Sunday, February 28, 2016

সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক - ৩


পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ সম্পর্কে সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়,
ولدت خديجة بنت خويلد عليها السلام في مكة قبل ولادة الرسول صلى الله عليه و سلم بخمسة عشر عامًا، 
অর্থ: (সর্বাধিক মশহুর মতে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ১৫ বছর পূর্বে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মাঝে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। (তবাকাত)

অর্থাৎ আমুল ফীলের ১৫ বছর পূর্বে, আনুষ্ঠানিক নবুওওয়াত প্রকাশের ৫৫ বছর পূর্বে, হিজরতের ৬৮ বছর পূর্বে এবং শামসী পূর্ব ৭৮ সনে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মাঝে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। 
বলাবাহুল্য যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সন নিয়ে প্রচলিত কিতাবাদীতে সামান্য আলোচনা থাকলেও পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মাস, তারিখ, বার ও সময় সম্পর্কে কোনো আলোচনা নেই। এ বিষয়ে কারো কোনো পর্যালোচনাও নেই। সুদীর্ঘ পনেরশত বছর অতিবাহিত হলেও এ বিষয়টি সুস্পষ্টকরণে কারো বিন্দুমাত্র আগ্রহও পরিলক্ষিত হয়নি। 
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মাস, তারিখ, বার ও সময় সম্পর্কে যথাযথ সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তাহক্বীক্ব এবং ইতিহাসে নজিরবিহীন তাজদীদ মুবারক করেছেন যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম আমুল ফীলের ১৫ বছর পূর্বে পবিত্র ১৪ই রবীউল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুল জুময়াহ বা’দ ফজর পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের তারিখ নির্ধারণের মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিগুঢ় তাওয়াল্লুক নিসবত এবং বেমেছাল কুরবত মুবারকের বিষয়টিই দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! 
পবিত্র নাম মুবারক:
একথা দিবালোকের ন্যায় সত্য যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মূল নাম মুবারক সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজা (خديجة)আলাইহাস সালাম। 
বলাবাহুল্য যে, সম্মানিত ব্যক্তিত্ব উনাদেরকে উনাদের নাম মুবারকে বারবার সম্বোধন করা আদবের খিলাফ। উনাদেরকে উনাদের লক্বব মুবারকে সম্বোধন করতে হয়। এটাই আদব এবং রেযামন্দি লাভের কারণ। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক,
لَّا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُم بَعْضًا
অর্থ: “তোমরা পরস্পরকে যেভাবে সম্বোধন করো, সেভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন করো না।” (পবিত্র সুরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৩)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সাধারণ মানুষের ন্যায় আহবান করা তথা বারবার উনার পবিত্র নাম মুবারকে উনাকে সম্বোধন করা যাবে না। এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বলা হয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাছ নিসবতপ্রাপ্ত উনাদেরকেও উনাদের পবিত্র নাম মুবারকে বারবার সম্বোধন করা নিষিদ্ধ। উনাদেরকে উনাদের লক্বব মুবারকে সম্বোধন করতে হবে।
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক শানে কিতাবে উল্লেখ করা হয়,
كانت خديجة عليها السلام تدعى في الجاهلية الطاهرة
অর্থ: “জাহিলিয়াতের সেই কঠিন সময়েও উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে ত্বাহিরা তথা পূত-পবিত্রা লক্বব মুবারকে ডাকা হতো।” (সিয়ারু আ’লামুন নুবালা) 
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে সমস্ত কিছু উজার করে দিয়ে বেমেছাল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যার কারণে তিনি ক্বিয়ামত অবধি সকলের জন্য উসওয়াতুন হাসানাহ হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন। আর এ জন্যই উনাকে কুবরা বা মহান ব্যক্তিত্বা লক্বব মুবারকে সম্বোধন করা। আর এ লক্বব মুবারকেই তিনি সারা কায়িনাতে সমধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র শৈশব ও কৈশোর কাল মুবারক:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক কর্তৃক পূর্ব হতেই মনোনীত। সঙ্গতকারণেই উনার পবিত্র হায়াত মুবারক অন্যান্যদের থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম হওয়াই স্বাভাবিক। আইয়ামে জাহিলিয়ার সেই কঠিন সময়ে হাতে গোনা যেসব লোক দ্বীনে হানীফে দায়িম ছিলেন উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি অন্যতমা। পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণের পর হতেই তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম। উনার খুব ছুরতী মুবারক সকলকে আশ্চার্যান্বিত করে। উনার হিকমত পূর্ণ ক্বওল শরীফ সকলকে ভাবিয়ে তোলে। উনার স্বতন্ত্র খুছুছিয়ত মুবারক পুরো মক্কা শরীফ জুড়ে উনাকে সুপরিচিতা ও সম্মানিতা হিসেবে অধিষ্ঠিত করে। উনার উসওয়াতুন হাসানাহ চারিত্রিক মাধুর্যতা মুবারকের উৎকৃষ্টতা উনাকে ত্বাহিরা লক্বব মুবারকে মশহূর করেছে।

শাদী মুবারক:
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক কর্তৃক পূর্ব মনোনীত। তিনি উম্মুল আসইয়াদ তথা সমস্ত সাইয়্যিদাদা উনাদের মুহতারামা আম্মাজান। সঙ্গতকারণেই তিনি সার্বিকভাবে নিয়ামতে পরিপূর্ণ। আর যেহেতু তিনি বিশেষ বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েই বেড়ে উঠেছেন, সেহেতু অনেকেই উনার সম্মানিত খিদমতে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। উনার অভিভাবক সব প্রস্তাবই নাকচ করে দেন। কিতাবে উল্লেখ করা হয়, 
إن الإجماع من الخاص والعام، من أهل الآثار ونقلة الأخبار، على أنّه لم يبق من أشراف قريش، ومن ساداتهم وذوي النجدة منهم، إلا من خطب خديجة عليها السلام ورام تزويجها،
অর্থ: “আম-খাছ, মুহাদ্দিছ, ঐতিহাসিকগণ সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কুরাঈশের গণ্য-মান্য, নেতৃস্থানীয় এবং ধনাঢ্য ব্যক্তিত্ব এমন কেউ বাকি ছিল না, যে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে শাদী মুবারকের প্রস্তাব দেয়নি এবং ইচ্ছা পোষণ করেনি। অর্থাৎ কুরাঈশের সামর্থবান প্রত্যেকেই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিসবত লাভের সর্বোচ্চ কোশেশ করেছেন।” (আছ ছহীহ মিন সিরাতে নাবিয়্যিল আ’যম, আল ইস্তিগাসাহ) 

No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...