনার পরশ পেয়ে বদরপ্রান্ত রহমত, বরকত, নিয়ামত ও সাকীনা মুবারক লাভে ধন্য হয়। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে আযীমুশ শান মহাসম্মানিত শাদী মুবারক:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার প্রায় ৬ মাস পর সাইয়্যিদুশ শুহূর মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের ৩ তারিখে মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত বানাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক প্রদান করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক প্রায় ২০ বছর। আর সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় ৪৯ বছর। 
যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সবকিছু উজাড় করে দেয়া:
সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক যিনি বদর, উহুদ, খন্দক, তাবূক থেকে শুরু প্রত্যেকটি জিহাদ মুবারক-এ অঢেল ধন-সম্পদ ব্যয় করেন। এইভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতিটি ক্ষেত্রে উনার অবদান অপরিসীম। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিয়েছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ খুশি হয়ে অনেক বার সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার সুসংবাদ মুবারক দিয়েছেন এবং উনার জন্য আলাদাভাবে হাত মুবারক তুলে দোয়াও করেছেন। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ এমন একটি মাক্বাম মুবারক দিয়েছেন, যেটা অন্য কোনো ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে দেয়া হয়নি। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
মূলত, এই সমস্ত কিছুর মূলে রয়েছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা। উনাদের সম্মানিত ছোহবত মুবারক লাভ করার কারণেই সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পক্ষে সম্ভব হয়েছে এরূপ বেমেছাল খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া, তায়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক ও মাক্বামাত মুবারক হাছিল করা। সুবহানাল্লাহ! 
সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে কিছু দিন মারিদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করেছিলেন এবং এই সম্মানিত মারিদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় ৯ম হিজরী সনের ৬ রমাদ্বান শরীফ মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! 

সম্মানিত গোসল মুবারক এবং সম্মানিত কাফন মুবারক:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দিক-নির্দেশনা মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত গোসল মুবারক ও সম্মানিত কাফন মুবারক সম্পন করা হয়। সুবহানাল্লাহ! ‘আবূ দাঊদ শরীফ’ উনার মধ্যে এসেছে,
اَنَّ لَيْلـٰى بِنْتَ قَانِفٍ الثَّقَفِيَّةَ قَالَتْ كُنْتُ فِيمَنْ غَسَّلَ أُمَّ كُلْثُومٍ عليها السلام بِنْتَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ وَفَاتـِهَا فَكَانَ أَوَّلُ مَا أَعْطَانَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْـحِقَاءَ ثُـمَّ الـدِّرْعَ ثُـمَّ الْـخِمَارَ ثُـمَّ الْمِلْحَفَةَ ثُـمَّ اُدْرِجَتْ بَعْدُ فِـىْ الثَّوْبِ الْاٰخَرِ قَالَتْ وَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ عِنْدَ الْبَابِ مَعَهٗ كَفَنُهَا يُنَاوِلُنَاهَا ثَوْبًا ثَوْبًا
অর্থ: “হযরত লায়লাহ বিনতে ক্বানিফ ছাকাফিয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, বিনতু রসূলিল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর যারা উনার সম্মানিত গোসল মুবারক করান, আমি উনাদের মধ্যে ছিলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রথমে আমাদের দিয়েছিলেন এক টুকরো কাপড় মুবারক, অতঃপর উপরের অংশ, একটি চাদর মুবারক এবং অবশেষে কাপড়ের একটি বড় টুকরো মুবারক। পরে উনাকে একটি কাপড় মুবারক দ্বারা জড়ানো হয়েছিলো। যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে গোসল মুবারক করানো হচ্ছিলো, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত দরজা মুবারক-এ দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় কাপড় মুবারক সরবরাহ করে যাচ্ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ)

সম্মানিত জানাযা উনার নামায মুবারক পড়া এবং সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মধ্যে রাখা:

স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত ইমামতী মুবারক করে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জানাযা উনার নামায মুবারক পড়ান। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত রওযা শরীফ মুবারক উনার মধ্যে রাখা হয়। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মুহব্বত মুবারক প্রকাশ:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি যখন মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারক-এ, উনার সম্মানিত জুদায়ী মুবারক উনার কারণে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত দু’চোখ মুবারক দিয়ে অজস্র ধারায় সম্মানিত নূরুল মুহব্বত মুবারক প্রবাহিত করেন। এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, 
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ شَهِدْنَا بِنْتَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ عَلَى القَبْر فَرَأَيْتُ عَيْنَيْهِ تَدْمَعَانِ.
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি যখন সম্মানিত বরকতময় বিছাল শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন আমরা উপস্থিত ছিলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ উনার নিকট বসা ছিলেন। আর আমি দেখেছি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দু’চোখ মুবারক দিয়ে অজস্র ধারায় সম্মানিত নূরুল মুহব্বত মুবারক প্রবাহিত হচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার কোন আওলাদ ছিলেন না।





No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...