Thursday, March 8, 2018

যিনি দুনিয়ায় থাকতে জান্নাতি পোশাক পরিধান করেছেন

নুজাহাতুল মাজালিস’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, তাদের এক ধনাঢ্য ইহুদীর মেয়ের বিবাহের অনুষ্ঠানে তিনি যেন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহ উনাকে যাওয়ার অনুমতি দান করেন। যে অনুষ্ঠানটি শুধু মহিলাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইহুদী মহিলাদের আরজি কবুল করলেন। দাওয়াত দানকারিণী ইহুদী মহিলাদের উদ্দেশ্য ভালো ছিল না। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো ইহুদী মহিলারা নামি দামি পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে এবং হীরা-মণি, মুক্তা ও স্বর্ণালঙ্কারে সুসজ্জিত হয়ে অনুষ্ঠানে যাবে। আর তাদের ধারণা হযরত যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা তিনি তো তাদের মতো অতো সাজসজ্জ্বা করে মজলিছে আসবেন না।

কারণ, তিনি দুনিয়াবী এ সমস্ত দ্রব্যসামগ্রী পছন্দ করেন না। যার ফলে তার কাছে ঐ ইহুদি নারীরা তাদের বড়ত্ব, মহত্ব প্রকাশ করে তাকে উপহাস করার চেষ্টা করবে। নাঊযুবিল্লাহ! ইহুদী মহিলাদের এই কূট চক্রান্ত কেউ না জানলেও যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক এবং তার প্রিয় রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো ঠিকই জানেন। ফলে বিবাহ অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট তারিখে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক হযরত জিবরঈল আলাইহিস সালাম এর মাধ্যমে বেহেশত থেকে বেহেশতী পোশাক ও অলঙ্কারাদি পাঠালেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খিদমত মুবারকে। হযরত জিবরঈল আলাইহিস সালাম এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক এই পোশাক ও অলঙ্কার আপনার মেয়ে হযরত যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা উনাকে হাদিয়া করেছেন এবং আরো বলেছেন, তিনি যেন এগুলো পরিধান করে ইহুদী মহিলাদের অনুষ্ঠানে যান। সুবহানাল্লাহ!

সত্যিই বেহেশতী মুবারক পোশাক ও অলঙ্কারসমূহ পরিধান করে যথাসময়ে হযরত যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা ইহুদী মহিলাদের অনুষ্ঠানে গেলেন। তিনি যখন বেমেছাল শান ও সৌন্দর্য নিয়ে সেই অনুষ্ঠানে তাশরীফ নিলেন তখন গায়েব থেকে নেদা (আওয়াজ) হলো এবং উপস্থিত সকলে তা শুনতে পেলো যে, ‘হে উপস্থিত মহিলাবর্গ! তোমরা সকলে হযরত যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা উনার সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে সাদর সম্ভাষণ জানাও। ’ সাথে সাথে উপস্থিত মহিলাগণ সবাই উনার সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে মুবারকবাদ জানালো। আর ইহুদী মহিলারা দেখতে পেলো হযরত যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার চেহারা মুবারক হতে নূর বিচ্ছুরিত হচ্ছে এবং তার অসাধারণ পোশাক ও অলঙ্কার দেখে তারা হতভম্ব হয়ে গেলো এবং তার পোশাকের সামনে তাদের পোশাক নিতান্তই নগন্য মনে হলো। শুধু তাই নয়, ওই বেহেশতী পোশাক মুবারক হতে সুগন্ধী মুবারক বের হয়ে অনুষ্ঠানের চতুর্দিকে সুভাষিত হয়ে অপূর্ব ঘ্রাণের সৃষ্টি করলো। আর তারা সবাই বলতে লাগলো, এ সুগন্ধী কোথা থেকে আসছে, যে সুগন্ধী মুবারকের সুভাষে তারা বিমোহিত হচ্ছে! যার ফলে বিবাহ অনুষ্ঠানের চেয়ে হযরত যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার মুবারক পোশাকের আকর্ষণ এবং সুগন্ধী মুবারক উনার সুঘ্রাণ মুবারক চতুর্দিকে আলোড়ন সৃষ্টি করলো। এতে সবাই বিবাহের আনন্দ আমেজ থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে হযরত যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার দিকে অনুপ্রাণিত হলো। সুবহানাল্লাহ!

অবশেষে ইহুদী মহিলারা হযরত যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার অপরূপ সৌন্দর্য , পোশাকের স্বকীয়তা ও সুগন্ধী মুবারকের সুভাষে বিমোহিত হয়ে জিজ্ঞেস করতে লাগলো, হে হযরত যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা! আপনি এ নয়নাভিরাম রাজকীয় পোশাক ও অলঙ্কার কোথায় পেয়েছেন? তিনি বললেন, আমার আব্বাজান, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে হাদিয়া করেছেন। তারা পুনরায় জিজ্ঞেস করলো, আপনার আব্বাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এগুলো কোথায় পেয়েছেন? তিনি বললেন, আমার আব্বাজান, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরঈল আলাইহিস সালাম এর মাধ্যমে বেহেশত থেকে হাদিয়া পাঠিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

এ উত্তর শুনে দাওয়াত দানকারিণী ইহুদী মহিলাসহ উপস্থিত সকলেই হযরত যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং পবিত্র কলেমা শরীফ পাঠ করে মুসলমান হয়ে গেলেন। আর ওই সমস্ত মহিলাদের মধ্যে যাদের স্বামী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন তারা তাদের কাছে থেকে গেলেন আর যাদের স্বামী দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেনি তারা তাদেরকে ছেড়ে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদেরকে পছন্দ অনুযায়ী স্বামীরূপে বরণ করে নিলেন। সুবহানাল্লাহ! উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আহলে বাইত ও আওলাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগন মহান আল্লাহ পাকের সবচেয়ে খাছ এবং মনোনীত বান্দা-বান্দীদের অন্তর্ভুক্ত। অতএব, তাদের প্রতি মুহব্বত ও সুধারণা রাখা পবিত্র ঈমান এবং নাজাত ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের কারণ। সুবহানাল্লাহ!

No comments:

Post a Comment

নূরান্বিত অপরূপ সৌন্দর্য মুবারক দেখে ইসলামে দীক্ষিত হলো ইহুদী মহিলারা সুবহানাল্লাহ!

একবার কিছু ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাযির হয়ে আরজি পেশ করলো যে, ত...