Saturday, February 20, 2016

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন ত্বহিরা, ত্বইয়িবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পৃথিবীর সকল মহিলাদের জন্য আদর্শ

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, 
يا نساء النبى لستن كاحد من النساء
অর্থ: “হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়াগণ! আপনারা অন্য কোনো মহিলাদের মতো নন।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেন,
انما يريد الله ليذهب عنكم الرجس اهل البيت ويطهركم تطهيرا
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদের (আহলে বাইত উনাদের) থেকে সর্বপ্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি, অপ্রিয়-অপছন্দনীয় বিষয়গুলি দূর করে পূত-পবিত্র করতে চান।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)

মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে পূত-পবিত্র করেছেন। উনারা আগত-অনাগত সকল মু’মিন-মু’মিনাগণের আদর্শ। সেক্ষেত্রে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বিষয়টি আরো প্রণিধানযোগ্য। কেননা তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঘোষিত সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন তথা পৃথিবীর সকল মহিলাদের সাইয়্যিদা। সুবহানাল্লাহ!
যারা উনার অনুসরণ-অনুকরণ করবে, মুহব্বত-খিদমত করবে তারা সবাই মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাবে। উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাবে। মা’রিফত-মুহব্বত, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি নৈকট্য-তায়াল্লুক হাছিল হবে।
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ত্বহিরা, তাইয়িবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না।
দুনিয়াবাসী সবাই বিস্ময়ে অভিভুত হয় যে, আরবের সেই ঘোর অন্ধকার যুগে কিভাবে একজন মহিলা সম্পূর্ণ দ্বিধাহীন চিত্তে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত উনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। এ ব্যাপারে উনার মধ্যে কোনো কিছুমাত্র সংশয়-সন্দেহ ছিলো না।
সাধারণ মহিলা হউক বা পুরুষ হউক যারা অতি নিকটে থাকেন তারা স্বামী বা উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কামালিয়ত বুযুর্গ বা সম্মানের বিষয়টি অতি সহজে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে উনার সম্মানিত নুবুওওয়াত ঘোষণার পূর্ব থেকে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিলেন যে, তিনি নবী হবেন। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত ঘোষণার ক্ষণিকের জন্যও উনার মনে একটুও ইতস্ততভাব দেখা দেয়নি। এতে উনার দূরদৃষ্টি ও তীক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার গভীরতা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ঘোষণার পূর্বে ও পরে সবসময় তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে যথাযথভাবে আদব বজায় রাখতেন। উনার প্রতিটি কথা মুবারকই তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে বিশ্বাস করেছেন। প্রতিটি আদেশ-নিষেধই যথাযথভাবে তামিল করেছেন। শুধু তাই নয়, বরং আকার-ইঙ্গিতে যদি বুঝতে পারতেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অমুক বিষয়টি পছন্দ করেন, তাহলে সাথে সাথে তা করেছেন। পঁচিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে মুহূর্তের জন্য উনার মনে কোনো প্রকার সন্দেহ দানা বাঁধতে পারেনি। আইয়ামে জাহিলাতের সেই অন্ধকার দিনেও তিনি ছিলেন “ত্বাহিরা” লক্বব মুবারকে সম্বোধিতা। সবাই উনাকে পূত-পবিত্র বলে জানতেন, মানতেন। তিনি কখনো মূর্তি পূজা করেননি। জাহিলিয়াতের জিহালতপূর্ণ কাজ থেকে তিনি ছিলেন সর্বদা বিরত।
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি শুধু প্রথম বিশ্বাস স্থাপনকারিণীই নন; তিনি ছিলেন প্রথম ছালাত বা নামায আদায়কারিণী। ঈমান ও ইসলাম উনাদের অনেক কাজই তিনি সর্বপ্রথম শুরু করেছেন। সেই ঘোর অন্ধকার দিনে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার জন্য তিনি যে শক্তি যুগিয়েছেন চিরদিন তা অম্লান হয়ে থাকবে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সূচনা লগ্নে প্রকৃতপক্ষেই তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরামর্শদাত্রী। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতের সুযোগ পাওয়ার পরপরেই সমস্ত ধন-সম্পদ উনার মুবারক হাতে তুলে দেন। হযরত যায়িদ ইবনে হারিসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন উনার প্রিয় গোলাম। উনাকেও উনার মুবারক খিদমতে হাদিয়া করে দেন।
হযরত আল্লামা ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ভাতিজা হযরত হাকীম ইবনে হিশাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সিরিয়ার বাজার থেকে অনেকগুলো গোলাম কিনে আনেন। তাদের মধ্যে হযরত যায়িদ ইবনে হারিসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একজন ছিলেন। ফুফু উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি গেলেন ভাতিজা হযরত হাকীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে দেখা করতে। তখন ভাতিজা বললেন, ফুফু এ গোলামদের মধ্যে যাকে পছন্দ হয় আপনি বেছে নিতে পারেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পছন্দ করলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দেখে পছন্দ করলেন। হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি তা বুঝতে পেরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া দিয়ে দিলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে গোলামী থেকে মুক্তি দিয়ে পালিত পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! (সীরাতে ইবনে হিশাম- ১/২৪৮)
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত গভীরভাবে মুহব্বত করতেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের, আত্মীয়-স্বজন উনাদেরকেও সম্মান করতেন, খোঁজ-খবর নিতেন এবং উনাদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতেন।
একবার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুধমাতা হযরত হালীমা সা’দীয়া আলাইহাস সালাম তিনি আসলেন দেখা করতে। হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আপন শাশুড়ির মতো সম্মান-মর্যাদা দিয়ে উনার সেবা-যত্ন করলেন।

No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...