Saturday, February 20, 2016

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক-এ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম



মহান আল্লাহ পাক তিনি বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য মু‘য়াল্লিমাহ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি নূরে মুজসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, কিভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতে হয়। সুবহানাল্লাহ! যখন মুশরিকরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট-তাকলীফ দিতো এবং উনার উপর যুলুম নির্যাতন করতো, তখন তিনি একজন মা তার সন্তানকে যেভাবে স্নেহভরে আদর-যতœ করে থাকে, ঠিক সেইভাবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতেন। সুবহানাল্লাহ!


শি’বে আবী ত্বালিবে: আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার সপ্তম (৭ম) বছরে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শি’বে আবী ত্বালিবে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। তিনি সেখানে তিন বছর অবস্থান মুবারক করেন। তখন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের এরূপ অবস্থা হয়েছিলো যে, উনারা খাদ্য না পেয়ে গাছের লতা-পাতা, ছাল-বাকল পর্যন্ত খেয়েছিলেন। এমনকি উনারা চামড়ার না’লাঈন শরীফ (জুতা) পানিতে সিদ্ধ করে চিবিয়েছেন। গাছের লতা-পাতা, ছাল-বাকল খাওয়ার ফলে উনাদের ইস্তিঞ্জা মুবারক বকরীর লেদের মতো হয়ে গিয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! ক্ষুধার্ত শিশু উনাদের কান্না মুবারক-এ আশে-পাশের লোকেরা রাতে ঘুমাতে পারতো না। তারপরও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে দূরে সড়ে যাননি। কি অপূর্ব আত্মত্যাগ। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন অনেক বেশি। সেই সময় বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ মুবারক-এ। তারাপরেও তিনি সেখান থেকে এসে শি’বে আবী তালীবে অবস্থান করে মুবারক খিদমতে আনজাম দেন। আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি তখন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে হাবশায় হিজরত মুবারক-এ গিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় শি’বে আবী ত্বালিবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনিই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার মূল আনজাম মুবারক দেন এবং শি’বে ত্বালিবের এই প্রতিকূল অবস্থার মুকাবিলা করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় ১২ বছর। এই অল্প বয়স মুবারক-এ শি’বে আবী ত্বালিবে থেকে সমস্ত প্রতিকূল অবস্থার মুকাবিলা করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার মাধ্যমে তিনি কায়িনাতের মাঝে এক বেনজীর দৃষ্টান্ত মুবারক স্থাপন করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি শি’বে আবী ত্বালিবে যে কষ্ট স্বীকার করেছেন, তা কায়িনাতের মাঝে তুলনাহীন। সুবহানাল্লাহ! মূলত, উনার কাছ থেকেই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন কিভাবে সমস্ত কিছু ত্যাগ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা-বাক্বা হতে হয়, উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতে হয়। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিও বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন। তবে দুনিয়াবী দৃষ্টিতে তখন উনার বয়স মুবারক ছিলো অল্প অর্থাৎ ১০ বছর।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে এবং পরে: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের দশম (১০ম) বর্ষে শি’বে আবী তালিব থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। শি’বে ত্বালিবে অবস্থানকালীন সময়েই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি কখনও কখনও সম্মানিত মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করতেন (অসুস্থতা মুবারক গ্রহণ করতেন) আবার কখনও কখনও ছিহ্হাতী শান মুবারক প্রকাশ করতেন (সুস্থতা মুবারক গ্রহণ করতেন)। শি’বে ত্বালিব থেকে প্রত্যাবর্তনের পর উনার মারীদ্বী শান মুবারক বেশি আকারে প্রকাশ পায়। ফলে তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার কাজসহ উনার মহাসম্মানিত পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের অত্যন্ত বেমেছালভাবে যাবতীয় সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন। সুবহানাল্লাহ!
বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্ব মুহূর্তে যখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাথা মুবারক পাশে বসে উনাকে সান্ত¦না মুবারক দিচ্ছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতিশ্রুত জান্নাত ও রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারকের বিষয়ে সুসংবাদ মুবারক দিচ্ছিলেন, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা পাশে বসে এই দৃশ্য মুবারক অবলোকন করছিলেন। তখন উনাদের মাঝে কিরূপ কঠিন মুহূর্ত অতিবাহিত হয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়। উনাদের কারো সম্মানিত বয়স মুবারক প্রায় ১৯ বছর, কারো সম্মানিত বয়স মুবারক প্রায় ১৫ বছর, কারো সম্মানিত বয়স মুবারক প্রায় ১৩ বছর। অবশেষে সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার সম্মানিতা বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের থেকে বিদায় নিয়ে মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত দীদার মুবারক-এ চলে যান। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জুদায়ী মুবারক উনার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অজস্র ধারায় সম্মানিত নূরুল মুহব্বত মুবারক প্রবাহিত করেন। সুবহানাল্লাহ! বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারাও উনার সম্মানিত পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনাদের মহাসম্মানিতা মাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার জুদায়ী মুবারক উনার কারণে অজস্র ধারায় সম্মানিত নূরুল মুহব্বত মুবারক প্রবাহিত করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় ১৫ বছর। সময়টি ছিলো শি’বে ত্বালিব থেকে ফেরার কিছু দিন পর। অর্থাৎ পবিত্র বিছালত মুবারক প্রকাশের ১০ম বৎসর ১৭ই পবিত্র রমাদ্বান শরীফ-এ।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন। সুবহানাল্লাহ!

‘উম্মু আবীহা’ সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার মালিকাহ
“শুধু শি’বে আবী ত্বালিবে নয়; বরং এর পূর্বে এবং পরে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছিলেন। বিশেষত সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তুলনাহীন সম্মানতি খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! একজন মা তার সন্তানকে যেভাবে দেখা-শোনা করে থাকে; ঠিক সেইভাবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তাই উনার একখানা সম্মানিত লক্বব মুবারক হচ্ছেন ‘উম্মু আবীহা’। সুবহানাল্লাহ! এই সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার অর্থ মুবারক হচ্ছেন ‘তিনি উনার স্বীয় পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মা’। সুবহানাল্লাহ!

কেমন করে তিনি উনার পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছিলেন।

উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি এবং আবূ ত্বালিব উনারা প্রায় কাছাকাছি সময়ে দুনিয়ার যমীন থেকে বিদায় মুবারক গ্রহণ করেন। আবূ ত্বালিবের ইন্তেকালের পর কুরাইশরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর সীমাহীন যুলুম-নির্যাতন শুরু করে দেয়। এই সম্পর্কে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, 
مَا بَيْنَ ذٰلِكَ مَا نَالَتْ مِنِّـىْ قُرَيْشٌ شَيْئًا اَكْرَهُهٗ حَتّٰى مَاتَ اَبُوْ طَالِبٍ.
অর্থ: “আবূ তালিবের মৃত্যুর পূর্বে আমি কষ্ট পাই এমন কোনো কাজ কুরাইশরা করতে সাহস পেতো না। এখন তারা তা শুরু করেছে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিলবাইহাক্বী ২/৩৫০, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ১/১৯৩, তারীখুল ইসলাম ১/২৩৫, খছাইছুল কুবরা ১/১৪৮, তারীখে দিমাশক্ব ইত্যাদি)
এই কঠিন মুহূর্তে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি ছায়ার মতো অত্যন্ত বেমেছালভাবে স্বীয় পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ لَمَّا مَاتَ اَبُوْ طَالِبٍ عَرَضَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَفِيْهٌ مِّنْ سُفَهَاءِ قُرَيْشٍ فَاَلْقٰـى عَلَيْهِ تُرَابًا فَرَجَعَ اِلـٰى بَيْتِهٖ فَاَتَتِ امْرَأَةٌ مِّنْ بَنَاتِهٖ تَـمْسَحُ عَنْ وَجْهِهِ التُّرَابَ وَتَبْكِىْ قَالَ فَجَعَلَ يَقُوْلُ اَىْ بُنَيَّةُ لَا تَبْكِيَنَّ فَاِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ مَانِعٌ اَبَاكِ وَيَقُوْلُ 
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ ত্বালিবের ইন্তিকালের পর কুরাইশদের এক মূর্খ-বদবখত ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে এসে উনার উপর ধূলি-বালি নিক্ষেপ করে। ধূলি-ধূসরিত জিসম মুবারক-এ তিনি সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ ফিরে আসেন। তখন উনার একজন সম্মানিতা বানাত (মেয়ে) আলাইহাস সালাম তিনি এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং কেঁদে কেঁদে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত চেহার মুবারক থেকে ধূলি-বালি মুবারক পরিষ্কার করতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! (রাবি) বলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে সান্ত¦না মুবারক দিয়ে বলেন, 
اَىْ بُنَيَّةُ لَا تَبْكِيَنَّ فَاِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ مَانِعٌ اَبَاكِ
“হে আমার সম্মানিতা বানাত (মেয়ে) আলাইহাস সালাম, আপনি কান্না মুবারক করবেন না। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনিই আপনার সম্মানিত পিতা উনাকে হিফাযত মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিলবাইহাক্বী ২/৩৫০, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ১/১৯৩, তারীখুল ইসলাম ১/২৩৫, খছাইছুল কুবরা ১/১৪৮, তারীখে দিমাশক্ব ইত্যাদি)
আলোচ্য সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত সেই সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারকই ছিলেন বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে তিনি যে কতো বেমেছালভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন, তা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!

No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...