‘হায়দার’ শব্দের আভিধানিক অর্থ- বীর, সুপুরুষ, সুঠাম দেহের অধিকারী ইত্যাদি। যা ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা বিশেষ লক্বব মুবারক। উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক হতে এই লক্বব মুবারক উনার বাস্তব অনেক নমুনা পাওয়া যায়। নিম্নে এ সম্পর্কে একখানা ওয়াকেয়া আলোচনা করা হলো:
খাইবার জিহাদের ঘটনা। কয়েকদিন যাবৎ কাফিরদের সাথে বেশ জিহাদ সংঘটিত হয়। কিন্তু প্রতিদিনই চূড়ান্ত কোনো ফায়ছালা না হয়েই জিহাদ শেষ হয়ে যায়। এমনিভাবে একদিন জিহাদ শেষে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন যে, আগামীকাল সকালে আমি এমন এক মহান ব্যক্তি উনার হাত মুবারকে ইসলামী ঝা-া মুবারক অর্পণ করবো, উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলিম বাহিনীকে বিজয় হাদিয়া করবেন। অতপর সকালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার দস্ত মুবারকে ইসলামী ঝা-া মুবারক অর্পণ করলেন। আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সেনাপতিত্বে কাফিরদের সাথে তুমুল জিাহদ হলো। এক পর্যায়ে কাফিররা পালিয়ে খাইবার দুর্গে আশ্রয় নিলো। তখন ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খাইবার দুর্গের প্রধান ফটক ধরে সজোরে টান দিলেন। ফলশ্রুতিতে লোহার সেই বিশাল ফটক উনার হাত মুবারকে চলে আসলো।
অতপর কাফিরদের সাথে পুনরায় তুমুল জিহাদ শুরু হলো। আর জিহাদের সেই সময়ে ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুর্গের সেই ফটককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেন। কাফিররা নাস্তানাবুদ হলো। অন্যান্য জিহাদের ন্যায় খাইবার জিহাদেও মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলিম বাহিনীকে সুমহান ফাতহুম মুবীন হাদিয়া করলেন।
জিহাদ শেষে ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত দুর্গের সেই ফটককে ফেলে দিলেন। তখন আশিজন পালোয়ান একত্রিত হয়েও ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত সেই ফটক উঠাতে পারলো না। অর্থাৎ ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধু বীরই নন, এমনকি তিনি আশিজন পালোয়ানেরও অধিক শক্তি রাখেন। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক এমনটিই হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ তিনি তো হায়দার লক্বব মুবারকে ভূষিত। উনার হায়দার লক্বব মুবারক স্মরণ করলেও সাধারণ মানুষ শক্তি, জোশ এবং বীরত্ব লাভ করে। যার কারণে এখনো সশস্ত্র বাহিনীতে অস্ত্র পরিচালনাকালে হায়দার লক্বব মুবারক স্মরণ করতে হয়। ফলশ্রুতিতে অসম্ভবকে সম্ভব করার কুওওয়ত অর্জিত হয়। যা উনার আখাছছুল খাছ কারামতও বটে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলিম উম্মাহকে হায়দারী শান মুবারক উনার হিসসা নছীব করুন। (আমীন)
No comments:
Post a Comment