পরিচিতি মুবারক:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ! উনার উসীলায় সমস্ত জিন-ইনসান এবং তামাম কায়িনাতবাসী সকলেই মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হাছিল করেছে। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!
উনার সম্মানিত পিতা হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি এবং সম্মানিতা মাতা হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
উনার সম্মানিত ভাইগণ উনাদের সংখ্যা কত, এই ব্যাপারে সীরাত বিশারদগণ উনাদের মধ্যে ইখতিলাফ রয়েছে। কেউ বলেছেন ১৩ জন, কেউ বলেছেন ১২ জন, কেউ বলেছেন ১০ জন। আর উনার সম্মানিতা বোন ছিলেন মোট ৬ জন।
মহাসম্মানিত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম
উনাদের বুযূর্গী-সম্মান মুবারক
মহান আল্লাহ পাক তিনি আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে এমন মহাসম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে হাদিয়া মুবারক করেছেন যে, উনারা ছিলেন মহান আল্লাহ পাক উনার আখাছ্ছুল খাছ মাহবূব এবং মাহবূবাহ। ওই যামানার সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তিত্বা মুবারক, মহান আল্লাহ পাক উনার আখাছ্ছুল খাছ লক্ষ্যস্থল এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! আর উনারা দু’জন হচ্ছেন, সাইয়্যিদুন নাস, যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ, জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, জাদ্দাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ বিনতে ‘আমর আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা। সুবহানাল্লাহ! উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ!
জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং জাদ্দাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ
উনাদের সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ
মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা মুবারক অনুযায়ী জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার এবং জাদ্দাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ বিনতে ‘আমর আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের মাঝে আযীমুশ শান বরকতপূর্ণ সম্মানিত নিসবেত আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক পুনরুদ্ধার
জুরহুম গোত্র সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময়কাল পর্যন্ত সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক উনার কোনো চিহ্ন বিদ্যমান ছিলো না। কেউ কেউ এর সময়কাল ৫০০ বছর আবার কেউ ৪০০ বছর বলে উল্লেখ করেছেন।
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে স্বপ্নযোগে আদিষ্ট হয়ে সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক পুনরুদ্ধার করেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক
কিতাবে বর্ণিত আছে,
عَنْ سَيِّدِنَـا حَضْرَتْ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ بَيْنَا اَنَا نَائِمٌ فِـى الْـحِجْرِ اِذْ رَاَيْتُ رُؤْيَا هَالَـتْنِـىْ فَفَزِعْتُ مِنْهَا فَزَعًا شَدِيْدًا فَاَتَيْتُ كَاهِنَةَ قُرَيْشٍ وَعَلَىَّ مُطْرَفُ خَزٍّ وَّجُـمَّتِـىْ تَضْرِبُ مَنْكِـبَـىَّ فَلَمَّا نَظَرَتْ اِلَـىَّ عَرَفَتْ فِـىْ وَجْهِىَ التَّغَـيُّرَ وَاَنَا يَوْمَئِذٍ سَيِّدُ قَوْمِىْ فَقَالَتْ مَا بَالُ سَيِّدِنَـا قَدْ اَتَانَا مُـتَـغَـيِّـرَ اللَّوْنِ هَلْ رَاَيْتَ مِنْ حِدْثَانِ الدَّهْرِ شَيْئًا فَقُلْتُ لَـهَا بَلـٰى وَكَانَ لَا يُكَـلِّـمُـهَا اَحَدٌ مِّنَ النَّاسِ حَتّٰى يُـقَـبِّـلَ يَدَهَا الْيُمْنٰى ثُـمَّ يَضَعُ يَدَهٗ عَلـٰى اُمِّ رَاْسِهَا ثُـمَّ يَذْكُرُ حَاجَتَهٗ وَلَـمْ اَفْعَلْ لِاَنِّـىْ كُنْتُ كَبِيْرَ قَوْمِـىْ. فَجَلَسْتُ فَقُلْتُ اِنّـِــىْ رَاَيْتُ اللَّيْلَةَ وَاَنَا نَائِمٌ فِـى الْـحِجْرِ كَاَنَّ شَجَرَةً تَـنْۢـبُتُ قَدْ نَالَ رَاْسُهَا السَّمَاءَ وَضَرَبَتْ بِاَغْصَانِـهَا الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ وَمَا رَاَيْتُ نُوْرًا اَزْهَرَ مِنْهَا اَعْظَمَ مِنْ نُّوْرِ الشَّمْسِ سَبْعِيْنَ ضِعْفًا. وَرَاَيْتُ الْعَرَبَ وَالْعَجَمَ سَاجِدِيْنَ لَـهَا وَهِىَ تَزْدَادُ كُلَّ سَاعَةٍ عِظَمًا وَّنُوْرًا وَّارْتـِفَاعًا سَاعَةً تَـخْفٰى وَسَاعَةً تَزْهَرُ وَرَاَيْتُ رَهْطًا مِّنْ قُرَيْشٍ قَدْ تَعَلَّقُوْا بِاَغْصَانِـهَا وَرَاَيْتُ قَوْمًا مِّنْ قُرَيْشٍ يُرِيْدُوْنَ قَطْعَهَا فَاِذَا دَنَوْا مِنْهَا اَخَّرَهُمْ شَابٌّ لَّـمْ اَرَ قَطُّ اَحْسَنَ مِنْهُ وَجْهًا وَّلَا اَطْيَبَ مِنْهُ رِيْـحًا فَيَكْسِرُ اَظْهَرَهُمْ وَيَقْلَعُ اَعْيُنَهُمْ فَرَفَعْتُ يَدِىْ لِاَتَنَاوَلَ مِنْهَا نَصِيْـبًا فَمَنَعَنِـىَ الشَّابُّ فَقُلْتُ لِمَنِ النَّصِيْبُ فَقَالَ النَّصِيْبُ لِـهٰؤُلَاءِ الَّذِيْنَ تَعَلَّـقُوْا بِـهَا وَسَبَقُوْكَ اِلَيْهَا فَانْتَـبَهْتُ مَذْعُوْرًا فَزِعًا فَرَاَيْتُ وَجْهَ الْكَاهِنَةِ قَدْ تَغَـيَّرَ ثُـمَّ قَالَتْ لَئِنْ صَدَقَتْ رُؤْيَاكَ لَيَخْرُجَنَّ مِنْ صُلْبِكَ رَجُلٌ يَّـمْلِكُ الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ وَيَدِيْنُ لَهُ النَّاسُ.
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, একদা আমি সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার হাতিম-এ ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন আমি একখানা বরকতময় স্বপ্ন মুবারক দেখি, যা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলো। আমি তা দেখে খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে আমি সম্মানিত কুরাইশ বংশীয় একজন মহিলা তা’বীরবিদ উনার নিকট গেলাম। আমার গায়ে ছিলো নকশাওয়ালা রেশমী চাদর মুবারক এবং আমার লম্বা চুল মুবারক (বাবড়ি চুল মুবারক) ঘাড় মুবারক-এ ঝুলছিলেন। আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করে তিনি আমার চেহারায় পরিবর্তন টের পেয়ে যান। আমি তখন আমার সম্মানিত ক্বওম তথা সম্প্রদায়ের সাইয়্যিদ। তিনি বললেন, আমাদের মহাসম্মানিত সরদার উনার কী হলো যে, তিনি এমন বিবর্ণ চেহারা মুবারক নিয়ে আমার নিকট সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রেখেছেন? আপনি কী ব্যতিক্রম কোনো স্বপ্ন মুবারক দেখেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তার নিয়ম ছিলো, কেউ তার নিকট আসলে প্রথমে আগন্তুককে তার ডান হাত চুম্বন করতে হতো এবং তার মাথার তালুতে হাত রাখতে হতো। এরপর তার সাথে কথা বলার ও সমস্যার কথা জানানোর সুযোগ পাওয়া যেত। আমি এসব করলাম না। অতঃপর আমি বসে বললাম, গত রাতে আমি সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার হাতিমে ঘুমিয়ে ছিলাম। তারপর আমি (স্বপ্ন মুবারক) দেখি, একটি সম্মানিত গাছ মুবারক মাটি থেকে অঙ্কুরিত হলো। দেখতে দেখতে উক্ত মুবারক বৃক্ষ উনার শাখা-প্রশাখা আকাশচুম্বী হয়ে গেলো এবং পূর্ব-পশ্চিম তথা সারা কায়িনাতে ছড়িয়ে পড়লো। আর এই সম্মানিত বৃক্ষ থেকে একটি নূর মুবারক নির্গত হলো। যার আলো সূর্য থেকে সত্তরগুণ তথা কোটি কোটি গুণ বেশি ছিলো। আরব-অনারব সকলেই সেই সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক উনার সামনে সিজদাবনত ছিলো। প্রতিমুহূর্তে উক্ত সম্মানিত গাছ মুবারক উনার পরিধি, নূর মুবারক ও উচ্চতা মুবারক বেড়েই চলছিলো। সেই সম্মানিত গাছ মুবারক উনার নূর মুবারক কখনো ব্যাপকভাবে প্রকাশ পেতো এবং কখনো গোপন হয়ে যেতো। আমি আরো দেখলাম, একদল কুরাইশ এই সম্মানিত বৃক্ষ উনার ডাল মুবারক ধরে ঝুলে আছেন। কুরাইশদের অপর একটি দল গাছটি কেটে ফেলার চেষ্টা করছে। তারা কাটার উদ্দেশ্যে সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক উনার নিকটবর্তী হলে একজন সুদর্শন যুবক তাদেরকে হটিয়ে দিতেন। সেই সম্মানিত যুবক উনার মতো এতো অধিক সুন্দর ও সৌরভময় যুবক আমি আর কখনো দেখিনি। এই সম্মানিত যুবক তিনি পিটিয়ে তাদের হাড়-গোড় ভেঙ্গে দিচ্ছিলেন এবং তাদের চোখ উপড়ে ফেলছিলেন। আমি দু’হাত মুবারক বাড়িয়ে উক্ত সম্মানিত গাছ মুবারক থেকে কিছু নিতে চাইলাম। কিন্তু সম্মানিত যুবক তিনি আমাকে বারণ করলেন। আমি বললাম, তাহলে এ সম্মানিত গাছ মুবারক কাদের জন্য? তিনি বলেন, যাঁরা গাছ মুবারক ধরে ঝুলে আছেন এবং যাঁরা আপনার সামনে আসবেন অর্থাৎ পরবর্তীতে যাঁরা আসবেন। অর্থাৎ ভবিষ্যত বংশধরগণ উনাদের জন্য এই সম্মানিত গাছ মুবারক। এই স্বপ্ন মুবারক দেখে আমি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় জেগে উঠলাম।
আমি দেখতে পেলাম এই স্বপ্ন মুবারক শুনে ওই মহিলা তা’বীরবিদ উনার মুখমন্ডল বিবর্ণ হয়ে গেলো। তিনি বললেন, আপনার স্বপ্ন মুবারক যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে
لَيَخْرُجَنَّ مِنْ صُلْبِكَ رَجُلٌ يَّـمْلِكُ الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ وَيَدِيْنُ لَهُ النَّاسُ
“অবশ্য অবশ্যই আপনার মহাসম্মানিত বংশ মুবারক থেকে তথা আপনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে এমন একজন মহাসম্মানিত সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি আগমন করবেন, যিনি পূর্ব-পশ্চিম তথা সারা কায়িনাতের মালিক হবেন তথা নবী-রসূল হবেন এবং সমস্ত মানুষ উনার সম্মানিত দ্বীন গ্রহণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ নাঈম, বিদায়া-নিহায়াহ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)
এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে,
لَيَخْرُجَنَّ مِنْ صُلْبِكَ رَجُلٌ يـَّمْلِكُ الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ وَيَدِيْنُ لَهُ النَّاسُ.
অর্থ: “অবশ্য অবশ্যই আপনার মহাসম্মানিত বংশ মুবারক থেকে তথা আপনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে এমন একজন মহাসম্মানিত সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি আগমন করবেন, যিনি পূর্ব-পশ্চিম তথা সারা কায়িনাতের মালিক হবেন তথা নবী-রসূল হবেন এবং সমস্ত মানুষ উনার সম্মানিত দ্বীন গ্রহণ করবেন। অর্থাৎ আপনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবীয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করবেন।” সুবহানাল্লাহ!
এই সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার ব্যাপারে সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ‘মহাসম্মানিত বরকতময় রগায়িব শরীফ’ সংঘটিত হওয়ার পূর্বে একখানা বরকতময় ঘটনা মুবারক
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ বিনতে ‘আমর আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার অল্প কিছু দিন পূর্বের ঘটনা। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদা শিকার করতে বনে যান। সারা দিন শিকারের পর তিনি খুব পিপাসার্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তখন মহান আল্লাহ পাক উনার এক বিশেষ সম্মানিত কুদরত মুবারক যাহির হন। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হঠাৎ করে অত্যন্ত চমৎকার একটি পবিত্র ঝর্ণা মুবারক দেখতে পান। এই পবিত্র ঝর্ণা মুবারক উনার পানি ছিলো বরফের চেয়েও ঠা-া, মধুর চেয়েও মিষ্টি। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই সম্মানিত পানি মুবারক পান করলেন। তখন উনার মনে হলো বেহেশত ছাড়া আর কোনো জায়গায় এমন ঠা-া ও মিষ্টি পানি থাকতে পারে না। সুবহানাল্লাহ!
প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি তাই ছিলো। মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ‘সম্মানিত রগাইব শরীফ’ উনার পূর্বে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত জান্নাতী সুমিষ্ট পানি মুবারক পান করিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত রগাইব শরীফ উনার সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন এবং উনার সম্মানিত ফযীলত মুবারক উনার বিষয়টি কায়িনাতের মাঝে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ‘মহাসম্মানিত বরকতময় রগায়িব শরীফ’
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার অতিপছন্দনীয় এক মহাসম্মানিত রজনী মুবারক উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ‘মহাসম্মানিত রগায়িব শরীফ’ উনার মহাসম্মানিত রজনী মুবারক হিসেবে নির্দিষ্ট করেন। অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অতিপছন্দনীয় এক মহাসম্মানিত রজনী মুবারক-এ উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!
সেই মহাসম্মানিত রজনী মুবারক-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা কায়িনাতে বেমেছাল রহমত, বরকত ও সাকীনা মুবারক বর্ষণ করেছিলেন। সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনাকে অপরূপ সাজে সুসজ্জিত করেছিলেন। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুবারকবাদ জানানোর জন্য নির্দেশ মুবারক প্রদান করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে
সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার আখাছ্ছুল খাছ মাহবূব ব্যক্তিত্ব মুবারক সাইয়্যিদুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার ব্যাপারে এবং উনার ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক বর্ণনা করে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত জাদ্দাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে অনেক সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! বিশেষ করে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থানকালীন সময়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে আরো আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া মুবারক করেন এবং তিনি যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বাজান আলাইহিস সালাম হবেন সেই বিষয়েও আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি কত সালে, কোন মাসে, কতো তারিখে, কোন দিন, কখন মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, এই বিষয়ে পৃথিবীর কোন কিতাবে কোন প্রকার আলোচনা নেই। বরং তিনি কত বছর দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেছেন, এই নিয়ে রয়েছে অনেক ইখতিলাফ। যার কারণে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি কোন মাসে, কতো তারিখে, কোন দিন, কখন মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, এই বিষয়টি পৃথিবীর কোন কিতাবাদি দ্বারা সমাধান করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য যে, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ছাহিবু ইলমিল আউওয়ালি ওয়াল ইলমিল আখিরি, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার রয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে এক মহাসম্মানিত নিগূঢ় সম্পর্ক মুবারক, মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক, যেখানে কারো পক্ষে পৌঁছা আদৌ সম্ভব নয়। তিনি উনার সেই মহাসম্মানিত নিগূঢ় সম্পর্ক মুবারক ও মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক উনাদের মাধ্যেমে এই বিষয়টি ফায়ছালা মুবারক করেছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার প্রায় ৭৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পূর্বে ২রা রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুস সাবত্ শরীফ সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার সম্মানিত কুরাইশ বংশ উনার হাশিমী গোত্রে মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ!
উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশকালে উনার মহাসম্মানিতা হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক থেকে বিশেষ বিশেষ সম্মানিতা ব্যক্তিত্বা মুবারক উনাদেরকে প্রেরণ করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ মুবারক উনাকে আলোকিত করে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশকালে উনার সম্মানিত নূর মুবারক উনার আলো মুবারক-এ সর্বত্র আলোকিত হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা পৃথিবী, সারা কায়িনাত এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনাকে অপরূপ সাজে সুসজ্জিত করেন। সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে আহলান-সাহলান মুবারক জানান। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত জাদ্দাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা উনাদের মহাসম্মানিত প্রিয়তম আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে বেমেছাল খুশি মুবারক প্রকাশ করেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার বেমেছাল প্রশংসা মুবারক করেন ও শুকরিয়া মুবারক আদায় করেন। সুবহানাল্লাহ! উনাদের সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ খুশির মহাজোয়ার বয়ে যায়। সকলে এতো বেমেছাল খুশি মুবারক প্রকাশ করেন যে, তা চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত আক্বীক্বাহ মুবারক দেয়া এবং
সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক রাখা
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ৭ম দিন তথা ৮ই রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক করেন এবং উনার সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক রাখেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর তিনি উনার সমস্ত আত্মীয়-স্বজন ও সমস্ত কুরাইশ উনাদেরকে দাওয়াত দিয়ে বিশেষ মেহমানদারী মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক:
আবূ মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবূ আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবূ কুছাম (اَبُوْ قُثَم) আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত লক্বব মুবারক:
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত সম্মানিত লক্বব মুবারক রয়েছে সমস্ত সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের মালিক হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুল বাশার, মালিকুল জান্নাহ, আফদ্বলুন নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুল কাওনাইন ইত্যাদি উনার সম্মানিত বিশেষ লক্বব মুবারক উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত লালন-পালন মুবারক
সাইয়্যিদুল কাওনাইন, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বাজান আলাহিস সালাম উনার, মহাসম্মানিতা হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার এবং সম্মানিত ভাই-বোন আলাইহিমুস সালাম, আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রত্যেকের বেমেছাল মুহব্বত মুবারক ও আদর-যতœ মুবারক-এ লালিত-পালিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন উনার সম্মানিত পরিবারের সকলের নিকট সর্বাধিক আদরনীয় এবং সর্বাধিক মুহব্বত মুবারক উনার পাত্র। পরিবারের সকলেই উনাকে সর্বাধিক মুহব্বত মুবারক ও আদর স্নেহ মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া
মূলত ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে অবস্থান মুবারক করার কারণে সমস্ত সৃষ্টি জগতই উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য বেক্বারার ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! গাছ-পালা, তরু-লতা, পশু-পাখি থেকে শুরু করে কায়িনাতের সকলেই উনাকে বেমেছাল তা’যীম-তাকরীম মুবারক করতো। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক নির্দেশে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা দায়িমীভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ইলম মুবারক
মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত ইলমে গইব মুবারকসহ সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রকার সম্মানিত ইলম মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। উনার সম্মানিত ইলম মুবারক উনার কোনো কুল-কিনারা নেই। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ سَعِيْدِ ۣ الْـخُدْرِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِتَّقُوْا فِرَاسَةَ الْمُؤْمِنِ فَاِنَّهٗ يَنْظُرُ بِنُوْرِ اللهِ.
অর্থ: “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা মু’মিন তথা ওলীআল্লাহ উনার ফিরাসাত তথা অন্তরদৃষ্টি মুবারক উনাকে ভয় করো। কেননা তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নূর মুবারক দ্বারা দেখে থাকেন।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, আল মু’জামুল কাবীর ৭/১০৯, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৩/৩১২, আহকামুশ শরীয়াহ ৩/২৯৩, মুসনাদুশ শামিয়্যীন ৩/১৮৩)
মূলত, ওলীআল্লাহগণ উনারা নূর মুবারক উনার মাধ্যমেই সমস্ত কায়িনাত, জান্নাত-জাহান্নাম, সাত আসমান, সাত যমীন সমস্ত কিছু দেখতে পান। সৃষ্টি জগতের কোনো কিছুই উনাদের দৃষ্টি মুবারক উনার অন্তরালে থাকে না। আর উনারা এই সম্মানিত নূর মুবারক তথা ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ মুবারক লাভ করে থাকেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে যিনি যত বেশি সম্মানিত নূর মুবারক তথা ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ মুবারক গ্রহণ করতে পারেন, উনার সম্মানিত ইলম মুবারক উনার গভীরতা তত বেশি ও ব্যাপক হয়। যদি বিষয়টি এরূপ হয়, তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি তো সরাসরি ‘নূরী হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ মূল অজুদ মুবারক’ উনাকে ধারণ মুবারক করেছেন, তাহলে উনার সম্মানিত ইলম মুবারক উনার বিষয়টি কত ব্যাপক হবে, সেটা সমস্ত মাখলূকাতের চিন্তা-কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, তিনি সম্মানিত ইলমে গইব মুবারকসহ যত প্রকার ইলম মুবারক রয়েছেন সমস্ত প্রকার সম্মানিত ইলম মুবারক উনাদের মালিক তথা ছাহিবু জামি‘য়িল ইলম, মালিকু জামি‘য়িল ইলম। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছুই দায়িমীভাবে উনার সামনে সুস্পষ্ট। কায়িনাতের কোনো কিছুই উনার নিকট অস্পষ্ট নেই, অজানা নেই। সুবহানাল্লাহ! এই বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করাটাও চরম আদবের খিলাফ ও সুস্পষ্ট কুফরী। নাঊযুবিল্লাহ!
প্রকৃপক্ষে উনার সম্মানার্থেই ওলীআল্লাহগণ উনারা ইলম মুবারকসহ সমস্ত নিয়ামত মুবারক লাভ করে থাকেন। তাই মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আসসাফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার নিকট সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে নূর মুবারক, ইলম, পবিত্রতা, দয়া-দান, ইহসান ও তাওফীক্ব মুবারক ভিক্ষা চাচ্ছি। তিনি দয়া করে আমাদের সবাইকে আখাছ্ছুল খাছভাবে কবূল করুন। আমীন!
No comments:
Post a Comment