Saturday, September 23, 2017

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা পবিত্র দ্বীনে হানিফ উনার উপর কায়িম ছিলেন


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত ঘোষণার বহু পূর্বে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে প্রায় পাঁচশত বছর পরে উনার সম্মানিতা পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা উভয়েই পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। উনারা কোনো হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনার আমল বা যামানা পাননি। উনাদের নিকট পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত পৌঁছেনি এবং উনারা দুই নবী আলাইহিমাস সালাম উনাদের অন্তবর্তীকালীন সময়ে পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। এ সময়টাকে বলা হয় ফাতরাত যুগ।
ذلك ان لم يكن ربك مهلك القرى بظلم واهلها غافلون.
অর্থ: “আপনার প্রতিপালক কোনো জনপদবাসীকে অন্যায়ভাবে অনবহিত অবস্থায় ধ্বংস করেন না।” (পবিত্র সূরা আনআম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩১)
তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
ولولا ان تصيبهم مصيبة بما قدمت ايديهم فيقولوا ربنا لولا ارسلت الينا رسولا فنتبع ايتك ونكون من المؤمنين.
অর্থ: “যারা ফাত্রাত যুগের উনাদের কৃতকর্মের জন্য যখনই কোনো মুছীবত আসতো তখন উনারা বলতো, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি কেন কোনো হযরত রসূল আলাইহিস সালাম প্রেরণ করেননি, আমরা উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অনুসরণ করতাম এবং ঈমানদার হতাম।” (পবিত্র সূরা কাছাছ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৭)  
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
ولو انا اهلكنهم بعذاب من قبله لقالوا ربنا لولا ارسلت الينا رسولا فنتبع ايتك من قبل ان نذل ونخزى.
 অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের পূর্বে আমি যদি উনাদেরকে শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করতাম, তাহলে উনারা বলতেন, হে আমাদের প্রতিপালক! কেন আমাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করেননি, তাহলে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হওয়ার পূর্বেই আমরা আপনার আয়াতের অনুসরণ করতাম।” (পবিত্র সূরা ত্ব-হা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩৪) 
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
وما كان ربك مهلك القرى حتى يبعث فى امها رسولا يتلوا عليهم ايتنا.
 অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি কোনো জনপদবাসীকে ধ্বংস করেন না, যতক্ষণ না উহার কেন্দ্রস্থলে কোনো হযরত রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে প্রেরণ করেন, যিনি তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করে শুনান।” (পবিত্র সূরা কাছাছ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৯)
তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
وما اهلكنا من قرية الا لها منذرون ذكرى وما كنا ظالمين.
 অর্থ: “আমি কোনো জনপদবাসীকে ভীতি প্রদর্শনকারী ও উপদেশ প্রদানকারী প্রেরণ ব্যতীত ধ্বংস করিনি এবং আমি সীমালংঘনকারী নই।” (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২০৮,৯)
এই সমস্ত পবিত্র আয়াত শরীফ প্রসঙ্গে হযরত আবদ বিন হামীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইবনে মনযর রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইবনে আবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত হাতেম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা নিজ নিজ তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, “হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ ও নির্দেশ-উপদেশ প্রদান ব্যতীত মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি কোনো জনপদবাসীকে ধ্বংস করেননি। কেননা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি সর্বাপেক্ষা ন্যায়পরায়ণ; তিনি সীমালঙ্ঘনকারী নন।” 
এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ্য যে, হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুশরিকদের সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে বলেছেন, তারা জান্নাতবাসী। কেননা পবিত্র কালামুল্লাহ্ শরীফ উনার ঘোষণানুযায়ী প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে যাদের নিকট পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত পৌঁছেনি তাদেরকে শাস্তি দেয়া  হবে না। অর্থাৎ (যদি তারা কুফরী ও শিরেকী না করে থাকে) তবে তাদেরকে মিটিয়ে দেয়া হবে। আর যাদের নিকট পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত পৌঁছেছে, অথচ কুফরী ও শিরেকী পরিত্যাগ করেনি তারা অবশ্যই জাহান্নামী। এতে কারো দ্বিমত নেই।
সুতরাং দুই নবী আলাইহিমাস সালাম উনাদের অন্তরবর্তীকালীন সময়ে মৃত বা ইন্তিকালকারীগণ আহলে ফাতরাত হওয়ার কারণে উনাদের হুকুম ব্যতিক্রম। অর্থাৎ উনারা যদি শুধু কুফরী ও শেরেকী থেকে মুক্ত থাকেন তাহলে উনারা আযাব বা শাস্তি থেকেও মুক্ত থাকবেন। (মাসালিকুল হুনাফা লিস সুয়ূতী দ্রষ্টব্য)
যেমন ছিলেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা। উনারা কোনো প্রকার কুফরী ও শিরকী করেননি। অর্থাৎ উনারা উভয়ে পবিত্র দ্বীন হানিফে কায়িম ছিলেন। উনারা কখনো তাওহীদ বিরোধী কোনো আমল করেছেন এমন কোনো প্রমাণ কেউই পেশ করতে পারবে না। এ বিষয়ে সমস্ত হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা একমত পোষণ করেন।

No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...